Tagged: hundi

হুন্ডি কেন অবৈধ?

jiggasha

 

 

হুন্ডি কি?  হুন্ডি প্রথার উৎপত্তি কোথা থেকে? এটি কেন অবৈধ?


 

সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা:

হুন্ডি একটি  নীতিবহির্ভূত এবং দেশের আইন দ্বারা নিষিদ্ধ অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থ হস্তান্তর/স্থানান্তর ব্যবস্থা। Bill of Exchange বা বিনিময় বিল নামেও পরিচিত। বাণিজ্যিক লেনদেন এবং ঋন আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো। এখনও হয়। তবে তা অবৈধভাবে এবং অবৈধ উদ্দেশ্যে।

 

বিস্তারিত সংজ্ঞা:

বাণিজ্যিক আদান বা ঋণ সশ্লিষ্ট লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত লিখিত  এবং শর্তহীন দলিল, যার মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির কাছে নির্দেশিত পরিমাণ টাকা লেনদেন হয়। এই ব্যবস্থা মুগল আমলে পরিচিত লাভ করে, কিন্তু ব্রিটিশ আমলে জনপ্রিয়তা পায়। এখনও প্রবাসী চাকুরিজীবীরা একে আড়ালে ব্যবহার করছেন।

বর্তমান বিশ্বের ব্যাংকিং পদ্ধতি অনুসরণ করে হয় না বলে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়। তাই হুন্ডি ব্যবস্থাকে অবৈধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

 

ইতিহাস সূত্র:

মুগল আমলে প্রতিষ্ঠিত অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থ লেনদেন ব্যবস্থাটি ব্রিটিশ উপনিবেশ আমলে বিশেষ জনপ্রিয়তা পায়। তারা একে দেশীয় ব্যবস্থা বলে মেনে নেয়। তবে বৈধতা দেবার জন্য রানীর সিলসহ স্ট্যাম্প ব্যবহারের প্রচলন করে।

Hundi Stamp (British India)

“হুন্ডি অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অংশ হওয়ার কারণে এর আইনগত অবস্থান নেই এবং সরকারের আওতাধীন আলোচনার কোন বিধিও নেই। হুন্ডি সাধারণত বিনিময় বিল হিসেবে বিবেচিত হলেও তা প্রায়শ দেশজ ব্যাংকার্স দ্বারা ইস্যুকৃত পে-অর্ডার চেকের সমমান হিসেবে ব্যবহূত হয়। সাম্রাজ্যের বিভিন্ন বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলিতে শাখা অফিস অথবা প্রধান ব্যাংকিং হাউসগুলিতে কুঠির মাধ্যমে হুন্ডি ব্যবসা চলত। বলা হয়, বাণিজ্যিক ভারতের সকল অংশে জগৎ শেঠের ব্যাংকের শাখা অফিস ছিল। কিন্তু বাংলায় উপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার প্রভাবে তাঁদের আর্থিক শক্তির পতন শুরু হয় এবং আঠারো শতকের শেষে দেউলিয়া হয়ে পড়ে।” [বাংলাপিডিয়া]

 

সংবাদপত্রে দৃষ্টান্ত:

“গুলশান ও শোলাকিয়ার হামলার অর্থ এসেছিল হুন্ডির মাধ্যমে”। দৈনিক প্রথম আলো, ১৯ সেপটেম্বর

 


সূত্র: বাংলাপিডিয়া, বেশতো এবং হেল্পফুলহাব ডট কম। ব্রিটিশ সময়ের হুন্ডির ছবিটি ইন্ডিয়াস্ট্যাম্প ডট ব্লগস্পট ডকম থেকে।