Tagged: লেখালেখি

নিজেই নিজের লেখার প্রকাশক: কেন হবেন, কেন হবেন না

নিজের অখাদ্য লেখাগুলো কেউ নিজ খরচে বই বানিয়ে প্রকাশ করে দেবেন এবং সেটি বাজারজাত করবেন, এটি ভাবতেই পুরাতন গল্পটি মনে পড়ে যায়। গল্পটি সবারই জানা। প্রকাশকের দৌরাত্ম্য এবং লেখকের সৃষ্টির প্রতি অবহেলার সেই মর্মন্তুদ কাহিনি। লেখা প্রকাশ তো দূরে থাক, লেখা পড়েই দেখেন না অহংকারী প্রকাশক। লেখক অপেক্ষার প্রহর গুণেন। কাজহীনতায় এক দুঃসহ জীবনে পতিত হন লেখক। অপেক্ষার জীবন কঠিন। প্রেমিকাও অবিশ্বাস করতে শুরু করে। অবশেষে হয়তো আসলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। লেখা প্রকাশ পেলো। সেই লেখা পাঠকপ্রিয়তাও পেলো।  শুধু পাঠকপ্রিয়তা নয়, বলা যায়, রাতারাতি প্রসিদ্ধ লেখকে পরিণত হলেন সেই নবীন কবি। কিন্তু হায়, এতদিন নিজের সৃষ্টির প্রতি অপমান আর অপ্রকাশিত থাকার বেদনা সইতে না পেরে হতভাগা লেখক কিছুদিন আগেই পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। আত্মহত্যা নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু সেই বিতর্ক থাকুক। কী হলো সেই কবির জীবনে? মরণোত্তর পুরস্কার!

 

বর্তমান বাজারে লেখার ‘শতভাগ’ প্রকাশক পাওয়া প্রায় অসম্ভব একটি বিষয়। এজন্য অনেকেই প্রকাশক বা সম্পাদকের পথে পা মাড়াতে চান না। নিজেই নিজের লেখার মুগ্ধ পাঠক!  বই বানিয়ে মলাট দেখতে চান, গন্ধ নিতে চান নিজের বইয়ের, পেতে চান অটোগ্রাফ দেবার আনন্দ। লেখক হিসেবে একটি অতি স্বাভাবিক একটি চাওয়া। ভার্চুয়াল জগতের বন্ধুপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে কেউ কেউ হয়তোবা ছাপার খরচ যুগিয়ে নিয়েছেন। কেউ অপেক্ষা করছেন সময়ের। কিন্তু এটি কি সবার ক্ষেত্রে ভালো ফল দিয়েছে? প্রশ্ন থাকলো পাঠকের কাছে।

 

প্রকাশকেরা প্রথমেই যা দেখতে চান, তা হলো বিক্রয়যোগ্যতা বা বইটি বিক্রি হবার সম্ভাবনা। কোন কারণে বইয়ের লেখক আগে থেকেই বিখ্যাত হলে প্রকাশকদের সেই আশঙ্কা অনেকটাই কেটে যায়। এসব ছাড়াও বইয়ের প্রকাশক পাওয়া যায়, যদি লেখার মান থাকে প্রশ্নাতীতভাবে ভালো। ভালো একজন জামিনদার থাকলেও বইয়ের প্রকাশক পাওয়া যায়।  কোন বেস্টসেলার বইয়ের লেখক যদি একটি রিভিউ লেখে দেন অথবা একটি সুপারিশপত্র, সেটিও প্রকাশকের মনকে বিগলিত করে।

 

self_publishing

প্রশ্নটি হলো, নবীন লেখক কোন পথে যাবেন। নিজের লেখা নিজেই প্রকাশ করবেন, নাকি প্রকাশকের দ্বারস্থ হবেন?  দু’টি পথেরই ভালোমন্দ দিক আছে। প্রথার বিপরীতে যেতে হলে প্রথাটি প্রথমত জানতে হয়। অর্থাৎ যারা প্রকাশকের মাধ্যমে বই প্রকাশ করেছেন, তারা কেন করেছেন কীভাবে করেছেন, সেটি মূল্যায়ন করে দেখা উচিত।

 

প্রকাশকের মাধ্যমে বই প্রকাশ

প্রকাশকের মাধ্যমে বই প্রকাশ করা একটি প্রচলিত এবং স্বাভাবিক উপায়, কারণ একই সাথে কন্যা এবং বরের বাবা হওয়া যায় না। বিখ্যাত বইয়ের লেখক হওয়া আর বইয়ের বাজারজাত করা এক নয়। ভালো লেখক আর ভালো বিক্রেতা দু’টি ভিন্ন বিষয়। প্রকাশক পাওয়া মানে লেখার প্রথম স্বীকৃতি পাওয়া। তাই প্রসিদ্ধ প্রকাশকের দায়িত্বে বই প্রকাশ করতে পারা একটি সৌভাগ্যের বিষয়।

কিন্তু সৌভাগ্য তাদেরই, যারা পরিশ্রম করতে এবং ধৈর্য্য ধরতে পারেন। প্রত্যাখ্যাত হবার বেদনাকে মেনে নিতে হয়, হতাশাকে হজম করতে হয়। বিখ্যাত কিশোর সাহিত্যিক এবং হ্যারি পটার সিরিজের লেখক জেকে রলিং কমপক্ষে বারোটি প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। শেষে কোন এক প্রকাশকের কন্যার সাহায্যে তিনি সুদৃষ্টি পেয়েছিলেন। তার পরের সবই ইতিহাস। লর্ড অভ্ ফ্লাইস-এর লেখক উইলিয়াম গোল্ডিংও একুশ বার প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। গোল্ডিং-এর দৃষ্টান্ত থেকে বুঝা যায় যে, সাহিত্যে নোবেল পাওয়া লেখকেরাও প্রকাশক কর্তৃক নিগৃহীত হতে পারেন। বাংলা ভাষার অনেক কবি-লেখক আছেন, যাদের প্রতিভা প্রথম দৃষ্টিতে প্রকাশকের আনুকূল্যতা পায় নি। কিন্তু প্রকাশকের অবহেলা প্রকৃত লেখককে থামাতে পারে না, বরং প্রেরণাকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।

প্রত্যাখ্যান ‘লেখক চরিত্রকে’ গড়ে তোলে, কারণ এটি লেখককে নিজ লেখায় পুনরায় দৃষ্টি দিতে বাধ্য করে। প্রতিটি অস্বীকৃতি লেখককে সমালোচকের স্তরে নামিয়ে দেয়, যা লেখার উন্নয়নে সহায়তা করে।  কারাজীবন যেমন রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরীক্ষা, তেমনই প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে লেখকের ‘লেখক সত্ত্বার’ পরীক্ষা হয়। কিন্তু প্রত্যাখ্যাত বা উপেক্ষিত হবার ভয় লেখকের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। লেখককে প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়েই এগিয়ে যেতে হয়।

 

প্রকাশক পাবার পরও লেখকের পরীক্ষা শেষ হয় না। সকল পরীক্ষাকে অতিক্রম করার পর শুরু হয় নতুন পরীক্ষা । সেটি হলো, প্রকাশকের মতের সাথে এবং তার শেডিউলের সাথে তাল মেলাতে পারা।  লেখকের কাছে তার লেখা অমূল্য এবং প্রশ্নাতীত, কিন্তু প্রকাশকের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ পাঠকমুখী। এই দ্বন্দ্বকে মেনে নিয়ে ডেডলাইন মোতাবেক লেখাটি শেষ করতে পারাও লেখকের জন্য বড় পরীক্ষা।

প্রকাশকের দৃষ্টিভঙ্গি অনেকক্ষেত্রেই লেখার পাঠকপ্রিয়তাকে বাড়িয়ে দেয়। তার অভিজ্ঞ সম্পাদনায় একটি কাঁচা লেখা পাঠকের চোখে পরিচ্ছন্ন এবং দৃষ্টিনন্দন হয়ে ওঠে।

ভাষাগত শুদ্ধতার বিষয়টি একজনের পক্ষে নিশ্চিত করা কঠিন। সম্পাদকের পক্ষপাতহীন কাটাছেঁড়ায় একটি লেখা পায় ভাষাগত শুদ্ধতা।  লেখক লেখেন আবেগ আর অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে, কিন্তু সম্পাদক পড়েন সহস্র পাঠকের দৃষ্টিতে।

এখানে বইয়ের দান্দনিক বিষয়টির জন্যও প্রকাশকের দরকার। প্রকাশক জানেন কীভাবে প্রচ্ছদ, ছবি, অক্ষরবিন্যাস এবং পৃষ্ঠাবিন্যাসের সমন্বয়ে একটি বই মানসম্মত ও পাঠকপ্রিয় হয়ে ওঠে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আইনি মারপ্যাঁচ। লেখকের সব লেখাই যে সৃজনশীল, গঠনমূলক এবং সামাজিকভাবে অনুকূল হবে তা নয়। লেখকের চোখে বিষয়গুলো অধরা থেকে যেতে পারে। অভিজ্ঞ প্রকাশক নিশ্চিত করেন যে, লেখকের সৃষ্টি পাঠক-উপযোগী।

প্রকাশক নৈতিকভাবেই লেখকের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক এবং তার গ্রন্থস্বত্ত্বের রক্ষক।  তারচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, তিনি আর্থিক দায়দায়িত্বের অংশীদার। বই বাজার না পেলে সাধারণত প্রকাশক দায় নেন।

 

বাস্তবতার সাথে যুদ্ধ করে এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা নিয়ে একেক প্রকাশনা সংস্থা একেকটি বিক্রয়যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। তাদের আছে পুস্তক ব্যবসায়ীদের সাথে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, পরীক্ষীত সম্পর্ক। আছে অভিজ্ঞ কর্মীবাহিনি। লেখক-সুলভ আত্মগরিমা তাদের নেই।  বিপরীতে আছে বই বিক্রি করে ব্যবসায় টিকে থাকার তাড়না।

আমরা দেখতে পাই যে, প্রকাশকের পৃষ্ঠপোষকতা লেখককে প্রেরণা দেয় আরও লেখার জন্য। ব্যবসায়িক লাভের কারণেই লেখার মান বৃদ্ধি পায়। অতএব বই লেখে বৃহত্তর পাঠক সমাজে পরিচিতি পেতে চাইলে প্রকাশকের বিকল্প নেই।

 

 

নিজেই নিজের লেখার প্রকাশক

এখানে বিবেচ্য বিষয়টি হলো লেখকের স্বাধীনতা। লেখক স্বভাবতই স্বাধীনচেতা এবং সমাজের পথপ্রদর্শক। পরাধীন আত্মা কখনও ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক হতে পারে না।  তাহলে সক্রেটিস আর গ্যালিলিওরা আজ অচেনাই থেকে যেতেন।  কোন কালজয়ী লেখক তার প্রকাশকের পছন্দমতো গড়ে ওঠেছে এরকম নজির আমরা পাই না।

লেখকই প্রকাশক নির্বাচন করেন, প্রকাশক লেখককে নয়। সুলেখক মানে হলো, নির্ধারকের ভূমিকায় তারাই থাকবেন। পথিকই পথের সৃষ্টি করেছে।

লেখক বৃহত্তর পরিসরে তার গ্রন্থের ভবিষ্যতকে দেখতে পান। প্রকাশকের মুনাফামুখী দৃষ্টি কেবল বর্তমানকেই দেখতে পায়। দূর ভবিষ্যত তাদের কাছে তত গুরুত্বপূর্ণ নয়। দেশের স্বশিক্ষিত দার্শনিক আরজআলী মাতুব্বরের লেখা জনসমক্ষে এসেছে তার মৃত্যুরও পর।  প্রকাশক কোথায় ছিলেন!

লেখকই উত্তম প্রকাশক হতে পারেন, কারণ প্রকাশকেরা একদেশদর্শী।  শুধুই পাঠকের পছন্দের কথা তারা ভাবেন।  পাঠকের মনস্তাত্ত্বিক উন্নয়নের বিষয় তাদের কাছে ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। অপমান করে লেখককে তাড়িয়ে দেবার মুহূর্তকাল পরেই তারা একই লেখকের পায়ে ধরে ক্ষমা চেয়ে পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করেছেন, এরকম দৃষ্টান্ত আছে।

তাই, যদি নিজের পছন্দের লেখা প্রকাশ করতে হয় এবং যদি তাতে প্রকাশকের সমর্থন পাবার সম্ভাবনা না থাকে, তবে নিজের লেখার প্রকাশক নিজে হওয়াই উত্তম।

 

অন্যদিকে, রয়্যালটি বা লেখকের আর্থিক প্রাপ্তিটুকুও আজকাল কমে গেছে। যেমন: শিক্ষকদের মানোন্নয়নের জন্য একটি বইয়ের রয়্যালটি দশ শতাংশের বেশি নয়! লেখক যখন নিজেই পাঠক, বিক্রয়ের টাকাও সবটুকুই তার। অবশ্য লোকসানের দায়ও লেখকেরই!

এক্ষেত্রে লেখকের সিদ্ধান্তে বাধা দেবার কেউ নেই। নিজের বইয়ের প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে এর মূল্য নির্ধারণ পর্যন্ত সবটুকু প্রক্রিয়ায় লেখকই সর্বেসর্বা। বইয়ের বিষয় নিয়েও মাতব্বরি করার মতো তার ওপরে কেউ নেই। অবশ্য লেখার বিষয় যদি বিতর্কিত হয়, তবে নিজে এর প্রকাশক হওয়া ছাড়া আর কোন বিকল্পও নেই।

 

কিছু বিষয়ে নিজের প্রকাশক হওয়া ছাড়া তেমন কোন পথ থাকে না। নতুন কোন আবিষ্কার অথবা অনুসন্ধান/গবেষণার প্রেক্ষিতে কোন বই লেখলে, তাতে প্রকাশক ঝুঁকি নিতে চাইবেন না। এক্ষেত্রে লেখকের প্রকাশক হওয়া ছাড়া গত্যান্তর নেই।

যারা ‘টিউন/হাউ টু’ টাইপের লেখক (যথা: ঘরে বসে আয় করুন; নিজেই এসইও শিখুন; ই-মার্কেটিংয়ের ৭টি পদ্ধতি; ধনী হবার ১০টি সহজ উপায় ইত্যাদি) তারা নিশ্চিন্তে বই বের করতে পারেন। নিজেই।

 

 

উভয়দিকেই একটি মিল আছে।  তা হলো লেখার মান এবং পাঠকের গ্রহণযোগ্যতা।  লেখার বিষয় মৌলিক হলে, কনটেন্ট ভালো থাকলে এবং পুস্তক ব্যবসায়ীদের সাথে সামান্যতম যোগাযোগ থাকলে নিজেই প্রকাশক হওয়া যায়। আর্থিক সঙ্গতি থাকলে আর্থিক সাফল্যও লেখক একাই ভোগ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে ‘প্রকাশকের কর্তব্য’ সম্পর্কে লেখককে সজাগ থাকতে হবে।  তখন নিজেকে শুধু লেখক ভেবে ঘরে বসে থাকলে চলবে না। লেখকরা স্বাধারণত অন্তর্মুখী স্বভাবের হয়ে থাকেন; তারা কতটুকু প্রকাশক হয়ে ওঠতে পারবেন, নিজেরাই বুঝতে পারবেন।  অন্তর্মুখী লেখকদের জন্য প্রকাশকই উদ্ধারকর্তা।  লেখার মান ভালো থাকলে এবং পেশাদারী রীতিতে নিজেকে প্রকাশ করতে চাইলে, প্রকাশকের বিকল্প নেই। তবে জুতসই প্রকাশক পেতে হবে।  প্রসিদ্ধ প্রকাশকের আস্থা অর্জনের জন্য প্রয়োজনে এক যুগ অপেক্ষায় থাকা যায়।  আজকাল তো অপেক্ষায় থাকতে হয় না, অনলাইন এবং অগণিত দৈনিক বা সাপ্তাহিক পত্রিকায় অথবা লিটল ম্যাগাজিনে লেখা প্রকাশ চলতেই পারে।  পরে সেগুলোকে স্মারক হিসেবে নিয়ে প্রকাশকের আস্থা অর্জনে ব্যবহার করা যায়। (১ মে ২০১৬)

 

 

[সামহোয়্যারইন ব্লগে পাঠক প্রতিক্রিয়া: ৪ মে ২০১৬]


টীকা:
১) লেখক প্রকাশকের পার্থক্যটি আজকাল ঠিক আগের মতো আছে কিনা যাচাই করা যেতে পারে।  কিছু প্রকাশক আছেন, যারা নবীন লেখকদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা দেবার মহৎ উদ্দেশ্যে লেখকের খরচেই বই প্রকাশ করেন। এসব ঊন-প্রকাশকের নাম যথাস্থানে যথাগুরুত্বেই থাকে। বইয়ের লাভ হলেও সেখানে সিংহভাগ তারাই নেন, কারণ তারা নবীন লেখককে পরিচিত করিয়ে বিশাল মহৎ কার্য সাধন করেছেন।  কিছু লেখকও লেখক থাকেন না, বনে যান প্রকাশক।  এটি ভালো নাকি মন্দ, সেটি অবশ্য অন্য বিতর্ক।

২) শুরুতে দু’একবার প্রত্যাখ্যাত হওয়া যেন বিরহ প্রেমের স্মৃতি। এটি না হলে যেন প্রেম থাকে অপূর্ণ! প্রেমিক হওয়া অসম্পূর্ণ থেকে যায়। অনেক লেখক একে উপভোগ করেছেন। সেসব দুঃসময় নিয়ে সৃষ্টি করেছেন নতুন লেখা।

৩)  কিছু সাইট আছে, যারা এসব বিরহকে গেঁথে তুলছে নতুন লেখকদের প্রেরণার জন্য। প্রত্যাখ্যাত লেখকদের অভিমতও তারা প্রকাশ করে। এরকম একটি সাইট: প্রত্যাখ্যাত সাহিত্য যা পরবর্তিতে বেস্টসেলার হয়।

 


twl-flow-chart-featured

নিজেই প্রকাশ করবেন, নাকি প্রকাশকের দ্বারস্ত হবেন, এবিষয়ে

সিদ্ধান্ত নেবার জন্য চমৎকার একটি মন-পরীক্ষা আছে।

পাঁচ মিনিটের আত্মপর্যালোচনা: এখনই দেখে নিন!

ইদানিং রাখাল বালক


 

 

১) গন্তব্যহীন সন্তরণ আর কত ভালো লাগে!

.

ইদানিং জীবন সাগরে সন্তরণে

সনাতন আলসেমি আঁকড়ে ধরে…

মনোযোগ মনোসংযোগ ইদানিং

প্রতিনিয়ত প্রতিরোধ করে।

.

ইদানিং সুহৃদ-সঙ্গ রসরঙ্গ

আটকে আর রাখে না…

নিজের সাথে নিজের সঙ্গ

প্রতিবাদী বোধের অঙ্গ

ঝগড়া হলেও রাগে না।

.

ইদানিং গোপন কিছু অনুভবে

বুকের ছাতি থাকে ধোঁয়াচ্ছন্ন…

ছলনার ডাক আর ছদ্ম রোগে!

নিঃসঙ্গতা নীলাকাশে একাকার…

পাখির ডাকে চকিত হৃদয়

ইদানিং ধুকধুক করে বুকে।

.

.

২) সূর্যের পরশ পেলেই বোধগুলো নিশাতুর প্রাণীর মতো সজাগ হয়ে ওঠে। সজীব হয়ে ওঠে; না হয় পালিয়ে যায়। বলা যায় সাবধান হয়ে যায়। পক্ষান্তরে অবাঞ্ছিত বোধগুলো কিছু সময়ের জন্য প্রস্থান করে। এমনকি দিনের বেলাতেও একটু অন্ধকার পেলেই বুকের গহীনের নিষিদ্ধ স্পর্শভুক অনুপ্রাণীগুলো যেন আসকারা পেয়ে যায়। অন্ধকার যদি নাও থাকে, একটু একাকীত্বেই ওদের পোয়াবারো! ঘিরে ধরে একাকী রাখালকে। আর রাখালের কথা তো বলাই বাহুল্য। মাত্র একবার কি দু’বার সে প্রত্যাখ্যান করবে। তৃতীয়বারের আবেদন সে ফিরিয়ে দেয় কীভাবে! কখনও দেয়নিও।

.

তাই রাখাল বালকের জন্য সূর্যালোক শুধু আলো আর তাপের উৎস নয়। এটি তার পাহারাদার। স্পর্শভুক থেকে নিরাপত্তা। কিন্তু কতকাল সূর্যের আলো তাকে পাহারা দিয়ে রাখবে? স্পর্শভুক প্রাণীগুলোর কি মরণ নেই? অতএব এটি এখন শৈশবের ঐকিক অংকের মতো সোজা। অর্থাৎ রাখাল বাবুর বিপদ অবশ্যম্ভাবী। এ যেন নিয়তির নিয়মে নির্ধারিত! আহা, করুণা করারও সময় গেলো বলে!

.

.

[বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রথম আলো ব্লগ থেকে স্থানান্তরিত:  ১৪ মে ২০১৪]

লেখার ‘মুড’ না থাকলে আপনি কী করেন/করবেন?

নতুন লেখকরা সবসময় প্রতিষ্ঠিত লেখকদের লেখার প্রেরণা সম্পর্কে জানতে চান। লেখার ‘মুড’ কীভাবে আসে? একজন খ্যাতিমান লেখককে এই প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি যা উত্তরে জানালেন, তা সকলের জন্য প্রেরণার হতে পারে। আবার বিতর্কের বিষয়ও হতে পারে। উত্তর দেবার আগে তিনি একটি প্রশ্ন জুড়ে দিলেন:

লেখক: সত্য বলবো নাকি মিথ্যা বলবো?
প্রশ্নকারী: অবশ্যই সত্য বলবেন!
লেখক: সত্য বললে আমাদের লেখক খ্যাতির কিছু ক্ষতি হতে পারে।
প্রশ্নকারী: তবু বলুন। লেখকের কাছ থেকেই তো সত্য আশা করা যায়!
লেখক: প্রায় সবগুলো লেখাই ‘আউট-অভ্-মুড’ থাকা অবস্থায় লেখা। ইন ফ্যাক্ট, মুড খারাপ থাকলেই আমি লেখতে বসি!

লেখক নম্বর দুই বললেন, লেখকের আবার ‘মুড’ কী? আমি যদি কথা বলতে পারি, তবে লেখতেও পারি। লেখা তো আসলে আমাদের মুখের কথারই লেখ্য রূপ।

লেখক নম্বর তিন: প্রথমেই আমি যা করি, তা হলো ইন্টারনেট ব্রাউজারগুলো সব বন্ধ করা। এগুলো আমার একনম্বর মনযোগ নষ্টকারী।

লেখক নম্বর চার: আরে কী কয়? ব্রাউজার বন্ধ করলে, লেহমু কী? হুনেন, লেহার মুড না থাহলে প্রথমেই আমি ব্রাউজার খুলে দেই। ফেইসবুকে বন্ধুর স্ট্যাটাস থেকে আমি পাই মহকাব্যের প্রেরণা!

লেখক নম্বর পাঁচ: মুডের অপেক্ষায় থাকলে হবে? সম্পাদকের প্রশ্নের জবাবে যদি বলি মুড নাই, তবে মাস শেষে বিলটা আসবে কোত্থেকে? আমি লেখা চালিয়ে যাই সকল অবস্থায়। অতএব, মুড না থাকলে প্রথমেই আমি যা করি তা হলো, লেখা শুরু করে দেই।

লেখক নম্বর ছয়: আমি যেখানেই যাই সেখানেই কবিতার/গল্পের বীজ বুনি। ভালো একটি ভাবনা যখন মনে আসে, তখনই আমার নোটবুকে/স্মার্টফোনে সেটি টুকে রাখি। একেকটি ভাবনা, একেকটি কবিতা/গল্প। লেখতে বসলে সেগুলোকেই সম্প্রসারিত করে যাই। কিছু কিছু ভাবনা অবশ্য লিখিত থাকলেও কিছু সময় পর মরে যায়। মানে, লেখার সময় ওগুলোর কোন সূত্র খুঁজে পাই না আর। [ইন্নালিল্লাহ… বলে, পরবর্তি নোটে দৃষ্টি দেই :( ]

লেখক নম্বর সাত: আমি লেখার চাষ করি। সব ফুল যেমন ফল হয় না, তেমনি সব ভাবনায় লেখা হয় না। অর্থাৎ একটি বিষয়ে লেখবো এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি সবসময় বসি না। আমি সাধারণত লেখতে বসি অনেকগুলো বিষয়ে বিচ্ছিন্ন ভাবনাগুলোকে কাগজবদ্ধ করতে। লেখতে থাকি… লেখতে থাকি। কমপক্ষে দু/তিন পৃষ্ঠা তো প্রতিদিনই লেখি। তা না হলে মনে হয়, আজকের দিনটিই মাটি!

লেখক নম্বর আট: লেখা নিয়ে কোন চাপাচাপিতে আমি নাই। ভাবনা না আসলে নির্ভাবনায় থাকি। টিভি দেখি, পত্রিকা পড়ি, বারান্দায় দাঁড়িয়ে আরামছে বিড়ি টানি! আকাশ দেখি, পাখি দেখি! পাড়ার চায়ের টঙের তেল চিটচিটে বেন্চিতে বসে লাল চা পান করি। বউ/বাচ্চা/বান্ধবির সাথে আলাপে মেতে ওঠি। জীবনে লেখাটাই সব নয় – জীবনবোধেরও দরকার আছে।

লেখক নম্বর নয়: লেখার মুড, নাকি ‘মুডের লেখা’? আমি সকল মুডকে লেখায় প্রয়োগ করি। মুড থাকলেই যদি লেখতে বসি, তবে তো সব লেখা এক রকম হয়ে যাবে! আমি সকল মুডেই লেখতে জানি এবং লেখিও। পাঠক পড়বেন কি না পড়বেন, সেটি অবশ্য আলাদা কথা। আমি লেখি আমার বিচিত্র মুডকে প্রকাশ করার জন্য।

লেখক নম্বর দশ: আমার দরকার তিনটি বিষয়, বিড়ি/কফি, ডেডলাইন, কম্পিউটার।

লেখক নম্বর এগারো: লেখা নিয়ে আমি কখনও ভাবি না। কারণ আমি যা ভাবি, তা লেখি না; যা লেখি তার সবই ভাবি না। লেখা শেষে নিজেই বিস্মিত হই… কী ভাবলাম, কী লেখলাম!

লেখক নম্বর বারো: মুড ছাড়াও আরেকটি জিনিস লাগে, যা প্রায়ই মুডের বিকল্প হিসেবে কাজ করে। বাধ্যবাধকতা। এটি আসে যখন লেখক অর্থের জন্য লেখেন অথবা ‘অর্জিত সুনাম’ ধরে রাখার জন্য লেখেন। ‘প্রয়োজন’ সকল সৃষ্টির জন্মদাত্রী। বাধ্যবাধকতাও তেমনই একটি বিষয়।


… … …
লেখক নম্বর চারশ’ উনিশ (পোস্টের লেখক): মুড কাহাকে বলে, উহা কত প্রকার, তাহারা কী কী? আমি তো লেখি না, ব্লগিং করি!
লেখক নম্বর চারশ’ বিশ: লেখার মুড না পেলে সবসময়ই আমি যা করি তা হলো, অন্যের লেখা কপি করতে শুরু করে দেই।

আমি কোন লেখকের সাথে রাজি বা গররাজি কিছুই হতে পারছি না। বিষয়গুলো আপেক্ষিক।

লেখক যখন লেখতে বসেন তখন নিশ্চয়ই তিনি একটি ‘মেজাজে’ থাকেন। হতে পারে সেটি চিন্তাশীল অথবা হেঁয়ালী, গম্ভীর অথবা ব্যাঙ্গাত্মক, মনোযোগী অথবা উদাসীন, ক্ষুব্ধ অথবা হৃষ্ট। এই ‘মেজাজ’ নিয়ে তিনি যা লেখবেন, সেটি হয়তো সৃষ্টি করবে প্রেমবোধ অথবা বিষাদ, আনন্দ অথবা বেদনা, আশা অথবা নিরাশা… ইত্যাদি। পাঠক হয়তো মনে মনে হাসবেন, অথবা ব্যথিত হবেন। নিরবে অশ্রু ফেলবেন অথবা অট্টহাসিতেও ফেটে পড়বেন। এসব কিছু নির্ভর করে লেখক তার লেখার সময় ‘কী মেজাজে ছিলেন’ তার ওপর। গল্প হোক বা কবিতা হোক অথবা প্রবন্ধ হোক, লেখার একটি স্বতন্ত্র মেজাজ থাকবেই। আমি মনে করি, মুডই (মেজার) লেখার প্রেরণা বা লেখার সূত্র এনে দেয়। এবিষয়ে আলোচনা চলতে পারে।

পাঠকের কাছে জিজ্ঞাসা:
লেখার ‘মুড’ না আসলে আপনি কী করেন?
আপনি কি রাইটারস ব্লক বা এরকম কিছু মিথে বিশ্বাস করেন?

চলুন, এনিয়ে আলোচনায় মেতে ওঠি।

[চলবে…]

—————————
*ছবিটি libbycole.files.wordpress.com থেকে নেওয়া।

আদর্শবাদী ব্লগার বনাম সৃজনশীল ব্লগার বনাম ফেইসবুকিং ব্লগার বনাম…

কেউ কেউ বলেন, ব্লগার সিজনাল, ব্লগ থাকে চিরকাল। পত্রিকার পাতায় প্রকাশিত লেখা দিনান্তে ভাঁজে পড়ে যায়, কিন্তু ব্লগের লেখা সব সময় থাকে পড়া ও উদ্ধৃতির জন্য প্রস্তুত। বই অথবা সংবাদপত্রের পাতা হারিয়ে যেতে পারে দৃষ্টিসীমানা থেকে, কিন্তু বোদ্ধারা বলেন, ইন্টারনেটে নাকি ইরেজার নেই! ওখানে কোন কিছুই মুছে যায় না। পোস্টদাতা মুছে দিলেও সেটি কোথাও-না-কোথাও থেকেই যায়।

ব্লগারদের মধ্যে একটি বড় অংশ আসে যুবসম্প্রদায়ের কর্মহীন ও স্টুডেন্ট অংশ থেকে। তারা ইন্টারনেটে এসে একটি সামাজিক বন্ধন সৃষ্টি করেন। ব্লগে যতদিন থাকেন চুটিয়ে ব্লগিং করেন: লেখায় প্যাশনেট, মন্তব্যে অনেস্ট। পোস্ট দেন, মন্তব্য দেন এবং এমনকি বিভিন্ন ব্লগারদের পোস্ট নিয়ে সংকলনও বের করেন। তারা নতুন পুরাতন সকল ব্লগারকে জাগিয়ে রাখেন, লেখায়-মন্তব্যে-সংকলনে। অল্পকাল স্থায়ি হলেও একটি ব্লগকে প্রাণচঞ্চল রাখতে এই ব্লগারদের রয়েছে বিরাট ভূমিকা। সকলেই সিজনাল ব্লগার নন। অনেকেই কর্মজীবনে গিয়েও ব্লগিং করছেন।

স্ট্যাটাস লেখতে লেখতে লেখক। ভাষার ভুল আর বানানের ভুল করার একচ্ছত্র অধিকার তারা ভোগ করেন! ব্লগে যদি ভুল না করা যায়, তবে আর কোথায়! আই ডোন্ট মাইন্ড দেয়ার ল্যাংগুয়েজ। নতুনেরা আদর্শ নিয়ে আসুন, গল্প-কবিতা-প্রবন্ধ নিয়ে আসুন অথবা দৈনিক স্ট্যাটাস নিয়ে আসুন, যত বেশি ব্লগে থাকেন ততই হয় সৃষ্টি। আজকের দিনের কোন টিনেজ বালিকার তাৎক্ষণিক একটি প্রতিক্রিয়া, অথবা পাঁচ লাইনের একটি স্ট্যাটাস, আগামি দশ বছর পর হতে পারে একটি ঐতিহাসিক ঘটনার নির্ভরযোগ্য সাক্ষী। অথবা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের বিশ্বাসযোগ্য সূত্র। কে জানে!

আমি খুব চাই, ব্লগের সঞ্চালক যেন তাদেরকে কোনভাবেই নিরুৎসাহিত না করেন, অথবা থামিয়ে না দেন। দিনে একাধিক ততোধিক পোস্ট দিলেও না! সামুতে অবশ্য এই কথা বলে দিতে হয় না। ব্লগ হওয়া উচিত তরুণ প্রজন্মের উচ্ছ্বাসে ভরা হইহুল্লাপূর্ণ এক আড্ডাখানা। এখান থেকে বের হয়ে আসুক ভবিষ্যত সমাজের নেতৃত্ব ও মননশীলতার পথনির্দেশ। কিন্তু জীবন ও জীবিকার অদম্য আকর্ষণে তাদেরকে যেতেই হয়। মজার ব্যাপার হলো, পেশা যা-ই হোক ব্লগার নামটি অন্তর থেকে মুছে ফেলেন না তারা! হয়তো তা সম্ভবও হয় না!

২.
বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণে ‘বাংলাদেশ’ আর অধিকাংশ তরুণের নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হতে পারে না
। কাজ অথবা বিদ্যালাভের জন্য তারা স্বদেশ ছাড়েন এবং অধিকাংশই (স্থায়ীভাবে) ফেরেন না। কিন্তু স্বদেশকে ভুলে থাকতে পারেন না – বরং দূরত্বের বেদনায় তীব্র স্বদেশপ্রেমে আপ্লত থাকেন অনেকে। গণমাধ্যমে স্বদেশের সংবাদ নেন, সংবাদ বিশ্লেষণ করেন ও অভিমত দেন। ফেইসবুক, টুইটার, ব্লগ ইত্যাদি সামাজিক মাধ্যমে তারা দেশের রাজনৈতিক-সামাজিক ঘটনাবলীতে জড়িয়ে থাকার চেষ্টা করেন। নিজ দেশের মানুষের সাথে আকাশপথে পরিচিতি গড়ে তোলেন। দূরে থেকেও স্বদেশের আকর্ষণ নতুনভাবে উপলব্ধি করেন।

বলছি প্রবাসী ব্লগারদের কথা। তাদের মধ্যে অনেকের নিকনেইম আজ কিংবদন্তি লাভ করেছে। প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে ছাপে তাদের লেখা। (কেউ আবার বিদেশী নাগরিকত্ব বা দূরত্বের সুবিধা নিয়ে একটু একটু বাড়তি কথা বলার সুযোগ নিয়ে থাকেন। অপমানজনক, দেশপ্রেমহীন এবং দায়িত্বহীন মন্তব্য দিয়ে থাকেন বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়ে, যা হয়তো স্বদেশে থাকলে সাহস করতেন না।) পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা বাংলাভাষী ব্লগাররা ব্লগকে চব্বিশ ঘণ্টা মাতিয়ে রাখেন। ফটোপোস্ট, ভ্রমণ পোস্ট এবং প্রবাসী জীবনের লেখা দিয়ে সমৃদ্ধ করে চলেছেন বাংলা ব্লগকে। ফলে ব্লগ হয়েছে মেধাবী তরুণদের স্বদেশে ফেরার প্রেরণা। জয়তু প্রবাসী ব্লগার!

৩.
ব্লগ লেখার প্রেরণা আসে ‘ব্লগারের উদ্দেশ্য’ থেকে।
তার উদ্দেশ্য যদি হয় কোন আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করা, তবে লেখায় থাকে যুক্তি ও তথ্যের সম্মিলন। এখানে নতুন/পুরাতন বলে কোন কথা নেই। তিনি প্রবন্ধ লেখছেন, নাকি নিবন্ধ লেখছেন, নাকি কবিতা লেখছেন – কিছুই যায় আসে না। লেখার মূল বক্তব্যে থাকে আদর্শের প্রতিচ্ছবি। আদর্শবাদী ব্লগাররা সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্য হতে আসেন এবং তুলনামূলকভাবে বেশিদিন টেকেন। এঁরা ব্লগের বটবৃক্ষ! অতীত ও ভবিষ্যৎ ব্লগারদের মধ্যে যুগবন্ধনকারী। ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি। ব্লগে তাদের মন্তব্য সাধারণত শ্লেষপূর্ণ ও প্রতিক্রিয়াশীল হয়।

বলাবাহুল্য, প্রতিক্রিয়াশীলতা পুরোপুরি নেতিবাচক কোন বিষয় নয়। বিপ্লব ও সংস্কারের তাড়না আসে প্রতিক্রিয়াশীলতা থেকে। দেশের প্রচলিত আইন ও সার্বভৌমত্বকে অক্ষুণ্ন রেখে পরিবর্তনের কথা বলা কোন অপরাধ নয়। বাংলা ব্লগের শুরুর সময়টি ছিল আদর্শবাদী ব্লগারদের সোনালি দিন। বর্তমান সময়টিও ফেলনা নয়, তবে সোনালি রুপালি ইত্যাদি ‘রঙ’ দিয়ে এখন আর ব্যাখ্যা করা যায় না!

যা হোক, আদর্শবাদী ব্লগাররা কিন্তু ব্লগের ‘হিট লক্ষ্ণী’। মন্তব্য ১টি, পঠিত ১১,২৮৮বার! অথবা তিন লাইনের একটি লেখায় দেখবেন মন্তব্য পড়েছে মাত্র ৩০২টি! (অবশ্য, ট্যাগিং, বিভক্তি সৃষ্টি এবং দেশের হারিয়ে যাওয়া ও গ্রামগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ‘অবহেলিত গালিগুলোকে’ একত্রিত করে সেগুলোকে বহুলপ্রচলিত ও জনপ্রিয় করার কাজে কিছু ব্লগারের অবদান অনস্বীকার্য।)

জাতীয় এবং সামাজিকভাবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুাতে জনমত সৃষ্টি করা এবং কর্তৃপক্ষকে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছেন এশ্রেণীর ব্লগাররা। নতুন প্রজন্মের মধ্যে স্বাধীনতা সংগ্রাম সম্পর্কে ধারণা সৃষ্টি এবং জাতীয়তাবাদের ভিত মজবুত করে চলেছেন তারা। নাগরিক সাংবাদিকতার মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সমাধানে সৃষ্টি করেছেন ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা।

৪.
ব্লগ যেন সৃজনশীলতার চারণভূমি! এখানে সৃজনশীলতা পয়দা হয়!
তাৎক্ষণিক প্রকাশ, তাৎক্ষণিক মন্তব্য আর অভিমতের সুযোগ নিয়ে অনেক স্ট্যাটাস লেখক জীবনমুখী গল্পকার, ছড়াকার বা কবিতে পরিণত হয়েছেন। কেউবা হয়েছেন বিবর্তিত! নাকি মেটামরফোসিস? ছিলেন কবি, হয়েছেন গল্পকার; অথবা ছিলেন ডাক্তার, হয়েছেন কবি! (কেউ কেউ লেখতে লেখতে আরও ভোঁতা হয়েছেন। কিছুই হতে পারেন নি/হন নি, বরং যা ছিলেন, তা হারাবার দশা হয়েছে! নেভার মাইন্ড, তাদের সংখ্যা এতই কম যে খালি চোখে দেখা যায় না!)

ঠিক ব্যাখ্যা করতে পারবো না, কিন্তু ব্লগ থেকে সৃষ্ট লেখকেরা যেন ‘ভিন্ন একটা জেনার’ সৃষ্টি করছেন বাংলা সাহিত্যে। প্রথাগত গ্রন্থকারদের সাথে তাদেরকে পুরোপুরি মেশানো যায় না। তাতে ব্লগারদেরই লস হবে। (অন্যদিকে কেউবা হয়েছেন বনসাঁই – বয়স বাড়লেও অন্যকিছু বাড়ে নি। বছরের পর বছর লেখেও ‘জাতীয়’ বানান লেখতে পারেন না। প্রচলিত শব্দগুলোকে না জেনেই নতুন শব্দগঠনে নামেন। আর, কবিতার কী ছিরি! যাক, এসব বিষয় তত ব্যাপক নয়।)

সৃজনশীল ব্লগাররা ব্লগের সাহিত্য সম্ভারকে গড়ে তুলেছেন। সৃজনশীলেরা একদিনে তৈরি হয় নি। পরিশ্রম, একনিষ্ঠতা, অধ্যয়ন ও জীবনবোধ হলো সৃজনশীল ব্লগারদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। কেউ ব্লগার হয়ে লেখক হয়েছেন, কেউবা আগেই লেখক ছিলেন। তবে ব্লগে প্রথম শ্রেণীর লেখকের সংখ্যাই বেশি। কিন্তু সকলেরই আদি এবং অন্ত ব্লগ। এঁরা সৃজন করেন। নামের কারনেই সৃজনশীলদের নাম অনেক ওপরে!

ব্লগারদের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রচলিত আছে। কেউ বলছেন বেড়েছে, কেউ বলছেন কমেছে। জনসংখ্যা আর ইন্টারনেট ইউজার যদি বাড়ে, তবে ব্লগারের সংখ্যা কমে কীভাবে? আমি বলছি, দু’টোই হয়েছে। বেড়েছে ব্লগার এবং ব্লগসাইট; কমেছে প্রতি ব্লগসাইটের নিজস্ব ব্লগারের সংখ্যা। সব মিলিয়ে একটি বৃহৎ ব্লগার কমিউনিটি গড়ে ওঠেছে বাংলা ভাষায়। সংবাদ মাধ্যমের কোন বিষয়ে সন্দেহ বা বিভ্রান্তি থাকলে মানুষ ব্লগে তাকায়, ব্লগের পৌনপুনিক দাবিগুলো অবশেষে মূলধারার সংবাদ মাধ্যমে গড়ায়। কারও অধিকার ক্ষুণ্ন হলে উভয়ে (অনলাইন ও অফলাইন) সমস্বরে চেঁচিয়ে ওঠে। ব্লগার এবং সামাজিক মাধ্যমের বলিষ্ঠ অংশগ্রহণ নিয়ে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম একটি বৃহৎ ও শক্তিশালী গণমাধ্যম।

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:০৭ [Somewhereinblog.net]

লেখা নিয়ে সুধী পাঠকের কাছে আমার কৈফিয়ত

মাধ্যম আর ভাষার শুদ্ধতা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে অবশেষে প্রকাশটাই হয় না। ফলে লেখকের মস্তিষ্কে বদহজম! নিজের চিন্তা বা জীবন দর্শনকে শব্দ-বাক্য-কবিতা-বা-গল্পে প্রকাশ না করা পর্যন্ত সেটাকে মূল্যায়ন বা অবমূল্যায়ন কিছুই করা যায় না। ভাষার শুদ্ধতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে তা লেখকের জন্য শুরুতেই জরুরি নয়। জরুরি হলো নিজেকে প্রকাশ করার আকুতি নিবৃত্ত করা। সাধারণত সমাজ বা রাষ্ট্র ব্যক্তির আত্মপ্রকাশের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায়।ভাষা ও মাধ্যম যদি লেখকের মননে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তবে সমাজ বা রাষ্ট্র যা করার তা লেখক নিজেই করে ফেললেন।আমার পর্যবেক্ষণে, লেখকের মনে ভাষার চিন্তা করার পূর্বেই আসে ‘বিষয়ের চিন্তা’।

.
মাধ্যম বা প্রকার চিন্তা করার পূর্বেই আসে লেখার ধারণা বা অনুভব। ভাষার জটিলতা নিয়ে চিন্তা করার পূর্বে লেখক তার লেখার পটভূমি নিয়ে চিন্তিত হন, এটিই স্বাভাবিক। বিষয়ই যদি না থাকলো, তবে মাধ্যম বা শুদ্ধ ভাষা সেখানে কী করবে? লেখক চিন্তা করবেন তার অনুভব নিয়ে, তারপর মাধ্যম বেচে নেবেন। ভাষার চিন্তা প্রুফরিডাররা করুক! (এহেম! যা বলছিলাম…) ভেতরে যদি চিন্তা থাকে, মৌলিক ভাবনা থাকে, তবে সেটা প্রকাশ হওয়া উচিত, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। দেরি করলেই হারানোর সম্ভাবনা (হাছা কিনা?)।
.
প্রকাশের মাধ্যম তারপরে আসতে পারে।লেখা নিয়ে আমি অনেক কথাই বলছি বিভিন্ন ব্লগ পোস্টের মাধ্যমে। হয়তো সেখানে সবকিছুই অকাট্য নয়। কেউ কেউ একে বাঁকা চোখে দেখে বলতে পারেন, আমি খুব জ্ঞান প্রকাশ করছি বা শিক্ষা দিচ্ছি। প্রথমত, তাদেরকে সবিনয়ে বলতে চাই, প্রথমত নিজেকে বুঝার জন্যই আমি লিখছি। অস্কার ওয়াইল্ড-এর মতো নিজেকের বুঝার পর হয়তো লেখা থামিয়ে দেবো (কথার কথা!)!
.
দ্বিতীয়ত বলতে চাই, ব্লগের লেখা চূড়ান্ত নয়, এলেখা তো খসড়া হিসেবেই বিবেচিত। তৃতীয়ত, আমার বক্তব্য প্রশ্নাতীত তা কখনও দাবি করি নি, বরং পাঠককে ক্রিটিকেল হবার আহ্বান জানিয়েছি সুযোগ পেলেই। কিন্তু যে কথা অনেকবার বলেছি তা হলো, এখানে পাঠকরা খুবই সহানুভূতিশীল অন্যের অনুভূতির প্রতি চরম শ্রদ্ধাশীল; তারা সমালোচনা প্রায় করতেই চান না। এ মনোভাবকে আমি আংশিকভাবে গ্রহণ করি। তবে নানাবিধ কারণের মধ্যে এর একটি কারণ হতে পারে যে, গভীর মন্তব্য দেবার জন্য প্রয়োজন গভীরতর পর্যবেক্ষণ এবং সতর্ক পাঠ, যা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয়ে ওঠে না।
.
আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলতে চাই, নিজের মনোভাবকে প্রকাশ করার জন্যই লিখছি – মাধ্যম নিয়ে চিন্তিত হই নি এখন পর্যন্ত। প্রবন্ধ, কবিতা, ছড়া ইত্যাদি একাধিক মাধ্যমে আমাকে বিচরণ করতে দেখে অনেকে বিস্মিত হতে পারেন, কিন্তু এখানেই আমার পরিচয়, যেমনটি আমার প্রোফাইল-এ আমি বলেছি। নিজেকে চেনার আজন্ম সংগ্রামে আমি এক অস্থির মানব। এক্ষেত্রে যা সত্যি নেতিবাচক হলেও তা দেখাতে আমার আপত্তি নেই। প্রবন্ধ, কবিতা বা ছড়া ইত্যাদি বিভিন্ন মাধ্যমেই আমি প্রকাশিত হতে চাই – যখন যা সুবিধার মনে হয়। ( বুঝেন, আমি কী কিছিমের লেখক!) সম্ভব হলে হয়তো গল্পকেও মাধ্যম হিসেবে নিতে পারি। হয়তো কোন একদিন গানও লিখে ফেলতে পারি! শিল্পীর তুলিতে রঙ নেওয়ার মতো স্বাধীনভাবে সবগুলো মাধ্যমকে আমি ব্যবহার করে দেখতে চাই, কোনটাতে আমার স্বাচ্ছন্দ্য। ভালো কথা মনে পড়েছে, হয়তো ছবিও এঁকে ফেলতে পারি কোনদিন! (পুরাই অস্থির!) উৎকর্ষতা অনেক পরের বিষয়, হয়তো তা কখনও অর্জিত হবে না। আপাতত ‘প্রকাশ ও প্রচেষ্টা’ আমার কাছে অগ্রাধিকার। হয়তো এ অগ্রাধিকার খুব তাড়াতাড়ি বদলাবে না। এ হলো নিজের লেখা সম্পর্কে সুহৃদ পাঠকের কাছে আমার বিনীত কৈফিয়ত।.

( মেহেরবানি করিয়া ব্রাকেটের কথাসমূহ ব্রাকেটের ভিতরেই রাখিবেন, বাহিরে আনিবেন না )

[১ এপ্রিল ২০১৩, অসম্পাদিত]

.

.

.

প্রথম আলো ব্লগে প্রাপ্ত মন্তব্য: (লেখাটি সরাসরি স্থানান্তরিত)

 ================================================

৫৬ টি মন্তব্য (প্রথম আলো ব্লগ)

meghneelমেঘনীল০১ এপ্রিল ২০১৩, ২০:২০

মাইনুল ভাই লেখাটি পড়ে ভালো লাগলো।সুন্দর আত্ববিশ্লেষনের আর্তনির্মান।শুভকামনা ।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০১ এপ্রিল ২০১৩, ২১:১৯

প্রিয় মেঘনীলকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছামুছে ফেলুন
MatirMoynaমাটিরময়না০১ এপ্রিল ২০১৩, ২০:২২

মেহেরবানি করিয়া ব্রাকেটের কথাসমূহ ব্রাকেটের ভিতরেই রাখিবেন, বাহিরে আনিবেন নাআনিলে কোন জরিমানা দিতে হবে কিনা মন জানিবার চায়—উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০১ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২২

ইহা অতীব গর্হিত কর্ম হইয়াছে, প্রিয় ভ্রাতা!
আমি তো আপনাকে বারণ করিয়াছিলাম।বারণ করিলে বুঝি আকর্ষণ বারিয়া যায়?যাই হোক, মঙ্গলে থাকিবেনমুছে ফেলুন
MatirMoynaমাটিরময়না০১ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২৪

ইহা আমার বংশগত বালাই–যাহা আমাকে নিষেধ করা হইবে আমি তাহাই বেশী করিয়া করিব এবং বারংবার করিব– মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০১ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৩০

বুঝিয়াছিলাম প্রারম্ভেই….ইহা কি আপনার বিবাহের বর্ষ?
নিজেকে আরও শুদ্ধ করিতে হইবে…..মঙ্গলে থাকিবেনমুছে ফেলুন
MatirMoynaমাটিরময়না০১ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৪৬

প্রিয় ভ্রাতা,আমি আমার সুখ সময়, মানে আমি বলিতে চাহিতেছি — আমার বিবাহ বর্ষ আমি বহু আগে পার করিয়া আসিয়াছি। আমার মাথায় এখন পুরোদস্তুর একটা খেলার মাঠ হইয়া গিয়াছে।আপনার মঙ্গল কামনা আমি দুহস্তে তুলিয়া রাখিলান। আশা করিতেছি অচিরেই কাজে লাগিবে।আপনিও ভালো থাকিবেন– আশা করিতেছি আবারো কুশ্লাদি বিনিময় হইবে।মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

kamaluddinকামাল উদ্দিন০১ এপ্রিল ২০১৩, ২০:২২

এহেম! যা বলছিলাম…
হাছা কিনা?
কথার কথা!
বুঝেন, আমি কী কিছিমের লেখক!
পুরাই অস্থির!
……..এগুলোর কথা বলছেন তো উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০১ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২৩

ইহা আপনি কী করিলেন, ভ্রাতঃ?
আপনাকে বারণ করিলাম কত?গুরু বুঝি এই শিক্ষা দিয়াছে আপনাকে?যাই হোক, মঙ্গলে থাকিবেনমুছে ফেলুন
BABLAমোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা০১ এপ্রিল ২০১৩, ২০:৩৯

গভীর মন্তব্য দেবার জন্য প্রয়োজন গভীরতর পর্যবেক্ষণ এবং সতর্ক পাঠ, যা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয়ে ওঠে না। সহমত।
আমরা সমালোচনায় যাই না এর দুটি কারণ থাকতে পারে এক. অনেকে বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে নেন না। অনেকে হালকা চটে যান। আমার সমালোচনামূলক এক মন্তব্যে হালকা করে সেটার আভাস পেয়েছিলাম। দুই. আমরা অনেকে প্রথম আর শেষ দুলাইন পড়েই মন্তব্য লিখে ফেলি—-
“খুব ভালো হয়েছে”, “দারুন”, “অসাধারণ” টাইপের দায় সারা কথা দিয়ে মন্তব্য শেষ করি। অনেকে মন্তব্য দেন দিতে হবে সেজন্য। অনেকের কথাটি কিছুটা বেমানান তবু ভালো “সময় করে পড়ে নেব”
। ইত্যাদি ইত্যাদি—
আমি মনে করি যে লেখাগুলো আমি উপভোগ করি না সেখানে মন্তব্য না দিলে তেমন কোন ক্ষতি নেই। না পড়ে ভালো হয়েছে টাইপের মন্তব্য দেয়া একটি প্রতারণা।
একদিন এক সহব্লগার দু:খভারাক্রান্ত মন নিয়ে তাঁর হতাশার কথা লিখে পোস্ট দিলেন।
“একজন মন্তব্য করে দিলেন বেশ চমৎকার হয়েছে।” অবশ্য লেখক উত্তরে যথার্থ বলেছেন- “এখানে চমৎকার কী দেখলেন?”
মইনুল ভাই, আজিব কিছু লিখলাম মনে হয়।
উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০১ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২৫

হাহাহা! অনেক কথা বলে দিলেন বাবলা ভাই!
যথার্থ বিশ্লেষণ! নাহ্ ‘আজিব’ কিছু হয় নি।আমি নিজেও মন্তব্য দেবার চাপে থাকি না।
তবে লেখার মানই মন্তব্য প্রদানে বাধ্য করে, তখন তো আর অবিচার করতে পারি না।সুন্দর মন্তব্যের জন্য কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা রইলোমুছে ফেলুন
Rabbaniরব্বানী চৌধুরী০১ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৩০

” প্রথমত নিজেকে বুঝার জন্যই আমি লিখছি। ” চমৎকার ও আমার নিজের কথাও বটে। আপনার সাথে একমত হয়ে বলি নিজেকে জানার জন্য আমার বা আমাদের অনেকের ব্লগে লেখালেখি।প্রবন্ধটি – লেখার মান উন্নয়নের জন্যই। খুব ভালো লাগলো আর জানাও হল বেশ।শুভেচ্ছা জানবেন মইনুল ভাই।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:০৩

“চমৎকার ও আমার নিজের কথাও বটে। আপনার সাথে একমত হয়ে বলি নিজেকে জানার জন্য আমার বা আমাদের অনেকের ব্লগে লেখালেখি।” এর চেয়ে প্রেরণাদায়ক আর কী হতে পারে!
তবে আপনার সাথে আমার যে মিলে, সেটা অনেক আগেই জেনেছি।রব্বানী ভাইকে শুভেচ্ছামুছে ফেলুন
fardoushaফেরদৌসা০১ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৫০

প্রবন্ধ, কবিতা বা ছড়া ইত্যাদি বিভিন্ন মাধ্যমেই আমি প্রকাশিত হতে চাই – যখন যা সুবিধার মনে হয়। ( বুঝেন, আমি কী কিছিমের লেখক!) সম্ভব হলে হয়তো গল্পকেও মাধ্যম হিসেবে নিতে পারি। হয়তো কোন একদিন গানও লিখে ফেলতে পারি! শিল্পীর তুলিতে রঙ নেওয়ার মতো স্বাধীনভাবে সবগুলো মাধ্যমকে আমি ব্যবহার করে দেখতে চাই, কোনটাতে আমার স্বাচ্ছন্দ্য। ভালো কথা মনে পড়েছে, হয়তো ছবিও এঁকে ফেলতে পারি কোনদিন! (পুরাই অস্থির!)আমার লেখা আমি লিখুমযা খুশি তাই লিখুম ( যার মনে চায় পড়বে , না পড়লে না পড়বে )

তবে আপনি কিন্তু অনেক ভাল লিখেন, হাছা কতা উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:০৫

দারুণ উৎসাহ পেলাম।আপনার ব্রাকেটের কথাও ভালো লেগেছে!ফেরদৌসা আপাকে অনেক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছামুছে ফেলুন
aihena039আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম০১ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৫৫

প্রিয় মইনুল ভাই, প্রবন্ধটির মধ্যে চিন্তার খোরাক আছে। বাবলা ভাইয়ের মন্তব্যের সাথে একমত পোষণ করছি। ব্লগের এসব সীমাবদ্ধতার কারণে আমি প্রিন্ট মিডিয়াতে বেশি লিখে থাকি। যদিও ব্লগ একটা পরিবারের মতো মনে হয় বলে এখানে একাত্মতা অনুভব করি। মুল্যবান পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ।বার্তার জবাব পেয়েছি। দ্বিতীয় প্রশ্ন নাই। সম্মানসূচক উত্তরের জন্য ধন্যবাদ।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:০৯

ভাবনার মিল পেলে কার না ভালো লাগে!আবুহেনা ভাইকে অনেক ধন্যবাদ।মুছে ফেলুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:১০

গোলাম মোস্তফা ভাইকে ধন্যবাদ। সত্যিই আমার অনেক চা খেতে হয়মুছে ফেলুন
shahidulhaque77শাহিদুল হক০১ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৫৭

আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলতে চাই, নিজের মনোভাবকে প্রকাশ করার জন্যই লিখছি – মাধ্যম নিয়ে চিন্তিত হই নি এখন পর্যন্ত। প্রবন্ধ, কবিতা, ছড়া ইত্যাদি একাধিক মাধ্যমে আমাকে বিচরণ করতে দেখে অনেকে বিস্মিত হতে পারেন, কিন্তু এখানেই আমার পরিচয়, যেমনটি আমার প্রোফাইল-এ আমি বলেছি। নিজেকে চেনার আজন্ম সংগ্রামে আমি এক অস্থির মানব। এক্ষেত্রে যা সত্যি নেতিবাচক হলেও তা দেখাতে আমার আপত্তি নেই। প্রবন্ধ, কবিতা বা ছড়া ইত্যাদি বিভিন্ন মাধ্যমেই আমি প্রকাশিত হতে চাই – যখন যা সুবিধার মনে হয়। ( বুঝেন, আমি কী কিছিমের লেখক!) সম্ভব হলে হয়তো গল্পকেও মাধ্যম হিসেবে নিতে পারি। হয়তো কোন একদিন গানও লিখে ফেলতে পারি! শিল্পীর তুলিতে রঙ নেওয়ার মতো স্বাধীনভাবে সবগুলো মাধ্যমকে আমি ব্যবহার করে দেখতে চাই, কোনটাতে আমার স্বাচ্ছন্দ্য। ভালো কথা মনে পড়েছে, হয়তো ছবিও এঁকে ফেলতে পারি কোনদিন! (পুরাই অস্থির!) উৎকর্ষতা অনেক পরের বিষয়, হয়তো তা কখনও অর্জিত হবে না। আপাতত ‘প্রকাশ ও প্রচেষ্টা’ আমার কাছে অগ্রাধিকার। হয়তো এ অগ্রাধিকার খুব তাড়াতাড়ি বদলাবে না। এ হলো নিজের লেখা সম্পর্কে সুহৃদ পাঠকের কাছে আমার বিনীত কৈফিয়ত।”””””””””””””” ”””’’’’’’’’’’’এ কথাগুলো মনে হলো আমারও মনের কথা। আমি বেড়াতে চাই। ভাব জগতের প্রতিটি জায়গায়। তাতে অন্তত আমার আত্মা খুশি থাকবে। আর সত্য সব সময় সত্য। সত্যের হিসাব সকলেরই এক। আপনার প্রতিটি শব্দের সাথে সহমত ব্যক্ত করছি। সেই সাথে অনেক অনেক ধন্যবাদ আর ভালবাসা রইল।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:১৩

“সত্যের হিসাব সকলেরই এক। আপনার প্রতিটি শব্দের সাথে সহমত ব্যক্ত করছি।”
চেহারার মিলের চেয়ে চেতনার মিল মানুষকে বেশি কাছে টানে। এজন্যই ব্লগ আমার এতো প্রিয়। এখানে চেতনায় মিশে গেছি আপনার মতো কবিমনের সাথে। শুভেচ্ছা জানবেন!মুছে ফেলুন
shahidulhaque77শাহিদুল হক০১ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৫৯

এবার মন্তব্যের বিষয়ে লিখি। আমাকে আমার এক স্যার একদিন বললেন যে তুমি যদি কাউকে কিছু শিখাতে চাও তবে সমালোচনা না করে তাকে উৎসাহিত করবা। আর যদি তুমি শিখতে চাও তবে সমালোচনা করবা। আমি এ কথাটা মনে রেখে চলছি।ভালবাসা সতত।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:১৮

সুন্দর কথা! আমার ভালো লেগেছে।আমি আমার সহকর্মীদের বলি, যদি কারও ভেতরের ভালো দিকটিতে উন্নয়ন করতে চান, তবে ভালো দিকগুলোর প্রশংসা করুন আর খারাপের উন্নয়ন করতে চান তবেই সমালোচনা করুন।তবে ‘সাহিত্য সমালোচনা’ মানে নেতিবাচক মন্তব্য নয়, তা তো আপনি ভালোই জানেন। সাহিত্য সমালোচনায় ভালো-মন্দ উভয়েরই ন্যয়সঙ্গত এবং বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ থাকে।মুছে ফেলুন
shahidulhaque77শাহিদুল হক০১ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:৩৬

এখানে দ্বিমত নেই। শুভকামনা সতত।মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০২ এপ্রিল ২০১৩, ২১:১৬

সমালোচনা আছে বলেই শিল্পে আছে উৎকর্ষতা।কবিকে আবারও ধন্যবাদ!মুছে ফেলুন
sularyআলভী০১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:০৭

ব্লগের লেখা চূড়ান্ত নয়, এলেখা তো খসড়া হিসেবেই বিবেচিত।প্রিয় মইনুল ভাই আপনার ব্যতিক্রমধর্মী পোষ্ট গুলো আমাকে লেখায় উৎসাহ যোগায়। বানান এবং ব্যাকরণের জাঁতা কলে পড়ে লেখার সাহস হারিয়ে ফেলি! অনেক সময় মনের ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে দ্বিধা-দ্বন্দে পড়ি। সে জন্য বেশ কিছু দিন লেখা পোষ্ট দেয়া থেকে বিরত আছি। চমৎকার পোষ্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ ….।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:২০

“বানান এবং ব্যাকরণের জাঁতা কলে পড়ে লেখার সাহস হারিয়ে ফেলি! অনেক সময় মনের ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে দ্বিধা-দ্বন্দে পড়ি।”-আমরা সকলেই প্রায় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এসেছি। সমস্যাগুলোও এক।সুন্দর মন্তব্যের জন্য আলভী ভাইকে কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছামুছে ফেলুন
sularyআলভী০১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:২৬

rodela2012ঘাস ফুল০১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:২৩

এখনো পড়ি নাই, চোখ বুলাইয়া গেলাম
ইট্টু পরে ঘুমাইতে যাইবেন এইডা কইয়া গেলাম
বেশী রাইতে পইড়া আমি মন্তব্যাবু ভাই
এখন তবে অন্য পোস্টে ঘুইরা আসি তাই।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০২ এপ্রিল ২০১৩, ২০:৪৮

প্রিয় ঘাস ফুলকে শুভেচ্ছামুছে ফেলুন
baganbilas1207কামরুন্নাহার০১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩৫

ব্লগের লেখা চূড়ান্ত নয়, এলেখা তো খসড়া হিসেবেই বিবেচিত। তৃতীয়ত, আমার বক্তব্য প্রশ্নাতীত তা কখনও দাবি করি নি, বরং পাঠককে ক্রিটিকেল হবার আহ্বান জানিয়েছি সুযোগ পেলেই। কিন্তু যে কথা অনেকবার বলেছি তা হলো, এখানে পাঠকরা খুবই সহানুভূতিশীল অন্যের অনুভূতির প্রতি চরম শ্রদ্ধাশীল; তারা সমালোচনা প্রায় করতেই চান না। এ মনোভাবকে আমি আংশিকভাবে গ্রহণ করি। তবে নানাবিধ কারণের মধ্যে এর একটি কারণ হতে পারে যে, গভীর মন্তব্য দেবার জন্য প্রয়োজন গভীরতর পর্যবেক্ষণ এবং সতর্ক পাঠ, যা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয়ে ওঠে না।আপনার সাথে একমত। ধন্যবাদ আপনার এই বলিষ্ঠ লেখার জন্য।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০২ এপ্রিল ২০১৩, ২০:৪৮

কামরুন্নাহারকে ধন্যবাদ বলিষ্ঠ মন্তব্যের জন্যমুছে ফেলুন
KohiNoorমেজদা০১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৪২

মইনুল ভাই, খুব সত্যি কথা লিখেছেন। ভাবনা করে লিখি না কিন্তু বানান, অন্তরের ভিতরের সুক্ষ্মভাবনা আমি পরে ভাবি যা হয়তো আর পোস্টে যায় না। যখন আমার লেখা বই আকারে প্রকাশ করবো তখন ভিন্ন জিনিষ আসবে। আপনার সুচিন্তিত লেখায় সকলেই উপকৃত হবে।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০২ এপ্রিল ২০১৩, ২০:৫১

“মইনুল ভাই, খুব সত্যি কথা লিখেছেন। ভাবনা করে লিখি না কিন্তু বানান, অন্তরের ভিতরের সুক্ষ্মভাবনা আমি পরে ভাবি যা হয়তো আর পোস্টে যায় না। যখন আমার লেখা বই আকারে প্রকাশ করবো তখন ভিন্ন জিনিষ আসবে। আপনার সুচিন্তিত লেখায় সকলেই উপকৃত হবে।” মেজদাকে অনেক ধন্যবাদ প্রেরণাদায়ক মন্তব্যের জন্য।ভালো থাকুন, প্রিয় গীতিকারমুছে ফেলুন
asrafulkabirআশরাফুল কবীর০১ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:২২

কিন্তু যে কথা অনেকবার বলেছি তা হলো, এখানে পাঠকরা খুবই সহানুভূতিশীল অন্যের অনুভূতির প্রতি চরম শ্রদ্ধাশীল; তারা সমালোচনা প্রায় করতেই চান না। এ মনোভাবকে আমি আংশিকভাবে গ্রহণ করি। তবে নানাবিধ কারণের মধ্যে এর একটি কারণ হতে পারে যে, গভীর মন্তব্য দেবার জন্য প্রয়োজন গভীরতর পর্যবেক্ষণ এবং সতর্ক পাঠ, যা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয়ে ওঠে না।#শুভেচ্ছা আপনাকে প্রিয় মাঈনউদ্দীন মইনুল ভাই আলোচনামূলক একটি পোস্ট দেয়ার জন্য#“এখানে পাঠকরা খুবই সহানুভূতিশীল অন্যের অনুভূতির প্রতি চরম শ্রদ্ধাশীল; তারা সমালোচনা প্রায় করতেই চান না…..প্রথম আলো ব্লগের বোধ হয় বিশেষত্ব এটাই, এখানে সৌহার্দ্যের পরিমান অন্য ব্লগের তুলনায় বেশী…অন্য ব্লগেও সৌহার্দ্য রয়েছে তবে তা প্রথম আলো ব্লগের মতো এতোটা দৃঢ় নয়।#এবার আসি সমালোচনার ব্যাপারে…সমালোচনার ব্যাপারে প্রয়োজন প্রখর দৃষ্টিভঙ্গি, অভিজ্ঞতা, পাঠাভ্যাস সর্বোপরি রেলিভ্যান্ট ফিল্ডে এক্সপার্ট যারা তাদের…যা আপনি আপনার আংশিকভাবে গ্রহণ করার মনোভাবের মাধ্যমে উন্মোচন করেছেন..ভালো লেগেছে আপনার অভিব্যক্তি..একটু অফটপিকে যাই..আমার জানাশোনা এবং স্বল্পায়ু ব্লগিংয়ের অভিজ্ঞতায় দেখেছি অধিকাংশ নামকরা ব্লগে সমালোচনার নামে যা হয় তা হলো গালাগালি (প্রথমে কিছুটা ভালোভাবে শুরু হয় অত:পর…….ভালো কিছু আছে তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল)

#সমালোচনার জন্য আমার একটি অনুভূতি আপনি কিছুটা প্রকাশ করেছেন এ লাইনের মাধ্যমে “ভাষার শুদ্ধতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে তা লেখকের জন্য শুরুতেই জরুরি নয়। জরুরি হলো নিজেকে প্রকাশ করার আকুতি নিবৃত্ত করা” পাঠক হিসেবে অবশ্যই সমালোচনা করার অধিকার আছে তবে তা করার পূর্বে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকা জরুরী (আমি জানি আমার নেই, তাই করিনা), ইতোপূর্বে অনেকেরই এ বিষয়ে লেখা গোচরীভূত হয়েছে তবে বলার সুযোগ পাইনি..আমার মতে কোন একটি ফিল্ডকে বুঝতেও সময় লাগে বছর তিনেক..তাই পর্যাপ্ত সময় না নিয়েই তাড়াহুড়ো করা আমার মতের বাইরে।

#একটি ফিল্ডে আমি হুট করে একটি কমেন্ট করতে পারি (যা সমালোচনার কাভারে আসতেও পারে আবার নাও আসতে পারে) আমি ভাবছি আমি কমেন্টের মাধ্যমে একটি বিষয়কে কেন্দ্র কর সমালোচনা করেছি কিন্তু তা পোস্টদারীর বক্তব্যের বাইরেও চলে যেতে পারে আর যদি নাও যায় তাহলেও তার লেখার প্ল্যাটফর্মে হানতে পারে বিশাল আঘাত যা কোনভাবেই কাম্য নয়..আমার করা কোন একটি কমেন্টের জন্য সেই ব্লগারের লেখার প্রতি কাজ করতে পারে চরম বিতৃষ্ণা..হয়তোবা কমে যেতে পারে পোস্টের সংখ্যা। ব্যাপারটি কিন্তু খুবই দু:খজনক হবে তখন। হ্যাঁ..বলতে পারেন কারো সমালোচনায় সেই ব্লগারের লেখার উৎকর্ষ সাধন হতে পারে প্রাথমিক সময় থেকে, পেতে পারে উল্লেখযোগ্য দিকনির্দেশনা তবে সেখানেও সমস্যা আসবে..তিনি কতোটুকু ভাল জানেন সে ব্যাপারে প্রশ্ন থেকে যায়।

#আমার মনে হয় “এখানে/ওখানে কেউ সমালোচনা করেনা” এ ধরনের গন্ডিতে আমাদের বক্তব্যকে আটকে না রেখে..নিজে নিজেই শুরু করিনা কেনো? আপনিই শুরু করুননা..আপনাকে (প্রিয় ব্লগ রত্নকে) দেখে দেখে যদি আমরা কিছুটা শিখতে পারি….কারন “উৎকর্ষতা অনেক পরের বিষয়” অন্তত আমি আমার কথা বলতে পারি..এখনো ব্লগিংয়ের এলিমেন্টারি লেভেলেই আছিতো।

#ভাল থাকুন..আপনার সাবমিসিব মুড ভালো লেগেছে..জয়তু প্রথম আলো ব্লগিংউত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০২ এপ্রিল ২০১৩, ২০:৫৮

#“এখানে পাঠকরা খুবই সহানুভূতিশীল অন্যের অনুভূতির প্রতি চরম শ্রদ্ধাশীল; তারা সমালোচনা প্রায় করতেই চান না…..প্রথম আলো ব্লগের বোধ হয় বিশেষত্ব এটাই, এখানে সৌহার্দ্যের পরিমান অন্য ব্লগের তুলনায় বেশী…অন্য ব্লগেও সৌহার্দ্য রয়েছে তবে তা প্রথম আলো ব্লগের মতো এতোটা দৃঢ় নয়।
-একমত। #এবার আসি সমালোচনার ব্যাপারে…সমালোচনার ব্যাপারে প্রয়োজন প্রখর দৃষ্টিভঙ্গি, অভিজ্ঞতা, পাঠাভ্যাস সর্বোপরি রেলিভ্যান্ট ফিল্ডে এক্সপার্ট যারা তাদের…যা আপনি আপনার আংশিকভাবে গ্রহণ করার মনোভাবের মাধ্যমে উন্মোচন করেছেন..ভালো লেগেছে আপনার অভিব্যক্তি..একটু অফটপিকে যাই..আমার জানাশোনা এবং স্বল্পায়ু ব্লগিংয়ের অভিজ্ঞতায় দেখেছি অধিকাংশ নামকরা ব্লগে সমালোচনার নামে যা হয় তা হলো গালাগালি (প্রথমে কিছুটা ভালোভাবে শুরু হয় অত:পর…….ভালো কিছু আছে তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল)
-একমত। আমিও এমন দেখেছি।

#সমালোচনার জন্য আমার একটি অনুভূতি আপনি কিছুটা প্রকাশ করেছেন এ লাইনের মাধ্যমে “ভাষার শুদ্ধতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে তা লেখকের জন্য শুরুতেই জরুরি নয়। জরুরি হলো নিজেকে প্রকাশ করার আকুতি নিবৃত্ত করা” পাঠক হিসেবে অবশ্যই সমালোচনা করার অধিকার আছে তবে তা করার পূর্বে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকা জরুরী (আমি জানি আমার নেই, তাই করিনা), ইতোপূর্বে অনেকেরই এ বিষয়ে লেখা গোচরীভূত হয়েছে তবে বলার সুযোগ পাইনি..আমার মতে কোন একটি ফিল্ডকে বুঝতেও সময় লাগে বছর তিনেক..তাই পর্যাপ্ত সময় না নিয়েই তাড়াহুড়ো করা আমার মতের বাইরে।
-দায়িত্বশীল মনোভাব দেখালেন। এরকম যুক্তি থাকলে আলাদা কথা।#একটি ফিল্ডে আমি হুট করে একটি কমেন্ট করতে পারি (যা সমালোচনার কাভারে আসতেও পারে আবার নাও আসতে পারে) আমি ভাবছি আমি কমেন্টের মাধ্যমে একটি বিষয়কে কেন্দ্র কর সমালোচনা করেছি কিন্তু তা পোস্টদারীর বক্তব্যের বাইরেও চলে যেতে পারে আর যদি নাও যায় তাহলেও তার লেখার প্ল্যাটফর্মে হানতে পারে বিশাল আঘাত যা কোনভাবেই কাম্য নয়..আমার করা কোন একটি কমেন্টের জন্য সেই ব্লগারের লেখার প্রতি কাজ করতে পারে চরম বিতৃষ্ণা..হয়তোবা কমে যেতে পারে পোস্টের সংখ্যা। ব্যাপারটি কিন্তু খুবই দু:খজনক হবে তখন। হ্যাঁ..বলতে পারেন কারো সমালোচনায় সেই ব্লগারের লেখার উৎকর্ষ সাধন হতে পারে প্রাথমিক সময় থেকে, পেতে পারে উল্লেখযোগ্য দিকনির্দেশনা তবে সেখানেও সমস্যা আসবে..তিনি কতোটুকু ভাল জানেন সে ব্যাপারে প্রশ্ন থেকে যায়।
-দায়িত্বশীল মন্তব্য দিলে এমনটা হবার সুযোগ নেই। ব্যক্তিকে নয়, লেখাকে কেন্দ্র করে আলোচনা চললে, তা খারাপের দিকে যাবার কথা নয়। প্রচলিত অর্থে সমালোচনা বলতে যা বুঝায়, সাহিত্য সমালোচনা তো তা নয়। আপনি জানেন যে, সাহিত্যে যুক্তিসংগতভাবে লেখকের প্রশংসা করলেও সেটা ‘সমালোচনা’।#আমার মনে হয় “এখানে/ওখানে কেউ সমালোচনা করেনা” এ ধরনের গন্ডিতে আমাদের বক্তব্যকে আটকে না রেখে..নিজে নিজেই শুরু করিনা কেনো? আপনিই শুরু করুননা..আপনাকে (প্রিয় ব্লগ রত্নকে) দেখে দেখে যদি আমরা কিছুটা শিখতে পারি….কারন “উৎকর্ষতা অনেক পরের বিষয়” অন্তত আমি আমার কথা বলতে পারি..এখনো ব্লগিংয়ের এলিমেন্টারি লেভেলেই আছিতো।

-আমি শুধু ‘শুরু’ করি নি, নিয়মিতভাবেই করার চেষ্টাই করি। তাতে লেখক বা পোস্টদাতার সাথে আমার সম্পর্কের অবনতি ঘটে নি। এসব প্রকাশ করে পোস্টদাতাকে প্রশ্নের সম্মুখীন করতে চাই না। ভিন্নমত পোষণ করেছি এরকম দু’টি লেখার লিংক আপনাকে বার্তায় পাঠালাম।

প্রিয় আশরাফুল কবীর ভাই, নিরামিষ মন্তব্য আপনি নিজেও করেন না, তা আমার লেখায় আপনার মন্তব্যে দেখতে পাই। কিন্তু, শুধু একটি ইমোটিকোন দিয়ে একটি সাহিত্যকর্মের প্রতি মতামত প্রকাশ করা যায়?

তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য দিয়ে আপনি সবসময়ই আমার লেখাকে করেছেন সমৃদ্ধ। এবারও ব্যতিক্রম করেন নি। কৃতজ্ঞতা!

ভালো থাকুন, কবি!মুছে ফেলুন

MirHamidহামি্দ০১ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:৪৭

ভালো লাগলো লেখাটি।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০২ এপ্রিল ২০১৩, ২১:০০

ভাই হামিদ, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ লেখাটিতে মতামত দেবার জন্য! মুছে ফেলুন
Rjamilরশীদ জামীল০১ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:৫৪

সালাম মইনুল ভাই। লেখাটা হচ্ছে প্রকৃতির একটি দান। অনেক বেশি শিক্ষিত হলেই লেখক হওয়া যায় না। আবার খুব বেশি পড়ালেখা না করেও অনেকে ভাল লেখক হয়ে উঠে। এ জন্য লেখা যখন যাকে যেভাবে ডাকে, সেভাবেই সাড়া দেয়া উচিত। সেটা গদ্য হোক আর পদ্য।আপনি যেসব বিষয়েই লিখছেন, সবগুলোতেই পূর্ণতার ছাপ বিদ্যমান।
না, গতানুগতিক ধারায় বলছি না। একদম সত্যটাই বলছি।
সো, লিখে যান। পাশে আছি, পাঠক হয়ে।——————-উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
rodela2012ঘাস ফুল০২ এপ্রিল ২০১৩, ০৪:৫৩

বেডাডায় খালি বুইরা আঙ্গুল দেহাইব। দিমুনে একদিন মোচর দিয়া ভাইঙ্গা। তহন টের পাইব নে। মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০২ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২১

“লেখাটা হচ্ছে প্রকৃতির একটি দান। অনেক বেশি শিক্ষিত হলেই লেখক হওয়া যায় না। আবার খুব বেশি পড়ালেখা না করেও অনেকে ভাল লেখক হয়ে উঠে। এ জন্য লেখা যখন যাকে যেভাবে ডাকে, সেভাবেই সাড়া দেয়া উচিত। সেটা গদ্য হোক আর পদ্য।”আহা! লিখে রাখার মতো, বান্ধিয়ে রাখার মতো কথা!
আমার পোস্টের লেখাগুলো মুছে শুধু এ দু’টি লাইন দিলেই সব কথা বলা হয়ে যাবে।প্রিয় রশীদ জামীল ভাইকে অনেক শুভেচ্ছা!!মুছে ফেলুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০২ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২৯

দুষ্টু ছোটভাই ঘাসফুলকেও শুভেচ্ছা!মুছে ফেলুন
Sagar33সাগর মন্ডল০২ এপ্রিল ২০১৩, ০০:৩১

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০২ এপ্রিল ২০১৩, ২১:০১

সুন্দর ফুলে ধন্যবাদ জানিয়ে কৃতজ্ঞ করলেন, ভাই সাগর মণ্ডল!
আপনাকে অনেক শুভেচ্ছামুছে ফেলুন
vuterachorভূতের আছড়০২ এপ্রিল ২০১৩, ০০:৫৭

ভালো লাগলো
তবে বেরাকেটের ভিত্রের বিষয় ভিত্রে রাখসি ভালো থাকতে ভুল হয়না যেনো?উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০২ এপ্রিল ২০১৩, ২১:০২

“তবে বেরাকেটের ভিত্রের বিষয় ভিত্রে রাখসি”কথা রাখার জন্য ধন্যবাদ, প্রিয় ভুত ভাই!ভালো থাকতে ভুল করবো না,
আপনিও যেন না করেন!মুছে ফেলুন
rodela2012ঘাস ফুল০২ এপ্রিল ২০১৩, ০৪:৫০

মইনুল ভাই সালাম নিবেন।
এই পর্যন্ত আপনার যত লেখা পড়েছি, তার সবগুলোর মধ্যেই আন্তরিকতা, গভীরতা এবং শিক্ষণীয় কিছু পেয়েছি। আমার তো মনে হয়, যদি আপনি যত্ন নিয়ে লিখেন (যদিও লিখেন) তাহলে সাহিত্যের যে কোন শাখায়ই আপনি নিঃসন্দেহে ভালো করবেন। কারণ আপনার মধ্যে সবই আছে। এখন শুধু দরকার সেটা লেখনীর মাধ্যমে পাঠকের সাথে শেয়ার করা। যা দ্বারা পাঠক উপকৃত হবে। মন্তব্যের ব্যাপারে যা বলেছেন তাতে সহমত জানালাম। সমালোচনামূলক মন্তব্যের ভালো এবং মন্দ দুটো দিকই আছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের ব্যাপার হল, আমরা শুধু মন্দটাই দেখি, ভালোটা বুঝার চেষ্টা করি না। আর সেই জন্য শেষ পর্যন্ত আর লেখক হওয়া হয়ে উঠে না। আমি অনেককেই বলেছি, আমি পুরো লেখা না পড়ে মন্তব্য করি না। তারপরেও মন্তব্যে যদি কোন ভুল হয়ে থাকে সেটা আমার না বুঝার ভুল। হয়তো আমি লেখাটিকে ঠিক মতো বুঝতে পারি নাই। এখানে লেখকের কোন দোষ নাই। আবার কিছু লেখা আছে যেখানে আসলে বলার মতো কিছুই থাকে না অথবা লেখাটি এতোই তথ্যবহুল যে, নতুন করে যোগ করার সেখানে কিছুই নাই। সেই ক্ষেত্রে আপনাকে চমৎকার, দারুণ, অসাধারণ, অপূর্ব, মুগ্ধ বা সহমত এইধরনের শব্দই ব্যবহার করতে হবে। আসলে সব কিছুই নির্ভর করে লেখার ওপরে। অনেক কিছুই বলার ছিল, কিন্তু অনেকেই বলে গেছেন। তাই আর কষ্ট করে ওমুখো পা বাড়ালাম না। আমি আবার কিছুটা অলস কিছিমের। আত্মসমালোচনামূলক কিন্তু আমাদের জন্য শিক্ষণীয় সুন্দর এই পোস্টের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ মইনুল ভাই। আমি কিন্তু ভিত্রের লেখা আরও ভিত্রে হান্দাইয়া দিছি। কিনুতা পেরকাশ করি নাই।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০২ এপ্রিল ২০১৩, ২১:১৪

“সমালোচনামূলক মন্তব্যের ভালো এবং মন্দ দুটো দিকই আছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের ব্যাপার হল, আমরা শুধু মন্দটাই দেখি, ভালোটা বুঝার চেষ্টা করি না। আর সেই জন্য শেষ পর্যন্ত আর লেখক হওয়া হয়ে উঠে না।”
—————————সহমত। আপনি তো জানেন প্রশংসা করতে বেশি চিন্তাশীল হবার প্রয়োজন নেই, সমালোচনা করতে গেলে সত্যিই লেখাটিকে ভালোমতো পর্যবেক্ষণ করতে হয়, ক্রসচেকিং করতে হয়।প্রশংসা সহজ, কিন্তু সমালোচনা কঠিন।প্রশংসায় লেখককে কিছু উপকার তো করেই, কিন্তু প্রকৃত উপকার করে সমালোচনায়। সমালোচনা করার জন্য একটু বাড়তি খাটনিও আছে।

একজন সমালোচক বলে দিতে পারেন, কোথায় আপনার জোর কোথায় আপনার কমজোর। কোথায় দক্ষতা আর কোথায় দুর্বলতা। সাহিত্যের, পটভূমির, ভাষার ইত্যাদির।

সমঝদার সমালোচক কিন্তু এর জন্য মায়েনাও দাবি করতে পারেন এবং এযুগে তা করেও।

সমালোচনাই যুগে যুগে সাহিত্যকে করেছে সমৃদ্ধ ও অলংকৃত। সমালোচনা আছে বলেই শিল্পে আছে উৎকর্ষ!

আমার লেখা সম্পর্কে আপনার উদার প্রশংসার জন্য অশেষ ধন্যবাদ, প্রিয় ঘাসফুল। ভালো থাকুন!মুছে ফেলুন

rodela2012ঘাস ফুল০২ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৫৫

প্রশংসায় লেখককে কিছু উপকার তো করেই, কিন্তু প্রকৃত উপকার করে সমালোচনায়। সমালোচনা করার জন্য একটু বাড়তি খাটনিও আছে। একজন সমালোচক বলে দিতে পারেন, কোথায় আপনার জোর কোথায় আপনার কমজোর। কোথায় দক্ষতা আর কোথায় দুর্বলতা। সাহিত্যের, পটভূমির, ভাষার ইত্যাদির।সমঝদার সমালোচক কিন্তু এর জন্য মায়েনাও দাবি করতে পারেন এবং এযুগে তা করেও। সমালোচনাই যুগে যুগে সাহিত্যকে করেছে সমৃদ্ধ ও অলংকৃত। সমালোচনা আছে বলেই শিল্পে আছে উৎকর্ষ!

মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

charumannanচারুমান্নান০২ এপ্রিল ২০১৩, ১৩:৩৯

বিষদ আলোচনা সমালোচনা,,,,,,,,,,,,,,,,,
আমাদের অস্তিত্বের শিকড় নড়ে উঠল,,,,,,,,,একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে
উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০২ এপ্রিল ২০১৩, ২১:১৭

কবিকে শেষ বসন্তের শুভেচ্ছামুছে ফেলুন
sopnerdin45এনামুল রেজা০২ এপ্রিল ২০১৩, ২১:০৬

হুম। কিন্তু আমি নিজের একটা ব্যপার কিছুটা ধরতে পেরেছি। যেকোন লেখাই মজা নিয়ে পড়লেই পর মজা করে নিজের লেখাটা জরুরি। মানে মনযোগি পাঠক হওয়াটা ভাব প্রকাশের জন্য মবিল হিসেবে কাজ করে….উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০২ এপ্রিল ২০১৩, ২১:১৯

“কিন্তু আমি নিজের একটা ব্যপার কিছুটা ধরতে পেরেছি। যেকোন লেখাই মজা নিয়ে পড়লেই পর মজা করে নিজের লেখাটা জরুরি। মানে মনযোগি পাঠক হওয়াটা ভাব প্রকাশের জন্য মবিল হিসেবে কাজ করে….”-মূল্যবান কথা! প্রিয় অরিত্র অন্বয় ভাইকে শুভেচ্ছা!
ভালো থাকুন বসন্তের শেষ দিনগুলোতেমুছে ফেলুন
sopnerdin45এনামুল রেজা০২ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২২

ওয়ার্ড এলোমেলো কেমনে হইলো কে যানে!
মজা নিয়ে পড়তে পারলেই নিজের লেখাটা মজা করে লেখা যায়।আপনিও খুব ভাল থাকুন সব সময়।শুভেচ্ছা আর ভালবাসা।মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০২ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৩০

 

================================================

 

অন্যের লেখায় ভুল ধরবো, নাকি ধরবো না…?

11111

ব্লগিং নিয়ে আমার কিছু প্যাচাল

 

[   নভেম্বর ৯, ২০১৪   ৬:০২ অপরাহ্ন   ৯০টি মন্তব্য]

 

১) নতুন-পুরাতন, নবীন-প্রবীণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পেশাদার-অপেশাদার, লেখক-পাঠক, রসিক-সমঝদার, সমাজদার সকলের সমাবেশ এই কমিউনিটি ব্লগ। ‘দৃশ্যমান সমাজের’ (virtual society) বৈশিষ্ট্য নিয়ে এব্লগে সহাবস্থান করছেন সব রকমের এবং সব বয়সের লেখক ও পাঠক। পথ, মত ও আদর্শের ভিন্নতার মধ্যেই একটি পাবলিক ব্লগের সৌন্দর্য্য। কিন্ত এসৌন্দর্য্যকে অক্ষুণ্ন রাখার কাজে প্রধান সহায়ক হলেন সহব্লগাররা।

.

ভাষাগত ভুল ধরা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ কর্ম। এধরণের ভুলগুলো অনেক সময় আপেক্ষিকও – আমার কাছে যা ভুল, অন্যের কাছে তা সঠিক। একটি প্রতিষ্ঠিত দৈনিক পত্রিকা যাকে লিখছে ‘ইতোমধ্যে’ সকলে সেটিকে দিব্বি ‘ইতিমধ্যে’ লেখে যাচ্ছেন। আমি ভাবতাম ‘ঐকমত্য’, কিন্তু প্রতিষ্ঠিত লেখকরা এটিকে ভুল না বললেও তাদের লেখায় ‘ঐক্যমত্য’ লেখে যাচ্ছেন। ‘সম্মানকে’ অধিকাংশ মানুষ ‘সন্মান’ লেখছে এবং বলছেও। বড় বড় সমঝদার ব্যক্তি আজকাল ‘সন্মান’ বলেন। বিখ্যাতে লেখকরা আত্মাকে লেখছেন ‘আত্না’, সত্ত্বাকে সত্বা, দ্বন্দ্বকে দ্বন্ধ ইত্যাদি। একে বলে আগ্রাসন – ভাষার নীতিতে বিদ্রোহ। ‘আগ্রাসন’ হলো ভাষা বদল বা বহমানতার একটি বড় কারণ। বেশির ভাগ সময়েই ‘আগ্রাসন’ হয় না জানা এবং না মানার কারণে। ‘আমি মানলাম না আপনার ভাষারীতি, হয়েছে?’ এভাবে ‘অবাধ্য ভাষাভাষীদের’ সংখ্যা অধিক হলে এবং কয়েকটি প্রজন্ম অতিক্রম করলেই সেটি অবধারিতভাবে অভিধানে ওঠবে।

.

অনেকেই অভিধান আর ব্যাকরণের কথা বলেন। ব্যাকরণের গায়ে জোয়ালি রেখে তারা অন্যদের চর্চিত ভাষার ক্ষেত্রে আরামে মই দেন। ব্যাকরণ আর অভিধান কুরানের (বাইবেলের/ গীতার/ ত্রিপিটকের) বাণী নয়। অভিধানের কথা বলি: অভিধান সঠিক শব্দটি বলার জন্য নয়, সকল প্রচলিত শব্দকে তালিকাবদ্ধ করার জন্য। ব্যাকরণের কথা বলি: এর প্রধান কাজ মানুষের ভাষাকে শুদ্ধ করা নয়, মানুষের প্রচলিত ভাষাকে শ্রেণীবদ্ধ ও গ্রন্থবদ্ধ করে তা প্রজন্মের জন্য ব্যবহার-উপযোগী করা। আজকের ‘মাইরালা আমারে’ হয়তো একদিন অভিধানে ওঠবে, সেদিন আমরা থাকি বা না থাকি। অভিধানের শব্দটি হলো একদল মানুষের সুচিন্তিত এবং আলোচনাপ্রসূত সংজ্ঞা। একে ‘অর্থ’ বলাটাও সেটি আপেক্ষিক। আকাশ থেকে এসে পড়ে নি। ফলে সেটি অকাট্য বা অলঙ্ঘনীয় নয়।

.

.

.

২) ভুল ধরবো কার? তিনি কি আমার সংশোধন গ্রহণ করবেন? বা সেটি গ্রহণ করার অবস্থানে আছেন? তিনি কোন্ কিবোর্ড ব্যবহার করেন, এর ওপরও অনেকটা নির্ভর করে, তার ভুলটি ইচ্ছাকৃত কিনা। তাছাড়া আছে বয়সের ব্যাপার; সামর্থ্যের ব্যাপার। লেখকের নামটি দেখলেই কিন্তু বুঝা যায় না, লেখক কোন্ স্তরের। বুঝা যায় না, তিনি কোন্ বয়সের। দেখা যাবে যে, ‘পরিমিত ভাষাজ্ঞান’ অর্জনের সময়ই লেখকের হয় নি, অথবা পেশাগত কারণে সেদিকে বেশিদূর হাঁটতে পারেন নি। কিন্তু আমি একটি তুচ্ছ ভুল ধরে, তার লেখার স্পৃহাকে নষ্ট করে দিলাম অথবা আত্মবিশ্বাসকে বেলুনের মতো ফুটো করে দিলাম।

.

ভুল ধরা এক বিষয়, আর নিজের পাণ্ডিত্য জাহির করা ভিন্ন বিষয়। সামান্য বানান বা ভাষার ভুলের জন্য বিশাল বড় যুক্তি দেবার প্রয়োজন আছে কিনা, মাঝে মাঝে ভাবি। রূপক উপমা ভাষাগত ভুল থাকলে, বা লেখার মধ্যে পরস্পর-বিরোধী বিষয় থাকলে, সেটি যদি উপযুক্তভাবে উপস্থাপন করা না যায়, তবে নিরবে এড়িয়ে যাওয়াই অনেক সময় ভালো মনে হয়। পর্যাপ্ত দৃষ্টান্ত ও ব্যাখ্যা সহকারে এর মূল্যায়ন করা যায়, যেখানে থাকবে লেখার সবল এবং দুর্বল দিকের ভারসাম্যপূর্ণ আলোচনা

.

রাজনৈতিক তথ্য, দেশের মৌলিক ইতিহাস, সামাজিক মূল্যবোধ ইত্যাদি বিষয়ে লেখকের অনিচ্ছাকৃত ভুল থাকলে, সেক্ষেত্রে ভুল সংশোধন সুযোগ সৃষ্টি হয়।

.

কিন্তু আমি সত্যিই ভুলটি ধরবো কি না, সেটা নির্ভর করছে বেশ কিছু পরিস্থিতির ওপর। যথা:
• ভুল বা নেতিবাচক বিষয়টি সব দৃষ্টিকোণ থেকে যথার্থ কিনা
• লেখকের সাথে সম্পর্ক বা বোঝাপড়া
• লেখক কতটুকু বুঝতে পারবেন, সেই সম্ভাবনা
• লেখক নিজেই সেটি সংশোধন করবেন কিনা, সেই পরিস্থিতি
• ভুলটি পাঠকের দৃষ্টিভঙ্গিকে ভুলপথে পরিচালিত করার আশঙ্কা আছে কিনা ইত্যাদি

আমরা কেউই সর্বজ্ঞ যেমন নই, তেমনই সকলেই পেশাদার ক্রিটিকও নই। তাই সাহিত্য-বিষয়ক ভুল থাকলে, সেখানে ভারসাম্যপূর্ণ মূল্যায়ন থাকতে হবে। শুধু ভুল দেখালে সেটি একপেশে হয়ে যায়।

.

বিশাল বড় ভুল না হলে এবং তা লেখার মেসেজকে বদলে না দিলে প্রথমত না ধরাই শ্রেয়, যদি সেরকম বোঝাপড়া না থাকে লেখকের সাথে।

.

তারপরও পাবলিক ব্লগ হিসেবে যদি ভুল ধরতেই হয়, সেখানে যেন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধটুকু থাকে। যিনি একটু বেশি জানেন, তাকে এ-ও প্রমাণ করতে হবে যে, তার জ্ঞান তাকে বিনয়ী করতে পেরেছে। প্রকৃত জ্ঞানের মানে যেহেতু ‘নিজের অজ্ঞনতার পরিমাপ’ সেহেতু জ্ঞানের প্রথম বহিঃপ্রকাশ হলো বিনয়ে।

.
.

.

৩) আমি খুব চাই, পাঠক আমার লেখার প্রতি ক্রিটিকেল হোক। অনেক লেখার নিচে ‘নির্দয় সমালোচনা’ করার জন্য একটি নিমন্ত্রণপত্রও জুড়ে দেই। কিন্তু অনেকেই সেরকম মন্তব্য করেন না। এপর্যন্ত যারা করেছেন, তারা আমার খুবই আপনজন এবং ঘনিষ্ট ব্লগার। বুঝা গেলো, আপনজনই কেবল সংশোধনের কথা বলেন। এতে পুরোনো একটি বিশ্বাসই আরও দৃঢ় হচ্ছে। তা হলো, যারা ভুল ধরিয়ে দেন, তারা লেখকের উপকারই করেন। যারা নেতিবাচক দিক নিয়ে আলোচনা করেন, তারা গভীরভাবেই লেখাটি পড়েন।

.

বড় ভুল বড় পরিণতি ডেকে আনে। একটি প্রজন্মকে বিভ্রান্ত, সমাজকে বিপথে পরিচালিত করতে পারে। অন্যদেরকে বিভ্রান্ত করতে পারে এরকম লেখা পেলে, অরাজনৈতিক বিষয় হলে, সেসব লেখার প্রতিবাদ করেছি। লেখক যা-ই মনে করুন, সামাজিক ব্লগে এটি প্রতিটি ব্লগারের দায়িত্ব।

.

নেতিবাচক দিক নিয়েও আমি কিছু লেখায় মন্তব্যের মাধ্যমে জানিয়েছি। বেশ সোজাসুজিভাবেই তা করেছি। সৌভাগ্যবশত, আমার সাথে কারও সম্পর্ক নষ্ট হয় নি এবং আজ তারা আমার অনেক ভালো বন্ধু। এর কমপক্ষে দু’টি কারণ থাকতে পারে: ক) লেখক প্রাজ্ঞ এবং উন্নয়নকামী এবং/অথবা খ) আমার সাথে তার ভালো সম্পর্ক আছে। তাছাড়াও, সমালোচনাটি গ্রহণ করার জন্য লেখককে কমপক্ষে প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে।

.

সবশেষে কথা হলো, সমালোচনা যেন সত্যিই হয় ‘সম আলোচনা’: ইতিবাচক এবং নেতিবাচক বিষয়ের সুষম বিন্যাস। কারও দুর্বল দিকের উন্নয়ন করতে গিয়ে তা যেন ব্যক্তিগত রেষারেষিতে গিয়ে না ঠেকে। সমালোচনা হবে সাহিত্য সমালোচনা এবং যুক্তি ও মননশীলতার সুসমন্বয়।
.
.
.

——————-
পরিমার্জন ছাড়াই প্রকাশ করা হলো।

  • নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

    না জানা দোষের নয়
    তবে জানতে না চাওয়া ক্রাইম!
    সুতরাং ভুল ধরা বা শুধরে দেওয়া
    সকল সচেতন ব্লগার ও পাঠকের
    দ্বায়বদ্ধতা। সুতরাং ভুল ধরুন, শুধরে দিন,
    পরামর্শ সাদরে গ্রহীত হবে বলে আমার বিশ্বাস।
    ধন্যবাদ মইনুল ভাই।

  • ঘাস ফুল বলেছেন:

    পোস্ট পড়লাম মইনুল ভাই। কিন্তু মন্তব্যটা কী দেবো সেটা নিয়ে ভাবছি। কারণটা মনে হয় আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আপনারই কথা, বুদ্ধিমানের জন্য ইশারাই যথেষ্ট। আপাতত

    সঞ্চালককে পোস্টটা স্টিকি করার অনুরোধ করে গেলাম।

    পরে আবার বিস্তারিত মন্তব্য নিয়ে আসছি। আলোচনা সমালোচনা চলতে থাক (সম ভাবে)।

  • কামাল উদ্দিন বলেছেন:

    মইনুল ভাই, আমি গোবেচারা মানুষ……..জ্ঞাণী কথাগুলো আমার মাথায় ঢোকে কম। তবে আমি মনে করি, কেউ ভুল করলে অন্য কারো যদি সঠিকটা জানা থাকে তাকে সেটা জানানো উচিৎ, সেটা সে মানুক কিংবা না মানুক। তবে সবই হতে হবে মাধুর্য্যতা রক্ষাকরে, কারো মনে কষ্ট দিয়ে নয় (আমার এখানে কয়টা ভুল আছে সেটাও জানতে চাই)

  • আলভী বলেছেন:

    বানান ভীতির কারনেই লিখতে সাহস পাইনা!
    এখানে ক’টা ভুল করেছি মইনুল ভাই?

  • আলভী বলেছেন:

    ‘মাইরালা আমারে’ এটা দারুন লেগেছে আমার কাছে!

  • আলভী বলেছেন:

    ভুলের ভয়ে হয়না লেখা
    মনের ভিতর রাখি
    কেমন করে প্রকাশ করি
    লজ্জায় মরে আঁখি!

  • আলভী বলেছেন:

    সাহস দিলে লিখবো আবার
    নিজের মত করে
    আশা করছি ভুলগুলো সব
    দিবেন আপনি ধরে।

  • সুমন আহমেদ বলেছেন:

    শিরোনামে যে প্রশ্ন রেখেছেন তার উত্তর পোস্টেই আছে। খুব গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো এবং প্রাসঙ্গিক। মনে করি মন্তব্যে উপস্থাপনার ধরনের ওপর নির্ভর করে বিষয়টি। পাশাপাশি যে বিষয়গুলো স্মরণে রাখা ভালো বলে মনে করি –

    ১। উপযুক্ত যুক্তি বিনয়ের সাথে উপস্থাপন।
    ২। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে রেফারেন্স ব্যবহার।
    ৩। সমালোচনার প্রকৃত অর্থ বুঝে সমালোচনা করা।
    ৪। ভুলটাকে সরাসরি তুলে না ধরে ইঙ্গিতে কিংবা “এমন না হয়ে এমন হলে কি ভালো হয়?” -এভাবে বলা।

    ৫। পাঠক অথবা লেখকের যুক্তি যদি উভয়ের কাছে উপযুক্ত না মনে হয় তাহলে পুনরায় পারষ্পারিক যুক্তি তুলে ধরা। এটা না মনে করা আমি বললাম মানলো না! আর বলবো না।

    ৬। পরষ্পরে মন্তব্য আদান-প্রদানে শ্রদ্ধাবোধ রাখা।
    ৭। মন্তব্য গ্রহণ ও প্রদানের মানসিকতা থাকা।

    ৮। কোনো লেখকের লেখা প্রথম পাঠের সময় নিজের পাঠকযোগ্যতাকে উপযুক্তভাবে উপস্থাপনার মাধ্যমে লেখকের মনে একটি আস্থা তৈরি করে নেওয়া, যা থেকে লেখক পাঠকের জ্ঞানের পরিধি সম্পর্কে একটা ধারণা লাভ করবেন।

    ৯। লেখক-পাঠক উভয়ে পারষ্পারিক সু-সম্পর্ক তৈরি করে নেওয়া।
    ১০। পাণ্ডিত্য জাহির নয় উভয় উভয়কে সহযোগিতা করছি এই মনোভাব থেকে ব্লগিং করা।

    খুব দৃষ্টিকটু না হলে বানান ভুল না ধরাই ভালো (কেননা বানানরীতি নিয়ে মতপার্থক্য স্বয়ং ব্যাকরণবিদগণের মধ্যে) আবার লেখকেও সজাগ থাকা দরকার যে তিনি এমন এক স্থানে লেখছেন যেখানে, সব ধরনেরই পাঠক রয়েছেন। এ-ক্ষেত্রে লেখককে নিজেই নিজের লেখার সমালোচকের ভূমিকা নেওয়া অথবা লেখা পোস্ট করবার আগে এ-বিষয়ে তার চেয়ে ভালো জানা-শোনা আছে এমন কাউকে দিয়ে দেখিয়ে নিয়ে পোস্ট করা।

    লেখকে মনে রাখা একজন ভালো সমালোচক হচ্ছে তার প্রকৃতবন্ধু। সমালোচনার আড়ালে আসলে তিনি তাকে সতর্ক এবং সহযোগিতাই করে চলেছেন। আর একজন সমালোচকের মনে রাখা যে, তিনি যা বলছেন তা খুব ভেবে-চিন্তে বলছেন (ভুল ধরার ক্ষেত্রে) এবং সমালোচকের মতামত প্রতিষ্ঠা করার মতো উপযুক্ত যুক্তি তার রয়েছে।

    ব্লগিং শিখতে যেয়ে আমার এ-উপলব্ধিগুলো হয়েছে। আর আপনি যা বলেছেন তাতে শতভাগ সমর্থন রয়েছে।
    ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। ভালো থাকবেন।

    • মাঈনউদ্দিন মইনুল বলেছেন:

      সুমন আহমেদ ভাই, যথাযথ নির্দেশনা দিয়ে যেমন ভুল সংশোধনের বিষয়টিকে স্পস্ট করেছেন, তেমনি লেখাটিকে দিয়েছেন সমৃদ্ধি।

      আপনার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

      শুভেচ্ছা জানবেন………

  • রোদের ছায়া বলেছেন:

    খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ের অবতারণা করেছেন দেখে ভাল লাগল। আপনার এই পোস্ট পড়ে আগামীতে হয়ত কারো লেখায় ভুল ধরতে গেলে সেটা যতোই আন্তরিক ভাবেই হোক না কেন, কিছুক্ষণ ভাবতে হবে। তবে আমার লেখায় সবাইকে ভুল ধরার অবাধ স্বাধীনতা দেয়া হোল।

  • মেজদা বলেছেন:

    এটা তো ভুল ধরা না, এটা সংশোধন করে দেওয়া। যত পারেন আমাকে সংশোধন করে দিন, মাইন্ড খাবো না। এ আমার প্রমিজ ও প্রতিজ্ঞা।

  • জেসমিন বলেছেন:

    কি বলবো বুঝতে পারছি না । অনেকদিন কিছু না বলার অভ্যাস , যেটুকু বলার ছিল তাও খুঁজে পাচ্ছি না । যাই হোক , পড়ে নিজের যেটুকু নেওয়ার সেটুকু নিয়ে নিলাম ।
    বাকি কথা পরে

  • এটা তো ভুল ধরা না, এটা সংশোধন করে দেওয়া। যত পারেন আমাকে সংশোধন করে দিন, মাইন্ড খাবো না। এ আমার প্রমিজ ও প্রতিজ্ঞা।

  • এনামুল হক মানিক বলেছেন:

    আমি মেজদার সাথে একমত । শুভেচ্ছা সবাইকে ।

  • ফেরদৌসা রুহি বলেছেন:

    আপনার এই পোস্ট পড়ার সময় আকিফ তার পড়া নিয়ে এসে বলে ”মা আমার পড়া ধরেন”। আমি বললাম ”আমি খুব ইম্পরট্যান্ট একটা লেখা পড়ছি, এখন ডিস্টার্ব করবেনা”।
    এবার বুঝেন কত গুরুত্ব দিয়ে পড়লাম।
    আপনার প্রতিটা কথার সাথেই একমত তাই আর কিছু কইলামনা ।

  • সোহেল আহমেদ বলেছেন:

    “আজকের ‘মাইরালা আমারে’ হয়তো একদিন অভিধানে ওঠবে, সেদিন আমরা থাকি বা না থাকি। অভিধানের শব্দটি হলো একদল মানুষের সুচিন্তিত এবং আলোচনাপ্রসূত সংজ্ঞা। একে ‘অর্থ’ বলাটাও সেটি আপেক্ষিক। আকাশ থেকে এসে পড়ে নি। ফলে সেটি অকাট্য বা অলঙ্ঘনীয় নয়।”
    =====================
    সুন্দর বলেছেন। হয়তো তা হবে। আমরা আজ যেভাবে লিখি, বঙ্কিম আমলে এ লেখা সাহিত্যে দুরস্ত হতো না। আর অভিধান নিয়ে আপনার ব্যাখ্যাও যুক্তিগ্রাহ্য।

  • রব্বানী চৌধুরী বলেছেন:

    অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানবেন মইনল ভাই।

    যারা ব্লগে লিখেন তাদের জন্য একটি গুরুত্ব পূর্ণ লেখা, আমি মনে হয় একটি ব্লগের কথা জানি যেখানে সামান্য বানানের ভুল খুব বড় করে দেখা হয়, ফলে ব্লগটি এখন দৈউলিয়া দশায় পড়েছে, লেখার মান রাখতে গিয়ে ব্লগ যদি লেখক শূণ্য হয়ে পড়ে বা ভুল বানানের কারনে বা ভয়ে লেখক যদি লেখায় ইতি টানে তবে সেটা সুখকর উন্নতি নয় যদিও আমার এই মতামতটি বাংলা সাহিত্যের বেলায় একটি কু-ফল দিক।

    তবে সবার সঠিক বানানে সঠিক ভাষায় লেখা উচিত, বাবানে বা ভাষায় ঘাটতি থাকলে তা উন্নতি করা দরকার আর যিনি সাহিত্যিক হবে তিনি তো সাহিত্যে অনেক জ্ঞানের অধিকারী হবেনই।

    ঘুড়িতে এক জন লেখক একটি লেখা লিখলেন একজন পাঠক তা পড়ে শুধু মন্তব্য করলেন সৃতি বানানটি ভুল সঠিক হবে স্মৃতি, এমন মন্তব্য কাম্য নয়। পাঠকের উচিত অনেক দক্ষতায় লেখকের ভুলটি তুলে ধরা। তা ছাড়া প্রযুক্তির নানান লেখার অপসনের কারণে অনেকে সঠিক অক্ষর ফুটিয়ে তুলতে পারেন না।

    অনেক অনেক শুভেচ্ছা মইনুল ভাই।

    • মাঈনউদ্দিন মইনুল বলেছেন:

      রব্বানী ভাইয়ের পর্যবেক্ষণটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

      ভাষাগত শুদ্ধতা যেন আমাদের মানবিক শুদ্ধতাকে অতিক্রম না করে ফেলে।

      সুন্দর মন্তব্য দিয়ে আলোচনায় যুক্ত হবার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

  • ঘাস ফুল বলেছেন:

    আলোচনা, সমালোচনা, গঠনমূলক, বিশ্লেষণ, পর্যালোচনা এগুলো সবই প্রকারন্তে একসূত্রে বাঁধা, যা ব্লগিং এর ক্ষেত্রে অপরিহার্য। বিশেষ করে বাংলা ব্লগিং এর ক্ষেত্রে। কারণ বাংলা ব্লগিং এখন আর ব্যক্তিগত ব্লগিং এর পর্যায়ে পরে না। এটা সাহিত্য চর্চার বিকল্প মাধ্যম হিসাবে ইতিমধ্যেই সুপ্রতিষ্ঠিত। এটা বললেও মনে হয় অত্যুক্তি হবে না যে, বাংলা ব্লগিং এখন বাংলা সাহিত্যের মূল ধারার সাথে সমান্তরালভাবে এগিয়ে চলছে। যার প্রমাণ হিসাবে বই মেলায় ব্লগারদের প্রকাশিত বইয়ের তালিকাই যথেষ্ট, যেখানে ব্লগগুলো সরাসরিও অংশগ্রহণ করছে। তাই ব্লগে প্রকাশিত পোস্টের ওপর আলোচনা ও সমালোচনা সবই হওয়া উচিৎ এবং এগুলো সবাইকে ইতিবাচক হিসাবেই গ্রহণ করা উচিৎ এবং এগুলো গ্রহণের মন মানসিকতাও আমাদের মধ্যে গড়ে উঠা উচিৎ। যদি সেটা করতে আমরা ব্যর্থ হই, তবে বাংলা ব্লগিং একদিন হয়তো হারিয়ে যাবে কিংবা সাহিত্য চর্চার মাধ্যম হিসাবে আর পরিগণিত হবে না, যা আমাদের জন্য সুখকরও হবে না বলে আমি বিশ্বাস করি।

    আপনি নিজেই যথেষ্ট সুন্দর করে এবং গুছিয়ে লিখেছেন, সেখানে সংযোজন খুব একটা জরুরী নয়। পাশাপাশি সুমন ভাইও চমৎকার একটা মন্তব্য দিয়ে আপনার পোস্টকে ইতিমধ্যেই বেশ বিস্তৃত করে দিয়েছেন। যা অনুধাবন এবং প্রয়োগ করতে পারলেই আপনার পোস্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যটা পূরণ হয়ে যাবে।
    আপনি নিজেই আমার পোস্টের মন্তব্যে বলেছিলেন, আজকাল প্রমাণ ছাড়া কেউ কিছু মেনে নিতে চায় না। তাই কিছুটা প্রমাণ দেয়ার চেষ্টা করছি কেবল।
    আপনি বলেছেন, “ভুল ধরা এক বিষয়, আর নিজের পাণ্ডিত্য জাহির করা ভিন্ন বিষয়।” সুমন ভাই একই কথাকে একটু ভিন্নভাবে বলেছেন। তিনি বলেছেন, “পাণ্ডিত্য জাহির নয় উভয় উভয়কে সহযোগিতা করছি এই মনোভাব থেকে ব্লগিং করা।”
    আপনাদের দু’জনেই যথার্থ বলেছেন। যদি আমরা পাণ্ডিত্য জাহিরের চেষ্টা করি, তখন নিজেদের মধ্যে জেতার একটা প্রবণতা তৈরি হবে। যা লেখক এবং পাঠকের জন্য কখনই সুখকর হবে না। বরং পরস্পর দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হবে, যা পরস্পরের সম্পর্কের অবনতি ঘটাবে। এটা কখনোই আমাদের কাম্য না। আলোচনা হওয়া উচিৎ পরস্পরের উন্নতির জন্য, বিজয়ের জন্য নয়। এই প্রসঙ্গে ফরাসী লেখক Joseph Joubert এর একটা উক্তি উল্লেখ করা যেতে পারে। তিনি বলেছেন, “The aim of argument, or of discussion, should not be victory, but progress.”
    আলোচনার মাধ্যমে আমাদের মধ্যে পারস্পারিক জ্ঞানের বিনিময় হয়, আর বিতর্কে হয় অজ্ঞতা বিনিময়। এই জন্যই অ্যামেরিকান সাংবাদিক Robert Quillen বলেছেন, “Discussion is an exchange of knowledge; an argument an exchange of ignorance.”
    আলোচনা যেমন সাহিত্যের ক্ষেত্রে কিংবা অন্য যেকোনো ব্যাপারেই অগ্রগতিতে ভুমিকা রাখে, সমালোচনাও ঠিক তাই করে। কখনো কখনো সমালোচনা বড় কোন ভুলের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করে। সমূহ বিপদের আগেই আমাদের সতর্ক করে দেয়। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Winston Churchill তাই যথার্থই বলেছেন, “Criticism may not be agreeable, but it is necessary. It fulfils the same function as pain in the human body. It calls attention to an unhealthy state of things.”
    অ্যামেরিকান পাদ্রি Norman Vincent Peale যা বলেছেন, সেটা সমালোচনাকে গ্রহণ করার মানসিকতাকে নিঃসন্দেহে আরও বাড়িয়ে দেবে। তিনি বলেছেন, “The trouble with most of us is that we would rather be ruined by praise than saved by criticism.”
    তবে যারা আমরা কোন মতেই সমালোচনাকে সহ্য করতে রাজি নই, তাদের জন্য অ্যামেরিকান লেখক Elbert Hubbard খুব সুন্দর উপায় বাৎলে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “To avoid criticism, do nothing, say nothing, and be nothing.”
    আর কী অনেক হয়ে গেলো বোধ হয়! দুঃখিত। আপনার পোস্ট এবং সুমন ভাইয়ের মন্তব্য দুইয়ে মিলে যা আছে, যা আমাদের বুঝার জন্য এবং অনুধাবনের জন্য যথেষ্ট। দায়িত্বটা এখন আমাদের ওপর। আমরা কীভাবে আপনার পোস্ট এবং সুমন ভাইয়ের মন্তব্যটা গ্রহণ করছি এবং কীভাবে এটা নিজেদের মধ্যে প্রয়োগ করছি।
    অনেক ধন্যবাদ মইনুল ভাই। আপনার পোস্ট আমাদের সবার চোখ খুলে দিক। তবে হয়তো ব্লগিংটা সবার কাছে উপভোগ্য হয়ে উঠবে, যা আমাদের বাংলা সাহিত্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বহুদূর। ব্লগিং তখন অমরত্ব পেয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

    • মাঈনউদ্দিন মইনুল বলেছেন:

      //আলোচনা হলো জ্ঞানের বিনিময়, বিবাদ হলো অজ্ঞানতার বিনিময়//
      -হাহাহা! দারুণ উদ্ধৃতি।

      //বাংলা ব্লগিং এখন বাংলা সাহিত্যের মূল ধারার সাথে সমান্তরালভাবে এগিয়ে চলছে। যার প্রমাণ হিসাবে বই মেলায় ব্লগারদের প্রকাশিত বইয়ের তালিকাই যথেষ্ট, যেখানে ব্লগগুলো সরাসরিও অংশগ্রহণ করছে। তাই ব্লগে প্রকাশিত পোস্টের ওপর আলোচনা ও সমালোচনা সবই হওয়া উচিৎ এবং এগুলো সবাইকে ইতিবাচক হিসাবেই গ্রহণ করা উচিৎ এবং এগুলো গ্রহণের মন মানসিকতাও আমাদের মধ্যে গড়ে উঠা উচিৎ।//
      -চমৎকার সংযুক্তি!

      বিশাল বড় মন্তব্যটি যেন ভারসাম্যপূর্ণ মন্তব্য প্রদানে সকলকে প্রেরণা দেয়।

      আপনার সুচিন্তিত মন্তব্য সবসময় আমাকে উৎসাহ যোগায়, ঘাসফুল।
      ভালো থাকবেন……….

  • কে এম রাকিব বলেছেন:

    সমালোচনা হবে সাহিত্য সমালোচনা এবং যুক্তি ও মননশীলতার সুসমন্বয়।
    সুন্দর আলোচনা করেছেন। প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো ধারাবাহিকভাবে সাজিয়েছেন।

    সমালোচককে আমি আমার প্রকৃত বন্ধু মনে করি। কারণ আমি তো জানি যা লিখি কিছু হয় না। কিন্তু কিছু সমালোচক ব্লগারের কাছ থেকে যা আমি শিখতে পেরেছি( যদিও আমার ব্লগিং লাইফ অল্পদিনের) তাকে অমূল্য মনে করি।

    ## পোস্টটিকে স্টিকি করতে সঞ্চালককে অনুরোধ করছি।

    শুভেচ্ছা ও ভালবাসা জানুন মাঈনউদ্দিন মইনুল ভাই।

  • সোহেল আহমেদ বলেছেন:

    তারপরও পাবলিক ব্লগ হিসেবে যদি ভুল ধরতেই হয়, সেখানে যেন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধটুকু থাকে। যিনি একটু বেশি জানেন, তাকে এ-ও প্রমাণ করতে হবে যে, তার জ্ঞান তাকে বিনয়ী করতে পেরেছে। প্রকৃত জ্ঞানের মানে যেহেতু ‘নিজের অজ্ঞনতার পরিমাপ’ সেহেতু জ্ঞানের প্রথম বহিঃপ্রকাশ হলো বিনয়ে।
    =============================
    পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধটুকু খুব জরুরী। অনেকসময় ভুলটা একটু কৌশলে ঠিক করে দেয়া যায় । ভুল শব্দটার শুদ্ধ ব্যবহার করে একটা মন্তব্য করা বা অন্য ভাবেও করা যেতে পারে। আজকের দিনে, শিক্ষকগণও বন্ধুর মতো।

    অনেক ধন্যবাদ প্রিয় মইনুল ভাই

  • এম এ কাশেম বলেছেন:

    সহমত মাইনুল ভাই

    শুভেচ্ছা নেবেন।

  • হামিদ বলেছেন:

    আপনার সুচিন্তিত পোস্টে অকৃত্রিম সহমত ………………..

    ভুল যে ধরল তার এটিচিউড একটি বড় ফ্যাক্টর। এক জায়গায় আমি অনেক চেষ্টা করেও কীবোর্ডের সমস্যার কারণে রেফ দিতে পারছিলাম না। এখন একজন যদি আমাকে বলে:

    কী লেখেন এসব। আগে ভাষা শিখে তারপর লেখেন – তাকে আমি কষে গালি দিবই দিব।

    আমি ছাত্র জীবনে একটা প্রকাশনায় কাজ করতাম। যত বড় লেখকই হোক না কেন পান্ডুলিপিতে অসংখ্য বানান ভুল থাকবেই। এমন না যে লেখক বানান জানেন না। পান্ডুলিপি লেখার সময় বানানের লেখার ভাবের দিকে মন বেশি নিবদ্ধ থাকে। ব্লগ এখনকার ব্লগ লেখাটা পান্ডুলিপির জায়গায় ধরতে হবে। এখানে বানান ভুল ধরার কছিু নাই। যখন দরকার হবে ঠিক করে নয়ো যাবে। বানান সম্পর্কে কেউ অসচেতন নয় বা এটা এমন বিদ্যা নয় যে কেবল পন্ডিতগণ পারবেন। বরং পন্ডিতদের বানান ঠিক করার জন্য প্রেসে প্রূফরিডার রাখতে হয় যারা একটি ছোট্ট রচনা লেখারও যোগ্য নয়।

    সবচেয়ে বড় কথা আমি বাজি ধরে বলতে পারি যারা অন্যের বানান ভুল ধরে খুব ভাব নেয় তাদেরকে ইন্সট্যান্ট একটা পেজ অভিধান না দেখে লেখতে দেন দেখবেন বানান ভুলে তারাও এভারেজদের কাতারে।

    • মাঈনউদ্দিন মইনুল বলেছেন:

      //ভুল যে ধরল তার এটিচিউড একটি বড় ফ্যাক্টর।//

      হুম। এর অনুপস্থিতি দেখে মাঝে মাঝে নিজেই লজ্জা পাই।

      অভিধান কীভাবে লেখককে অচল করে দেয় দেখুন: একজন বাঙলার প্রফেসরকে আমি দেখেছি একটি বাক্য লেখতে অন্তত তিনবার অভিধান বের করতে।

      শুভেচ্ছা জানবেন, হামিদ ভাই।

  • হামিদ বলেছেন:

    এ পোস্টটি স্টিকি করলে ভাল হয় ।

  • তাপসকিরণ রায় বলেছেন:

    বেশী না লিখে আমি শুধু ঘাস ফুলের মন্তব্যের সামান্য অংশ তুলে দিলামঃ
    আপনি(লেখক)নিজেই যথেষ্ট সুন্দর করে এবং গুছিয়ে লিখেছেন, সেখানে সংযোজন খুব একটা জরুরী নয়। পাশাপাশি সুমন ভাইও চমৎকার একটা মন্তব্য দিয়ে আপনার পোস্টকে ইতিমধ্যেই বেশ বিস্তৃত করে দিয়েছেন। যা অনুধাবন এবং প্রয়োগ করতে পারলেই আপনার পোস্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যটা পূরণ হয়ে যাবে।
    ধন্যবাদ।

  • আমির হোসেন বলেছেন:

    পাণ্ডিত্য জাহির নয় উভয় উভয়কে সহযোগিতা করছি এই মনোভাব নিয়ে ভুল ধরিয়ে দিতে পারেন। সেটা বানান হোক বা বাক্য হোক। অনেক সময় টাইপ মিসিং হয়। পাঠক যদি বিনয়ের সাথে সেই ভুলটা ধরিয়ে দেয় তাহলে লেখক বুঝতে পারবে তার কি ধরনের ভুল হয়েছে। টাইপ মিসিং নাকি সঠিক বানান না জানার ভুল। অনেকে আছে নিজের পাণ্ডিত্য জাহির করার জন্য সবার লেখাতেই বানান ভুল ধরে থাকেন। যে বানানটাকে সারা জীবন যিনি শুদ্ধ জেনে আসছেন সে বানানটাকে তিনি ভুল বলছেন। এটা মোটেও উচিত নয়।

  • প্রহেলিকা বলেছেন:

    চমৎকার একটি বিষয় নিয়ে লিখেছেন, আপনি বলেছেন “দেখা যাবে যে, ‘পরিমিত ভাষাজ্ঞান’ অর্জনের সময়ই লেখকের হয় নি, অথবা পেশাগত কারণে সেদিকে বেশিদূর হাঁটতে পারেন নি। কিন্তু আমি একটি তুচ্ছ ভুল ধরে, তার লেখার স্পৃহাকে নষ্ট করে দিলাম অথবা আত্মবিশ্বাসকে বেলুনের মতো ফুটো করে দিলাম।”

    আপনার এই কথা বলার পর আর কোন কিছুই বলার থাকে না কারণ আপনি শেকড় পর্যন্ত পৌঁছে গেছেন। সম্পূর্ণ সহমত আপনার সাথে। পারষ্পারিক সহযোগিতার আবডালে একটি লেখকের (হোক সে আনাড়ি) স্পৃহা যাতে নষ্ট না হয়ে যায় সেই দিকে নজর রাখাটা অনেক প্রয়োজন। অনেক সময় টাইপিং জাতীয় একটি ভুলের জন্য অনেকে কটুবাক্য ছুড়ে দেন যা ঠিক না। কিছুদিন পূর্বে এক ব্লগারের একটি লেখায় কিছু বানান ভুলের কারণে এক বিশিষ্ট পণ্ডিত মন্তব্য করলেন যে, “আপনার ভুল বানান দেখে আমি অনেক বিরক্ত হয়েছি, আপনার লজ্জা হওয়া উচিত।” সেদিন থেকে সেই সদ্য কলম ধরা লেখকের লেখা আর পোষ্ট হয়নি কোন ব্লগেই। ফেবুতে ব্যক্তিগতভাবে তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে উত্তর দিলো, ” ভাই আমার পিসি নেই মোবাইল থেকেই পোষ্ট লিখি ব্লগে পোষ্ট করি, তাই অনেক জানা বানানও ভুল হয়। নিজের কাছেই লজ্জা লাগে।” লক্ষ্য করলে দেখবেন মোবাইল থেকে “দূর” আর “দুর” এই দুটোর মাঝে পার্থক্য জুম করে না দেখলে খুঁজে পাওয়া যায় না। কোন পণ্ডিতের একটি কটুমন্তব্য একজন উঠতি লেখকের জন্য বিপদজনক মনে হয়।

    হ্যা আমার নিজেরও অনেক অনেক বানান ভুল হয় তাই বলে যদি কটুকথা শুনতে হয় তাহলে আমার এসবের দরকার নেই। তবে এটি আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে যে একজন লেখক কখনোই ইচ্ছেকৃতভাবে বানানভুল করে না।

    আপনাকে অনেক ধন্যবাদ শ্রদ্ধেয় পোষ্টির জন্য। অনেক ভালো থাকুন।

    • মাঈনউদ্দিন মইনুল বলেছেন:

      কটুকথা ছাড়া অনেকে জানেনও না! এ হলো আমাদের দৈন্যতা।

      আপনার দৃষ্টান্তগুলো পড়লাম।

      ব্লগে নবীন লেখক বেশি। তাই মন্তব্য করা উচিত দায়িত্বের সাথে।

      আমারও বানান ভুল হয়। এলেখায়ও বেশি কিছু ভুল হয়তো পাবেন।

      প্রাসঙ্গিক দৃষ্টান্ত দিয়ে আলোচনায় যুক্ত হবার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, প্রহেলিকা:)

      শুভেচ্ছা জানবেন!

  • হামিদ বলেছেন:

    ১. বানান ভুল ধরার কিছু নাই। এটা যখন প্রয়োজন হবে লেখক নিজেই সময় করে দেখে ঠিক করে নিতে পারবেন।

    ২. বিতর্কিত বানানের ক্ষেত্রে নিজের মতটা চাপিয়ে দিতে চেষ্টা করা একটা সভ্যতা বিবর্জিত কাজ।

    ৩. হ্যাঁ, যাদের সাথে ব্যাক্তিগত ভাল সম্পর্ক্ আছে তাদের বানানাট ঠিক করে দেয়াই যায়।

  • নীলসাধু বলেছেন:

    শুভেচ্ছা সুপ্রিয় ভ্রাতা!

    পোষ্টটি নিঃসন্দেহে মূল্যবান। ওজনদার অনেক কথা আছে পোষ্টে।
    সহ ব্লগারদের চমৎকার অংশগ্রহণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য আরও বেশী মূল্যবান।
    একটি পোষ্ট সবাই আগ্রহ নিয়ে পড়লে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মন্তব্য আদান প্রদান করলে সেই পোষ্টটি সত্যিকার অর্থে সফল এবং স্বার্থক হয়ে উঠে- এই পোষ্টটি তার প্রমাণ।
    ব্লগিং তখন শুধু নিছক ব্লগিং থাকে না হয়ে উঠে তার চেয়ে কিছুটা বেশী।

    শুভেচ্ছা নিরন্তর জানবেন।
    পোষ্ট
    মন্তব্যে ভুল ধরা বা
    কিভাবে কি করা যায়
    কি করলে ভালো হবে সে সব আলাপে গেলাম না।
    আমি এসব এড়িয়ে চলি ভ্রাতা!;);)

  • একজন প্রকৃত লেখকের কাজ নিজের লেখালেখি করা। অন্যের খুঁত খোঁজা নয়।
    চলমান সময়ের অনেকেই বানান বিষয়ে অর্ধজ্ঞাত- না হয় অজ্ঞ। এরা অভিধান দেখেন
    না। দৌড়ের উপ্রে কবি লেখক বনে যেতে চান। তাই তাদের লেখা নিয়ে মন্তব‌্য করাও
    কঠিন কাজ। এদের অনেকেই পড়াশোনা করেন না। কবিতার,সাহিত্যের,গদ্যের বিবর্তন
    কীভাবে হচ্ছে- তা তারা জানেন না, জানতে চান না।
    এই অবস্থায়, কেউ টিউটোরিয়াল খুলে কি কাউকে শিখাতে পারবেন ? না পারবেন না ।
    যদি নিজে কেউ অধ্যবসায়ী না হয়, অন্য কেউ কাউকে কিছু গিলাতে পারবে না।
    শুভেচ্ছা সবাইকে।

  • আরজু মুন জারিন বলেছেন:

    অসাধারন পোষ্ট।আপনি সবসময় গুরুত্বপূর্ণ পোষ্ট করেন।আপনি নিখূত বানান,শব্দের প্রয়োগে দক্ষ।আপনি ভূল ধরে দিলে বা শুদ্ধ করিয়ে দিলে কেও কিছু মনে করবেনা মইনুল ভাই।আমরা আপনার আন্তরিকতা টুকু বুঝতে পারি।

    আমার লেখা দিয়ে শুরু করুন।আমার বানানে সবাই ভূল ধরে।আপনি এখন ও ধরেন নি।আমার একটা প্রবলেম হচ্ছে ইদানীং বানানে।বানান ভূলে যাচ্ছি মনে হয়।লজ্জা!!

    চমৎকার পোষ্টটিতে কোটি কোটি লাইক।

    শুভেচ্ছা রইল।ভাল থাকবেন।

  • এই মেঘ এই রোদ্দুর বলেছেন:

    ১০২ বার ভুল ধরবেন ভুল না ধরলে শিখুম ক্যামনে।

    অসাধারণ পোষ্ট অনেক ভাল লাগা

  • আমার ভুল কেউ ধরলে আমি খুশি হই বা হবো। শুভেচ্ছা মইনুল ভাই।

    • মাঈনউদ্দিন মইনুল বলেছেন:

      ভাইজান…. ধরার মতো ভুল ক’জনের হয়?
      তাছাড়া, সেরকমের ভুল বুঝতেও কিছু তাকত লাগে, যেটা আমার মতো অনেকেরই নাই।

      কিন্তু ‘ভুল’ বিষয়ে আপনার উদারতায় আমি আনন্দিত….
      মালেক জমাদ্দার ভাইকে অনেক ধন্যবাদ!

  • লিনা জামবিল বলেছেন:

    আমরা যারা লিখি পড়ি আর মন্তব্য করি আমাদের মানসিকতা এমন হওয়া উচিত যে আমার ভুল যত ধরিয়ে দিবে তত আমি ভুল আর করবোনা ভবিষ্যতে। সচেতনের মাত্র বেড়ে যাবে তবে এখানে যে ইস্যুগুলো তুলে ধরা হয়েছে সেটা খুবই জরুরী ইস্যু — অনেক তথ্যবহুল আর শেখারও –অনেক অনেক শুভেচ্ছা

  • রুদ্র আমিন বলেছেন:

    অন্যের কথা বলতে পারি না, অনেকে এটা সহজে গ্রহণ করে না কিন্তু আমি মূর্খ মানুষ আমি শিখতে চাই। আমি নিজের কথা বলতে পারি শুধুই। আমার লেখা ভুল থাকলে সেগুলো ধরিয়ে দিলে আমি উপকৃত হবো ভাই। আমি শিখতে চাই।
    অতীতের ভুলগুলো আজ শুধুই তাড়া করে
    সময় আর নেই,
    অতীত তাই বর্তমানকে ধিক্কার জানায় আপন মনে
    আরও আপনাকে হারাই।

  • মাহমুদ০০৭ বলেছেন:

    সবকিছু ডেল কার্নেগী স্টাইলে হ্যান্ডল করতে হবে;)
    পোস্টের সাথে একমত ।
    ভাল থাকবেন প্রিয় মাইনুল ভাই:)

  • কামরুন্নাহার বলেছেন:

    আপনার মূল্যবান এই লেখাটির প্রতিটি চরণই উদ্ধৃত করার দাবি রাখে। ///ভুল ধরবো
    নাকি ধরবো না?/// আপনার এই প্রশ্নের পরে, দয়া কর আপনি আবারো প্রশ্ন রাখুন,” সংশোধিত ভুল গ্রহনের মানষিকতা আছে কি নেই?”

    নীল সাধু ভাই-এর কল্যাণে গত দু’বছরে “প্রিয় চিঠি আয়োজনের”- মাধ্যমে অনেক শিক্ষা হয়েছে আমার। একজন প্রতিষ্ঠিত ব্লগার/লেখকের সাধারন একটি ভুল সংশোধন করেছিলাম। তাও করতাম না, যদি না তিনি সে ভুল আবারো না করতেন। একটি শব্দ তিনি তিন/চার বার ব্যবহার করেছিলেন, যার প্রতিটাই ভুল ছিল। বার্তার মাধ্যমে তাঁকে আমি জানিয়েছিলাম এবং তাও প্রতিষ্ঠিত আরেক লেখকের উক্তি দিয়ে। তার জবাবে তিনি মূল পোষ্টেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।

    তাই ভুল শংশোধন আর আমাকে দিয়ে হবে না (আমার থলিতেই ভুলের বেড়ালের অবাধ বিচরন)।

========================================================

লেখাটি ঘুড়ি ব্লগ থেকে সরাসরি স্থানা্ন্তরিত।

========================================================

Pathos: সাহিত্য রচনায় বিষাদের ব্যবহার

এক) রাজা এগামেমননের সাথে মতের অমিল হওয়ায় গ্রিসের পক্ষে যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়া বন্ধ করে দিলেন মহাবীর একিলিস। এরপর থেকে একটির পর একটি মৃত্যু এবং পরাজয়ের খবর আসতে লাগলো। কিন্তু কিছুতেই আর একিলিসকে যুদ্ধে নিয়ে যেতে পারবে না। মেনেলাউসের স্ত্রী হেলেনকে উদ্ধারের জন্য সৃষ্ট বিরোধ এখন তার বড়ভাই এগামেমননের রাজ্য-জয়ের অভিলাষের সাথে যুক্ত হয়ে বিশাল যুদ্ধের কারণ হয়েছে। তাছাড়া, রাজা এগামেমননকে একিলিসের একেবারেই না-পছন্দ – লোভী এবং দুশ্চরিত্র। যুদ্ধবন্দী সুন্দরী ব্রাইসিসকে কেড়ে নেওয়া ছিল প্রতিহিংসার বড় কারণ। কেন শুধু একজনের রাজ্য বিস্তারের জন্য যুদ্ধ করা? ওদিকে এগামেমনন প্রবল অহংকারী এক রাজা। তার মতে, একিলিসের নিয়তিই হলো যুদ্ধ করা, সে যোদ্ধা আর এগামেমনন হলেন রাজা। তিনি তার রাজাসুলভ ব্যক্তিত্বকে নিচে নামিয়ে একিলিসকে ফের অনুরোধ করেন নি। উভয়ের বন্ধু ওডিসিউস মধ্যস্থতা করেও একিলিসকে রাজি করাতে পারলেন না।

অন্যদিকে গ্রিসের সকল অঙ্গরাজ্যের সকল সৈন্যরা একে ‘দেশের জন্য যুদ্ধ’ বলে মেনে নিয়েছে। মেনে নিয়েছে একিলিসের বিশ্বস্ত সহচর এবং অনুগত শিষ্য পেটরোক্লাসও। ট্রয়ের যোদ্ধারা এতো আগ্রাসী আর কখনও হয় নি। হাতে তৈরি গোলা গুলো মার্বেলের মতো গড়িয়ে এসে গ্রিকদের তাবুগুলো পুড়িয়ে দিতে লাগলো। তারা বুঝতে পেরেছে গ্রিকদের সাথে একিলিস নেই। কিন্তু একিলিসকে সে কোনভাবেই যুদ্ধে ফেরাতে পারছে না। অগত্যা তারই যু্দ্ধপোশাক বর্ম ঢাল মস্তকাবরণী পড়ে সে যুদ্ধে যোগ দেয়। এটিই তার জন্য মরণফাঁদ ডেকে এনেছে। হেকটরসহ ট্রয়ের সকলেই ধরে নিয়েছে যে, আজ একিলিস যুদ্ধে নেমেছে। একই বিশ্বাসে নিজ দেশের সৈন্যরাও আত্মবিশ্বাসী হয়েছিলো। এক পর্যায়ে হেকটর এসে তাকে চ্যালেন্জ করলে পেটরোক্লাস তা প্রত্যাখ্যান করা কাপুরুষোচিত মনে করলো। বেশ কিছু সময় প্রতিরোধ করার পর মহাবীর হেকটরের হাতে পেটরোক্লাস নিহত হয়। মরণ আঘাত দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে যখন তার মস্তকাবরণ খুললেন, হেকটর কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন – এ তো একিলিসের পোশাকে এক বালক যোদ্ধা! খবর গেলো একিলিসের কাছে! নিহত হবার খবরে সহযোদ্ধাদের ওপর এতই ক্ষিপ্ত হলেন যে, গলায় পা দিয়ে তিনি ঘনিষ্ট এক সহচরকে প্রায় মেরেই ফেলেছিলেন। কেন মরতে হলো পেটরোক্লাসকে? রাজা এগামেমননের ওপর ক্ষিপ্ত একিলিস যেন হঠাৎ শান্ত হয়ে গেলেন। তিনি ফিরে গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন সেসব সহযোদ্ধাদের কাছে, যারা তার তাৎক্ষণিক ক্ষোভের শিকার হয়েছিলো। রাজা এগামেমনন ও সকল মন্ত্রী-সেনাপতিদের উপস্থিতিতে এক অবর্ণনীয় বিষাদময় সন্ধায় একিলিস পেটরোক্লাসের মুখাগ্নি করলেন। সকলেই তার শোকের অংশিদার হয়েছিলেন। হেলেনের স্বামী মেনেলাউসের নিহত হবার খবরও গ্রিকদেরকে এতো শোকাহত করে নি। একিলিস ছিলেন অস্বাভাবিক রকমের নিরব। এ নিরবতা যেন ঝড়ের পূর্বের নিরবতা। এগামেমনন বলেই বসলেন, ছোকরা মরে গিয়ে আমাদের জন্য যুদ্ধটাকে বাঁচিয়ে গেলো। তারপর একিলিসের যুদ্ধে ফেরার জন্য এখন কেবল সকাল হবার প্রয়োজন।

দি ইলিয়াড পড়েছিলাম কতটি বছর হয়ে গেলো! হেকটরের ওপর একিলিসের প্রতিশোধ নেয়ার বিষয়টি দি ইলিয়াড কাব্য-উপন্যাসের প্রধান ঘটনা। পেলিউসের সন্তান এবং দেবতা জিউসের দৌহিত্র ‘অর্ধ-দেবতা একিলিস’ দি ইলিয়াড-এর প্রধান চরিত্রও। মহাকবি হোমার এই পেটরোক্লাসের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে বিষাদের সৃষ্টি করেছেন তার কালোত্তীর্ণ মহাকাব্যে, তা পর্যাপ্তভাবে বাংলায় প্রকাশ করতে পারি নি। মূলত মহাকাব্যটি লেখাই হয়েছে বিষাদের আবহ দিয়ে। দি ইলিয়াড-এর প্রধান আকর্ষণই ছিলো ঘটনার পরিণতিতে সৃষ্ট বিষাদ, যা পাঠকের হৃদয়ে অনুরণিত হয়েছে। পাঠকের হৃদয়কে দগ্ধ করেছে, মথিত করেছে তার অনুভবকে। তাতে পাঠক আরও আগ্রহী হয়ে মনোযোগী হয়েছে পরবর্তি অধ্যায়গুলোতে। একিলিস কীভাবে ‘নবিস যোদ্ধা’ পেট্রোক্লাসের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেন, এটি দেখা তখন পাঠকের একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়। আদর্শ স্বামী, আদর্শ বড়ভাই, আদর্শ পিতা, সর্বোপরী আদর্শ যোদ্ধা হয়েও তিনি পাঠকের অনুকম্পা পেয়েছেন কেবল একিলিসের হাতে নিহত হবার পর।

দুই) পাঠকের হৃদয়কে জয় করার উদ্দেশ্যে গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটলসাহিত্যের আবেদনকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছিলেন: ১. নীতি বা বিশ্বাসযোগ্যতা (Ethos), ২. আবেগ বা বিষাদ (Pathos) আর ৩. যুক্তি বা গ্রহণযোগ্যতা (Logos)। তার মতে লেখায় থাকতে হবে নৈতিক আবেদন, অনুভবের আবেদন এবং যুক্তির আবেদন। গল্প কবিতা অথবা উপন্যাস, যা-ই হোক, এ তিনটি বিষয় আনুপাতিকভাবে থাকা চাই। এতিনটি মৌলিক বিষয়কে ‘ভাব প্রকাশের’ প্রধান কৌশল হিসেবে দেখা হয়: বলা হয় রেটরিকেল ট্রায়াঙ্গেল Rhetorical Triangle।

‘যুক্তি, সত্যতা আর অনুভবের’ অনুপস্থিতি ভালোমতো টের পাওয়া যায়, বর্তমান সময়ের ‘কিছু’ বাংলা সিনেমার দিকে তাকালে। যুক্তি আছে তো সত্যতা নেই, সত্যতা আছে তো সেখানে অনুভবের নেই কোন খাবার। কাহিনীগুলোর এতো পুনরাবৃত্তি হয়েছে যে, যে কোন অংশ দেখলে এর পূর্বের বা পরের ঘটনা বলে দেওয়া যায়। না আছে আবেগ, না আছে সংগতি, না আছে বাস্তবতা। হাতেগুণা কয়েকটি দৃষ্টান্ত ছাড়া, বাংলা ভাষার পুরাতন ছবিগুলোই যেন আমাদেরকে সিনেমাশিল্পটিকে ধরে রেখেছে এখনও।

অন্যদিকে আজকালের বিজ্ঞাপনগুলোর দিকে তাকালে উপরোক্ত উপাদানগুলোর সংমিশ্রণ পাওয়া যায়। বাংলাদেশের তাঁতশিল্পকে তুলে ধরে একটি মোবাইল ফোন কোম্পানির বিজ্ঞাপনটি এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। বেশকিছু বিজ্ঞাপন দর্শকের অনুভবকে জাগিয়ে তোলে। তবে অধিকাংশ বিজ্ঞাপনেই আবেগ আছে, যুক্তিও আছে, কিন্তু সত্যতা প্রায়ই খুঁজে পাওয়া না। ফলে শ্রোতা-দর্শক তাতে আকৃষ্ট হয় না।

আবেগের কাছে যুক্তি অচল। আমার তাই মাঝেমাঝে মনে হয়, আবেগ বা Pathosই বেশি আকর্ষণ করে পাঠক বা শ্রোতার মনকে। অবশ্য কোনটির গুরুত্বই ছোট করা যায় না, তবু মনে হয়, অনুভবে সাড়া জাগাতে না পারলে একটি লেখা পুরোপুরি আকর্ষণহীন হয়ে পড়ে। সিলভেস্টার স্ট্যালনের অসম্ভব ক্ষমতাকেও মেনে নিতে আপত্তি নেই, যদি সেটা দর্শকের অনুভবকে জাগিয়ে দিতে পারে।

তিন) একটি কেইস স্টোরি তুলে ধরছি, আমার সঙ্গীটি সিনেমায় মারামারি কাটাকাটি একদম সহ্য করতে পারেন না। তাই মারামারির দৃশ্যগুলো আমার একারই সামাল দিতে হয়! বাস্তবত, আমি নিজেও ওসব পছন্দ করি না, কিন্তু হিরোকে ঘুষি দিয়ে রক্ত বের করে ফেলবে সেটা তো মেনে নিতে পারি না! অথবা ধরুন, হিরোইনের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হলো, তখন ইচ্ছে হয় নিজেও গিয়ে একটি ঘুষি লাগিয়ে দিই। কিন্তু আমার স্ত্রী ঠিক প্রতিশোধ গ্রহণের সময়টিতে থাকেন অনুপস্থিত। বলুন, কেমন লাগে! তখনই তো উচিত দু’জন একসাথে থাকার।

কিন্তু একবার হলো কি, এক ধুরন্দর ভিলেনের পাল্লায় পড়লাম। সিনেমার নাম বা হিরোর নাম বিবেচনায় না এনে শুধু প্রাসঙ্গিক অংশটুকু বলছি। সাপ্তাহিক ছুটির পূর্বের রাত হওয়ার সুবাদে দু’জনই টিভি সেটের সামনে বসার সুযোগ পেলাম। একজন সৎ ও চৌকশ পুলিস অফিসার ইতিমধ্যেই তার সততা ও সাহস দিয়ে আমাদের মন কেড়ে নিয়েছেন। প্রথম দিকেই একজন প্রভাবশালী ক্রিমিনালকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি থানায় হাজির হয়ে মুচলেকা দিতে বাধ্য করেছেন। সে একজন চোরাকারবারী এবং সমাজের সকল অপরাধের পৃষ্ঠপোষক আর সকল চোর-ডাকাত-দুর্বৃ্ত্তের গুরু। যেমন খারাপ তেমনই ভয়ংকর, কিন্ত্র প্রকাশ্যে সমাজসেবক। অন্য কোন পুলিস হলে হয়তো, তাকে ডাকারই সাহস পেতো না। কিন্তু থানায় আসতে বাধ্য করায় সেই সমাজপতিরূপী সন্ত্রাস-নেতাটি দারুণ অপমানিত হয়। প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে সে তার নেতা, অর্থাৎ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দিয়ে সেই পুলিস অফিসারকে স্থানান্তর করিয়ে নিজ এলাকায় নিয়ে আসে। শহরে নতুন কর্মস্থলে এসে অফিসারটি প্রমাদ গুণে। সন্ত্রাস-নেতাটি ইতিমধ্যেই একটি টেলিফোন কলে ‘ওয়েলকাস টু ….’ জানিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে, এবার যাবে কোথায়! বিভিন্ন উপায়ে তারে চেলারা তাকে উত্যুক্ত করতে থাকে এবং মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। ফাইল ঘেটে জানতে পারেন যে, এই থানার পূর্বের অফিসারটি এলাকার প্রধান সন্ত্রাসীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে নিজেরই রিভলবারে আত্মহত্যা করে। বিষয়টি তাকে আতংকিত করে তোলে। সাথে দর্শক হিসেবে আমরা ভয় পেয়ে যাই এবং হিরোর প্রতি আমাদের সহানুভূতি আরও বেড়ে যায়। সিনেমার ভিলেনের প্রতি আমাদেরও ঘৃণা বাড়তে থাকে। এসবের মধ্যেও পূর্বের অফিসারের হত্যাকারীদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোটাকে প্রধান কাজ মনে হলো তার। কিন্তু কাজটি যে কত কঠিন তা তার সিনিয়র কর্মকর্তা ডিএসপি সাহেব এবং মন্ত্রী মহোদয় বুঝিয়ে দিয়েছে। তারাও একই পালের গরু হওয়ায়, পুলিস অফিসারকে সাবধান করে দিয়েছে, এসব নাজাই কাজে সময় নষ্ট না করে তিনি যেন রুটিন কাজে মনোনিবেশ করেন। এতে আইন-শৃঙ্ক্ষলা নিয়ন্ত্রণে পুলিস বিভাগের ক্ষমতা যে কত সীমিত, সেটি করুণভাবে ফুটে ওঠে – এই সাথে ফুটে ওঠে সৎ ও সাহসী পুলিস অফিসারটির অসহায়ত্ব। দর্শকের মন করুণাবিষ্ট হয়।

এরই মধ্যে পুলিস বিভাগের আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ‘পুলিসের অধিকার ও ক্ষমতা’ বিষয়ক জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিয়ে সেই পুলিস অফিসার সকলের দৃষ্টি করেন। তার প্রতিটি কথায় ছিলো যুক্তি, প্রমাণ এবং আবেগের প্রাবল্য। সেখানে পুলিসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। একজন পুলিসের আত্মহত্যার বিষয়টি জেনে তিনিও আবেগাক্রান্ত হলেন। ওটি ছিলো মূলত একটি হত্যাকাণ্ড। ওই অনুষ্ঠানে সকলেই একমত হলেন যে, সকলে মিলে সহকর্মী হত্যাকারীর বিচার নিশ্চিত করবেন। বাকি ঘটনা সকলেই অনুমান করতে পারেন। মজার ব্যাপারটি হলো, এর পর যতগুলো মারামারির ঘটনা ঘটেছিলো, আমার সঙ্গীটি আমাকে ত্যাগ করেন নি, বরং আমার চেয়েও বেশি আগ্রহ ও সমর্থন নিয়ে ‘প্রতিশোধ গ্রহণের’ দৃশ্যগুলো দেখে যাচ্ছিলেন।

চার) কীভাবে পেইতোস/ আবেগের প্রয়োগ ঘটানো যায়, সেটি একটি গবেষণার বিষয়। এর কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আজও প্রতিষ্ঠিত হয় নি। আবেগের ব্যবহার অতিমাত্রায় করলে সেটি যেমন যৌক্তিকতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়, কম করলেও আকর্ষণ হারায়। তাই লেখককে খেয়াল রাখতে হয়, আবেগ যেন লেখার প্রধান বিষয় না হয়। একে লেখার বাহন হিসেবে ব্যবহার করা যায় – গন্তব্য হিসেবে নয়। একটি ‘সত্যকে’ প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ‘আবেগকে’ ব্যবহার করা যায়। অথবা একটি ‘যুক্তিকে’ তুলে ধরার জন্য আবেগের আশ্রয় নেওয়া যায়।

*আবেগ তৈরি করতে হলে নিজের আবেগ এবং নিজের মূল্যবোধ দিয়ে সেটি আগে উপলব্ধি করতে হয়। একই সাথে পাঠকের অবস্থানটিকেও পরিমাপ করতে হয়।

“আজ দুঃখ-ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। … … আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়। কি অন্যায় করেছিলাম?…” 

বঙ্গবন্ধুর বক্তব্যের শুরু থেকেই বুঝা যায় তিনি কীভাবে বিষাদাক্রান্ত হয়েছেন। একই সাথে তিনি বুঝেছিলেন, তারা শ্রোতা কারা এবং তারা কী প্রত্যাশা নিয়ে সামনে বসে আছে। তার আবেগ তিনি অতি দ্রুতি সংক্রমিত করতে পেরেছিলেন লক্ষ দর্শকের মনে। বক্তৃতার প্রথম অংশটি আমার কাছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়।

*একই শব্দ একই উচ্চারণ, শুধু আবেগের প্রকাশ থাকলে, কীভাবে সেটি কোটি মানুষকে প্রভাবিত করে, এর জ্বলন্ত উদাহরণ হলো মার্টিন লুথার কিং-এর ঐতিহাসিক ‘আমি স্বপ্ন দেখি’ ভাষণটি।

“আমি স্বপ্ন দেখি যে, আমার চারটি শিশু একদিন এমন জাতির মধ্যে বাস করবে, যেখানে গায়ের রঙ দিয়ে নয়, চারিত্রিক গুণাবলী দিয়েই তাদেরকে মূল্যায়ন করা হবে । আমি স্বপ্ন দেখি। … সেদিন বেশি দূরে নয়।” শত বছর পরে হলেও তার সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছিলো। এর প্রধান কারণ, তিনি তার আবেগ-নির্ভর যুক্তি দিয়ে শ্বেত ও কৃষ্ণ সকলকেই প্রভাবিত করতে পেরেছিলেন।

*সুকান্তের ‘মহাকাব্য’ কবিতায় যে আবেগ মিশিয়েছেন, তার আবেশ যুগের পর যুগ ফুরিয়ে গেলেও শেষ হবে না। এখানে আছে আবেগ, যৌক্তিকতা এবং সত্যের এক অনুপম মিশ্রণ। কবিতার কথাগুলো আজ প্রবাদ হয়ে আছে:

“হে-মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য-ঝঙ্কার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!
প্রয়োজন নেই, কবিতার স্নিগ্ধতা—
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়:
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল্সানো রুটি॥”

দুঃখবোধ, হতাশাবোধ, হারানোর বেদনা, রসবোধ, প্রাপ্তি, স্বদেশপ্রেম, ঘৃণাবোধ, শ্রদ্ধা বা অপমান, ইতিবাচক বা নেতিবাচক – প্রতিটি উপলব্ধই পাঠকের মনে ‘পেইতোস’ সৃষ্টি করতে পারে।

পাঁচ) সমালোচনা: “জল পড়ে পাতা নড়ে” অথবা “গাছে কাঠাঁল গোঁফে তেল” অথবা “রাতে মশা দিনে মাছি – এই নিয়ে কলকাতায় আছি” কথাগুলোতে উপরোক্ত তিনটি উপাদান ছাড়াও রয়েছে আরেকটি বিষয়। তা হলো, ভাষার ব্যবহার বা শব্দচয়নের মুন্সিয়ানা। বাংলা অথবা উপমহাদেশীয় সাহিত্যের অনুপম বৈশিষ্ট্যটি এখানেই নিহিত। বাংলা ভাষার গদ্য, কবিতা বা উপন্যাসে ‘ভাষা ও ভাবের ছন্দ’ সৃষ্টি করেছে একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। তথ্য, সত্য, অনুভব এবং ভাষার সম্মিলনে যে বক্তব্য প্রকাশিত হয়, তা কবিতা হোক আর প্রবন্ধ হোক, সেটি উত্তম সাহিত্যে স্থান পেতে বাধ্য!

বিষাদের একটি খণ্ডিত প্রকাশ হলো ‘বিরহ’।
মীরা দেব বর্মন তার গানে লিখেছেন “বিচ্ছেদ হবে এত মধুর জানিতাম না আগেতে … বিরহ বড় ভাল লাগে।” এটি পরে শচীদ দেব বর্মনের বিখ্যাত গানে রূপান্তরিত হয়। বাঙালি প্রেমের গল্পে তাই বিরহ থাকেই। বিরহ যেন প্রেমের ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ প্রাপ্তি। বিরহ ছাড়া প্রেমের সাহিত্য অপূর্ণ। লাইলি-মজনু, রোমিও-জুলিয়েট, ক্লিওপেটরা-এনতনি, শিরি-ফরহাদ, এসব প্রেমোপাখ্যান আমাদের কাছে আজও জীবন্ত হয়ে আছে শুধু ‘বিরহের’ কারণে। দেশ ভাষা এবং সময়কে অতিক্রম করে গল্পগুলো আজ কিংবদন্তী।

“আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, আবেগ আমাদের জীবনের প্রধান পরিচালক, উপলব্ধি না করেই আমরা আবেগের আনুগত্য করি।” বলেছেন ডাচ চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভেনগগ। আমরা কখন কীভাবে আবেগতাড়িত হই, তা জানি না। কিন্তু জানি কীভাবে আবেগতাড়িত করতে হয়। সেটি এক বিরাট প্রাপ্তি। শেইকসপিয়র অথবা নজরুলের মতো এই প্রাপ্তিকে সকলেই লেখায় বা কথামালায় প্রয়োগ করতে পারেন না। এটি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দ্বারা আসে না। আসে নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং গভীর জীবন বোধ থেকে। তাই যারা পারেন, তারা হয় প্রাকৃতিকভাবেই পেয়েছেন, নয়তো জীবনকে অনেক গভীর থেকে দেখেছেন।

‘পেইতোস’ বিষয়টিতে কেবলই পাঠক হিসেবে ‘খণ্ডিত পর্যবেক্ষণ’ তুলে ধরার চেষ্টা করলাম। ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণে যতটুকু বুঝেছি বা পেয়েছি, ততটুকুই লিপিবদ্ধ করে রাখলাম। ‘বিষাদ’ নিয়ে আরও ‘তথ্য এবং দৃষ্টান্তের’ অনুসন্ধান করছি। লেখাটি যদি কারও সাহিত্যচেতনাকে একটু নাড়া দিতে পারে, তবে মন্তব্যের মাধ্যমে অংশ নেবার অনুরোধ জানাই। বলা বাহুল্য, এটি একটি অসম্পূর্ণ লেখা।

———————————————————————–
পরিশিষ্ট:

১) Ethos, Pathos এবং Logos সাহিত্য সৃষ্টি বা মৌলিক লেখার প্রধান স্তম্ভ। গল্প, কবিতা, উপন্যাস বা মহাকাব্য যা-ই হোক, তা পাঠকের নীতিবোধ, আবেগ এবং ভালো-মন্দ যাচাইয়ের ক্ষমতাকে আঘাত করতে হবে। ইতোস, পেইতোস, লউগোস।
২) Ethos/ নীতি: লেখায় প্রকাশিত নীতি, অর্থাৎ পাঠকের নীতিবোধকে আহত বা জাগ্রত করার উপাদান।
৩) Pathos/ বিষাদ: বিষাদ, দুঃখ, আবেগ, হর্ষ অর্থাৎ পাঠকের অনুভবকে স্পর্শ বা আহত করতে পারার উপাদান।
৪) Logos /যুক্তি: যৌক্তিকতা বা বিচারবুদ্ধির প্রয়োগ, অর্থাৎ পাঠকের যৌক্তিকতা-বোধকে আহত বা জাগ্রত করার উপাদান।
৫) বিভিন্ন মাধ্যম থেকে লেখকের ব্যক্তিগত অনুসন্ধান থেকে লেখাটি প্রস্তুত হয়েছে।এরিস্টটল’স রেটরিক এবং হোমারের দি ইলিয়াড পড়ার স্মৃতি থেকে হাতড়ে বের করেছি ‘বিষাদ’।

=======================================================================

লেখালেখি নিয়ে অন্যান্য পোস্টগুলো:

১)  ভালো লেখার গোপন রহস্য

২)  লেখা নিয়ে লেখকের দ্বন্দ্ব

৩) বাংলা বানান কর্মশালা

https://d19tqk5t6qcjac.cloudfront.net/i/412.html

https://d19tqk5t6qcjac.cloudfront.net/i/412.html

চিঠিলেখা আয়োজনে প্রাকনির্বাচনী বক্তব্য ৩: সাহিত্য প্রতিযোগিতা আয়োজনের কতগুলো নির্দেশনা

চিঠিলেখা আয়োজনে প্রাকনির্বাচনী বক্তব্য ২: সাহিত্য মূল্যায়নের সমস্যাগুলো

ভবিষ্যত আয়োজনে যা করা যেতে পারে:

আয়োজকদের আন্তরিকতায় কোন কমতি নেই, একথা নিশ্চিতে বলা যায়। কর্তব্যনিষ্ঠারও কমতি দেখি নি। যার যার কর্মজীবনের মধ্যে থেকে এর চেয়ে বেশি আশা করা যায় না। এজন্য প্রথমেই নিঃশর্ত সাধুবাদ জানাই। শুধু প্রসঙ্গ এসেছে বলে কিছু মতামত রেখে যেতে চাই ভবিষ্যতের জন্য। নির্বাচক হিসেবে শত অযোগ্যতা নিয়েও ব্যক্তিগত দায় থেকেই কিছু বলছি। আমার মতে, ব্লগ যেহেতু একটি পাবলিক প্লেইস, সেখানে উপযুক্ত পরিকল্পনা করেই মাঠে নামা উচিত। এখানে নানা মুণির নানা মত – অথচ সকল মুণিকেই একই ছাতার নিচে রাখা চাই। অন্তত একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। এজন্য চাই যথেষ্ট পরিকল্পনা, হোমওয়ার্ক ও দূরদর্শিতা। খুঁটিনাটি বিষয়গুলো প্রথম পোস্টেই জানিয়ে দিলে ভবিষ্যতে আরও ভালো প্রতিযোগিতার আয়োজন হতে পারে প্রথম আলো ব্লগে। প্রথম বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ হবার পূর্বে কমপক্ষে ১০টি পর্যায় অতিক্রম করা উচিত। লেখা মূল্যায়নের সহজ কিছু নির্দেশক বা পরিমাপক পূর্বেই প্রকাশ করলে সকল শ্রেণীর লেখকদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাছাড়া, সঞ্চালক বা ব্লগ কর্তৃপক্ষকে উপযুক্তভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে – এর বিকল্প নেই।

.

1111

[বিস্তারিত নিম্নে উল্লেখ করা হয়েছে]

সাহিত্য প্রতিযোগিতা যে কোন জনসংশ্লিষ্ট কোন আয়োজনের জন্য একটি চেকলিস্ট থাকলে একদৃষ্টে বুঝা যায় কী করা হলো, আর কী করা হলো না। ‘Forming-Storming-Performing’ নীতির আলোকে তৈরিকৃত নিম্নের চেকলিস্টটি কোন চূড়ান্ত বিধি নয় – এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে, যোগবিয়োগও হতে পারে। তবু তালিকাটি একটি ভালো আয়োজনের জন্য চিন্তার খোরাক যোগাতে পারে:

• প্রস্তুতি/আহ্বায়ক কমিটি গঠন
• লেখার বিষয় নির্ধারণ
• লেখার মাধ্যম নির্ধারণ
• প্রকাশনার মাধ্যম নির্ধারণ
• কর্তৃপক্ষ/সঞ্চালক প্যানেলের সাথে আলোচনা
• নির্বাচক কমিটি গঠনের বিজ্ঞপ্তি
• নির্বাচক কমিটি গঠন
• লেখক/অংশগ্রহণকারীদের জন্য সমতল পরিবেশ নিশ্চিতকরণ
• লেখা মূল্যায়নের নির্দেশক নির্ধারণ
• স্বীকৃতি/সম্মাননা প্রদানের মাধ্যম নির্ধারণ
• অংশগ্রহণের বিজ্ঞপ্তি
• লেখা সংগ্রহ ও মূল্যায়ন
• বিশেষ অতিথি ও বিশেষ স্থান
• যথাসময়ে ফলাফল বা স্বীকৃতি প্রদানের অনুষ্ঠান

কিছু বর্ণনা দেবার চেষ্টা করলাম:

I. প্রস্তুতি/আহ্বায়ক কমিটি গঠন: একটি প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা যেতে পারে যারা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে ১ থেকে ৫ পর্যন্ত কাজগুলোর দেখাশুনা করবেন।

II. লেখার বিষয় নির্ধারণ: ‘কী বিষয়ে লেখতে হবে’ সেটা নির্ধারণ করতে হবে – স্মৃতিচারণ, স্বদেশ, মুক্তিযুদ্ধ, বর্ষাকাল ইত্যাদি যা-হোক আগে সুস্পষ্ট করতে হবে।

III. লেখার মাধ্যম নির্ধারণ: কবিতা, প্রবন্ধ, ছোটগল্প, ছড়া নাকি স্মৃতিকথা? ফরম্যাট ঠিক করা থাকলে সকল প্রতিযোগী একই মনোভাব নিয়ে অগ্রসর হবেন।

IV. প্রকাশনার মাধ্যম নির্ধারণ: জমাকৃত লেখাগুলো কীভাবে প্রকাশ পাবে- পিডিএফ নাকি ছাপানো, ছাপানো হলে কী সাইজের ইত্যাদি। এখানে প্রকাশক বা সম্পাদকের তথ্য দেওয়া থাকলে আরও ভালো।

V. সঞ্চালক প্যানেলের সাথে আলোচনা: সঞ্চালক বা ব্লগ কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করে তাদের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিযোগিতাটি ব্লগ কর্তৃপক্ষের নীতিমালার সাথে মানানসই কিনা তাও দেখতে হবে।

VI. নির্বাচক কমিটি গঠনের বিজ্ঞপ্তি: নির্বাচক কমিটিতে যারা আসবেন তারা কিসের ভিত্তিতে নির্বাচিত হচ্ছেন সেটা আগেই প্রচার করা উচিত। যেমন, সময় বা লেখার সংখ্যার বিচারে তাদের জৈষ্ঠ্যতা, পাঠকের/সহব্লগারদের গ্রহণযোগ্যতা, পাঠকের মন্তব্যের ভিত্তিতে জৈষ্ঠ্যতা, লেখার মানের ভিত্তিতেও হতে পারে। এসব বিষয়গুলো পূর্বেই ব্লগে প্রকাশ করলে প্রতিযোগিতার বিষয়ে গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।

VII. নির্বাচক কমিটি গঠন: বিভিন্ন পর্যায়ের ব্লগার এবং সঞ্চালক কমিটির সদস্যদের সমন্বয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচক কমিটি গঠন করে ঘোষণা দিতে হবে। সাক্ষাতে সভা করা অসম্ভব হলে, গ্রুপচ্যাটিং ইত্যাদি করে ভারচুয়াল সভা করা যেতে পারে।

VIII. লেখক/অংশগ্রহণকারীদের জন্য সমতল পরিবেশ নিশ্চিতকরণ: উপরোক্ত শর্তগুলো অতিক্রম করলে স্বাভাবিকভাবেই সকলের অংশগ্রহণের সমান সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রেরণা পাবেন সকল পথের সকল মনের ব্লগারগণ।

IX. লেখা মূল্যায়নের নির্দেশক নির্ধারণ: প্রচলিত নির্দেশকগুলো হতে পারে এরকম – ক) ভাষা (শুদ্ধ বানান, সাধু ও চলিত ভাষার অবিমিশ্রিত ব্যবহার), খ) লেখার বিষয় (লেখাটি কি সময়ের প্রতিনিধিত্ব করছে, নাকি ইতিহাসের সাক্ষী হচ্ছে নাকি বিনোদন দিচ্ছে ইত্যাদি), গ) লেখার আকৃতি (কত শব্দের, কত পৃষ্ঠার, কোন্ কী বোর্ড ইত্যাদি), ঘ) কী কী বিষয়ে লেখা যাবে না, তাও উল্লেখ করে দেওয়া যায়।

X. স্বীকৃতি/সম্মানতা প্রদানের মাধ্যম নির্ধারণ: শ্রেষ্ঠ যদি সত্যিই শ্রেষ্ঠ হয়, তবে তাকে স্বীকৃতি দিতে কোন বাধা থাকে না। স্বীকৃতি যদি সঠিক ভিত্তির ওপরে স্থাপিত হয়, তবে কী দিয়ে তা প্রদান করা হলো, সেটি খুব বিবেচ্য নয়। তবে যা-ই হোক, সেটা ঘোষণা থাকা ভালো। শুধু একটি সনদপত্র/ক্রেস্ট দিয়েও স্বীকৃতি হতে পারে। হতে পারে একটি সুন্দর বই।

XI. অংশগ্রহণের বিজ্ঞপ্তি: উপরোক্ত ১০টি পর্যায় অতিক্রম করার পর নির্দ্বিধায় বিজ্ঞপ্তি প্রদান করা যায়। বিজ্ঞপ্তি যত দীর্ঘই হোক সেটা সংশ্লিষ্টরা অবশ্যই পড়বেন। তাই লেখার দৈর্ঘ নিয়ে চিন্তিত না হয়ে পরিপূর্ণতার দিকে খেয়াল দিতে হবে।

XII. লেখা সংগ্রহ ও মূল্যায়ন: প্রথমত অংশগ্রহণকারী সকল প্রতিযোগীর নাম ও লেখা তালিকাভূক্ত করতে হবে। কেউ যেন বাদ না পড়েন! অযোগ্যতা থাকলে তা আলাদা মন্তব্যে উল্লেখ করা যায়, কিন্তু তালিকায় নাম অবশ্যই থাকা চাই। পূর্বঘোষিত মাপকাঠি/শর্তাবলীর আলোকে প্রতিটি লেখাকে মূল্যায়ন করে, ‘ডিমিনিশিং’ পদ্ধতিতে তালিকা ছোট (শর্টলিস্টিং) করে আনা যায়। তাতে সকলেই সুবিচার পাবেন।

XIII. বিশেষ অতিথি ও বিশেষ স্থান: সম্মাননা বা স্বীকৃতি প্রদানের জন্য একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার সফল সমাপ্তি ঘটাতে হবে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিশেষ অতিথি নির্বাচন করে তার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ স্থান হলেও পূর্ব থেকেই সেটি নিশ্চিত করে রাখতে হবে। সম্মাননা অনুষ্ঠানের জন্য একটি আলাদা পোস্ট দেওয়া উত্তম। তবে খসড়া পরিকল্পনাটি প্রথম পোস্টেই প্রকাশ করা যায়।

XIV. যথাসময়ে ফলাফল বা স্বীকৃতি প্রদানের অনুষ্ঠান: এমনভাবে স্থান ও তারিখ নির্ধারণ করতে হবে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়া যার কোন পরিবর্তন হবে না। যথাসময়ে এবং যথাস্থানে অনুষ্ঠান শুরু করতে হবে। ৬টার অনুষ্ঠান ৯টায় হলে, অনুষ্ঠানের মান এবং সম্মান দু’টোই কমে যায়।

শেষ কথা হলো, সকলকে ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা!

কিছু সমস্যার কথা যোগ না করলে যেমন ‘প্রাপ্তির কথা’ বিশ্বাসযোগ্য হয় না, তেমনি কিছু পরামর্শ বা সুপারিশ না দিয়ে শুধু ‘সমস্যার কথা’ বলাও দায়িত্বহীনতা। এক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষায় কতটুকু সফল হলাম, পাঠক বলতে পারবেন। আমি বিশ্বাস করি, ব্লগারের পরিচয় হলো তার লেখায়। কিন্তু সকলেই তো রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত-রৌদ্র নন যে, নিজের প্রেরণায় লেখে যাবেন একটির পর একটি মাস্টারপিস। অধিকাংশ ব্লগারের প্রয়োজন পর্যাপ্ত প্রণোদনা বা প্রেষণা। লেখালেখিতে ব্লগারদেরকে তৎপর রাখার জন্য কতৃপক্ষকেই উদ্যোগ নিতে হয়। তা না হলে দলাদলি, ফেইকনিক, মেরুকরণ, ব্যানকরণ, ব্লককরণ ইত্যাদি নেতিবাচক উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করলে, অঙ্গুলি চলে যায় সঞ্চালকের দিকে। মাঝখানে পরে শান্তিপ্রিয় ব্লগাররা ভুল বুঝাবুঝির শিকার হন। ব্লগে ব্লগারদের কর্মচঞ্চলতা বাড়াতে বিভিন্ন আয়োজন নিয়মিত এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকুক, এই কামনা করছি। প্রিয়চিঠি আয়োজনে সংশ্লিষ্ট সকলকে শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

*প্রথম ছবি আলো ব্লগ থেকে নেওয়া, গ্রাফ-ছবিটি পোস্টদাতার তৈরি।

[ প্রথম আলো ব্লগে পাঠক প্রতিক্রিয়া ]

.

প্রথম আলো ব্লগে চিঠি লেখা আয়োজনের নির্বাচক হবার অভিজ্ঞতা

.

এবিষয়ে পূর্বের পর্ব: 

চিঠিলেখা আয়োজনে প্রাকনির্বাচনী বক্তব্য ২: সাহিত্য মূল্যায়নের সমস্যাগুলো

প্রাকনির্বাচনী বক্তব্য ১: ‘চিপায় পড়িয়ে যাহা হয়’

চিঠিলেখা আয়োজনে প্রাকনির্বাচনী বক্তব্য ১: চিপায় পড়িয়ে যাহা হয়!

d3683c5f8da

১) চিপায় পড়িলে যাহা হয়: কিঞ্চিৎ গৌড়চন্দ্রিকা

কথায় আছে, কাহাকেও যদি একটু চিপায় ফেলিতে চাও, তবে তাহাকে নিকাহ করাইয়া দাও অথবা নির্বাচনে খাড়া করাইয়া দাও। আমার মনে হয়, সবকিছুরই আপডেট রহিয়াছে, বিবর্তন রহিয়াছে। অতএব এখন বলা উচিত, কাহাকেও চুপানি খাওয়াইতে চাইলে, বিচারক বানাইয়া দাও। চিঠিলেখা আয়োজনে বিচারক কমিটির অন্য সকলেই অভিজ্ঞ বিজ্ঞজন – একমাত্র আমিই হাতুড়ে লেখক! কী যাতনায় দিনাতিপাত করিতেছি, না পারি কহিতে – না পারি সহিতে। কারণ, ব্লগে লেখালেখি’র কর্মসূচি বৃদ্ধি করিবার নিমিত্তে আয়োজক মহাশয়কে তাগিদ দিতাম। এ্রইবার তাহার বিশেষ কর্মব্যস্ততার মধ্যে ইহা শুরু করাতে খুশিই হইয়াছিলাম। কিন্তু খুশি বিনাস করিলো নির্বাচক হবার প্রস্তাবে। তথাপি অন্য সকল ব্লগীয় প্রস্তাবের মতো নিরাপত্তিতে মানিয়া নিলাম। এখন আমার সামনে যোগ্যতম পত্রলিখকবৃন্দ আর পিছনে আয়োজকবৃন্দ। মধ্যিখানে আমি! যাহা হোক, আমি বর্তমানে কেমন শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় আছি তাহার বর্ণনা দিব পরবর্তি পোস্টে। এইবার বলি প্রাপ্তির কথা।

.

২) যাহা আমি শিখিলাম:

ছেলেবেলায় পাঠ্যপুস্তকে অনেক চিঠিই পড়িয়াছি। সঙ্গত কারণেই পিতার কাছে টাকা চাহিয়া পুত্রের চিঠিখানি বিশেষ খেয়াল আছে। লেখাপড়া মনযোগ বৃদ্ধি করতঃ ভালো ফলাফলের প্রেরণা দিয়া ছোটভাই/বোনের কাছে পত্র লিখ। তখন নিজেরই পড়াশুনার ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা! তথাপি তাহা খেয়াল আছে কিন্তু গুরুত্ব দিই নাই। চিঠির মর্যাদা তখন এতটা উপলব্ধি করি নাই, এইবার যাহা করিলাম। চিঠিলেখা আয়োজনে সম্পৃক্ত থাকিয়া বিরল অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হইলাম; বিচিত্র রকমের লেখার সাথে পরিচিত হইলাম আর জানিলাম চিঠি কাহাকে বলে, কত প্রকার এবং তাহা কী কী। বৈচিত্রময় চিঠির সমারোহে পড়িয়া চিঠি সম্পর্কে সকল পূর্ব ধারণার সংস্কার হইয়া গেলো। একজন প্রিয় সহব্লগার শুধু রিহার্সাল পর্ব দিয়াই চিঠিলেখা আয়োজনকে অনেক সার্থক করিয়া দিয়েছেন। ভিতরে ‘দ্রব্য’ থাকিলে যাহা হয়! তাহার চিঠিগুলোতে বাংলার সমাজ ও পারিবারিক জীবনের সুখ ও বিষাদের যে চিত্র ফুটিয়া ওঠিয়াছে তাহাতে অনেকের মতো আমিও মুগ্ধ।

.

৩) যাহা আমাকে বিমুগ্ধ করিয়াছে:

কবি কবিতা লেখিবেন, গল্পকার লেখিবেন গল্প – কিন্তু চিঠির বেলায় ব্যতিক্রম। সকলেই চিঠি লেখিতে পারেন। চিঠিতে কবিতার মতোই মনের গভীর অভিব্যক্তি প্রকাশ পাইতে পারে। তাই, চিঠি পড়ে সহব্লগারদের মনের গতিপথ সম্পর্কে কিছুটা জানিবার সুযোগ পাইলাম। কাহারো প্রেমিক-প্রেমিকার খবরও পাইয়া গেলাম এই যাত্রায়! একটি বিষয় আমাকে খুবই অনুপ্রাণিত করিয়াছে, তাহা হইলো: অধিকাংশ চিঠিই শুধু প্রেমের জন্য নহে, যদিও চিঠি স্বভাবগতভাবে প্রেমের কথাই কহে। সহব্লগাররা যে শুধুই প্রেম নামক একমুখি আবেগে ব্যপ্ত নহে, ইহা একটি জাতীয় সুখবর বলা যাইতে পারে। ‘জাতীয় সুখবর’ এইজন্যেই বলিলাম, কারণ স্বদেশকে নিয়া, মুক্তিযুদ্ধকে নিয়া, ভাষা আন্দোলনকে নিয়া, বাঙলাকে নিয়া, বিডিআর বিদ্রোহ, হরতাল, সাভার ট্রাজিডি নিয়ে বেশ কিছু চমৎকার চিঠি পড়িবার সৌভাগ্য আমার হইয়াছে। ইহাতে সহব্লগারদের স্বদেশ প্রেমের এক প্রেরণাদায়ক প্রমাণ পাইলাম। আরও ভালো লাগিয়াছে পিতা-মাতার প্রতি ভালোবাসা এবং তাহাদের প্রতি সহ-ব্লগারদের অনুভূতির প্রকাশ দেখিয়া। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চিঠি লিখা হইয়াছে পিতা-মাতার প্রতি। পিতারূপে শ্বশুরকে লক্ষ্য করিয়াও চিঠি লিখা হইয়াছে। তাহারা যে আমাদের জীবনে কতটুকু প্রভাব বিস্তার করিয়া আছেন, তাহা পরিমাপ করা না গেলেও অনুভব করিবার সুযোগ পাইলাম।

ইহাছাড়া প্রিয় প্রথম আলো ব্লগকে নিয়াও পত্র লিখিয়াছে আমাদের ক’জন সহব্লগার, যাদের অধিকাংশই প্রবাসী। প্রবাসীরাই কি তবে ব্লগকে বেশি প্রেম করেন? এই প্রশ্ন নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা চলিতে পারে। তবে আমি পূর্বাহ্নেই প্রবাসীদের পক্ষ নিয়া রাখিলাম! পক্ষপাতিত্ব না করিলে বিচারক হওয়া যায় না।

.

৪) চিঠিলেখা আয়োজনে ব্লগের কাটতি বাড়িয়াছে:

প্রথম আয়োজনে আমি সম্পৃক্ত ছিলাম না। বিভিন্ন আলোচনায় ভাবিয়াছিলাম তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে চিঠিলেখার আর কী প্রয়োজন থাকিতে পারে। গণমানুষের সাহিত্য হিসাবে চিঠির যে আলাদা একটি গুরুত্ব রহিয়াছে, তাহা প্রায় ভুলিতেই বসিয়াছিলাম। উপরন্তু এই আয়োজনে অনেক ভালো কিছু লেখকের সন্ধান পেলাম, যাহারা ব্লগে নিয়মিত আসেন না, কেবলই চিঠিলেখা উপলক্ষে আসিয়াছেন। অথবা, আসলেও শুধু পড়িতেন আর মাঝে মাঝে মন্তব্য করিতেন, কিন্তু নিজেরা তেমনভাবে লিখিতেন না। যাহারা নিয়মিত লিখেন, তারাও ভিন্ন কিছু লেখার প্রয়াস পাইলেন এই উপলক্ষে। ব্লগার, পাঠক, অতিথির যাতায়াত বাড়িয়াছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এইসবই চিঠিলেখা আয়োজনের কারণে হইয়াছে। দীর্ঘদিনের বিরতির পর চিঠিলেখা আয়োজনের বদৌলতে আলো ব্লগে আঘাত, মানে হিটও বাড়িয়াছে এই দিনগুলোতে। একটি পাবলিক ব্লগে এই অর্জন অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। আশা করছি আলোব্লগের কর্তারা এই কর্মচঞ্চলতাকে একটি স্থায়ি রূপ দিবার চেষ্টা করিবেন।

.

৫) চিঠি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বক্তব্য: সকল চিঠির উপস্থাপনা শেষ হইলে, পরের পোস্টে বিস্তারিত জানাইবার চেষ্টা করিব।

[প্রথম আলো ব্লগে পাঠক প্রতিক্রিয়া]

** প্রথম আলো ব্লগে চিঠি লেখা আয়োজনের নির্বাচক হবার অভিজ্ঞতা

লেখা নিয়ে লেখকের দ্বন্দ্ব: আজই লিখুন!!

লেখকের কাজ হলো এমন কিছু লেখা, যা অন্যে লেখতে অসমর্থ। এটি আমার কথা নয়। আবার কেউ বলেন, এমন কিছু লেখো – যা কখনও ভুলে যাওয়া উচিত হবে না। মাঝে মাঝে ভাবি, কেন লেখবো, যদি পাঠক তাতে নতুন কিছু না পান, যদি সেখানে মনে রাখার মতো কিছু না থাকে? অহেতুক জায়গা নষ্ট করার কোন মানে আছে? তার চেয়ে পড়তে থাকি, সেটাই ভালো। তাছাড়া এমন কিছুই আমার মাথায় আসছে না, যা কখনও বলা হয় নি। অন্য কারও চেয়ে লেখকের কাছেই লেখার কাজটি সবচেয়ে কঠিন। লেখকের মনের এই দ্বন্দ্বটি নিয়েই আজকের লেখা।


লেখা নিয়ে চলমান অনুসন্ধানে এমন কিছু বিষয় যোগাড় হয়েছে, যা আলোচনা না করলে লেখকের (পোস্টদাতা) আর খেয়াল থাকবে না! পরে লেখক নিজেই ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকার উপরে থাকবে। অনুভূতি এক হলে প্রকাশও অনেক সময় মিলে যায়, সেক্ষেত্রে প্লেজিয়ারিজম বলা যায় কিনা, পাঠক বিচার করবেন। লেখা নিয়ে আজ আমি যা ভাবছি, তা যে কাল অন্য একজন ভাববেন না তার কোন গ্যারান্টি নেই। তাই আগেই লিখে ফেলছি, যাতে পরে যিনি লিখবেন, তাকে প্লেজিয়ারজমের ব্যাপারে সাবধান হতে হয়।

ইতিহাস লেখক নাকি ইতিহাসের সর্বোচ্চ সুবিধা পেয়ে থাকেন। এজন্যেই মনে হয় ম্যাকিয়াভেলি বলেছিলেন, ইতিহাস হলো বিজয়ীদের লেখা। তাই আগে লেখার অনেক সুবিধা। কেউ কেউ বলে থাকেন, আমি যা লেখব বলে ভাবি, সেগুলো দেখা যায় রবীন্দ্র-নজরুল-জীবনানন্দরা আগেই লিখে ফেলেছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল বলেছিলেন, ইতিহাস আমার প্রতি সদয় হবে, যদি আমি নিজেই তা লেখতে মনস্থ করি। লেখকেরা প্রতিনিয়ত অনুভূতির ইতিহাস লিখে চলেছেন, তাই প্রত্যেক লেখকই কোন-না-কোনভাবে একেকজন ঐতিহাসিক। লেখক তার লেখায় তার সমসাময়িকতার ইতিহাস তুলে ধরেন শৈল্পিকভাবে। তাই, আগে লেখার সুবিধাটি ওড়িয়ে দেয়া যায় না।


একজন অনুভূতি-প্রবণ ব্যক্তি সহজেই লেখক হতে পারেন। লেখকরা সাধারণত অনুভূতিপ্রবণই হয়ে থাকেন। “লেখকের চোখে অশ্রু না এলে, পাঠকের চোখেও অশ্রু ঝরবে না – লেখক বিস্মিত না হলে পাঠকও বিস্মিত হবে না”।
আমার প্রিয় কবি রবার্ট ফ্রস্টের কথা। “লেখায় যদি নিঃশ্বাস ছাড়তে না পারেন, লেখার মাধ্যমে যদি কেঁদে ওঠতে না পারেন, গান গাইতে না পারেন – তবে বাদ দিন আপনার লেখা।” ফরাসী-কিউবান লেখক আনাই নিন-এর কথা। ভাষাগত দক্ষতার চেয়েও প্রয়োজন একটি বিদগ্ধ হৃদয়ের, লেখক লেখা নিয়ে লেখা’র পূর্বের পর্বটিতে একথাটিই বলেছিলাম।

অনেকে বলে থাকেন, পরিচ্ছন্ন জীবনবোধ থেকে জন্ম হয় লেখকের। চোখ-কান-নাক খোলা রাখুন, নিজের বিশ্লেষণী শক্তি প্রয়োগ করুন আর তা সাদা কাগজে ঢেলে দিন – ফলাফল হলো আপনি একজন লেখক! নিজেই নিজের আইডল। “যখন কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করে মানুষ সম্পর্কে আমি এতকিছু কীভাবে জানি, আমার সোজাসাপ্টা উত্তর: মানুষ সম্পর্কে আমি যা-কিছু জেনেছি, তা আমার নিজের থেকে শেখা।” বলেছেন রাশিয়ান চিকিৎসক-নাট্যকার আনটন চেখভ। একই কথা টি এস ইলিয়ট বলেছেন, নিজে বুদ্ধিমান হওয়া ছাড়া লেখক হবার অন্য কোন পদ্ধতি নেই। আনাতোল ফ্রাঁসে’র সোজা কথা: “কোন কিছু জানাটাই আসল কথা নয়, কল্পনাশক্তিই সবকিছু।” অর্থাৎ একটি পর্যবেক্ষণশীল মন আর সূক্ষ্ম কল্পনাশক্তি – এই দু’য়ে মিলে লেখকের সত্ত্বা।


পাঠকের মধ্যে লুকিয়ে আছে লেখকের বীজ। সাম্প্রতিক সময়ে এবিষয়টি নিয়ে খুব আলোচনা হচ্ছিল। পড়তে পড়তে লেখার ভুল-শুদ্ধ সফলতা-ব্যর্থতা আবিষ্কার করা যায়। পূর্বের লেখকের পদচিহ্নগুলো সঠিক গন্তব্যে গিয়েছিলো কিনা, তা পড়ে পাঠক তার লেখার গতিপথ নির্ণয় করতে পারেন। তাই পড়ার কোন বিকল্প নেই, লেখক হবার জন্য। সমসাময়িক হরর ও বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লেখক স্টিফেন কিং-এর মতে, কেবল দু’টি পদ্ধতি আছে ভালো লেখক হবার জন্য: এর একটি হলো প্রচুর পড়া, অন্যটি প্রচুর লেখা।

লেখার পূর্বেই যত দ্বিধা এবং ভয় সংশয়। লেখা শুরু করে দিলে একটা কিছু দাঁড়াবেই। অনুভূতি বা ধারণাকে ধরে রাখা অনেকটা মাছ ধরার মতো একটি বিষয়। প্রথমে দু’একটিকে ধরে রাখা শিখে ফেললে আরও কিছু এসে যোগাড় হয়। লেখকের কাজ হলো শুধু একটি সত্য বাক্য লেখা। একটি নতুন সত্য। এটি আর্নেস্ট হেমিংওয়ের কথা। “অনুপ্রেরণা লাভ করার জন্য আপনাকে অপেক্ষার প্রয়োজন নেই। হাতে লাঠি নিয়ে অনুপ্রেরণার পিছু নিন।” বলেছেন মার্কিন লেখক সাংবাদিক ও সমাজকর্মী জ্যাক লনডন। “একটি গল্প লেখলে তা খারাপ হতে পারে, কিন্তু একশ’ গল্প লেখলে দেখা যাবে, বিজোড়গুলো আপনার স্বপক্ষে গিয়েছে।” (এডগার রাইস বারোজ, টারজানের লেখক)


আমার ক্ষেত্রে যা হয়, তা হলো আজকের চিন্তাকে আগামিকালের জন্য ফেলে রাখা। বাঁচা গেলো যে, আমি কোন লেখক নই। ধরুন একটি বিষয় অনুভূতিতে প্রবল আঘাত হানলো। ভাবলাম এনিয়ে অবশ্যই লিখতে হবে আমাকে, কিন্তু সময় করে পরে একবার বসবো! পরে আর বসা হয় না – বসলেও সেই অনুভূতি আর ফিরে আসে না। এমন কিছুই আমি লিখতে পারি না, যা অন্যের লেখায় আসে নি বা অন্যের পক্ষে লেখা অসম্ভব। তবে আর কেন লেখা? লেখা বিষয়ে ব্রিটিশ গল্পকার এবং কমিক লেখক নীল গেইম্যান বলেছেন, আগামিকাল কিয়ামত আসতে পারে, আজই হলো লেখা মোক্ষম সময়। তাই লেখা ছাড়া আর সবকিছুই আজ গৌণ। আমার পক্ষে কিছুই সম্ভব নয়, তাই ব্লগিং করি!