Tagged: Bengali-English

বাংলার সাথে ইংরেজি ভাষার সখ্যতা: একটি অনুসন্ধানভিত্তিক লেখা

Ban-Eng_Analogy

আমরা জানি বাংলা শব্দভাণ্ডারে আছে অনেক দেশের ভাষা। কিন্তু ইংরেজির ভাণ্ডারে যে অনেক বাংলা শব্দ রয়েছে, এটি দেখানোই এই লেখার উদ্দেশ্য। অবশ্য ইংরেজি প্রথমত একটি পশ্চিম-জার্মানি ভাষা, দ্বিতীয়ত এটি একটি শংকর ভাষা। কারণ জার্মান, ল্যাটিন, গ্রিক এবং ফরাসি ভাষার মিশ্রণে গড়ে ওঠেছে আজকের ইংরেজি ভাষা। তবে এটি বলাই বাহুল্য যে, বাংলা, সংস্কৃত তথা উপমহাদেশীয় শব্দ ইংরেজিতে প্রবেশের সঙ্গে ইংরেজদের এদেশে বসবাসের যোগসূত্র আছে এবং থাকবে।

.

ক) বাংলা ও সংস্কৃত থেকে বের হওয়া ইংরেজি শব্দ

নিম্নোক্ত শব্দগুলোর উদ্ভাবনের কাল এবং ইংরেজদের এদেশে প্রবেশের কাল বিবেচনা করলে দেখা যাবে যে, ব্রিটিশদের দু’শ বছরের মধ্যেই (১৭৫৭-১৯৪৭) শব্দগুলো ইংরেজিতে প্রবেশ করেছে।

Dacoit /ডাকইট//dəˈkɔɪt/ (দক্ষিণ এশিয়া) সশস্ত্র ডাকাতের দল।

বাংলা অর্থ: দস্যু, লুণ্ঠনকারী, বলপূর্বক অপসরণকারী

মূল: হিন্দি/বাংলা ‘ডাকাইত/ডাকাত’ থেকে

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৮০০-১৮১০ খ্রিষ্টাব্দ

Jungle /জাংগল//ˈdʒʌŋɡ(ə)l/ অযত্নে বেড়ে ওঠে ঘণ বনাঞ্চল

বাংলা অর্থ: বন, অরণ্য, আগাছা, ঝোপছাড়

মূল: সংস্কৃত/বাংলা ‘জঙ্গল’ থেকে

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৭৭০-১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দ

Jackal /জ্যাকল//ˈdʒakəl/  মৃত প্রাণীর মাংস খায় দীর্ঘ পা-যুক্ত এক প্রকার কুকুর, এরা একসাথে শিকার করে খায়

বাংলা অর্থ: শেয়াল, শৃগাল

মূল: সংস্কৃত ‘শৃগাল’ থেকে (তুর্কি: জ্যাকাল)

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৫৯৫-১৬০৫ খ্রিষ্টাব্দ

Loot /লুট//luːt/ শক্তি প্রয়োগ করে অন্যের জিনিস কেড়ে নেওয়া

বাংলা অর্থ: লুট করা, লুণ্ঠন করা। লুট, লুণ্ঠন।

মূল: সংস্কৃত/বাংলা ‘লুণ্ঠন’ থেকে

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৭৮০-১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দ

Jute /জুট//dʒuːt/ ঘানি, বস্তা ইত্যাদিতে ব্যবহৃত শক্ত আঁশ

বাংলা অর্থ: পাট, বাংলাদেশের সোনালি আঁশ।

মূল: বাংলা/সংস্কৃত ‘জুট/ঝুট’ থেকে (ঝুঁট/ঝুঁটি= বাঁধা চুল)

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৭৪০-১৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ

Maya /মায়া/ /ˈmɑːjə/ ইন্দ্রজাল, যাদু, কুহক। দেবতাদের (ইন্দ্রজাল সৃষ্টির) শক্তি।

বাংলা অর্থ: ইন্দ্রজাল, কাপট্য, ছলনা। যাদুকর/দেবতার ক্ষমতা

মূল: সংস্কৃত ‘মায়া’ থেকে

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৮১৫-১৮২৫ খ্রিষ্টাব্দ

Nirvana /নিরবানা//nɪəˈvɑːnə/ দেহের রূপান্তরিত অবস্থা যেখানে কষ্ট নেই, কামনা নেই আত্মচেতনাও নেই – বৌদ্ধধর্মের সর্বশেষ গন্তব্য

বাংলা অর্থ: (বৌদ্ধধর্মে)নির্বাণ

মূল: সংস্কৃত ‘নির্বাণ’ থেকে

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৮৩০-১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দ

Sandal  /স্যান্ডল/ /ˈsand(ə)l/  ১) চটি জুতা, ২) চন্দনকাঠ; ধূপের মতো ব্যবহার্য্য কাঠ।

বাংলা অর্থ: ১) চটি জুতা, ২) চন্দনকাঠ।

মূল: সংস্কৃত ‘চন্দনা’ থেকে, যার অর্থ চন্দনকাঠ। (মধ্যযুগীয় ইংরেজি, গ্রিক, ফরাসি, ল্যাটিন: স্যান্ডাল)

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৩৫০-১৪০০ খ্রিষ্টাব্দ

Shampoo /শ্যামপু/ /ʃamˈpuː/  কেশসংস্কার

বাংলা অর্থ: মাথার চুল পরিষ্কার করার তরল সাবান

মূল: সংস্কৃত ‘শেপ্যতি’ থেকে (হিন্দি: শেঁপু। তামিল: শ্যাম্পু)

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৭৫৫-১৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দ

Shawl /শোল//ʃɔːl/ মহিলাদের/শিশুদের ঘাড়ে বা মাথায় ব্যবহৃত কাপড়ের খণ্ড

বাংলা অর্থ: শাল; উল বা নরম কাপড়ের তৈরি চাদর

মূল: পার্সি/বাংলা ‘শাল’ থেকে

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৬৫৫-১৬৬৫ খ্রিষ্টাব্দ

Thug /থাগ//θʌɡ/ হিংস্র অপরাধী, খুনী, গুণ্ডা।

বাংলা অর্থ: ঠগ, খুনি, গুণ্ডা, প্রবঞ্চক, দস্যু।

মূল: বাংলা/মারাঠি ‘ঠগ/ঠগি’ থেকে (সংস্কৃত: স্থগ)

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৮০০-১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দ


.

খ) বাংলার মতো শুনতে কিছু ইংরেজি শব্দ

 

বাংলার মতো শুনতে কিছু ইংরেজি শব্দ দেওয়া হলো। অর্থেও বাংলা সাথে রয়েছে মিল। এদের মূল খুঁজলে হয়তো দেখা যাবে প্রাচ্য ও ইউরোপের ভাষার জন্মসূত্র এক জায়গায় গিয়ে মিশেছে। এখানে ইংরেজ শাসনের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই, কারণ এস্থলে ভাষার বন্ধন আরও অনেক নিচে, দূর অতীতে। নিচের শব্দগুলো কেবলই দৃষ্টান্ত:

.

  • Dexterity/দক্ষতা:  Dexter, ambidexterity
  • Matri/Maternal/মাতৃ/মাতা: matricide, maternal uncle, matrimony
  • Patri/Paternal/পিতৃ/পাতৃ/পিতা: patriarch, patricide, patrimony, paternal grandmother
  • Fraternity/ভ্রাতা/ভ্রাতৃ: fraternal, fraternal twins
  • Abandon/অবন্ধন/ত্যাগ: abandonment, non-abandonment
  • Abominable/বমি/ঘৃণ্য: abomination, abominably
  • Dominate/দমন/কর্তৃত্ব: dominating, domination, indomitable, domineer
  • Pedal/পদ/পা/: pedestrian, peddle, pedicure, podium, podiatrist
  • Dental/দন্ত/দাঁত: dentist, dentistry, dental surgery
  • Ignite/অগ্নি/প্রজ্জ্বলন: igneous, auto-ignition, ignition system
  • Vitiate/বিষিয়ে তোলা/নষ্ট করে ফেলা: Vitiation, vitiating factors
  • Affinity/আপনতা/সংশ্লিষ্টতা: affinity designer, affinity photo

.

বলা বাহুল্য, ব্যুৎপত্তির দিক থেকে ওপরের শব্দগুলোর সাথে বাংলা ভাষার তেমন কোন মিল নেই। শুধুই উচ্চারণগত সঙ্গতিটুকু তুলে ধরা হলো।

.

গ) বাংলা/হিন্দি/সংস্কৃত থেকে উদ্ভাবিত আরও কিছু ইংরেজি শব্দ

দীর্ঘদিন ব্রিটিশ শাসনের বদৌলতে আমরা যেমন অনেক ইংরেজি পেয়েছি, তেমনি ব্রিটিশদেরকেও অনেক বাংলা/সংস্কৃত শব্দ শিখতে হয়েছে। ওরা যা বুঝেছে, তা-ই গ্রহণ করেছে ইংরেজি হিসেবে। বাংলা/হিন্দি/সংস্কৃত থেকে অনেক শব্দ আছে যা ইংরেজিতে ব্যবহৃত হয়। এদের অধিকাংশ এমএস অফিস অভিধানে যুক্ত আছে। ইংরেজি লেখায় ব্যবহার করলে দিব্বি চালিয়ে দেওয়া যায়, বানানের ভুল (বা নিচে লাল লাইন) দেখায় না:

.

১.  dharma, dhoti, guru, karma, mahout, raja, sherbet,

mantra, pundit, raga, ganja, bhang, basmati, raj, kismet,

cheetah,  sutra, swami, yoga, nirvana, Himalaya etc.

২. Ayurveda, devi, deva, lathi, shadhu, sanga,

sambhar, bahubrihi, nilgai etc.

 

 

১নম্বর তালিকার শব্দগুলো ইংরেজি রচনায় ব্যবহার করলে ব্যাকরণ/বানানগত ভুল প্রদর্শন করে না। এমএসওয়ার্ডে লেখলে নিচে লাল লাইনও আসে না। ২নম্বর অন্যগুলোকে যেকোন ইংরেজি অভিধানে পাওয়া যাবে নিশ্চয়। তবে সরাসরি পরিস্থিতি ছাড়া সরাসরি ইংরেজি লেখায় ব্যবহার করা উচিত নয়।

.

.

ইংরেজি তত কঠিন নয়, যত কঠিন আমাদের ইংরেজি শিক্ষকেরা একে বানিয়েছেন। অবশ্য আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাও এর জন্য দায়ি; বর্তমান সময়ের কমিউনিকেটিভ ইংরেজির বিষয়টি শুরুর পূর্বে ইংরেজি শেখা ছিল প্রায় অসম্ভব। ইংরেজি শব্দের (কনটেন্টস) প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে কেবল ব্যাকরণ (স্ট্রাকচার) শেখানোর প্রতিযোগিতা এখনও আছে। অথচ ইংরেজি ভাষাটি আয়ত্ব করার জন্য খুব বেশি শব্দ জানতে হয় না। অভিজ্ঞদের মতে, মাত্র পঞ্চাশটি শব্দ দিয়ে ৪৫% কমিউনিকেশন কাভার করা যায়। একজন নেটিভ স্পিকার মাত্র সাড়ে সাতশ’ শব্দ ব্যবহার করেন। যারা ইংরেজি বিষয়টিতে আগ্রহী অথবা যারা IELTS, TOEFL, GRE, SAT, GMAT ইত্যাদি পরীক্ষার প্রার্থী, তাদেরকে বলবো, শব্দের মূল ও ব্যুৎপত্তির দিকে একটু খেয়াল দিলে একসাথে শতশত শব্দ আয়ত্ব করা যায়।

শিক্ষাজীবনে প্রাপ্ত উপাত্ত দিয়ে বর্তমান পোস্টটি তৈরি করা হয়েছে। পাঠকের আগ্রহ থাকলে এবিষয়ে আরও দু’একটি পোস্ট দিতে পারি। কারও উপকারে আসলে অথবা চিন্তার খোরাক হলে, সেটি হবে লেখকের জন্য বিরাট পাওয়া।