Tagged: রাজনৈতিক ঐকমত্য

বিদেহী আত্মা ও দেহযুক্ত আত্মা সম্বন্ধে

210313

দেশের কৃতী রাজনীবিদ ও মহামান্য রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতার মন্তব্যে মন ছুঁয়ে গেলো। হরতাল প্রত্যাহার এবং সফর সূচি পরিবর্তনসহ বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। বিষয়টি যথাযথভাবে প্রচার না করায় রাষ্ট্রীয় প্রচার মাধ্যমকে তিনি সমালোচনা করেছেন। খালেদা জিয়া শোকবার্তায় বলেন, “এই মৃত্যুতে বাংলাদেশ এক অভিজ্ঞ, মননশীল ও সুবিবেচক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারাল। “রুচি ও প্রজ্ঞার প্রকট অভাবের এই সময়ে তার মৃত্যু যে শূন্যতা সৃষ্টি করল, তা সহজে পূরণ হবার নয়।” আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের নেতা জিল্লুর রহমানকে মিতবাক, ভদ্র, নম্র একজন ভালো মানুষ উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সম্পর্কে তিনি কখনো আক্রমণাত্মক ও অশালীন মন্তব্য করতেন না।” সর্বশেষ খবর হলো, মরহুম রাষ্ট্রপতির বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনি গণভবনে যাচ্ছেন।

প্রবীণ রাজনীতিবিদ আব্দুল জলিলের মৃতুতেও বিরোধীদল থেকে উষ্ণ সহানুভূতি প্রকাশ করা হয়েছে, যা আমার কাছে অনেক স্বস্তিদায়ক একটি বিষয় বলে মনে হয়েছে। মরহুম আব্দুল জলিলের সফলতা ও অর্জনকে বস্তুনিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করে প্রশংসা জানানো হয়েছে। একই উষ্ণতা পরিলক্ষিত হয়েছে জৈষ্ঠ রাজনীতিবিদ আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যুতে। অনেক স্বাভাবিক হলেও, এবিষয়গুলো আমাকে চমৎকৃত করে।

বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো যেভাবে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে, তাতে আমজনতার মন এতোটা শংকিত হয় যে, মনে হয় তারা কখনও একে অন্যকে গ্রহণ করবেন না। কিন্তু, বিদেহী আত্মার প্রতি নেতিবাচক হতে আমরা এখনও শিখি নি। এতটুকু হৃদ্যতা এখনও অবশিষ্ট আছে আমাদের মানসিকতায়। অনেক অভিযোগ থাকলেও কোন মরহুম ব্যক্তিত্বের প্রতি আমরা সাধারণত নির্দয় হই না।

কৃতী রাজনীতিবিদ আব্দুল রাজ্জাক, আব্দুল জলিল এবং সর্বশেষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর সকল মতের রাজনীতিবিদদের সহানুভূতিশীল ও শোকার্ত মনোভাব দেখে সত্যিই আহ্লাদিত হলাম। সকলের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলতে চাই, আমাদের সমাজ হয়তো আরেকটু শান্তিপূর্ণ স্থান হতো যদি রাজনৈতিক নেতারা জীবিত নেতাদের প্রতি আরেকটু সৌহার্দ্য দেখাতেন যা তারা ‘বিদেহী আত্মার’ প্রতি দেখিয়ে থাকেন।

*ছবি ও অধিকাংশ তথ্য বিডিনিউজ.২৪ থেকে। দেখুন প্রথম আলো ব্লগে