Tagged: স্বাধীনতা

বিপুল ভট্টাচার্য – একজন সৈনিকের পতন: শ্রদ্ধার্ঘ্য

মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্যচিত্র দিয়ে তৈরি তারেক-ক্যাথরিনের ‘মুক্তির গান’ দেখার জন্য যে কী সংগ্রাম করেছিলাম সেদিন পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে! তখনও ছাত্র। সিনেমাহলে তখনও ছাড়া হয় নি। গায়ের লোম সব দাঁড়িয়ে গিয়েছিলো মুক্তিযুদ্ধকালীন স্লোগান শুনে আর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাঙালির গেরিলা অপারেশনের চিত্র দেখে; আর একজন মরমী শিল্পীর গান শুনে। একটি গানের দল ট্রাকে করে মুক্তাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে গান গেয়ে প্রাণে শক্তি যুগিয়েছিলো মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার পরিবার, শরণার্থী কেন্দ্রের বেদনাহত মানুষগুলোকে। মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে গান শুনতো স্বদেশের জন্য গৃহহারা মানুষগুলো, যেন গানেই তারা খাবার আর শক্তি পাচ্ছে! কেউ নিরবে চোখের পানি ফেলতো, কেউবা গানে দিতো কণ্ঠ। সেই গানের দলের প্রাণ ছিলেন একজন ষোল বছরের যুবক। তার চোখে ছিলো বিষণ্নতা; ঠোঁট-মুখ শুকনো; দেহে খুব মাংস নেই – কিন্তু কণ্ঠে ছিলো প্রাণ-জুড়ানো সুর আর শক্তি।

তিনি বিপুল ভট্টাচার্য, যাকে আমি পড়ে চিনেছিলাম। তারেক ও ক্যাথরিন মাসুদ তাকে ‘মুক্তির গানের প্রাণ’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। বিপুল না থাকলে কোন মুক্তির গান হতো না। স্বদেশের অন্তরবিদীর্ণ-করা গানগুলোকে প্রাণ দিয়েছিলেন বিপুল তার যাদুকরি কণ্ঠ দিয়ে।

গতকাল টিভিতে সংবাদটি শুনে স্তব্ধ হয়ে গেলাম। বিশ্বাস করা কঠিন ছিলো। আজ ডেইলি স্টারে ‘ফল অভ্ এ সোলজার’ শিরোনামের খবরটি পড়ে নিশ্চিত হলাম: একাত্তরে শব্দসৈনিক এবং ‘মুক্তি সংগ্রাম শিল্পী সংস্থার’ অন্যতম প্রধান শিল্পী বিপুল ভট্টাচার্য আর নেই। ফুসফুস ক্যানসারের সাথে ২০১০ থেকেই যুদ্ধ করছিলেন বিপুল। গানও বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো আর আগে থেকেই।

ডালিয়া নওশিন, গানের দলের সহশিল্পী, জানালেন, বিপুল তখন খুবই তরুণ। খুবই উদ্যমী এবং আনন্দোচ্ছ্বল ছিলেন। দেশের দুর্যোগ পরিস্থিতি নিজের দরদি কণ্ঠ দিয়ে বিপুল বড় শিল্পী হিসেবে আভির্ভূত হন। আরেকজন সহশিল্পী শাহিন সামাদ বললেন, বিপুল শুধু তার বন্ধু ছিলো না, ছিলো তার শিক্ষকের মতো। স্বাধীন বাংলা বেতারের অন্যতম শব্দসৈনিক তিমির নন্দী ছিলেন বিপুলের বাল্যবন্ধু। তার মতে, বিপুলের ঈশ্বরপ্রদত্ত কণ্ঠ দিয়ে বাঙালির শেখরের গানগুলোকে জনপ্রিয় করেছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধের সাথে ওপপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলেন এই মহান শিল্পী, যিনি শেষ জীবনে গান না গাইতে পেরে আফসোস করে গেছেন। যতটুকু গেয়েছেন, তারই বা কতটুকু প্রতিদান তিনি পেয়েছিলেন, তিনিই তা বলতে পারবেন। ছাত্রজীবনে আমার তরুন হৃদয় দগ্ধ হয়েছিলো এই মরমী শিল্পীর দরদি গানে। দেশের প্রতি কতটুকু মায়া আর ভালোবাসা থাকলে এমন প্রাণ-জুড়ানো গান গাওয়া যায়! মুক্তির গানেই আসল বিপুলকে আমি দেখেছিলাম। কেউ যদি ‘মুক্তির গান’ না দেখে থাকেন, তবে বিপুলকে চেনা যাবে না, তার মূল্যও বুঝা যাবে না। আজ তার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত এবং বেদনাহত। গভীর শ্রদ্ধা জানাই মহান শিল্পীকে!

———————————————-

*আজকের জাতীয় দৈনিকে বিপুল ভট্টাচার্য:
দ্য ডেইলি স্টার
দৈনিক প্রথম আলো
ঢাকা ট্রিবিউন

**মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমার লেখাগুলো
১) মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান
২) দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ
৩) কলকাতায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি
৪) চরমপত্রের চরম লেখক


[‘মুক্তির গান’ প্রামাণ্য চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্য: বাঁ থেকে চতুর্থজন বিপুল ভট্টাচার্য্য]

লেখাটি সঞ্চালক কর্তৃক নির্বাচিত হয়েছিলো।

লেখাটি সঞ্চালক কর্তৃক নির্বাচিত হয়েছিলো।

যোগালে হয় না কিছু কাজে না লাগালে

7EDFEC3F-A27A

স্বাধীনতা নিয়ে কেন

এতো বিভ্রান্তি

জাতির জীবনে

নেই কেন শান্তি?

 

রাজনৈতিক মুক্তিকে শুধু

ভেবে স্বাধীনতা

কর্মহীন হানাহানিতে

গড়েছি পরাধীনতা।

 

ক্ষমতার দ্বন্দ্বে

নীতি সব মাড়িয়ে

দুর্নীতির প্রীতিতে

নেতা যান হারিয়ে।

 

চেতনাকে বেদনায়

না জাগালে,

যোগালে হয় না কিছু

কাজে না লাগালে।

কী আশ্চর্য ‘জয় বাংলা’ বললে এখন আর কেউ আমুলিক বলছে না!!

আমার এক মুক্তিযোদ্ধা চাচা কথায় কথায় বলতেন ‘জয় বাংলা’ – বিস্মিত হলে ‘জয় বাংলা’, হতাশ হলেও একই কথা! আর আনন্দ পেলে তো কোন কথাই নেই। ছোটকালে তিনি অনেক গল্প শুনিয়েছেন গেরিলা যুদ্ধের। কীভাবে তারা একটির পর একটি অপারেশন সফল করে পাকবাহিনীর ঘাঁটিগুলো গুঁড়িয়ে দিচ্ছিলেন। অনেক ব্যথা-বেদনার স্মৃতিও আছে। আছে স্বজন হারানোর বেদনা। কিন্তু সব বেদনাকে মুহূর্তে ভুলে যেতেন যখন একটি অপারেশন বা গেরিলা আক্রমণের পরিকল্পনা সামনে আসতো। সকল ব্যথাকে অট্টহাসিতে ওড়িয়ে দিতেন একটি অপারেশন সফল হলে।

“তোমাদের এতো ত্যাজ আসতো কোথা থেকে?” অবুঝ আমি দু’গালে হাত রেখে জিজ্ঞেস করতাম। জবাবে আমার চাচাটি অনেক কথাই বলতেন, যার সবকিছু আমি বুঝতাম না, শুধু একটি কথা ছাড়া। দু’চোখে রক্তরোষ নিয়ে তিনি সেদিন বলেছিলেন, “দূর বোকা, ওদের তো জয় বাংলার মতো একটি রক্ত-গরম-করা স্লোগানই নাই! ওরা কীভাবে আমাদেরকে পরাজিত করবে!” জয় বাংলা বললে নাকি রাতের ভুতও পালাতো, পাঞ্জাবি তো দূরের কথা!

সে জয়বাংলা দেশ স্বাধীন হবার পর হয়ে গেলো দলীয় স্লোগান। অসম যুদ্ধে জয় বাংলা ধ্বজাধারীদের আত্মার জোর দেখে প্রতিবেশী দেশসহ সারা পৃথিবী সাহস যোগালো, সহযোগিতা দিলো, গান গাইলো। মাত্র নয়মাসে অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষায় দেশ স্বাধীন হলো, কিন্তু জয়বাংলা হয়ে গেলো প্রায় নিষিদ্ধ। জয়বাংলা হয়ে গেলো হিন্দুদের স্লোগান!

জয় বাংলা নামক একটি স্লোগানে দেশের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা শক্তি যুগিয়েছিল। জয়বাংলা শুধুই একটি স্লোগান ছিল না, এটি ছিল যুদ্ধ-আক্রান্ত বাঙালির জাতীয় পরিচয়। “আপনি কি জয়বাংলার লোক?” এপ্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ হলে শুরু হতো বাঙালির মধ্যে নতুন আত্মীয়তা, নতুন সম্পর্ক। মুক্তিযুদ্ধকালে জয়বাংলা বলে ভারতে বিনামূল্যে ট্রেনভ্রমণ করা যেতো। কিন্তু আজকাল জয়বাংলা বললে হয়তো আমাকে প্রথমেই একটি গোষ্ঠীভুক্ত করা হবে, অথচ ব্যক্তিগতভাবে বৃহৎ কোন দলের প্রতিই আমার আনুগত্য নেই বা ছিলো না। জয় বাংলাকে আমি বিজয়-আনয়নকারী রণধ্বণি বলেই জানি।

আজ তরুণ প্রজন্ম জেগেছে, তারা ফিরিয়ে এনেছে মুক্তিযুদ্ধের সিকোয়েল – মুক্তিযুদ্ধ দুই! স্বদেশপ্রেমে রেনেসাঁ এনে তারা সমগ্র জাতিকে আজ একত্রিত করলো। কথা অনেক বলা হয়েছিলো, তাই তারা নির্দেশ দিলো “এবার নীরব হোন”। দেশবাসীকে তিন মিনিট নীরব করিয়ে তারা প্রমাণ করলো যে, জয় বাংলা ফুরিয়ে যায় নি। পদ্মা মেঘনা যমুনা যে আপনার আমার ঠিকানা, একথাই ভুলতে বসেছিলাম। আজ তারা স্মরণ করিয়ে দিলো তাদের লক্ষকণ্ঠের বজ্রধ্বনি দিয়ে যে, এদেশ স্বাধীন হয়েছিলো রাজনৈতিক একতা দিয়ে ধর্মীয় চেতনা দিয়ে নয়। আজ লক্ষ লক্ষ তরুণ একত্রিত হয়ে জয় বাংলাকে ফিরিয়ে এনে যেন বাংলা মা’কে শাড়ি পড়ালো, জয় বাংলার শাড়ি! কী আশ্চর্য ‘জয় বাংলা’ বললে এখন আর কেউ আমুলিক বলে গালি দেয় না। জয় বাংলা!

 

প্রথম আলো ব্লগে এবং সামহোয়ার ইন ব্লগে প্রকাশিত।

দ্য ইকোনোমিস্ট: হলুদ সাংবাদিকতা যাদের নীতি ও মাধ্যম

ECONOMIST

সংবাদ মাধ্যম হলো আধুনিক গণতন্ত্রে জনগণের অধিকার আদায়ে অন্যতম শক্তি, দ্বিতীয় সংসদ। কিন্তু চিন্তা করে দেখুন, যারা এদেশের মানুষ নয়, একটি দেশের স্বার্থের সাথে যাদের সম্পর্ক নেই, যাদের সম্পর্ক নেই সে দেশের কৃষ্টি-কালচার ও ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে — সেরকমের একটি সংবাদ মাধ্যমের কী দায় আছে সেদেশের মানুষের জন্য সত্যিকার সংবাদ প্রকাশের? গরম সংবাদ পরিবেশ করে বৈশ্বিক রাজনীতিতে ঘোলাজলের সৃষ্টি করা এবং তাতে কিছু মাছ ধরে নিতে পারলে, কী দরকার আছে একটি ভিন দেশের ইতিহাস আর স্বাধীনতার সংগ্রামকে গৌরবান্বিত করার?

বাংলাদেশের ইতিহাসে, পানি ঘোলাটে করে সবচেয়ে বেশি মাছ ধরার মোক্ষম সুযোগ হলো এখন। খবর বিক্রি করার উপযুক্ত বাজারও এখনই, কারণ এখন একটি পরাজিত পক্ষ মরিয়া হয়েছে তাদের অস্তিত্ত্ব টেকানোর জন্য, চামড়া বাঁচানোর জন্য। তারা কোন সময়ই দেশের মাটির পক্ষে ছিলো না, তারা চায় নি এদেশের স্বাধীনতা। পশ্চিমা প্রভাবশালী দেশগুলো যারা এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সুষ্পষ্টভাবে বিরোধীতা করেছে, সেসব দেশকে তারা সকল উপায়ে ক্ষেপিয়ে তুলছে এদেশের বিরুদ্ধে।

“It is often forgotten that the bloodshed in the spring was not all one-sided, and that the east Bengalis killed thousands of non-Bengalis.” (এটা প্রায়ই ভুলে যাওয়া হয় যে, মার্চের রক্তপাত কোনভাবেই একচেটিয়া ছিলো না। ভুলে যাওয়া হয় যে, বাঙালিরা হাজার হাজার অবাঙালিকে হত্যা করেছে।) দ্য ইকোনোমিস্ট, ডিসে/১৯৭১।

৩০ লাখের চেয়ে দ্য ইকোনোমিস্ট-এর কাছে হাজারের গুরুত্ব অনেক বেশি!

শুধু বর্তমান সরকার নয় বিগত যে কোন সরকারের আমলে দ্য ইকোমিস্ট-এর পরিবেশিত সংবাদগুলোতে একটু নজর দিয়ে দেখুন, তারা কাদের জন্য সংবাদ পরিবেশ করে।

গবীবের বউ সকলেরই বাউজ। বাংলাদেশের স্বার্থ ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক নিয়ে তাদের পেশাদারি বিশ্লেষণ দেখে যে কেউ বিভ্রান্ত হতে পারেন।
দেশের স্বার্বভৌমত্বের অন্যতম প্রতীক বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ ও ধ্বংস করে দেবার জন্য দ্য ইকোনোমিস্ট বর্তমানে কাজ করে যাচ্ছে। একাত্তরে দেশের মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য স্থাপিত আদালতের এক সম্মানীত বিচারকের ইমেল ও স্কাইপে আইডি হ্যাক করে তারা সেই বিচারপতিকে ব্লাকমেইল করছে। বিচারকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কোন মূল্য দ্য ইকোনোমিস্ট-এর কাছে নেই।

এদেশের মানুষকে সঠিক সংবাদ দেবার তাদের এতই দরকার? এদেশের প্রধান জাতীয় দৈনিক যেমন: প্রথম আলো, ইনকিলাব, ইত্তেফাক, ডেইলি স্টার, কালের কণ্ঠ প্রভৃতি পত্রিকার চেয়েও তারা এদেশের মানুষের প্রতি বেশি দরদী হয়ে পড়েছে।

এদের সংবাদ পরিবেশ করে পোস্টের আকার বৃদ্ধি করতে চাই না। দ্য ইকোমিস্ট-এর কয়েকটি শিরোনামের ভাষা দেখুন:
>বাংলাদেশ: আঁধারের চূড়ান্ত (নভে/২০১২)
>বাংলাশের বিষাক্ত রাজনীতি: হে দিল্লী কিছু করো! (মে/২০১২)
>বাংলাদেশ: এভাবে নয় (জুন/২০১০)
>বিডিআর বিদ্রোহের পর বাংলাদেশ: মন্দ নাকি উন্মত্ত? (মার্চ/২০০৯)
>বাংলাদেশ: মাইনাস টু সমাধান (সেপ/২০০৭)
>বাংলাদেশ: এক বেগমের পতন (খালেদার গ্রেপ্তারের পর) (মার্চ/২০০৭)
>বাংলাদেশের নির্বাচন ২০০১: বিন লাদেনের পক্ষে ভোট? (সেপ/২০০১)

অধিকাংশ সংবাদে কোন পাঠক মন্তব্য পাওয়া যায় নি।

সাংবাদিকেরা অবশ্যই সংবাদের পেছনে থাকবেন। তারা খবরের পেছনের খবরকে বের করে নিয়ে আসবেন পাঠকের জন্য। ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে তারা পাঠককের সামনে সত্যিকার চিত্রটি তুলে ধরবেন। কিন্তু এর মানে তো এই নয় যে, তারা প্রতিনিয়ত একটি দেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, যোদ্ধাপরাধের বিচার – এসব বিষয় নিয়ে দায়িত্বহীন সংবাদ পরিবেশ করে যাবে! দেশের আইনের বাইরে থাকার সুযোগ নিয়ে তারা যাচ্ছে-তাই মতামত দিয়ে যাচ্ছে। বিভেদ সৃষ্টি করছে ভাইয়ের সাথে ভাইয়ের।

দ্য ইকোনোমিস্ট আজকাল দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে মিঠা মিঠা কথা বলছে, তা কেবল বৃহত্তর সংবাদমাধ্যমগুলোর মতের সাথে সুর মেলানোর জন্য; এবং তাদের অন্যান্য ধ্বংসাত্মক সংবাদগুলো আমাদেরকে খাওয়ানোর জন্য। তারা কখনো এদেশের পক্ষে কথা বলে নি।

দেশের অবস্থান জানার জন্য দেশী সংবাদ মাধ্যমকে আমরা যদি বিশ্বাস না-ই করি, তবে ইকোনোমিস্ট ছাড়াও আরও বিদেশী মাধ্যম আছে, যাদের সততা শত বছর ধরে পরীক্ষীত। তাদের বিশ্লেষণে দৃষ্টি দিলে দ্য ইকোনোমিস্টকে বুঝা যায়। শুধু আওয়ামিলীগ নয়, বিগত যেকোন সরকারের সময়ের ইকোনোমিস্ট দেখুন। তারা সংবাদ বিক্রি করার জন্য সংবাদ লেখে। দেশের মানুষের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা, রাজনৈতিক মেরুকরণ জাগিয়ে রাখা, বিদেশ-নির্ভরতা বাড়িয়ে তোলা, দেশের রাজনীতিতে পাশ্চাত্য নেতৃত্বের স্থায়িকরণ আর হলুদ সাংবাদিকতা তাদের ব্যবসায়ের নীতি ও মাধ্যম।