Tagged: ব্লু চিপ

ব্লগসাইট যেভাবে ‘ব্লু চিপ স্ট্যাটাস’ লাভ করতে পারে

 

একটি ব্লগসাইট কীভাবে ব্লু চিপ স্ট্যাটাস লাভ করতে পারে? তার আগে চলুন ভেবে নেই, সেরকম একটি ব্লগসাইটের কী কী বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। ব্লু চিপ ভূষিত ব্লগসাইট হবে জাতীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত, সর্বমহলের কাছে নির্ভরযোগ্য এবং আস্থাশীল একটি ব্লগিং ও নিউজ প্লাটফরম। সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, সেটি হবে আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং লাভজনক একটি প্রতিষ্ঠান। স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে শুরু হলেও ব্লগসাইটটি ক্রমান্বয়ে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হবে এবং মানসম্পন্ন লেখার জন্য তারা ব্লগারদেরকে রয়্যালটি দিতেও সক্ষম হবে। সেটি হবে নতুন, পুরাতন এবং পেশাদার ব্লগারদের মিলনমেলা। একই সাথে সংবাদমাধ্যম, তথ্যভাণ্ডার, সাহিত্য সম্ভার এবং রেফারেন্স গাইড।

 

বর্তমান পৃথিবী হলো ‘যা নাই ইন্টারনেটে, তা নাই পৃথিবীতে’ তত্ত্বে বিশ্বাসী। খবরের কাগজের একটি লেখা বা প্রবন্ধ, দিনশেষে পত্রিকাটি ভাঁজ করলেই লেখার মৃত্যু ঘটলো। কিন্তু অনলাইনের একটি লেখা চিরজীবন্ত এবং রেফারেন্স করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত। অন্যদিকে, এযুগের মানুষগুলো সবকিছু ইন্টারনেট থেকে পেতে আগ্রহী। নিজের মোবাইলটি খুঁজতে গেলেও তারা গুগল সার্চ দিতে চায়। অতএব, একটি ব্লগসাইটও লাভজনক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হতে পারে। বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে ব্লগ কর্তৃপক্ষের লক্ষ্যমাত্রা এবং ভবিষ্যতকে পরিমাপ করতে পারার সামর্থ্যের ওপর। সুর্নির্দিষ্টভাবে পরিকল্পনা করতে পারলে শুধু ব্লগসাইট যে লাভবান হবে, তা নয়। এখানে যারা প্রদায়ক হিসেবে যারা প্রতিদিন বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে লেখে যাচ্ছেন, তারাও লাভবান হতে পারেন।

 

প্রথমত, মনোভাবের পরিবর্তন ঘটাতে হবে। ব্লগসাইট সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতা, বিশ্বাস ও ধারণাকে ঢেলে সাজাতে হবে একবিংশ শতাব্দির বাস্তবতায়। দেশের অন্যান্য অলাভজনক এবং খুঁড়িয়ে চলা ব্লগসাইটগুলো থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে আসতে হবে। ব্লগসাইটকে ১২ মাসের সুনির্দিষ্ট পরিচালনা দিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা যায়, এই তত্ত্বে বিশ্বাস করতে হবে। মনে রাখতে হবে, প্রিন্ট মিডিয়া আজ ক্ষয়িষ্ণু শিল্পে পরিণত হয়েছে এবং অনলাইন মিডিয়া এখন জ্যামিতিকভাবে ক্রমবর্ধমান।

 

দ্বিতীয়ত, ব্লগে হিট বাড়ানোর জন্য চাই সুর্নিদিষ্ট রোডম্যাপ। চাই অ্যালেক্সা রেটিং এর নিয়মিত বিশ্লেষণ। প্রথম লক্ষ্য হবে সকল ভালো মানের ব্লগারকে একত্রিত করা এবং দ্বিতীয় লক্ষ্য হবে সকল প্রকার পাঠকের মনযোগকে নিজেদের দিকে পরিচালিত করা। তৃতীয় লক্ষ্য হবে বিজ্ঞাপন দাতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। এই তিন প্রকার হিট বাড়ানোর জন্য চেষ্টাও হবে তিন প্রকার। মাস এবং কোয়ার্টার ভিত্তিক হিট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা এবং একই সাথে সমধর্মী ব্লগসাইটগুলোর হিট স্ট্যাটাস নজরে রাখা।

 

তৃতীয়ত, একই সাথে আয়ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা করা, কারণ নিজস্ব আয় ব্যতিরেকে কোন ব্লগসাইট মানসম্মতভাবে দীর্ঘদিন পরিচালিত হতে পারে না। আর্থিক লাভের প্রত্যাশা না থাকলে প্রতিষ্ঠানের গুণগত মান বাড়ানোরও কোন প্রেরণা থাকে না। অতএব কোন্ সময় থেকে ব্লগের আয় তার ‘সংস্থাপন ব্যয়ের’ সমান হবে, কোন সময় তা মোট ব্যয়ের চেয়ে বেশি হবে এবং কোন সময় ব্লগসাইটের কর্তৃপক্ষ আয় গুণতে শুরু করবেন, সেই মাইলস্টোনগুলো নির্ধারণ করা। সংস্থাপন ব্যয়ের সাথে একজন নিয়মিত সঞ্চালকের একবছরের ভাতা বিবেচনায় রাখতে হবে।

 

চতুর্থত, দেশের আইন এবং প্রদায়কদের লেখার স্বভাবকে বিবেচনায় রেখে ক. লেখা প্রকাশের নীতিমালা (ব্লগারদের জন্য) এবং খ. সম্পাদকীয় নীতিমালা (সঞ্চালকের জন্য) প্রণয়ন করা। সেই ভিত্তিতে নিয়মিতভাবে ১. ব্লগপোস্ট প্রকাশ করা; ২. লেখা নির্বাচিত করা এবং ৩. লেখা স্টিকি করা।  স্টিকি লেখাকে সাব-এডিটোরিয়ালের মর্যাদা দেওয়া এবং সেভাবেই গুরুত্ব প্রদান করা।

 

ওপরে কেবল একটি অতি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা দেবার চেষ্টা করা হলো। প্রতিষ্ঠান কখনও ‘দেখি কতদূর যায়’ মনোভাব নিয়ে শুরু হয় না। অন্তত ১২ মাসের একটি প্রাক্কলিত খসড়া নিয়ে শুরু হয়।  (সমাপ্ত)

 

 

*********************************

Directly Transferred from Ghuriblog.com

*********************************

 

,    ৯৮ বার পঠিত   সম্পাদনা করুন

12 thoughts on “ব্লগসাইট যেভাবে ‘ব্লু চিপ স্ট্যাটাস’ লাভ করতে পারে”

  1. হামিদ বলেছেন:

    ঘুড়ি ব্লগ ব্লু চিপ স্টাটাস লাভের পথে এগিয়ে যাক সেই প্রত্যাশা রইল ……

    শুভেচ্ছা নিন মইনুল ভাই ৷

  2. আরজু মুন জারিন বলেছেন:

    মনোভাবের পরিবর্তন ঘটাতে হবে। ব্লগসাইট সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতা, বিশ্বাস ও ধারণাকে ঢেলে সাজাতে হবে একবিংশ শতাব্দির বাস্তবতায়। দেশের অন্যান্য অলাভজনক এবং খুঁড়িয়ে চলা ব্লগসাইটগুলো থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে আসতে হবে। ব্লগসাইটকে ১২ মাসের সুনির্দিষ্ট পরিচালনা দিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা যেই, এই তত্ত্বে বিশ্বাস করতে হবে। মনে রাখতে হবে, প্রিন্ট মিডিয়া আজ ক্ষয়িষ্ণু শিল্পে পরিণত হয়েছে এবং অনলাইন মিডিয়া এখন জ্যামিতিকভাবে ক্রমবর্ধমান।…

    বাহঃ তাইতো..বিজ্ঞাপন পাওয়া গেলে আস্তে আস্তে যে কোন ব্লগ লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরীত হতে পারে। তখন ভাল লেখার রয়ালটি দেওয়া যেতে পারে লেখককে।লেখকদের কষ্টের পারিশ্রমিক ও মিলবে। এখন শুধু ব্লগে শুধু কমেন্টস করে প্রেরনা দেওয়া হয়।তাও মাঝে মাঝে ব্লগার সমাবেশ এত কম হয় …কমেন্টস ও খূঁজে পাওয়া যায়না।এ যদি হত নিঃসন্দেহে ব্লগার পাঠক সমাবেশ অনেক বেড়ে যেত ।ব্লগ হত অনেক প্রানবন্ত ..অনেক জনপ্রিয়। চলন্তিকার আনোয়ারুল হক খান কিন্তু চলন্তিকাকে এভাবে চালাচ্ছেন। যার লেখা ষ্টিকি হয় তাকে ,সেরা প্রদায়কদের পুরস্কার এর ব্যাবস্থা করছেন।তা কিন্তু তিনি নিজের পকেট থেকে করছেন । পত্রিকা প্রকাশ করছেন নিজের খরচে।আমি ,কাশেম ভাই টাকা অফার করা স্বত্বেও তিনি নেননি।উনি ও চেষ্টা করছেন বিজ্ঞাপন বাড়াতে।

    খুব ভাল আইডিয়া মইনুল ভাই।ঘুড়িতে তো বরং চলন্তিকার তুলনায় বড় লেখকরা লিখছেন। কতৃপক্ষ অবশ্যই এ নিয়ে ভাবতে পারেন কিভাবে আস্তে আস্তে ব্যাবসায়িক দিকে নেওয়া যায়।এ তে দোষের কিছু নাই।কবি সাহিত্যকরা ও বাস্তব পৃথিবীর মানুষ।তাদের কে ও ডাল চাল কিনতে হয়।:P..

    আর ও লিখতে ইচ্ছে হচ্ছে …সময় কম..আবার আসছি পরে।শুভকামনা এখনকার জন্য।

  3. আরজু মুন জারিন বলেছেন:

    ব্লগে হিট বাড়ানোর জন্য চাই সুর্নিদিষ্ট রোডম্যাপ। চাই অ্যালেক্স রেটিং এর নিয়মিত বিশ্লেষণ। প্রথম লক্ষ্য হবে সকল ভালো মানের ব্লগারকে একত্রিত করা এবং দ্বিতীয় লক্ষ্য হবে সকল প্রকার পাঠকের মনযোগকে নিজেদের দিকে পরিচালিত করা। তৃতীয় লক্ষ্য হবে বিজ্ঞাপন দাতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। এই তিন প্রকার হিট বাড়ানোর জন্য চেষ্টাও হবে তিন প্রকার। মাস এবং কোয়ার্টার ভিত্তিক হিট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা এবং একই সাথে সমধর্মী ব্লগসাইটগুলোর হিট স্ট্যাটাস নজরে রাখা…*****************

    আমি ও আশা করছি ঘুড়ি ব্লগ ব্লু চিপ ষ্ট্যাটাস অর্জনে এগিয়ে যাবে।অনেক ধন্যবাদ মইনুল ভাই ব্লগ সম্পর্কে পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গির জন্য। আপনার জন্য অনেক শুভকামনা ঘুড়ি ব্লগের সাথে সাথে। আপনরা দুজনে আস্তে আস্তে ব্লু আইকনে পরিনত হন এই কামনা রইল।

  4. এম এ কাশেম বলেছেন:

    বর্তমান পৃথিবী হলো ‘যা নাই ইন্টারনেটে, তা নাই পৃথিবীতে’ তত্ত্বে বিশ্বাসী। খবরের কাগজের একটি লেখা বা প্রবন্ধ, দিনশেষে পত্রিকাটি ভাঁজ করলেই লেখার মৃত্যু ঘটলো। কিন্তু অনলাইনের একটি লেখা চিরজীবন্ত এবং রেফারেন্স করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত। অন্যদিকে, এযুগের মানুষগুলো সবকিছু ইন্টারনেট থেকে পেতে আগ্রহী। নিজের মোবাইলটি খুঁজতে গেলেও তারা গুগল সার্চ দিতে চায়। অতএব, একটি ব্লগসাইটও লাভজনক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হতে পারে। বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে ব্লগ কর্তৃপক্ষের লক্ষ্যমাত্রা এবং ভবিষ্যতকে পরিমাপ করতে পারার সামর্থ্যের ওপর। সুর্নির্দিষ্টভাবে পরিকল্পনা করতে পারলে শুধু ব্লগসাইট যে লাভবান হবে, তা নয়। এখানে যারা প্রদায়ক হিসেবে যারা প্রতিদিন বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে লেখে যাচ্ছেন, তারাও লাভবান হতে পারেন।

    চমৎকার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষন

    শুভেচ্ছা সতত।

  5. sabuj ahmed বলেছেন:

    দারুণ প্রবন্ধ দারুণ

  6. নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

    আগের মতোই চমৎকার তথ্যবহুল সিরিজ
    ধন্যবাদ মইনুল ভাই ব্লুচিপস সম্পর্কে
    অনেক কিছু জানার সুযোগ করে
    দেবার জন্য।

  7. কামাল উদ্দিন বলেছেন:

    খুবই মূল্যবান কথাগুলো বলেছেন, এবার কর্তৃপক্ষ যদি এসব বিবেচনায় নেয় তাহলে ঘুড়ি ব্লগই হতে পারে সেরা।

  8. ১. নিজের মোবাইলটি খুঁজতে গেলেও তারা গুগল সার্চ দিতে চায়।
    ২. ‘যা নাই ইন্টারনেটে, তা নাই পৃথিবীতে’

    একটি ভাল ব্লগ প্লাটফর্মের আশায় আমরা।

  9. সোহেল আহমেদ বলেছেন:

    জানার নেই শেষ
    জানার জন্য বড়োই সুন্দর
    আহা আহা বেশ।

    শুভেচ্ছা মইনুল ভাই

  10. রব্বানী চৌধুরী বলেছেন:

    ” একটি ব্লগসাইট কীভাবে ব্লু চিপ স্ট্যাটাস লাভ করতে পারে? তার আগে চলুন ভেবে নেই, সেরকম একটি ব্লগসাইটের কী কী বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। ব্লু চিপ ভূষিত ব্লগসাইট হবে জাতীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত, সর্বমহলের কাছে নির্ভরযোগ্য এবং আস্থাশীল একটি ব্লগিং ও নিউজ প্লাটফরম। সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, সেটি হবে আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং লাভজনক একটি প্রতিষ্ঠান। স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে শুরু হলেও ব্লগসাইটটি ক্রমান্বয়ে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হবে এবং মানসম্পন্ন লেখার জন্য তারা ব্লগারদেরকে রয়্যালটি দিতেও সক্ষম হবে। সেটি হবে নতুন, পুরাতন এবং পেশাদার ব্লগারদের মিলনমেলা। একই সাথে সংবাদমাধ্যম, তথ্যভাণ্ডার, সাহিত্য সম্ভার এবং রেফারেন্স গাইড।”

    বৈশিষ্টগুলি পড়ে মনে হচ্ছে এর সবই থাকছে আমাদের ঘুড়িতে, প্রবন্ধটি তবে বাঁধাই করে রাখা হলো। জীবনের সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত হোক , প্রযুক্তির এই সংযোজন শেয়ার করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা জানবেন মইনুল ভাই।

  11. রুকসানা হক বলেছেন:

    // বর্তমান পৃথিবী হলো ‘যা নাই ইন্টারনেটে, তা নাই পৃথিবীতে’ তত্ত্বে বিশ্বাসী। খবরের কাগজের একটি লেখা বা প্রবন্ধ, দিনশেষে পত্রিকাটি ভাঁজ করলেই লেখার মৃত্যু ঘটলো। কিন্তু অনলাইনের একটি লেখা চিরজীবন্ত এবং রেফারেন্স করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত। অন্যদিকে, এযুগের মানুষগুলো সবকিছু ইন্টারনেট থেকে পেতে আগ্রহী। নিজের মোবাইলটি খুঁজতে গেলেও তারা গুগল সার্চ দিতে চায়। অতএব, একটি ব্লগসাইটও লাভজনক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হতে পারে। বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে ব্লগ কর্তৃপক্ষের লক্ষ্যমাত্রা এবং ভবিষ্যতকে পরিমাপ করতে পারার সামর্থ্যের ওপর। সুর্নির্দিষ্টভাবে পরিকল্পনা করতে পারলে শুধু ব্লগসাইট যে লাভবান হবে, তা নয়। এখানে যারা প্রদায়ক হিসেবে যারা প্রতিদিন বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে লেখে যাচ্ছেন, তারাও লাভবান হতে পারেন। //

    খুবই মুল্যবান একটি লিখা । শুভকামনা ।

  12. মাহমুদ০০৭ বলেছেন:

    আপনার সাথ একমত ।
    আর আমার মতে ব্লগ ভালভাবে চালানো কোন ব্যাপার না ।সবাই ভাল কন্টেন্ট পড়তে চায়।
    প্রয়োজন খোলামন আর সদিচ্ছা র। ইউজাররা যাতে সহজে স্বচ্ছন্দে
    ব্লগসাইট ব্যবহার করতে পারে তার ব্যবস্থা রাখা।

    ঘুড়ি ব্লগ এখনো ইউজার ফ্রেন্ডলি হয়নি । তাই এখানে প্রাণপণে চাইলে ও মন বসাতে পারছি না।
    আশা করি সঞ্চালকরা এসব বিষয় বিবেচনায় রাখবেন ।

    বাংলা ভাষার ভূগোল ও ভোক্তা অনেক বিস্তৃত । এর ভেতরেও কেউ ব্যবসা করতে না জানলে এটা তার ব্যর্থতা ।
    আসলে চলছে চলুক মানসিকতা দিয়ে বেশিদুর আগানো যায় না । ব্লগ এর ব্যাপারে এখনো সেই
    মেন্টালিটি র প্রয়োগ দেখছি ।

    ভাল থাকবেন মইনুল ভাই । ব্লগ সাইট ব্লু চিপস হোক । ব্লগীয় বাজার বুল মার্কেটে পরিণত হোক।;)

‘ব্লু চিপ’ কী – এত কেন আলোচনা?

 

1.

‘ব্লু চিপ’ জিনিসটা কী, এতো কেন আলোচনা?  কেন প্রতিটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ব্লু চিপ স্ট্যাটাস পেতে চায়।  কেন শেয়ার মার্কেটে একটি ব্লু চিপ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের এত কদর? ব্লু চিপ মানবসম্পদ ব্যবস্থানায় কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠান সকল কর্মীর জন্য একটি স্থিতিশীল সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করতে পারে? কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো কেন ব্লু চিপ অর্জনের পেছনে সমস্ত অর্থসম্পদ এবং মানবসম্পদকে ঢেলি দিচ্ছে? ব্লু চিপ বিষয়টি আসলে কী। কেন এটি এত আরাধ্য, সকলের কাছে?

 

মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে বারবার চোখের সামনে ভেসে ওঠলো ব্লু চিপের নীল আভা। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য পরামর্শ পেতে চাইলেও চোখের সামনে ভেসে ওঠে ব্লু চিপ। সকলকিছুর উত্তম আদর্শ দিয়ে তৈরি ব্লু চিপ আমাকে আকৃষ্ট করতে থাকলো বিগত কয়েক মাস ধরে। তাতে আমি আকৃষ্ট হয়ে সবকিছু ভুলে ব্ল চিপের পেছনে ধাওয়া শুরু করলাম। ব্লু চিপ যেন এক মায়া হরিণ, যত আগাই ততই সে পিছিয়ে গিয়ে আমাকে আরও আকৃষ্ট করে। আমি আরও এগিয়ে যাই।

 

ব্লু চিপ যেন এক গুপ্ত ধন, যার পেছনে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান হুমড়ি খেয়ে লেগে আছে গোপনে! কিন্তু কেউ তা প্রকাশ করছে না।  কেউ বলছেও না কীভাবে কোন পথে তারা চেষ্টা করছে অথবা আদৌ চেষ্টা করছে কিনা। তবে প্রতিটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গোপন লক্ষ্য হলো একটি ব্লু চিপ।  পোকার খেলার নীল চাকার (ব্লু ডিস্ক) মতো এটি প্রয়োজনীয় এবং অজেয় হয়ে ওঠে সকল দুর্যোগে। দাবা খেলার মন্ত্রীর (কুইন) মতো এটি সকল পরিস্থিতিতে সক্ষম এবং নির্ভরযোগ্য। বিশ্বমন্দার আর রাজনৈতিক অস্থিরতার এই পৃথিবীতে কে না চায় একটি ‘ব্লু চিপ খচিত’ প্রতিষ্ঠান? এই পরিস্থিতিতে আমার কৌতূহল হলো, একটি ব্লগসাইট যখন ‘ব্লু চিপ স্ট্যাটাস’ লাভ করে, তখন সেটি কী কী সুবিধা পায়? প্রশ্নগুলো এভাবে বেড়েই চললো…

 

2.

এমন কি কখনও দেখেছেন যে, পণ্যের দাম যতই বাড়ে মানুষের চাহিদা ততই বেড়ে যায়?  অবশ্য যোগান কম থাকলে যে তার তুলনায় চাহিদা বেশি হবে, সেটি তো আমরা কবেই শিখেছি। এখানে বিশেষ কোন বিজ্ঞান নেই। অর্থাৎ সাপ্লাই নেই, চাহিদা দ্বিগুণ, মূল্য বেশি। এরকম পরিস্থিতির সাথে আমরা মোটামুটি পরিচিত। কিন্তু দাম বাড়লেও যে চাহিদা স্থিতিশীল থাকে অথবা বহুগুণে বাড়তে থাকে, সেরকম কোন পণ্যের নাম কি আপনার মনে পড়ে? হয়তো মনে পড়ে।

 

সেবা ও পণ্যের ‘গুণগত মান এবং দাম’ দিয়ে কোন প্রতিষ্ঠান এমন একটি ভোক্তা সমাজ গড়ে তুলেছে যে, তারা কোন অবস্থাতেই তাদের মত পাল্টাবে না। প্রয়োজনে অর্ডার দিয়ে দু’মাস অপেক্ষা করবে, তবু তার নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের জিনিসটিই চাই। আমাদের দেশে ‘বাটা’ জুতার সেরকম একটি মার্কেট গড়ে ওঠেছিল, এখনও তার কিছু চিহ্ন টিকে আছে।

 

‘…দ্য সেইম স্কয়্যার খোঅলিটি’ বলে একটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান কলার ঝাঁকিয়ে বলে যে, পণ্যের গুণগত মান আগের মতোই আছে। অর্থাৎ তারা জানে যে, তাদের পণ্যের গুণ এবং বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে ইতিমধ্যেই ভোক্তারা অবগত এবং আস্থাশীল। এইরকম প্রতিষ্ঠানগুলোর না আছে স্টক মার্কেটে ধ্বংস হবার ভয়, না আছে রাজনৈতিক অস্থিরতার ভয়। বিধ্বংসী সুনামিতে তারা একটু টলতে পারে, কিন্তু পড়ে যাবার নয়।

 

এসবই হলো একটি ব্লু চিপ প্রতিষ্ঠানের গুণাগুণ।

 

সেই ১৯২৩ অথবা ১৯২৪ সালের কথা। জনৈক ওলিভার গিনগোল্ড চাকরি করতেন ডাউ জোনস নামের একটি মার্কিন প্রকাশনা ও আর্থিক তথ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানে। প্রতিষ্ঠানটি তখন একটি পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দীর্ঘস্থায়ি সুনামের অধিকারী। যা হোক, মেরিল লিন্চ নামের একটি স্টক এজেন্সিতে ওলিভার গিনগোল্ড বসে আছেন। তিনি দেখতে পেলেন যে, কোন কোন শেয়ার ২০০ অথবা ২৫০ ডলারেরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। অথচ দাম বেশি থাকলেও এর প্রতি ক্রেতাদের চাহিদা কমছে না। বিষয়টি দেখে তিনি যে বাণী দেন, সেটি থেকেই ব্লু চিপ শব্দটি ‘উৎপন্ন’ হয়। তিনি বললেন, “ডাউ জোনসে ফিরে গিয়ে আমি এই ‘ব্লু চিপ’ কোম্পানিগুলো’ নিয়ে লেখতে চাই”।

 

ব্লু চিপ শব্দটি কোথা থেকে আসলো?  পোকার খেলার প্রধান চাকাগুলো হলো সাদা, লাল এবং নীল। এদের মধ্যে নীল চাকার মূল্যমান সবচেয়ে বেশি। অর্থাৎ একটি হোয়াইট চিপের মূল্য যদি হয় ১ ডলার, তবে রেড চিপের মূল্য হবে ৫ ডলাল। সেখানে ব্লু চিপের মূল্য হবে ২৫ ডলার। ঠিক এই ব্লু চিপকে লক্ষ্য করে মিস্টার ওলিভার গিনগোল্ড দামি কোম্পানিগুলোর নাম নিয়েছিলেন।

 

ব্লু চিপ হল জাতীয়ভাবে স্বীকৃত, সুপ্রতিষ্ঠিত এবং আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান।  ব্লু চিপ প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত উচ্চমানের সেবা বা পণ্য উচ্চদামে বিক্রি করে, যা ব্যাপকভাবে জনসমাদৃত। এসব কোম্পানি সকল পরিস্থিতিতে টেকসই। একটি বৈরি আর্থিক পরিবেশেও তারা লাভজনকভাবে ব্যবসায় পরিচালনায় সক্ষম। এসবই তারা করতে পারে দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতা, নির্ভরযোগ্যতা এবং ক্রেতাসমাজে আস্থাশীলতার কারণে।

 

একই অর্থ নিয়ে ব্লু চিপ শেয়ারকেও নিরাপদ শেয়ার মনে করা হয়। শেয়ার মার্কেট যতই ‘ডাউন’ থাকুক, এই শেয়ারের ধ্বংস নেই।  এর কারণ হলো, অর্থ বাজারে ব্লু চিপ স্ট্যাটাসযুক্ত প্রতিষ্ঠানের রয়েছে দীর্ঘস্থায়ি নির্ভরযোগ্যতা।  বিনিয়োগকারী ব্লু চিপ শেয়ার কিনে যেমন নিজেদের নামকে উচ্চে তুলতে পারে, তেমনি উচ্চে তুলতে পারে তাদের আর্থিক অবস্থান।

 

৩টি বিশ্ববিখ্যাত আর্থিক প্রতিষ্ঠান যাদেরকে ব্লু চিপ কোম্পানি বলে সমীহ করা হয়:

১.  ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম /BP

২.  হংকং সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন / HSBC

৩.  ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টো্ব্যাকো