Tagged: ব্লগিং

ব্লগ ফেসবুক সহ ভার্চুয়াল মাধ্যমে লেখালেখি করে সাহিত্যের মূল স্রোতে কি মিশতে পারছেন অনলাইন লেখকরা?

Capture

 

নক্ষত্র ব্লগঃ শুভেচ্ছা আপনার জন্য! কেমন আছেন?

মাঈনউদ্দিন মইনুল: ধন্যবাদ। ভালো আছি ঈশ্বরের কৃপায়।

 

নক্ষত্র ব্লগঃ ব্লগ, ফেসবুক সহ ভার্চুয়াল মাধ্যমে সম সাময়িক লেখালেখি নিয়ে আপনার কি মতামত ?

মাঈনউদ্দিন মইনুল: একটা সময় ছিলো যখন কোন সৃজনশীল লেখা প্রকাশিত হবে কিনা, তা সম্পাদকের মেজাজের ওপর নির্ভর করতো। জীবন-সায়াহ্নে এসে নিজ লেখার মর্যাদা পেয়েছেন অথবা মৃত্যুর পর তার লেখা প্রকাশিত হয়ে মরনোত্তর পুরস্কার পেয়েছেন, আমাদের সমাজে এমন দৃষ্টান্তও আছে। কিন্তু এখন আমরা আছি অবাধ মত-প্রকাশের যুগে। মতপ্রকাশের সবচেয়ে শক্তিশালি এবং লেখক-বান্ধব মাধ্যম হলো ব্লগ বা ব্লগিং, সাম্প্রতিক কালে যার সংজ্ঞা ও ব্যবহার বিশালভাবে বিস্তৃত হয়েছে। তবে সবকিছুরই ভালো-মন্দ দিক আছে। মুক্তবাণিজ্যে যেমন প্রতিযোগিতা বেড়ে যায় এবং মানসম্পন্ন পণ্যই টিকে থাকে, তেমনি মুক্ত-প্রকাশের এ সময়ে ভালো এবং মান-সম্পন্ন লেখাই টিকে থাকবে আর সফল হবে। সারভাইভাল অভ দ্য ফিটেস্ট!

 

নক্ষত্র ব্লগঃ বর্তমানে ব্লগ, ফেসবুকসহ ভার্চুয়াল মাধ্যমে যারা লিখছেন তাদের মাঝে কাদের লেখা আপনার কাছে ভালো লাগে?

মাঈনউদ্দিন মইনুল: অনেকের লেখাই ভালো লাগে। যাদের লেখা ভালো লাগে, তাদের ব্লগীয় আচরণ খুবই নেতিবাচক। ফলে তারা পাঠকপ্রিয়তা পাচ্ছেন না। তাদের লেখার প্রতি সম্মান হেতু নামগুলো উল্লেখ করতে চাই না। এখানে প্রবাসীদের সংখ্যাটি উল্লেখ করার মতো। মাঝে মাঝে মনে হয় যারা প্রবাসে থাকেন, গণতন্ত্র স্বদেশ ঐতিহ্য মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং নিপীড়িত মানুষের পক্ষে আঙ্গুল চালনায় তাদেরই সাহস বেশি। এর পেছনেও কারণ থাকতে পারে!

 

নক্ষত্র ব্লগঃ ব্লগ ফেসবুক সহ ভার্চুয়াল মাধ্যমে যারা লিখছেন তাদের সমাজের প্রতি কতটুকু দায়বদ্ধতা আছে বলে মনে করেন? তারা কি তা পালন করছে বলে মনে করেন?

মাঈনউদ্দিন মইনুল: তাদের দায়বদ্ধতা নানা কারণেই বেশি। আমার মতে, তারা তা অনেকটাই পালন করছেন। এধারা বজায় রাখতে একটি সুস্থ ব্লগসাইটের খুবই প্রয়োজন আজ। এবিষয়ে অনেক কিছুই বলার আছে, যা এখানে বলে শেষ করা যাবে না।

 

নক্ষত্র ব্লগঃ সাম্প্রতিক সময়ের লেখক/ব্লগারদের মাঝে কাদেরকে আপনি প্রতিশ্রুতিশীল বলে ভাবছেন?

মাঈনউদ্দিন মইনুল: ২০০৫, ২০০৬ বা ২০০৭ এর পোস্টগুলো দেখে আমি অনেক চমৎকৃত হই। পোস্টগুলো কালের সাক্ষী হয়ে যুগ-যুগান্তরে ভেসে ওঠবে কমমিউটারের পর্দায়। আমাদেরকে মনে রাখা প্রয়োজন যে, ব্লগাররা নিজের সময় ও অর্থকে খরচ করে, কোন বিনিময়ের আশা না করেই লিখে যাচ্ছেন। তারা লিখে যাচ্ছেন আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রেখে যাচ্ছেন একেকটি পদচিহ্ন। তাই সাধারণভাবে সকল ব্লগারকেই প্রতিশ্রুতিশীল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। টিকে থাকা বা নিয়মিত লিখে যাবার প্রশ্নে প্রতিশ্রুতিশীল ব্লগারের সংখ্যা খুব কম বলতে হয়। কিন্তু সম্প্রতি ব্যক্তিগত, প্রযুক্তিগত বিষয়ে এবং সংবাদ ও তথ্যভাণ্ডার হিসেবে বাঙলা ব্লগের সংখ্যা বাড়ছে।

 

নক্ষত্র ব্লগঃ ব্লগকে বলা হচ্ছে বিকল্প মিডিয়া? এই বিষয়ে আপনার কি মত?

মাঈনউদ্দিন মইনুল:  ‘বিকল্প’ গণমাধ্যম তো বটেই, কিছুদিনের মধ্যেই এটি হবে একমাত্র গণমাধ্যম।

 

নক্ষত্র ব্লগঃ আপনার পড়া সবশেষ পোষ্ট কোনটি এবং তা কোন ব্লগে পড়েছেন?

মাঈনউদ্দিন মইনুল: আমাদের ছুটি ব্লগে আন্দামান ভ্রমণ

 

নক্ষত্র ব্লগঃ ব্লগে ফেসবুকে লেখকদের লেখার মান কেমন বলে মনে করেন আপনি?

মাঈনউদ্দিন মইনুল: উন্নত, মাঝারি এবং নিম্ন সব মানের লেখাই ব্লগে আছে। লেখা যত উন্নত, লেখকের সংখ্যাও তত কম। নিম্নমানের লেখাই ব্লগে বেশি, এর কারণ হলো নবীন এবং লক্ষ্যহীন ব্লগারের উপস্থিতি। তবে পাবলিক ব্লগে একে নেতিবাচক হিসেবে আমি দেখছি না। অনেকেই লেখতে লেখতে পড়া শিখছেন, এবং তাতে তাদের লেখারও উন্নয়ন হচ্ছে। উন্নত লেখা কম হলেও সমস্যা ছিলো না, যদি সেগুলো নিয়মিত প্রকাশিত হতো। ভালো লেখেন এরকম ব্লগাররা অনিয়মিত। তাৎপর্যপূর্ণ আন্তঃযোগাযোগ এবং মিথষ্ক্রিয়া বৃদ্ধি করতে পারলে আর ব্লগকে সৃজনশীল এবং প্রতিশ্রুতিশীল লেখকদের আড্ডাস্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারলে, ভালো লেখকদের সংখ্যা যেমন বাড়বে, তেমনি বাড়বে নবীন লেখকদের লেখার মান।

 

নক্ষত্র ব্লগঃ ব্লগ ফেসবুক সহ ভার্চুয়াল মাধ্যমে লেখালেখি করে সাহিত্যের মুল স্রোতে কি মিশতে পারছেন লেখক ব্লগাররা?

মাঈনউদ্দিন মইনুল: পত্রিকার মাধ্যমেই সাহিত্যের প্রথম প্রকাশ এবং ‘প্রথম প্রাপ্তি’ হয় – বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এটিই হয়ে এসেছে দীর্ঘ দিন থেকে। পত্রিকা প্রকাশের মাধ্যমটি কিন্তু আজ বিবর্তিত রূপ নিয়েছে। সকলেই জানেন যে, দেশের সবগুলো পত্রিকা এখন গুরুত্বসহকারে অনলাইন সংস্করণ প্রকাশ করে। নিয়মিত আপডেটও করে। এমন পরিস্থিতিতে সাহিত্যের ‘মূল’ স্রোত অবশেষে কোনটি হয়, সে নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের বহুল প্রসারে প্রিন্ট মাধ্যমের সাহিত্য ‘মূল ধারাটিকে’ কতটুকু ধরে রাখতে পেরেছে বা পারবে, সেখানে প্রশ্ন আছে। সাহিত্যের প্রথাগত সংজ্ঞায়ও পরিবর্তন আসন্ন। অতএব অবশেষে ‘কার স্রোতে কে মেশে’ বলা মুশকিল।

 

নক্ষত্র ব্লগঃ সম্প্রতি ব্লগারদের লেখা বিভিন্ন সংকলন/বই প্রকাশিত হচব্লগ ফেসবুক সহ ভার্চুয়াল মাধ্যমে লেখালেখি করে আসছে। এ বিষয়ে আপনার অবস্থান জানতে চাই।

মাঈনউদ্দিন মইনুল: যতদিন পর্যন্ত ব্লগ বা ইন্টানেটে প্রকাশিত লেখাগুলো ‘একমাত্র নির্ভরযোগ্য’ মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা না পাচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত বই/সংকলন ছাপানো যেতে পারে। পৃথিবীর সকল তথ্য ও সাহিত্য এখন চলে আসছে কমপিউটার বা মোবাইলের স্ক্রিনে। ব্যক্তিগতভাবে আমি ব্লগেই থেকে যাবার পক্ষপাতি।

 

নক্ষত্র ব্লগঃ একটি ব্লগ এবং ব্লগারদের ইতিবাচক দিক কোনটি বলে মনে করেন আপনি?

মাঈনউদ্দিন মইনুল: প্রশ্নটি বেশ জটিল, কারণ এর বিভিন্ন উত্তর হতে পারে। এবিষয়ে বিভিন্ন লেখায় অনেক কথা বলেছি। এখানে শুধু এটুকুই বলতে চাই: ব্লগ এবং ব্লগারদের প্রত্যাশিত ইতিবাচক দিকটি হলো, সকল ধারার পাঠক-লেখকের সাথে মিশতে পারা এবং ভিন্নমতের সাথে সহাবস্থান করতে পারা। এটি অক্ষুণ্ন থাকলে বাঙলা ব্লগ আরও এগিয়ে যাবে অদূর ভবিষ্যতে।

 

নক্ষত্র ব্লগঃ আপনার শৈশব কোথায় কেটেছে? পারিবারের কথা এবং শিক্ষাজীবন নিয়ে কিছু কথা জানতে চাই।

মাঈনউদ্দিন মইনুল: শৈশব কেটেছে কিশোরগঞ্জের মেঘনা পাড়ে আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। একক পরিবারে আমরা দু’কন্যার জনক ও জননী। শিক্ষা জীবনের অধিকাংশ কেটেছে ঢাকায়। প্রথমে ইংরেজিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করি ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে। গ্রামীণ শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে ব্যাপ্ত ছিলাম বিগত কর্মজীবনের অধিকাংশ সময়। বর্তমানে ২০,০০০ শিশুর শিক্ষা ও বেড়ে ওঠার অধিকার নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছি।

 

নক্ষত্র ব্লগঃ আপনার জীবনের আনন্দময় স্মৃতি কোনটি যা মনে হলে এখনো আপনার ভালো লাগে।

মাঈনউদ্দিন মইনুল: অনেকগুলো। এমুহূর্তে উল্লেখযোগ্যটি মনে করা কঠিন। ২০০৭ সালে ব্রিটিশ কাউন্সিলের স্পনসরশিপে কাজাখস্তানে একটি সেমিনারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্মৃতিটুকু বেশ আনন্দময় ছিলো। কারাখস্তান স্বাধীন রাষ্ট্র হলেও এখনও সেখানে সোভিয়েত রাশার জৌলুস দেখে মুগ্ধ হয়েছি। আলমাতি শহরটি পর্বত ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে পরিপূর্ণ।

 

নক্ষত্র ব্লগঃ প্রিয় বই এর নাম?

মাঈনউদ্দিন মইনুল: এখানেও দু’একটি বলে শেষ করা যায় না। শুধু উল্লেখযোগ্য একটির নাম হলো: ক্রিস্টোফার মারলো’র ডক্টর ফস্টাস। মন্দের বিপক্ষে মানুষের আত্মিক যুদ্ধের একটি চমৎকার ছবি। এর প্লট ও ডায়ালগগুলো আমি পনের বছর পরও স্পষ্ট মনে করতে পারি।

 

নক্ষত্র ব্লগঃ আপনার প্রিয় লেখক কারা?

মাঈনউদ্দিন মইনুল: প্রিয় লেখক বলা আর প্রিয় রাজনৈতিক দল বলা এখন একই রকম ঝুঁকিপূর্ণ। শুধু রাজনীতিতে নয়, বই পড়াতেও এখন পলিটিক্স ঢুকে গেছে! রবীন্দ্রনাথ আর নজরুলকে নিয়ে এখানে ব্যক্তিগত ঝগড়া হতে পারে। আমার প্রিয় লেখকেরা কারও কারও চোখে বিতর্কিত। তাই স্বদেশের অনেক প্রিয় লেখকের নাম বলা থেকে বিরত থাকলাম। প্রিয় কবিদের মধ্যে আছেন শামসুর রাহমান ও রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। আছেন নিমুলেন্দু গুণ। ছাত্র জীবনে আমি ব্রিটিশ লেখক রবার্ট ব্রাউনিং, টেনিসন, কোলরিজ এবং মার্কিন লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, ওয়াল্ট হুইটম্যান ও রবার্ট ফ্রস্ট-এর ভক্ত ছিলাম। চলমান জীবনে স্বার্থপরের মতো পেশাগত বই পড়ে যাচ্ছি। তাছাড়া ব্লগারদের লেখা, বিশেষত যারা নবীন, তাদের পোস্ট পড়া আমার প্রিয় অভ্যাস, যদিও সবসময় মন্তব্য দেই না।

 

নক্ষত্র ব্লগঃ অবসর সময়ে আপনি নিশ্চয় সিনেমা দেখেন। আপনি কি জানাবেন আপনার প্রিয় মুভী/সিনেমার নামগুলো?

মাঈনউদ্দিন মইনুল: অবসরে খবর দেখি – বেশিরভাগই ‘বেখবর’! খুব বেশি সিনেমা দেখার সময় হয় না। তারে জামিন পার, রাং দে বাসান্তি, পা, থ্রি ইডিয়টস দেখে দারুনভাবে উপভোগ করেছি। দেশের চলচ্চিত্রে শঙ্খনীল কারাগার, শ্রাবণ বেঘের দিন, মুক্তির গান, থার্ড পারসন সিংগুলার নাম্বার বা টেলিভিশনকে আমার কাছে বিশেষ মনে হয়। ইংরেজি Knowing বা 2012 সিনেমা দু’টো আত্মিকভাবে চেতনা-জাগানিয়া বলে মনে হয়েছে।

 

নক্ষত্রব্লগঃ আপনার প্রিয় গান কোনটি?

মাঈনউদ্দিন মইনুল: ‘এমন একটি মা দেনা, যে মায়ের সন্তানেরা… ফেরদৌস ওয়াহিদ।আমি দেশীয় গানের ভক্ত এবং এবিষয়ে সর্বভুক! একটি বললে অনেকের প্রতি অবিচার হবে। বিশেষত লালন, রবীন্দ্রনাথ নজরুলের গানের ভীষণ ভক্ত আমি। আধুনিক গায়কদের মধ্যে এসডি বর্মন, ভূপেন হাজারিকা, মান্না দে, ফেরদৌস ওয়াহিদ, নিয়াজ মোর্শেদ, শ্রীকান্ত, তপন চৌধুরি, নচিকেতা, এবং হায়দার হুসেনের গান ভালো লাগে। আইয়ুব বাচ্চু, জেমস বা হাসানের কয়েকটি ব্যান্ড সঙ্গীতও আমার প্রিয়।

 

নক্ষত্রব্লগঃ আপনার প্রিয় শিল্পী কারা?

মাঈনউদ্দিন মইনুল: এক সাথে বলে দিয়েছি ওপরে।

 

নক্ষত্র ব্লগঃ নক্ষত্র ব্লগ নিয়ে আপনার মতামত/পরামর্শ/উপদেশ কি?

মাঈনউদ্দিন মইনুল: অল্প সময়ে অনেক ব্লগারের সমন্বয ঘটিয়ে নক্ষত্র চমক দেখিয়েছে। সঞ্চালনাও এখন পর্যন্ত খুব ভালো। পরামর্শ/উপদেশ তো সকলেই দিতে পারে, উদ্যোগ নিতে পারে ক’জন? তবু জিজ্ঞাসার উত্তর দিচ্ছি: সব বাঙলা ব্লগেই একটি চ্যালেন্জ রয়েছে, নক্ষত্র’রও তাই। সেটি হলো নিরপেক্ষতা বজায় রাখা। দ্বিতীয়ত, নিয়মিত বিচক্ষণ এবং ফলপ্রসূ সঞ্চালনা। আর্থিক স্বালম্বীতার জন্য ব্লগ নিজেই নিজের পথ বের করতে পারে – শুধু সুযোগ করে দিতে হবে। লেখার মান নির্ণয় করতে পারেন না বা সাহিত্য/ব্লগ রসিক নন, এমন ব্যক্তি যেন সঞ্চালনা পরিষদে না থাকেন। তবে নবীন ব্লগারদেরকে ওঠিয়ে নিয়ে আসার মতো মেকানিজমও থাকতে হবে ব্লগে। সামাজিক মূল্যবোধ, স্বদেশ চেতনা, মানবাধিকার এবং জলবায়ূ ইস্যুতে বাঙলা ব্লগকে আরও তৎপর হতে হবে।

 

নক্ষত্রঃ আমাদের সময় দেবার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

মাঈনউদ্দিন মইনুল: নক্ষত্র ব্লগে শুভ কামনা করছি।

 

 

 

————-

১৩ নভেম্বর ২০১৩ তারিখের কথা।  তখন নক্ষত্র ব্লগ কেবল শুরু হলো। এখন তারা ই-কমার্সসহ বিশাল এক ওয়েবপোর্টালের মালিক। ব্লগ শুধুই একটি অংশ। নক্ষত্র চাইলো ব্লগারদেরকে প্রেরণা দিতে। আমিও তাদের প্রশ্নের জবাবে সেভাবেই নিজের কথা জানালাম। মূল সাক্ষাৎকারটি এখানে

 

 

 

————-

ব্লগ বিষয়ে সাম্প্রতিক কিছু লেখা

আদর্শবাদী ব্লগার বনাম সৃজনশীল ব্লগার

ব্লগ ও ব্লগিং সম্পর্কে এক্সপার্টদের ৩৯ উক্তি

একটি ব্লগসাইট যেভাবে প্রসার লাভ করতে পারে

আদর্শবাদী ব্লগার বনাম সৃজনশীল ব্লগার বনাম ফেইসবুকিং ব্লগার বনাম…

কেউ কেউ বলেন, ব্লগার সিজনাল, ব্লগ থাকে চিরকাল। পত্রিকার পাতায় প্রকাশিত লেখা দিনান্তে ভাঁজে পড়ে যায়, কিন্তু ব্লগের লেখা সব সময় থাকে পড়া ও উদ্ধৃতির জন্য প্রস্তুত। বই অথবা সংবাদপত্রের পাতা হারিয়ে যেতে পারে দৃষ্টিসীমানা থেকে, কিন্তু বোদ্ধারা বলেন, ইন্টারনেটে নাকি ইরেজার নেই! ওখানে কোন কিছুই মুছে যায় না। পোস্টদাতা মুছে দিলেও সেটি কোথাও-না-কোথাও থেকেই যায়।

ব্লগারদের মধ্যে একটি বড় অংশ আসে যুবসম্প্রদায়ের কর্মহীন ও স্টুডেন্ট অংশ থেকে। তারা ইন্টারনেটে এসে একটি সামাজিক বন্ধন সৃষ্টি করেন। ব্লগে যতদিন থাকেন চুটিয়ে ব্লগিং করেন: লেখায় প্যাশনেট, মন্তব্যে অনেস্ট। পোস্ট দেন, মন্তব্য দেন এবং এমনকি বিভিন্ন ব্লগারদের পোস্ট নিয়ে সংকলনও বের করেন। তারা নতুন পুরাতন সকল ব্লগারকে জাগিয়ে রাখেন, লেখায়-মন্তব্যে-সংকলনে। অল্পকাল স্থায়ি হলেও একটি ব্লগকে প্রাণচঞ্চল রাখতে এই ব্লগারদের রয়েছে বিরাট ভূমিকা। সকলেই সিজনাল ব্লগার নন। অনেকেই কর্মজীবনে গিয়েও ব্লগিং করছেন।

স্ট্যাটাস লেখতে লেখতে লেখক। ভাষার ভুল আর বানানের ভুল করার একচ্ছত্র অধিকার তারা ভোগ করেন! ব্লগে যদি ভুল না করা যায়, তবে আর কোথায়! আই ডোন্ট মাইন্ড দেয়ার ল্যাংগুয়েজ। নতুনেরা আদর্শ নিয়ে আসুন, গল্প-কবিতা-প্রবন্ধ নিয়ে আসুন অথবা দৈনিক স্ট্যাটাস নিয়ে আসুন, যত বেশি ব্লগে থাকেন ততই হয় সৃষ্টি। আজকের দিনের কোন টিনেজ বালিকার তাৎক্ষণিক একটি প্রতিক্রিয়া, অথবা পাঁচ লাইনের একটি স্ট্যাটাস, আগামি দশ বছর পর হতে পারে একটি ঐতিহাসিক ঘটনার নির্ভরযোগ্য সাক্ষী। অথবা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের বিশ্বাসযোগ্য সূত্র। কে জানে!

আমি খুব চাই, ব্লগের সঞ্চালক যেন তাদেরকে কোনভাবেই নিরুৎসাহিত না করেন, অথবা থামিয়ে না দেন। দিনে একাধিক ততোধিক পোস্ট দিলেও না! সামুতে অবশ্য এই কথা বলে দিতে হয় না। ব্লগ হওয়া উচিত তরুণ প্রজন্মের উচ্ছ্বাসে ভরা হইহুল্লাপূর্ণ এক আড্ডাখানা। এখান থেকে বের হয়ে আসুক ভবিষ্যত সমাজের নেতৃত্ব ও মননশীলতার পথনির্দেশ। কিন্তু জীবন ও জীবিকার অদম্য আকর্ষণে তাদেরকে যেতেই হয়। মজার ব্যাপার হলো, পেশা যা-ই হোক ব্লগার নামটি অন্তর থেকে মুছে ফেলেন না তারা! হয়তো তা সম্ভবও হয় না!

২.
বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণে ‘বাংলাদেশ’ আর অধিকাংশ তরুণের নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হতে পারে না
। কাজ অথবা বিদ্যালাভের জন্য তারা স্বদেশ ছাড়েন এবং অধিকাংশই (স্থায়ীভাবে) ফেরেন না। কিন্তু স্বদেশকে ভুলে থাকতে পারেন না – বরং দূরত্বের বেদনায় তীব্র স্বদেশপ্রেমে আপ্লত থাকেন অনেকে। গণমাধ্যমে স্বদেশের সংবাদ নেন, সংবাদ বিশ্লেষণ করেন ও অভিমত দেন। ফেইসবুক, টুইটার, ব্লগ ইত্যাদি সামাজিক মাধ্যমে তারা দেশের রাজনৈতিক-সামাজিক ঘটনাবলীতে জড়িয়ে থাকার চেষ্টা করেন। নিজ দেশের মানুষের সাথে আকাশপথে পরিচিতি গড়ে তোলেন। দূরে থেকেও স্বদেশের আকর্ষণ নতুনভাবে উপলব্ধি করেন।

বলছি প্রবাসী ব্লগারদের কথা। তাদের মধ্যে অনেকের নিকনেইম আজ কিংবদন্তি লাভ করেছে। প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে ছাপে তাদের লেখা। (কেউ আবার বিদেশী নাগরিকত্ব বা দূরত্বের সুবিধা নিয়ে একটু একটু বাড়তি কথা বলার সুযোগ নিয়ে থাকেন। অপমানজনক, দেশপ্রেমহীন এবং দায়িত্বহীন মন্তব্য দিয়ে থাকেন বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়ে, যা হয়তো স্বদেশে থাকলে সাহস করতেন না।) পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা বাংলাভাষী ব্লগাররা ব্লগকে চব্বিশ ঘণ্টা মাতিয়ে রাখেন। ফটোপোস্ট, ভ্রমণ পোস্ট এবং প্রবাসী জীবনের লেখা দিয়ে সমৃদ্ধ করে চলেছেন বাংলা ব্লগকে। ফলে ব্লগ হয়েছে মেধাবী তরুণদের স্বদেশে ফেরার প্রেরণা। জয়তু প্রবাসী ব্লগার!

৩.
ব্লগ লেখার প্রেরণা আসে ‘ব্লগারের উদ্দেশ্য’ থেকে।
তার উদ্দেশ্য যদি হয় কোন আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করা, তবে লেখায় থাকে যুক্তি ও তথ্যের সম্মিলন। এখানে নতুন/পুরাতন বলে কোন কথা নেই। তিনি প্রবন্ধ লেখছেন, নাকি নিবন্ধ লেখছেন, নাকি কবিতা লেখছেন – কিছুই যায় আসে না। লেখার মূল বক্তব্যে থাকে আদর্শের প্রতিচ্ছবি। আদর্শবাদী ব্লগাররা সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্য হতে আসেন এবং তুলনামূলকভাবে বেশিদিন টেকেন। এঁরা ব্লগের বটবৃক্ষ! অতীত ও ভবিষ্যৎ ব্লগারদের মধ্যে যুগবন্ধনকারী। ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি। ব্লগে তাদের মন্তব্য সাধারণত শ্লেষপূর্ণ ও প্রতিক্রিয়াশীল হয়।

বলাবাহুল্য, প্রতিক্রিয়াশীলতা পুরোপুরি নেতিবাচক কোন বিষয় নয়। বিপ্লব ও সংস্কারের তাড়না আসে প্রতিক্রিয়াশীলতা থেকে। দেশের প্রচলিত আইন ও সার্বভৌমত্বকে অক্ষুণ্ন রেখে পরিবর্তনের কথা বলা কোন অপরাধ নয়। বাংলা ব্লগের শুরুর সময়টি ছিল আদর্শবাদী ব্লগারদের সোনালি দিন। বর্তমান সময়টিও ফেলনা নয়, তবে সোনালি রুপালি ইত্যাদি ‘রঙ’ দিয়ে এখন আর ব্যাখ্যা করা যায় না!

যা হোক, আদর্শবাদী ব্লগাররা কিন্তু ব্লগের ‘হিট লক্ষ্ণী’। মন্তব্য ১টি, পঠিত ১১,২৮৮বার! অথবা তিন লাইনের একটি লেখায় দেখবেন মন্তব্য পড়েছে মাত্র ৩০২টি! (অবশ্য, ট্যাগিং, বিভক্তি সৃষ্টি এবং দেশের হারিয়ে যাওয়া ও গ্রামগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ‘অবহেলিত গালিগুলোকে’ একত্রিত করে সেগুলোকে বহুলপ্রচলিত ও জনপ্রিয় করার কাজে কিছু ব্লগারের অবদান অনস্বীকার্য।)

জাতীয় এবং সামাজিকভাবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুাতে জনমত সৃষ্টি করা এবং কর্তৃপক্ষকে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছেন এশ্রেণীর ব্লগাররা। নতুন প্রজন্মের মধ্যে স্বাধীনতা সংগ্রাম সম্পর্কে ধারণা সৃষ্টি এবং জাতীয়তাবাদের ভিত মজবুত করে চলেছেন তারা। নাগরিক সাংবাদিকতার মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সমাধানে সৃষ্টি করেছেন ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা।

৪.
ব্লগ যেন সৃজনশীলতার চারণভূমি! এখানে সৃজনশীলতা পয়দা হয়!
তাৎক্ষণিক প্রকাশ, তাৎক্ষণিক মন্তব্য আর অভিমতের সুযোগ নিয়ে অনেক স্ট্যাটাস লেখক জীবনমুখী গল্পকার, ছড়াকার বা কবিতে পরিণত হয়েছেন। কেউবা হয়েছেন বিবর্তিত! নাকি মেটামরফোসিস? ছিলেন কবি, হয়েছেন গল্পকার; অথবা ছিলেন ডাক্তার, হয়েছেন কবি! (কেউ কেউ লেখতে লেখতে আরও ভোঁতা হয়েছেন। কিছুই হতে পারেন নি/হন নি, বরং যা ছিলেন, তা হারাবার দশা হয়েছে! নেভার মাইন্ড, তাদের সংখ্যা এতই কম যে খালি চোখে দেখা যায় না!)

ঠিক ব্যাখ্যা করতে পারবো না, কিন্তু ব্লগ থেকে সৃষ্ট লেখকেরা যেন ‘ভিন্ন একটা জেনার’ সৃষ্টি করছেন বাংলা সাহিত্যে। প্রথাগত গ্রন্থকারদের সাথে তাদেরকে পুরোপুরি মেশানো যায় না। তাতে ব্লগারদেরই লস হবে। (অন্যদিকে কেউবা হয়েছেন বনসাঁই – বয়স বাড়লেও অন্যকিছু বাড়ে নি। বছরের পর বছর লেখেও ‘জাতীয়’ বানান লেখতে পারেন না। প্রচলিত শব্দগুলোকে না জেনেই নতুন শব্দগঠনে নামেন। আর, কবিতার কী ছিরি! যাক, এসব বিষয় তত ব্যাপক নয়।)

সৃজনশীল ব্লগাররা ব্লগের সাহিত্য সম্ভারকে গড়ে তুলেছেন। সৃজনশীলেরা একদিনে তৈরি হয় নি। পরিশ্রম, একনিষ্ঠতা, অধ্যয়ন ও জীবনবোধ হলো সৃজনশীল ব্লগারদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। কেউ ব্লগার হয়ে লেখক হয়েছেন, কেউবা আগেই লেখক ছিলেন। তবে ব্লগে প্রথম শ্রেণীর লেখকের সংখ্যাই বেশি। কিন্তু সকলেরই আদি এবং অন্ত ব্লগ। এঁরা সৃজন করেন। নামের কারনেই সৃজনশীলদের নাম অনেক ওপরে!

ব্লগারদের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রচলিত আছে। কেউ বলছেন বেড়েছে, কেউ বলছেন কমেছে। জনসংখ্যা আর ইন্টারনেট ইউজার যদি বাড়ে, তবে ব্লগারের সংখ্যা কমে কীভাবে? আমি বলছি, দু’টোই হয়েছে। বেড়েছে ব্লগার এবং ব্লগসাইট; কমেছে প্রতি ব্লগসাইটের নিজস্ব ব্লগারের সংখ্যা। সব মিলিয়ে একটি বৃহৎ ব্লগার কমিউনিটি গড়ে ওঠেছে বাংলা ভাষায়। সংবাদ মাধ্যমের কোন বিষয়ে সন্দেহ বা বিভ্রান্তি থাকলে মানুষ ব্লগে তাকায়, ব্লগের পৌনপুনিক দাবিগুলো অবশেষে মূলধারার সংবাদ মাধ্যমে গড়ায়। কারও অধিকার ক্ষুণ্ন হলে উভয়ে (অনলাইন ও অফলাইন) সমস্বরে চেঁচিয়ে ওঠে। ব্লগার এবং সামাজিক মাধ্যমের বলিষ্ঠ অংশগ্রহণ নিয়ে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম একটি বৃহৎ ও শক্তিশালী গণমাধ্যম।

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:০৭ [Somewhereinblog.net]

যে ৫টি প্রশ্ন আপনার ব্লগপোস্টটি নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখাবে!

ব্লগিং নিয়ে আমার কিছু প্যাচাল

ব্লগিং নিয়ে আমার কিছু প্যাচাল

 

ব্লগার হয়ে কখনও পোস্ট দিয়ে হতাশ হয়েছেন কি? এমন কি কখনও হয়েছে যে, অনেক যত্ন করে একটি ব্লগ পোস্ট দিলেন, কিন্তু তাতে মাত্র দু’একটি রিসপন্স পেয়েছেন, অথবা একদমই কোন সাড়া মিলে নি? অনেক খাটাখাটনি করে একটি ব্লগ পোস্ট লেখে তাতে পাঠকের সাড়া না পেলে মন খারাপ হবারই কথা। ভবিষ্যতে এধরণের পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য মাত্র ৫টি প্রশ্ন করুন আপনার পরবর্তি পোস্টটি ‘পাবলিশ’ করার পূর্বে।কয়েকটি পোস্টে এরকমভাবে চেক করলে, পরবর্তিতে তা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে:

 

১) পোস্টটিতে একটি কেন্দ্রীয় বিষয় (key point) আছে কি না?

২) পোস্টের লেখা কীভাবে পাঠককে উপকৃত করতে পারে?

৩) পোস্টের লেখককে কতটুকু/কীভাবে উপকৃত করতে পারে?

৪) পোস্টে লেখা ও তথ্যের বিন্যাস (format) ঠিক আছে কি না?

৫) পোস্টের শিরোনামটি কি পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে?

 

 

পোস্টদাতা তার লেখার ধরণ ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ি লেখার মান যাচাই করবেন। অনলাইন লেখক হিসেবে পরিপক্কতা অর্জন করলে স্বাভাবিকভাবেই কিছু কলা-কৌশল আয়ত্তে চলে আসে। বিষয়গুলোকে অভিজ্ঞ ব্লগাররা বিভিন্নভাবে দেখে থাকবেন। নিচে সংক্ষিপ্তভাবে উপরোক্ত বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:

 

  • একটি কেন্দ্রীয় বিষয় থাকা: প্রাসঙ্গিকভাবে অন্য বিষয় বা সাব-সেকশন থাকতে পারে, কিন্তু মূল বিষয় থাকা চাই একটি। একটি শিরোনামে একটি বিষয় নিয়েই লিখুন।

 

  • পাঠককে উপকৃত করতে পারা: নিজের চিন্তা ও জীবনাচারণের সরাসরি মার্কেটিং না করে পাঠক কী চায়, তাতে গুরুত্ব দিতে হবে। পাঠকের মনে কী প্রশ্নের উদ্রেক হতে পারে, তার জবাব লেখায় তুলে ধরতে হবে।

 

  • লেখকের নিজস্ব সুবিধা: পাঠকের উদ্দেশ্যে লেখা, তবু লেখকের একটি উদ্দেশ্য আছে। তার বাস্তবায়ন থাকতে হবে। নতুবা তা হবে শুধুই সময় আর অর্থের অপচয়। পাঠকের কোন করণীয় থাকলে, তা অবশ্যই প্রাসঙ্গিক এবং উপযুক্ত ভাষায় উপস্থাপন করতে হবে।

 

  • লেখা ও তথ্যের বিন্যাস: ছাপানো বই হলে কাজটি প্রেসওয়ালাই করতো, কিন্তু অনলাইন লেখককে খেয়াল রাখতে হবে, লেখাটি কমপিউটার স্ক্রিনে দেখতে কেমন দেখাবে। সাব-সেকশনগুলো আলাদাভাবে দেখানো হয়েছি কিনা, বোল্ড ইটালিক আন্ডারলাইন টিক আছে কিনা, উদ্ধৃতিগুলো দেখানো হয়েছে কিনা, তথ্যসূত্র সঠিকভাবে দেখানো হয়েছে কিনা ইত্যাদি চেক করেই ‘পাবলিশ’ বাটনে চাপ দিতে হবে।

 

  • আকর্ষণীয় শিরোনাম: লেখার শিরোনাম দেখেই পাঠক ঠিক করবেন, আপনার লেখাটি পড়বেন কি না। অতএব ভালোভাবে চিন্তা করে শিরোনাম নির্ধারণ করুন। শিরোনামকে লেখার সংক্ষিপ্ত সারাংশও বলা চলে। তবে চটকদার শিরোনাম দিয়ে লেখায় তার প্রতিফলন রাখতে না পারলেও উল্টো ফল হয়।

 

প্রিন্ট মাধ্যমের কথা আলাদা, কিন্তু অনলাইন লেখকের জন্য পাঠক-প্রিয়তা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা। লেখার মান ঠিক রাখার জন্য পাঠকের দৃষ্টিকোণ থেকে নিজের ব্লগ পড়া এবং অন্যের ব্লগ দেখার বিকল্প নেই।

 

লেখাটি কেবল ব্রেইন স্টর্মিং করার জন্য চিন্তার খোরাক হিসেবে তুলে ধরা হলো। উপরোক্ত বিষয় ছাড়াও আরও অনেক বিষয় আছে, যা ব্লগের মান বৃদ্ধি করবে। উপরোক্ত কোন্ বিষয়টিকে আপনি বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন, তা তুলে ধরতে পারেন। অথবা, আরও কোন প্রশ্ন আপনার মনে আসলে, তা মন্তব্যের ঘরে লিখে দিতে পারেন। তাতে লেখাটিকে ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ করা যেতে পারে।

 

ঘুড়ি ব্লগ থেকে সরাসরি স্থানান্তরিত ]

——————-

*বর্তমান যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগে, নাগরিক সাংবাদিকতা একটি বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। এটি ক্রমেই সম্প্রসারণ হচ্ছে।  পরামর্শের আকারে লেখা বর্তমান পোস্টটি সৃজনশীল লেখার ক্ষেত্রে ততবেশি প্রাসঙ্গিক নাও হতে পারে।

প্রিয় ব্লগ সংকলন: প্রথম আলো ব্লগ (closed)

*প্রিয় ব্লগ সংকলন: ব্লগিং নিয়ে ব্লগিং ৮ (মূল শিরোনাম)

ব্যক্তিগত প্রিয় তালিকার পোস্টগুলো নিয়ে এই সংকলন। সংকলিত লেখাগুলো অনেকেরই আগ্রহের বিষয় হবে, এবিশ্বাস থেকেই আলাদা পোস্ট দেওয়া। এবং আশা করছি নতুন পুরাতন সকলের জন্যই মজাদার হবে। কিছু লেখা এমনভাবে বিদগ্ধ করেছে যে, সেটি আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে চাইলাম। সহব্লগারদের অধিকাংশ লেখাই আমার প্রিয় – প্রিয় তালিকা এখানে চূড়ান্ত নয়। তাছাড়া সব সময় প্রিয়তে নেবার কথা মনেও থাকে না।

লেখককে যেমন প্রেরণা পেতে হবে, তেমনি তার লেখার মেরিট অনুযায়ি মতামতও পেতে হবে। তা না হলে লেখক উন্নয়নের পথ দেখতে পাবেন না। কারো লেখা ভালোমতো না পড়ে মন্তব্য দেওয়া অথবা লেখার মান ভালো না হলেও ‘মিথ্যা প্রশংসা করা’ আমার পক্ষে সম্ভব হয় না, যদিও অনুপ্রেরণা দেবার কাজটি আমি আমার মতোই করে থাকি। তাই প্রিয় বিষয়টি একটু পক্ষপাতিত্বমূলক হলেও এনিয়ে আমি কোন চাপে থাকি না। প্রকাশ করতেও দ্বিধা রাখি না। এটি আমার স্বভাবও না। মন্তব্য করার ক্ষেত্রেও কাউকে অযাচিতভাবে খুশি করার চাপে আমি থাকি না। সময় পেলে এবং ভালো লাগলে পড়ি, প্রয়োজন মনে করলে মন্তব্য দেই। কারও লেখায় বা মন্তব্যে ব্যক্তিগত অনুভূতিতে আঘাত পেলে নিজে হজম করি। সামগ্রিকভাবে কোন সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীকে হেয় করা হয় এরকম লেখাকে এড়িয়ে চলি অথবা ক্ষেত্রবিশেষে প্রতিবাদ করি। তবে একদম খারাপ লাগে এরকম লেখা খুবই কম পেয়েছি। সাধারণভাবে প্রায় সব লেখাই মঙ্গলজনক। চূড়ান্ত করার জন্য ব্লগে অনেক সমঝদার লেখক আছেন।

প্রথম সংকলন নিয়ে আরেকটু বলছি। নতুন, পুরাতন, অতি পুরাতন এবং প্রয়াত ব্লগারের উৎকৃষ্ট পোস্টগুলো (সংকলকের মতো) নিয়ে এই পোস্টটি সংকলিত হয়েছে। এবার শুধু ‘প্রিয় তালিকার’ পোস্টগুলো দিলাম, পরবর্তিতে প্রিয় ব্লগারদের লেখাগুলো নিয়ে সংকলন দেবার ইচ্ছা আছে।

ব্লগ ও লেখালেখি বিষয়ক পোস্টগুলো

নতুন এবং পুরোনোদের বলছি: একটি ব্লগ আলোচনা: সাইফ ভূঁইয়া (প্রয়াত!) [৩২]

চুম্বক অংশটুকু: প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ব্লগার তথা নিক নিবন্ধন হচ্ছে। এদের অনেকের লেখা বেশ মান সম্মত। চর্চাটা অব্যাহত রাখলে তাঁরা একসময় ব্যাপক নন্দিত হতে পারেন। সুযোগটা কেউ কেউ নিচ্ছেন না যে তা কিন্তু নয়। অন্যের লেখা পড়ে,সুচিন্তিত মতামতের মাধ্যমে এরা এক ধরনের আত্মিক বন্ধন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। এর ভিন্নতাও দেখি। সেটাই বেশি ভাবায়। অনেকে লেখা দিয়ে অপেক্ষা করেন তাঁর লেখায় কত মন্তব্য আসে। তাঁর চিন্তা চেতনা শুধু নিজেকে ঘিরে, চারপাশে কি হচ্ছে তা নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই। (প্রথম আলো ব্লগ এবং সামহোয়ারইন ব্লগের একজন জনপ্রিয় ব্লগার। তার অকাল প্রয়ানে সামুতে অনেক দিন শোকবার্তা লাগানো ছিলো। প্রথম আলো ব্লগেও ছিলো শোকের ছায়া। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত প্রবাসী ছিলেন।)

ব্লগিং কি এমন হতে হবে? সুস্থ ধারার ব্লগিং কাকে বলবো? মুক্তমন৭৫ [২১৪]

চুম্বক অংশটুকু: আমার দৃষ্টিকোণ থেকে আমি প্রায়শই দেখছি, ব্লগিং এ ব্লগার কত দিন ধরে ব্লগে লিখছেন সেই জিনিসটিকে যতখানি মুল্যায়ন করা হয়, তার চেয়ে অনেক অনেক কম মুল্যায়ন করা হয় এখানে ব্লগের তার লিখাটিকে। এই ঘটনার বহিঃপ্রকাশ আমি অনেক আলোচিত আর সমালোচিত পোস্টে প্রায়শই করতে দেখছি অনেক ব্লগারকে। কেউ একজন কোন কিছুতে মন্তব্য করলে তার বিপরীতে উত্তর হিসেবে এখানে লিখা হচ্ছে, কত মাস বা কত দিন ধরে কতটি পোস্ট এসেছে আর মন্তব্য এসেছে সেই ব্লগারের। তার মন্তব্যটিকে গুরুত্ব না দিয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে তার অবস্থান আর মেয়াদকে। এটি কি ঠিক বলে আপনারা মনে করেন? সেক্ষেত্রে সেই নবীন ব্লগারের মনবল আপনারা কতখানি দুর্বল করে ফেলছেন, তা আপনারা অনেকেই অনেক অনেক প্রবীন ব্লগার হবার পরেও ভুলে যাচ্ছেন। আমার কাছে এই বিষয়টি একদম অনুচিত মনে হয়েছে। লেখার যোগ্যতা পরিমাপ করা উচিত লেখার মান বিশ্লেষণ করে লেখকের লেখক জীবনের বয়সকালকে হিসেবে নিয়ে নয়। (মুক্তমন৭৫ বাস্তবেও একজন মুক্তমনা ব্লগার। সমস্যা হলো উনি সাগর বাসিন্দা হবার কারণে সবসময় ইন্টারনেট পান না। ফলে আমরাও তাকে নিয়মিত পাই না। )

মন্তব্য বিষয়ক ইতিহাস ও বর্তমান: নীল সাধু [৭৬]

চুম্বক অংশটুকু: এক সময় আমাকে ব্লগ পাহারাদার বলা হত। কারন দিনের সবটূকু সময় আমি ব্লগে থাকতাম। ব্লগার সুজন ছিল মন্তব্যের ব্যাপারে সবার আগে। তার আগে মন্তব্য করা ছিল কঠিন। এমন কোন ব্লগার নেই যার ওখানে তিনি মন্তব্য করেননি। মধ্যে আমি তার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছিলাম। আমি চেষ্টা করেছি সবার ব্লগে যেতে মন্তব্য বা কিছু একটা বলে তাদেরকে উৎসাহিত করতে। মন্তব্যের ব্যাপারে ব্লগার সুজনের সঙ্গে পেরে উঠিনি আমি। তিনি সেরা মন্তব্যকারী। ইদানীং তিনি ব্লগে আসেন না। … ব্লগার দেবদাস যিনি এই ব্লগে পরিচিত ছিলেন কিং অফ কমেন্ট হিসেবে। যার পোষ্টের চেয়ে আমাদের কাছে মুল্যবান ছিল মন্তব্য। এমন মজার বুদ্ধিদীপ্ত মন্তব্য এই ব্লগে খুব কম এসেছে। দুঃখজনক তিনি ব্লগে এখন অনিয়মিত। তীব্র বিদ্রুপ এবং অসাধারন সব মন্তব্য দিয়ে তিনি তার অবস্থান তৈরী করেছেন সবার হৃদয়ে। ব্যাক্তিগত ভাবে আমি আমার কথা বলতে পারি আমি যখনই দেখতাম দেবদাস কোথাও মন্তব্য করেছে আমি সঙ্গে সঙ্গে সেই মন্তব্য দেখার জন্য ছুটে যেতাম সেই ব্লগে।… আ শ ম এরশাদ যিনি মন্তব্যের আর এক রাজকুমার। দীর্ঘ, সমালোচনামুলক, বিশ্লেষনধর্মী, মজার কথা- সব ধরনের মন্তব্যে ইনি পারদর্শী। যেখানেই তিনি মন্তব্য করেছেন সংস্লিষ্ট ব্লগার খুশী মনে তা গ্রহন করেছেন। বিশেষ করে রাজনৈতিক মতাদর্শের পোষ্টগুলোতে ব্লগার খালেদ এবং ব্লগার আ শ ম এরশাদ এই দুজনের মন্তব্য ছিল দারুন ইনফরমেটিভ। চুলচেরা বিশ্লেষনধর্মী মন্তব্যের জন্য ব্লগার এরশাদ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। (আ শ ম এরশাদের একটি পোস্ট আমার প্রিয় তালিকাভুক্ত।)

কী লিখবো, কীভাবে লিখবো: মাহবুব আলী [১২]

চুম্বক অংশটুকু: প্রথমেই যদি এই প্রশ্ন ধরে চিন্তা করি যে, কী উদ্দেশ্যে লিখছি? তাহলে অনেকেই হয়তো জবাবে সহজবোধ করবেন না। কেননা, বনের পাখি আপন মনে গান গায়, তার আবার উদ্দেশ্য কী? কিন্তু যৌক্তিক কথা এই যে, পাখি কিন্তু এমনি এমনি গান গায় না। তার পেছনে নিশ্চয়ই কোনো না কোনো উদ্দেশ্য আছে। গানের পাখি কোকিল গাছের ফাঁকে লুকিয়ে যখন ডাকে বা গান গায় মানুষ হিসেবে তা শুনে আমরা মুগ্ধ হলেও ওই পুরুষ কোকিলের উদ্দেশ্য বায়স-ফিঙেকে তার বাসা থেকে বের করে আনা, যাতে স্ত্রী কোকিল সেখানে ডিম পাড়তে পারে। তাই প্রতিটি লেখার পেছনে কোনো উদ্দেশ্য অবশ্যই আছে। লেখককে সেই উদ্দেশ্যের সঙ্গে কাদের জন্য লিখছেন তার সমন্বয় ঘটাতে হয়। (সাথে আছে ১০টি চমৎকার টিপস!)

বাংলা ব্লগ কোন পথে: আ.শ.ম. আরশাদ [১৩৮]

চুম্বক অংশটুকু: ২০০৪ সালের এপ্রিল মাসে পশ্চিমবঙ্গের দেবাশীষ ও সুকন্যা বাংলা ভাষায় অনলাইন ব্লগিং শুরু করেন এবং পরিচিতজনদের ব্লগিংয়ে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করেন বলে কথিত হয়। কিন্তু তখন বাংলা ভাষায় ব্লগিং করাটা খুবই ঝামেলার ছিলো। ফন্ট সংক্রান্ত জটিলতায় অনেকেই ব্লগিংয়ে আগ্রহী হতেন না। এখনও সে সমস্যা পুরোপুরি কাটেনি। ২০০৫ সালের ১৬ই ডিসেম্বর “বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ” বাংলাদেশী ব্লগসাইট হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। হাসিন ও এমরান এমবেডেড এডিটর ব্যবহার করে বাংলার প্লাটফর্ম সমস্যার সমাধান করে দেন। এখন ভার্চুয়াল কীবোর্ড ব্যবহার করে খুব সহজেই ফোনেটিক বাংলা লেখা যায়। ২০০৬ সালে ব্লগটিকে ইউনিকোডে নিয়ে আসা হয়। মূলত তখনই একটি বিপ্লব ঘটে যায়। (২০১০ সাল পর্যন্ত বাংলা ব্লগের একটি ডায়েরি হিসেবে বিবেচনা করা যায় লেখাটিকে।)

এক নজরে প্রথম আলো ব্লগ মিট আপ: First to Last: ইঊসুফ [৪৩]

চুম্বক অংশটুকু: কিছুদিন আগে হয়ে গেল প্রথম আলো ব্লগের প্রথম মিট আপ। …এই দীর্ঘ সময়ে ছিল কত পোষ্ট, কত মন্তব্য… কত সুখ, কত দুঃখ… কতগুলো মানুষের অনুভূতি, প্রচেষ্টা আর প্রেরণা কাজ করেছে এ মিট আপকে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে.. সেগুলোকে এক জায়গায় একত্রিত করার ইচ্ছায়ই আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াস। এতে মিট আপের প্রস্তাবনার শুরু থেকে মিট আপের পর পর্যন্ত প্রায় সব পোষ্টের লিংক একত্রিত করার চেষ্টা করেছি। (২০০৯ সাল পর্যন্ত ব্লগারদের পারস্পরিক সাক্ষাৎ করার বিষয়টি ছিলো রোমাঞ্চকর এবং বহুল প্রত্যাশিত। তার পূর্বে থাকতো অনেক আনুষ্ঠানিকতা ও প্রস্তাবনা।)

বইপড়া; সাহিত্য আলোচনা, কবিতা, ছড়া, ভ্রমণ, ব্যক্তিত্ব

বাঙালির পাঠ্যাভ্যাস: মেহেদী হাসান মঞ্জুর [৮]

চুম্বক অংশটুকু: একদিনের একটা ঘটনা বলি, যাতে বিষয়টা আরেকটু স্পষ্ট হয়ে উঠবে । মেট্রো রেলে যাতায়তের সময় দেখি, ষ্টেশনের এক কোনে দাঁড়িয়ে একজন ভিক্ষুক ভিক্ষা করছে; তার পায়ের কাছে একটি টুপি রাখা, সেখানে লোকজন রুবল(রাশিয়ান মুদ্রা) ফেলছে, তার বাম হাতে ধরা একটি কার্ড, যেখানে লেখা ‘পামাগাত মিনিয়া’ (আমাকে সাহায্য করুন) এবং ডান হাতে ধরা একটি বই। হাজার কোলাহলের মাঝখানেও লোকটি বই পড়ে যাচ্ছে । টুপিতে কতগুলো রুবল জমা হচ্ছে, সেদিকে তার কোন খেয়ালই নেই। বাংলাদেশের কোন জায়গায় এরকম দৃশ্য, আমরা সম্ভবত কল্পনাতেও আনতে পারবনা। (এই ব্লগারকে এখন আর বাত্তি লাগিয়ে পাত্তা পাওয়া যায় না )

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ওপর বাংলাদেশ এবং লালন সাঁইজির প্রভাব: জমির হায়দার বাবলা[২০]

চুম্বক অংশটুকু: রবি ঠাকুর বাংলাদেশের হৃদয়ে প্রবেশ করতে পেরেছিলেন বলেই তাঁর জীবনে “বাংলাদেশ” অধ্যায়টি সাহিত্য সৃষ্টির রত্নগর্ভা হয়ে আছে। এ অধ্যায়ের কারণে রবি ঠাকুর তাঁর সাহিত্যে ঝুলিতে অসংখ্য মানিক তুলে নিতে পেরেছিলেন। এ অধ্যায়েই রবি ঠাকুর সৃষ্টি করেছেন করেছেন অসাধারণ সব সাহিত্যকর্ম। (বাবলা ভাইয়ের সাহিত্য-বিষয়ক প্রবন্ধগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।)

ভং ছাড়ো কাঙ্গাল: বিধুভূষণ ভট্টাচার্য্য [১০০]

চুম্বক অংশটুকু:

আমরাউ চাষাভূষা
আমরাউ বাঙ্গাল
অউ দেশ আমরার
ভং ছাড়ো কাঙ্গাল

ছড়াকারের কথা: এই ছড়াটি সিলেটের স্বনামধন্য আবৃত্তি সংগঠন মৃত্তিকায় মহকাল-এর প্রধান, বিশিষ্ট আবৃত্তিকার ও সংগঠক সৈয়দ সাইমূম আঞ্জুম ইভান (প্রথম আলো ব্লগের ‘সাইমূম ইভান’)-এর অনুরোধে রচিত এবং গত বছর ও চলতি বছর নববর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মৃত্তিকায় মহকাল কর্তৃক মনমুগ্ধকর ভাবে পরিবেশিত হয়েছে। আলো ব্লগের বন্ধুদের জন্য এখানে নিবেদন করলাম। (আমার ব্লগে আসার প্রথম সময়টিতে বিধু’দা এতই নিয়মিত ছিলেন যে, সর্বোচ্চ মন্তব্যকারীদের তালিকায় তার নাম থাকতো। তখন জিনজির নামেও আরেকজন ব্লগারকে খুব দেখা যেতো।)

ঈদের ছুটিতে ভারত ভ্রমণ: রব্বানী চৌধুরী [৫৫]

চুম্বক অংশটুকু: গত ৩০শে অক্টোবর ছিল প্রকৃতির ভূ-স্বর্গ মানালিতে আমাদের শেষ দিন। বিকাল পাঁচটায় পর্যটকদের বাসে করে দিল্লীতে যাওয়ার সময়সূচি। সকাল থেকে আমাদের অবসর, আর মালানি ও পুরাতন মানালি ঘুরে দেখার দিন। বাজার-ঘাট, পার্ক, আর টুকি-টাকি সোপিং। ঝকঝকে রোদে হোটাল থেকে তোলা পাহাড়ে রোদের বন্ধুত্ব। (যুক্ত আছে বেশকিছু চমৎকার ছবি। পেয়ে যাবেন জনপ্রিয় এই ব্লগারের সুখময় পারিবারিক জীবনের সচিত্র প্রতিবেদন।)

আদিবাসী নারী: এইচ এস মং মারমা [৪০]

চুম্বক অংশ:
অগ্নিমাখা বিস্তীর্ণ প্রান্তরে ক্রমান্বয়ে তুমি
হারিয়ে যাও, হারিয়ে যেতে থাকো;
একদিন তুমি আর ফিরে আসো না,
কল্পনা চাকমাও আর ফিরে আসেনি।

কবিকে আমি এই বলে সেদিন অনুভূতি জানিয়েছিলাম: “এতো আহত আমি আর কখনও হই নি।” ব্লগ থেকে মং মারমা ভাইয়ের অন্তর্ধান নিয়ে একবার আলাদা পোস্ট দিয়েছিলাম। তারপর তিনি ছিলেনও কয়েকদিন। তারপর আবারও উদাও! আদিবাসীদের ওপর যতবার উপদ্রুব এসেছে ততবারই তাদের বিবেকের প্রতিনিধি হয়ে কবি মং মারমা আমাদের সাথে তার কবিতায় কেঁদেছেন। কাঁদিয়েছেন আমাদেরকেও। ভালো থাকুন কবি!

শৈল্পিক হাততালী: কবি কুহক [৬২]

চুম্বক অংশ: “টুপ করে খসে পড়ে তার নব যৌবন
সুযোগ বুঝে বাতাসী উড়িয়ে দেয় মার্কসবাদী চুল”

কবির সাথে আমার কথোপকথন:
আমি: হাহাহা, ভালো লাগলো সমগ্র কবিতাটি। কোন এক সময় আরও বিস্তারিত বলার ইচ্ছা আছে।
কুহক: দুহাই লাগে আর বিস্তারিতো কিছু কইয়েন না। পুরাই লজ্জায় পইড়া যামুগা।আমি:

বাংলাদেশের ৬৪ জেলার নামকরণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস: তুহিন সরকার [১০০]

চুম্বক অংশটুকু: বান্দরবন জেলার নামকরণ নিয়ে একটি কিংবদন্তি আছে, এলাকার বাসিন্দাদের মুখে প্রচলিত রূপকথায় অত্র এলাকায় এ সময় অসংখ্য বানর বাস করত। আর এই বানরগুলো শহরের প্রবেশ মুখে ছড়ার পাড়ে প্রতিনিয়ত লবণ খেতে আসত। এক সময় অতি বৃষ্টির কারণে ছড়ার পানি বৃদ্ধি পেলে বানরের দল ছড়া পাড় থেকে পাহাড়ে যেতে না পারায় একে অপরকে ধরে সারিবদ্ধভাবে ছড়া পার হয়। বানরের ছড়া পারাপারের এই দৃশ্য দেখতে পায় এই জনপদের মানুষ। এই সময় থেকে জায়গাটি “ম্যাঅকছি ছড়া” হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। মার্মা ভাষায় ম্যাঅক শব্দটির অর্থ হল বানর আর ছি শব্দটির অর্থ হল বাধঁ। কালের প্রবাহে বাংল ভাষাভাষির সাধারণ উচ্চারণে এই এলাকার নাম বান্দরবন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। তবে মার্মা ভাষায় বান্দরবনের প্রকৃত নাম “রদ ক্যওচি চিম্রো’।

মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত শহীদ মিনারের স্থপতি ও চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান: নূর মোহাম্মদ নূরু [১৬]

চুম্বক অংশটুকু: ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদের স্মরণে হামিদুর রহমানের নকশা অনুসারে শহীদ মিনার নির্মিত হয়। উল্লেখ্য হামিদুর রহমানের রূপকল্পনা অনুসারে ১৯৬২ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি সংশোধিত আকারে শহীদ মিনারের নির্মাণকাজ কাজ শুরু হয়। ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি নতুন শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়। (কৃতী মানুষের জীবনী লেখে এই ব্লগার বাংলা ব্লগকে সমৃদ্ধ করে যাচ্ছেন মহাকালের জন্য।)

রেলপথ ধরে বাংলাদেশ ভ্রমণ: ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, লক্ষ্য আখাউড়া [২৩]

চুম্বক অংশটুকু: সারাদিন রিলাক্স মুডে রেল লাইন ধরে হাঁটব, সন্ধ্যায় গাড়িতে করে বাড়িতে ফিরে আসব । এই সপ্তায় যেখানে আমার হাঁটা শেষ হবে আগামী সপ্তায় সেখান থেকে হাঁটা শুরু করবো এবং আবারো সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে আসব । এভাবেই পর্যায়ক্রমে আমি চিটাগাংএর দিকে অগ্রসর হব এবং যতদিন না আমি চিটাগাং পৌঁছতে পারি । (ব্লগের ট্যুরিস্ট ব্লগার কামাল উদ্দিন ভাইয়ের একটি জনপ্রিয় আয়োজন এটি।)

ব্লগিং নিয়ে ব্লগিং ৭
ব্লগিং নিয়ে ব্লগিং ১

——————————
*‘প্রিয়’ কথাটি নিয়ে কৈফিয়ত এবং এপোলজি আছে: সকল ‘প্রিয়কে’ এক সংকলণে আনা যায় নি। আগেই বলেছি তালিকার বাইরেও অনেক প্রিয় পোস্ট আছে। প্রিয় ব্লগারের তালিকাটিও এক্ষেত্রে আমার সহায়ক। তাই পাঠক যেন মনে না করেন যে প্রিয় তালিকা এখানেই শেষ। পরে আরও আসবে।

.
.
.
.
.
[লেখাটি প্রথম আলো ব্লগ থেকে সরাসরি স্থানান্তর করা হয়েছে। ২৮ অগাস্ট ২০১৪]

৬৫ টি মন্তব্য
sagar923রফিকুল ইসলাম সাগর১৭ মে ২০১৪, ২১:১৩

লেখককে যেমন প্রেরণা পেতে হবে, তেমনি তার লেখার মেরিট অনুযায়ি মতামতও পেতে হবে। তা না হলে লেখক উন্নয়নের পথ দেখতে পাবেন না। কারো লেখা ভালোমতো না পড়ে মন্তব্য দেওয়া অথবা লেখার মান ভালো না হলেও ‘মিথ্যা প্রশংসা করা’ আমার পক্ষে সম্ভব হয় না, যদিও অনুপ্রেরণা দেবার কাজটি আমি আমার মতোই করে থাকি।
সময় পেলে এবং ভালো লাগলে পড়ি, প্রয়োজন মনে করলে মন্তব্য দেই। কারও লেখায় বা মন্তব্যে ব্যক্তিগত অনুভূতিতে আঘাত পেলে নিজে হজম করি। সামগ্রিকভাবে কোন সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীকে হেয় করা হয় এরকম লেখাকে এড়িয়ে চলি অথবা ক্ষেত্রবিশেষে প্রতিবাদ করি।
আপনার সাথে একমত।

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১৭ মে ২০১৪, ২১:৩৪

অনেক ধন্যবাদ
fardoushaফেরদৌসা১৭ মে ২০১৪, ২১:১৪

চুম্বক অংশটুকু পড়ে উনাদের পুরো পোস্ট পড়ার লোভ হচ্ছে। যদিও রব্বানী ভাই আর কামাল ভাইয়ের পোস্ট দেখা আছে ।
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১৭ মে ২০১৪, ২১:৩৪

চুম্বক অংশ নেবার মতলবই হলো আকর্ষণ করা… হেহেহেধন্যবাদ ফেরদৌসা আপা

MirHamidহামি্দ১৭ মে ২০১৪, ২১:১৮

সময় নিয়ে পড়তে হবে। প্রিয়তে নিয়ে রাখলাম। অনেক গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট…………………………….
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১৭ মে ২০১৪, ২১:৩৫

হামিদ ভাইকে অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা
neelsadhuনীল সাধু১৭ মে ২০১৪, ২১:২০

বাহ। চমৎকার।আপনার প্রিয় পোষ্ট মানে অনেক কিছু। আমার প্রায় পোষ্ট পড়া আছে।
একটি পোষ্ট পড়ে আসি। সেটা চোখ এড়িয়ে গিয়েছিল মনে হচ্ছে।

এভাবেই আমরা ভালো লেখাগুলোকে সবার সামনে নিয়ে আসতে পারি। মুল্যায়িত হতে পারে সেরা/প্রিয় পোষ্টগুলো।

ধন্যবাদ জানবেন।
ভালোবাসা সহ

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১৭ মে ২০১৪, ২১:৩৬

অনেক ধন্যবাদ নীলসাধু ভাই…
শুভেচ্ছা
ANIKA2012আমির হোসেন১৭ মে ২০১৪, ২১:২১

বিশাল আলোচনা কখন পড়ুম ভাই।
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১৭ মে ২০১৪, ২১:৩৭

ধন্যবাদ
shohel121পরানের কথা১৭ মে ২০১৪, ২১:২৩

অনেক ভালো লাগলো এই আলোচনা । আমার মতো নতুনদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক।
ধারাবাহিকের পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রলাম।অফুরান আন্তরিক ধন্যবাদ আপনাকে ।

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১৭ মে ২০১৪, ২১:৩৮

পরানের কথা, মন্তব্যের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ
neelsadhuনীল সাধু১৭ মে ২০১৪, ২১:৩৪

ইহা একটি বিজ্ঞাপন মন্তব্য

প্রথম আলো ব্লগে চলছে “প্রথম আলো-ঘুড়ি প্রিয় চিঠি আয়োজন ২০১৪”

মে ১৫ থেকে পোষ্ট-কৃত সকল চিঠি এই আয়োজনের জন্য বিবেচিত হবে। চিঠি পোষ্ট করার শেষ সময় জুন ১৫।

চিঠি লিখুন। চিঠি পড়ুন।
প্রথম আলো ব্লগে পোষ্ট করুন আপনার নিজের লেখা চিঠিটি!

ধন্যবাদ।

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১৭ মে ২০১৪, ২১:৩৮

Mzarin31আরজু মুন জারিন১৭ মে ২০১৪, ২১:৪২

কারো লেখা ভালোমতো না পড়ে মন্তব্য দেওয়া অথবা লেখার মান ভালো না হলেও ‘মিথ্যা প্রশংসা করা’ আমার পক্ষে সম্ভব হয় না, যদিও অনুপ্রেরণা দেবার কাজটি আমি আমার মতোই করে থাকি। তাই প্রিয় বিষয়টি একটু পক্ষপাতিত্বমূলক হলেও এনিয়ে আমি কোন চাপে থাকি না। প্রকাশ করতেও দ্বিধা রাখি না। (*চমৎকার মইনুল ভাই।আপনার সব লেখায় আমার মুগ্ধতা সিল মেরে বলে দিলাম।আমার লেখায় যখন আমি আপনার কমেন্টস দেখি নিজেকে সন্মানিত বোধ করি গুরুত্বপূর্ন মনে করি।কমেন্টসে বুঝতে পারি আপনার উদারতা।পুরা লেখা নিখূঁতভাবে পড়ছেন বিশ্লেষন করছেন।কিন্তু কমেন্টস করার সময়ে লেখককে আপনি তাই বলছেন যা তাকে প্রেরনা দেওয়ার মত আপনার দৃষ্টিতে প্রেরনা পাওয়ার মত।আপনার এই মানসিক গঠনকে আমার শ্রদ্ধা।

আর লেখাতো সবসময় অসাধারন লিখেন।আপনার লেখা বিশ্লেষন করার স্পর্ধা আমার নাই।অনেক ভাল লাগা/মুগ্ধতা জানিয়ে গেলাম।

ধন্যবাদ চমৎকার লেখার জন্য।অনেক শুভকামনা রইল আপনার চলার পথে।ভাল থাকবেন কেমন।

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১৮ মে ২০১৪, ০৬:০৫

আরজু মুন জারিন আপা, আপনার উদার প্রশংসায় কৃতজ্ঞা জানাই।অনেক শুভেচ্ছা জানবেন

PulakBiswas67পুলক বিশ্বাস১৭ মে ২০১৪, ২১:৪৫

ব্লগিং মুক্তভাবে লেখার ও মত প্র্রকাশের দারুণ এক প্লাটফরম হতে পারে যদি আমরা একটু ধীরস্থিরভাবে শুদ্ধ-অশুদ্ধ যাচাই করে নিজের পোস্টটাকে সমৃদ্ধ করি। আমাদের মতো নতুনদের নিজের জায়গা তৈরি করে নিতে একটু সময় লাগবে এতে কোন সন্দেহ নেই। এটা নিয়ে আমার কোন খেদও নেই। অগ্রজদের, ভাল লেখকদের মূল্যায়ণ করা যেমন জরুরি তেমনি নতুনদের ভাল লেখাকেও অনেকে মূল্যয়ণ করেন যা আমাদেরকে অণুপ্রাণিত করে সবসময়।মইনুল ভাইকে অনিঃশেষ শুভেচ্ছা। ভালো থাকবেন।

sularyআলভী১৭ মে ২০১৪, ২১:৫৫

এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী পোষ্ট আশা করছি আমার মত সবার ভালো লাগবে। এক পোষ্টেই অনেক কিছূ জানা সম্ভব বিশেষ করে যারা নতুন ব্লগার তাদের জন্য অনেক ভালো লাগবে কারন আমাদের পুরাতন অনেক প্রিয় ব্লগা্র আজ যারা ব্লগে যে কারনেই হোক সক্রিয় না তাদের সম্পর্কে অনেক কিছু জানা সম্ভব হচ্ছে। ধন্যবাদ প্রিয় মইনুল ভাই।
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১৮ মে ২০১৪, ০৬:০৭

পুলক বিশ্বাস ভাই, সংকলনটি সেজন্যই দেওয়া হয়েছে, যেন নতুন পুরাতন সকলেই কিছু বাছাইকৃত লেখার স্বাদ পান।মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১৮ মে ২০১৪, ০৬:০৮

হ্যাঁ আলভী ভাই, লেখাটি ঠিক সেজন্যই।আন্তরিক মন্তব্যের জন্য অনেক কৃতজ্ঞতা

শুভেচ্ছা জানবেন

BABLAমোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা১৭ মে ২০১৪, ২২:১০

প্রথমে মইনুল ভাইকে ধন্যবাদ জানাই অনেকগুলো পড়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য।
এ পোস্টগুলো বাছাই করতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে সাথে বেশ মনোযোগ দিয়ে পড়তে হয়েছে। ব্লগিং নিয়ে পোস্টগুলো প্রত্যেকটিতে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে।আগের অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিদের সম্পের্কে ধারনা পেলাম।আপনি যেই পোস্টগুলোর কথা লিখলেন সেই পোস্টগুলোর সূত্র ধরে আগামীতে আরো আগাতে পারবো।
মইনুল ভাইকে আমাদের বড়বেশী দরকার। কারণগুলোর একটি আজকের মতো পোস্টগুলি।
শুভকামনা।
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১৮ মে ২০১৪, ০৬:১২

লেখার মান নিয়ে লেখক যত অসন্তুষ্ট থাকবেন, তার লেখা ততই ভালো হবে।
তাই আমার দৃষ্টিতে ভালো লেখকদেরকে সামনে তুলে ধরলাম।আপনার মন্তব্য সবসময়ই আমার লেখাকে সমৃদ্ধ করে। এবারও

অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা, বাবলা ভাই

BABLAমোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা১৭ মে ২০১৪, ২২:২০

কারো লেখা ভালোমতো না পড়ে মন্তব্য দেওয়া অথবা লেখার মান ভালো না হলেও ‘মিথ্যা প্রশংসা করা’ আমার পক্ষে সম্ভব হয় না,
যদিও অনুপ্রেরণা দেবার কাজটি আমি আমার মতোই করে থাকি।মাঝে মাঝে কিছু পোস্টে সতর্কতার সাথে “দারুন” “অসাধারণ” কথাগুলো না লিখে কেবল কোথায় বা কোন কথাগুলো ভালো লেগেছে তা উল্লেখ করেই বলি “ভালো লেগেছে”।
আমি মাঝে মাঝে মনে করি-ডাহা মিথ্যাচারিতা না করে উৎসাহমূলক মন্তব্য ব্লগিং এ তেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বলে মনে হয় না। অনেকে উৎসাহিত হতে পারেন।
“ব্লগরত্ন” কথাটি আবারো প্রমানিত হলো।
শুভেচ্ছা মইনুল ভাইকে।

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১৮ মে ২০১৪, ০৬:১৪

সহব্লগারদের কাছে নিজের অবস্থানটুকু পরিষ্কার রাখার দায় থেকে মুক্ত হলাম আরকি !আপনার মন্তব্যের ধরণ আমি বুঝি।

অনেক শুভেচ্ছা আবারও

sularyআলভী১৭ মে ২০১৪, ২২:২৭

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১৮ মে ২০১৪, ০৬:১৪

Rabbaniরব্বানী চৌধুরী১৭ মে ২০১৪, ২২:৪৩

অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানবেন প্রিয় মইনুল ভাই।
“লেখককে যেমন প্রেরণা পেতে হবে, তেমনি তার লেখার মেরিট অনুযায়ি মতামতও পেতে হবে। তা না হলে লেখক উন্নয়নের পথ দেখতে পাবেন না। কারো লেখা ভালোমতো না পড়ে মন্তব্য দেওয়া অথবা লেখার মান ভালো না হলেও ‘মিথ্যা প্রশংসা করা’ আমার পক্ষে সম্ভব হয় না, যদিও অনুপ্রেরণা দেবার কাজটি আমি আমার মতোই করে থাকি। তাই প্রিয় বিষয়টি একটু পক্ষপাতিত্বমূলক হলেও এনিয়ে আমি কোন চাপে থাকি না। প্রকাশ করতেও দ্বিধা রাখি না।”একজন লেখক কতটা নিরপেক্ষ, মেধার বিচারে, দক্ষতার কলম দিয়ে লিখে থাকেন উপরের কথাগুলি খুব স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছে। এ লেখার যোগত্যা নিয়ে যারা চিন্তা করবেন আমার ধারণা মতে তাঁরা একদিন লেখকের খাতায় নাম লেখাবে। আমাকে দিয়ে যে এমন লেখা হবে না, এ আমার সৌজন্যতা করে বলা নয়, মন থেকেই বলা তবে আমারও নাম লেখকের খাতায় উঠতে পারে যদি আমার যোগ্যতা আমাকে লিখায়।

এ পোষ্টটি আমাদের শিখাবে এক একটি পোষ্ট থেকে আর একটি পোষ্টের পার্থক্য কত !! আপনার প্রিয় কিছু পোষ্ট যুক্ত করে দিয়ে আমাদের পড়ার পরিধী বাড়িয়ে দিলেন। আর আমরা বুঝে নিলাম কোন পোষ্টগুলিকে কি ভাবে গুরুত্ব দিতে হয়, নবীন কবি ও লেখকদের জন্য একটি ভুবন তৈরী করে দিলেন অতীতকে জানার।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইলো ভালো থাকবেন মইনুল ভাই।

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১৮ মে ২০১৪, ০৬:২০

//একজন লেখক কতটা নিরপেক্ষ, মেধার বিচারে, দক্ষতার কলম দিয়ে লিখে থাকেন উপরের কথাগুলি খুব স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছে। এ লেখার যোগত্যা নিয়ে যারা চিন্তা করবেন আমার ধারণা মতে তাঁরা একদিন লেখকের খাতায় নাম লেখাবে।// বিশাল বড় প্রশংসা আমার জন্য। সহব্লগারদের কাছে স্বচ্ছ থাকতে চাই। এজন্যই ভূমিকাটুকু দিলাম।

//আপনার প্রিয় কিছু পোষ্ট যুক্ত করে দিয়ে আমাদের পড়ার পরিধী বাড়িয়ে দিলেন। আর আমরা বুঝে নিলাম কোন পোষ্টগুলিকে কি ভাবে গুরুত্ব দিতে হয়, নবীন কবি ও লেখকদের জন্য একটি ভুবন তৈরী করে দিলেন অতীতকে জানার। //

ঠিক এজন্যই এই সংকলন। প্রথম সময়ের লেখাগুলো অনেক দিক দিয়ে ভিন্ন রকম। তখনকার ব্লগাররা একটু বেশিই সংগ্রামী ছিলেন মনে হয় : )

প্রিয় রব্বানী চৌধুরী ভাই, আপনার মন্তব্যে সবসময়ই পাই আন্তরিক কিছু মূল্যায়ন। এটি যেকোন লেখকের জন্য শক্তি।

অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা

kabirbdboyকাছের মানুষ১৭ মে ২০১৪, ২২:৫৯

চমৎকার একটা পোষ্ট, এর মাঝে কিছু পোষ্ট আগেই পড়েছিলাম !!চুম্ভক অংশটি দিয়ে আবারো লেখা গুলো পড়ার জন্য লোভ বাড়িয়ে দিলেন।

আপনার এই উদ্দগটি ব্লগারদের লেখার প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং লেখার প্রতি উৎসাহ এই বিষয় গুলোতে গুরুত্বপূর্ন্য ভুমিকা রাখবে ।

আপনার পোষ্ট মানেই ভিন্ন কিছু পাই, এবারো তার ব্যাতিক্রম হল না

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১৮ মে ২০১৪, ০৬:২২

//আপনার এই উদ্দগটি ব্লগারদের লেখার প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং লেখার প্রতি উৎসাহ এই বিষয় গুলোতে গুরুত্বপূর্ন্য ভুমিকা রাখবে।//-এটাই সংকলনের উদ্দেশ্য। প্রিয় কাছের মানুষকে অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা

baganbilas1207কামরুন্নাহার১৭ মে ২০১৪, ২৩:১৭

লেখককে যেমন প্রেরণা পেতে হবে, তেমনি তার লেখার মেরিট অনুযায়ি মতামতও পেতে হবে। তা না হলে লেখক উন্নয়নের পথ দেখতে পাবেন না। কারো লেখা ভালোমতো না পড়ে মন্তব্য দেওয়া অথবা লেখার মান ভালো না হলেও ‘মিথ্যা প্রশংসা করা’ আমার পক্ষে সম্ভব হয় না, যদিও অনুপ্রেরণা দেবার কাজটি আমি আমার মতোই করে থাকি।
সময় পেলে এবং ভালো লাগলে পড়ি, প্রয়োজন মনে করলে মন্তব্য দেই। কারও লেখায় বা মন্তব্যে ব্যক্তিগত অনুভূতিতে আঘাত পেলে নিজে হজম করি। সামগ্রিকভাবে কোন সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীকে হেয় করা হয় এরকম লেখাকে এড়িয়ে চলি অথবা ক্ষেত্রবিশেষে প্রতিবাদ করি।

আপনার এই লেখাটুকু আবারও প্রমাণ করলো আপনিই ব্লগরত্ন।
আপনার গঠনমূলক মন্তব্য, সমালোচনা, একজন লেখককে কতখানি অনুপ্রাণিত করে তা’ একবাক্যে সবাই স্বীকার করবেন। এমনটাই সবার প্রয়োজন। যা আপনি দিয়ে আসছেন, দিচ্ছেন, দিতে থাকবেন।
আপনার লেখায় ডাহা-মিথ্যাচার করবার প্রশ্নই আসে না। আপনি এমন করে লিখতে থাকুন, ব্লগকে এগিয়ে নিয়ে চলুন তার পরিপূর্ণতায়, প্রাপ্তিতে।

আপনি সে সব ঐতিহাসিক লেখাগুলো আবারও আমাদের সামনে এনে দিলেন, তা’ সত্যিই অসাধারণ !!
ধন্যবাদ চমৎকার লেখার জন্য।অনেক শুভকামনা রইল। এমনটাই আরো চাইব, এ আমার দাবি।

baganbilas1207কামরুন্নাহার১৭ মে ২০১৪, ২৩:১৮

**** আপনার লেখা পড়তে যেয়ে লগ আউট হয়ে গেলাম যে !!!
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১৮ মে ২০১৪, ০৬:২৫

লেখাগুলো সত্যই ‘ঐতিহাসিক’। ওখান থেকে অনেক কিছু জানার ও শেখার আছে। এজন্যই শেয়ার করলাম সংকলনের মাধ্যমে।আমার লেখা ও মন্তব্য সম্পর্কে যে মূল্যায়ন করেছেন, তাতে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ আমি।
কামরুন্নাহার আপার মন্তব্য, ব্লগারের জন্য প্রেরণার।

অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১৮ মে ২০১৪, ০৬:২৫

এরকম সমস্যা তো সকলেরই হয়। তবে আজকাল একটু কম
KohiNoorমেজদা১৮ মে ২০১৪, ০১:১৯

বিভিন্ন জনের কথা জানলাম। ভাল লাগলো। কয়েকজনকে চিন্তে পারি নাই। সেটা আমার ব্যর্থতা। ধন্যবাদ মঈনুল ভাই।
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১৮ মে ২০১৪, ০৬:২৭

অনেক আগের ব্লগার আছেন কয়েকজন।
প্রাসঙ্গিকতার বিচারে তাদের লেখাগুলো আমার কাছে দরকারী মনে হয়েছে।মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ, মেজদা

missildhakaভোরের মিছিল১৮ মে ২০১৪, ০১:২৪

ভাল লাগলো
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১৮ মে ২০১৪, ০৬:২৭

ধন্যবাদ, ভোরের মিছিল
lnjesminলুৎফুন নাহার জেসমিন১৮ মে ২০১৪, ০১:২৯

বেশ কিছু পোস্ট আগেই পড়েছিলাম । আজ আবার একটু করে উকি দিয়ে এলাম । না পড়াগুলো পড়ে ফেলতে হবে খুব তাড়াতাড়ি ।
এমন অসাধারণ আর সময়সাপেক্ষ চিন্তা মাথায় এনে তা আবার প্রকাশ করার সময় পান কিভাবে ? আসলেই যারা গুণী তারা সবদিকেই তার ছাপ রাখে । শুধু আমার মত বে গুণীরা চেয়ে চেয়ে দেখে আর অবাক হয় ।আর বেশি কিছু কইতে পারুম না । আমার স্টক অল্প থাকে আপ্নে জানেন । এই নিয়ে এক মজার ঘটনা বলি । আমাদের এখানে এক ভাবীর( পলাশের কলিগ ) বিদায় উপলক্ষে আমরা সবাই মিলে একসাথে হলাম । ভাবী চলে যাচ্ছে তাই সবাই তাকে উদ্দেশ্য করে কিছু কথা বলছিলেন । দুই তিনজন বলার পর আমার পালা এলো । আমি অল্প কথার মানুষ । দুই লাইন বলেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পুরো অনুষ্ঠান থামিয়ে দিলাম । এরপর আর বেশিক্ষণ কথা চলে নি । কিন্তু আমার ঐ দুই লাইন সবাইকে আবেগাক্রান্ত করে দিল ।

ওরে বাবা অনেক কথা বলা হয়ে গেল । ভাল থাইকেন

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১৮ মে ২০১৪, ০৬:২৯

হাহাহা, অনেক তো বলে দিলেন জেসমিন আপা। আপনার মন্তব্য সম্পর্কে যা বলার আলাদাভাবে একদিন বলেছি।মজার ঘটনাটি সত্যিই মজার…. বক্তব্য কত দীর্ঘ তাতে কিছু যায় আসে না, সেটি তাৎপর্যপূর্ণ হলেই হলো

আপনি ঠিক সেরকম একজন ব্লগার।

অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা

Hafizplpহাফিজুল ইসলাম১৮ মে ২০১৪, ০২:০৮

এইসব ঘোড়ার ডিম না কইরা যা করলে সমাজের কোন কামে লাগে হেইডা করতে পারেন না? মানুষের মধ্যে কোন রকম সচেতনতা ছড়াইতে পারেন না? বড় একখান পোস্ট দিছেন তাতে আবার এত্ত প্রশংসা! ভাই, ব্লগটারে খাজুইরা আলাপের আর গুছানো কিছু মিষ্টি কথার বিতরণের স্থান না বানাইয়া পারলে কামের কাম কিছু করেন। বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার প্রকৃতি তুইলা ধরেন, সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেন নইলে সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে মিষ্টির মাঝে যেমনে ওষুধ খাওয়ায়- তেমনে সচেতনতা তৈরি করার চেষ্টা করেন।
আর সহজ বাংলায় মন্তব্য করলে কি মাইনষের কষ্ট হয়? “ভালোলাগা রেখে গেলাম, শুভেচ্ছা শতত, পাশে রইলাম” এইসব আঁতেল মার্কা কথা বাদ দিয়া লেখার ব্যাপারে সরাসরি মন্তব্য করতে পারেন না? লেখার মান বা লেখার বিষয়- এইসব নিয়া?
বহুত তো করছেন, এইবার ভণ্ডামি বাদ দেন। পাগলের বোর্ড বসাইছে একলগে। আর ব্লগরত্ন আবার কী? ফাইজলামির টাইটেল??
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১৮ মে ২০১৪, ০৬:৪৪

আপনার মনের কথা অবিকৃতভাবে প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি ভালো লেগেছে।মন্তব্য সম্পর্কে যা বলেছেন, সেটি আমারই কথা।

তাছাড়া অন্যান্য যা বললেন, তা অনেক ভারি এবং সিরিয়াস, কিন্তু অপ্রাসঙ্গিক। এটি তো একটি সংকলন।
আমি কেবলই একজন ব্লগার। লেখকও নই, সমাজ সংস্কারকও নই।

ভারি কথা লিখার আগে আমার পূর্বের লেখা ও মন্তব্যগুলোতে একটু চোখ বুলাতে পারতেন না, হাফিজুল ইসলাম?
অন্তত আমার নামটি লিখে সার্চ দিলেও তো বুঝতে পারতেন আপনার অভিযোগটুকু কতটুকু প্রাসঙ্গিক

হাফিজুল ইসলামকে অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা

neelsadhuনীল সাধু১৮ মে ২০১৪, ১৫:৩৩

হাফিজুল ইসলাম ভাই আপনি দড়ি ছিড়া কই থেইকা বাইর হইলেন?
কে ছাড়লো আপনারে?
এতো জ্ঞান নিয়ে সাগরে ঝাপ না দিয়ে ব্লগে কি করেন?

এমন বেয়াদপি মন্তব্য আমি অনেকদিন পর দেখলাম।
ভ্রাতা মাঈনউদ্দিন খুব ভদ্র এবং সজ্জন একজন মানুষ। তাই বেঁচে গেলেন। আমাদের হাতে পড়লেতো ভাই মাফ চাইয়া কুল পাইতেন না। আপনারে একটা উপদেশ দেই। দৌড়ের উপর থাকেন। নিজের চিন্তা করেন।
ইয়াহ নাফসি ইয়াহ নাফসি করেন।

আশা করি বুঝেছেন।
আপনার এমন অশালীন কুরুচিপুর্ন মন্তব্যের প্রতিবাদে আমার রুঢ মন্তব্য- মাঈনদ্দিন ভাই এর কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।

missildhakaভোরের মিছিল২০ মে ২০১৪, ০১:৪৫

Hafizplp
হাফিজুল ইসলাম
১৮ মে ২০১৪, ০২:০৮
এইসব ঘোড়ার ডিম না কইরা যা করলে সমাজের কোন কামে লাগে হেইডা করতে পারেন না? মানুষের মধ্যে কোন রকম সচেতনতা ছড়াইতে পারেন না? বড় একখান পোস্ট দিছেন তাতে আবার এত্ত প্রশংসা! ভাই, ব্লগটারে খাজুইরা আলাপের আর গুছানো কিছু মিষ্টি কথার বিতরণের স্থান না বানাইয়া পারলে কামের কাম কিছু করেন। বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার প্রকৃতি তুইলা ধরেন, সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেন নইলে সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে মিষ্টির মাঝে যেমনে ওষুধ খাওয়ায়- তেমনে সচেতনতা তৈরি করার চেষ্টা করেন।
আর সহজ বাংলায় মন্তব্য করলে কি মাইনষের কষ্ট হয়? “ভালোলাগা রেখে গেলাম, শুভেচ্ছা শতত, পাশে রইলাম” এইসব আঁতেল মার্কা কথা বাদ দিয়া লেখার ব্যাপারে সরাসরি মন্তব্য করতে পারেন না? লেখার মান বা লেখার বিষয়- এইসব নিয়া?
বহুত তো করছেন, এইবার ভণ্ডামি বাদ দেন। পাগলের বোর্ড বসাইছে একলগে। আর ব্লগরত্ন আবার কী? ফাইজলামির টাইটেল??
এই সব সবুজ ঘাস খোর পুলা পাইন পাইলে চটকায়তে মন চায়

দেখেন এই জ্ঞানীর অবস্থা

অবস্থানDhaka
ব্লগে আছেন৩ বছর, ৮ মাস, ১ দিন, ১ ঘন্টা, ৫৬ মিনিট
সর্বমোট পোস্ট৫৮ টি
সর্বমোট মন্তব্য৮১ টি

Hafizplpহাফিজুল ইসলাম২৮ মে ২০১৪, ২০:১০

ক্যান নীলসাধু সাহেব, কলিজায় লাগলো সত্যকথাগুলান? আর আপনে নিজেই তো বেশি পণ্ডিত। আর আপনের কাছে মাপ চাইতাম মানে? আপনে তো মিয়া একটা চামচা। চামচামির বাইরে কিছু বুঝেন নাকি পারেন? সারদিন তো শুধু আজাইরা লেখা লেইখাই কাম সারেন।
আর শোনেন, বলদামি সবার লগে করন ঠিক না। আমি আপনার মত চামচামি পছন্দ করি না আর করিও না। বুঝছেন? আপনি না কইছেন আমি বেয়াদব? আমি মনে করি আপনি একখান আসল আঁতেল। আর মনে রাইখেন, দেশে ব্লগ কিন্তু একটা না।
Hafizplpহাফিজুল ইসলাম২৮ মে ২০১৪, ২০:১৩

ভোরের মিছিল, আপনি আবার কে ভাই? আমি ব্লগে কয়দিন আছি আর কয়টা মন্তব্য করছি তাতে আপনার কী? আপনি নিজের পথ দেখেন।
আর চটকাইতে মন চায়? তাইলে চটকানোর বহুত কিছু আছে, দরকারে নিজের কান চটকান।
আর আতলামি না কইরা থাকতে কী খুব কষ্ট লাগে?? নাকি চুলকায়??
kamaluddinকামাল উদ্দিন১৮ মে ২০১৪, ০৭:২৫

ব্লগ ও ব্লগারদের নিয়ে আপনার এমন গবেষণা সত্যিই প্রশংসার দাবীদার। আমি সব সময় হালকা ব্লগিং করি, আমার মাঝে কখনো আপনাদের মতো গভীরতা খুজে পাবেন না, কারণ সবাকে দিয়ে সব কিছু হয়না। ধন্যবাদ মইনুল ভাই।………………………………………………………………………………………………………………..
(ব্লগের ট্যুরিস্ট ব্লগার কামাল উদ্দিন ভাইয়ের একটি জনপ্রিয় আয়োজন এটি।)

আমি নিজেকে কখনো টুরিষ্ট ব্লগার বলতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করি না, আমি আমাকে ট্রাভেলার ব্লগার হিসাবেই ভাবতে চাই।

এবার দেখে নেই টুরিষ্ট আর ট্রাভেলারের পার্থক্য
টুরিস্ট আসলে কারা? টুরিস্ট হচ্ছে, অবকাশ যাপন আর সাথে বিনোদনের জন্য যারা ছুটিতে ঘুরতে বেড়োয়। টুরিস্টদের সাথে থাকে কাঁধে ঝুলানো ক্যামেরা, জামা কাপড়ে ফিটফাট-কেতারদুস্তর। বেড়ানোর জায়গাগুলো হয় বিখ্যাত সব স্থান অথবা স্থাপনা। টুরিস্টরা তাদের নির্দিষ্ট সময়ের ফ্রেমে বন্দী হয়ে একটি সীমাবদ্ধ গণ্ডীতে আনন্দ খুঁজে বেড়ায়। এরা ফিটফাট বাবু সেজে স্থান অথবা স্থাপনা’র সামনে পোজ দিয়ে ছবি তুলতে ব্যাস্ত থাকে ভ্রমণের স্মৃতিচিহ্ন (নাকি প্রমাণ) ধরে রাখতে। টুরিস্টরা ব্যাস্ত থাকে ভালো মানের হোটেলে থাকা, আরামদায়ক যানে ভ্রমণ আর সাথে সুস্বাদু লোভনীয় মুখরোচক খাবারের স্বাদ নেয়ায়।

ট্রাভেলার

১. ট্র্যাভেলার সবসময় যে কোন পরিস্থিতিতে নিজের মত করে খাপ খাইয়ে নেয়। একজন টুরিস্ট প্ল্যান মোতাবেক ঘুরে বেড়ায়, কিন্তু ট্র্যাভেলারের স্বাতন্ত্র্য হল সে প্রতিনিয়ত প্ল্যান আপডেট করতে থাকে সময়ের দাবী মেনে।

২. টুরিস্ট মাত্রই যে কাজটি বেশী করে তা হল, সব দর্শনীয় স্থান কাভার করতে হবে, তাই মিনিট পাঁচেকের জন্য হলেও সেখানে যেতে হবেই। কিন্তু একজন ট্র্যাভেলারের কাছে স্থান বা স্থাপনার কাভারেজ সংখ্যা মুখ্য নয়। মুখ্য সেগুলোর পরিপূর্ণ রূপসুধা পান করতে সক্ষম হওয়া।
৩. ছোট ছোট সেই সব বিষয়ে লক্ষ্য করা যা সাধারণত চোখ এড়িয়ে যায়।
৪. পায়ে হেটে অথবা সাইকেলে বা লোকাল পরিবহণে করে ভ্রমণের স্থানের চারিপাশ, লোকালয়, জনবসতি ঘুরে দেখা।
৫. খুব বিখ্যাত নয়, সচরাচর কেউ তেমন একটা বেড়াতে যায় না এমন জায়গাগুলোতে ভ্রমণে বের হওয়া।

এক কথায়, বেড়াতে গিয়ে যারা টুরিস্টদের থেকে দূরে পালিয়ে যান, তারাই ট্রাভেলার!

ANIKA2012আমির হোসেন১৮ মে ২০১৪, ০৯:৩৩

কামাল ভাই টুরিষ্ট ও ট্রাভেলার জটিল সংজ্ঞা দিয়েছেন।
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১৮ মে ২০১৪, ১৯:২৩

প্রিয় কামাল উদ্দিন ভাই, ‘লেখার বিষয়’ নিয়ে নয় কিন্তু আপনার ‘উপাধিটি’ নিয়ে এত দীর্ঘ একটি মন্তব্য দিলেন – মজা পেলাম! কিন্তু একটু বিশ্লেষণ যদি না করি, তাহলে ট্যুরিজম সম্পর্কে আপনার অভিজ্ঞতার প্রতি অবিচার হবে। না হলে পাবলিক ব্লগে সাধারণ পাঠক বিভ্রান্ত হবেন। প্রথমেই আপনাকে অভিনন্দন জানাতে চাই, কারণ আমার লেখায় মন্তব্য দিয়ে আজ আপনি দু’টি রেকর্ড করে ফেলেছেন।

প্রথম রেকর্ড: আমার লেখায় সবচেয়ে দীর্ঘ মন্তব্যটি আজ দিলেন; দ্বিতীয় রেকর্ড – আমার লেখায় প্রথম স্ববিরোধী মন্তব্যটিও আজই দিলেন!

আপনি হালকা ব্লগিং করেন এবং সেখানে গভীরতা পাওয়া যাবে না – এটি আপনার কথা। কিন্তু ভ্রমণ বিষয়ে আজ এতো গভীর মন্তব্য দিলেন যে, শুধুমাত্র ভ্রমণ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরাই এর তাৎপর্য বুঝার চেষ্টা করবে। অতএব আপনি যে প্রকৃতপক্ষে হালকা ব্লগিং করেন না, তা একই মন্তব্যে ফুটে ওঠলো।

আপনি নিজেকে ‘ট্রাভেলার’ ভাবতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তাতে আমার কোন আপত্তি নেই। আপনার যুক্তিতেও দ্বিমত নেই। কিন্তু ট্যুরিস্ট বলে আপনাকে আমি ছোট করি নি, বরং অপেক্ষাকৃত বড় উপাধিটিই আপনাকে দিয়েছি।

ট্রাভেলার শব্দটি ট্যুরিস্ট-এর একটি বিশেষায়িত নাম। যেমন: মেডিসিন স্পেশালিস্ট ‘ডাক্তার’-এর বিশেষায়িত নাম।কোন দেশে ট্রাভেলার শিল্প নেই – আছে ট্যুরিজম বা পর্যটন শিল্প। তাতে ট্রাভেলাররা অপমানিত হন না। ট্যুরিজম/ট্যুরিস্ট-এর মধ্যে ট্রাভেলার এবং ট্যুরিস্ট উভয়ই আছে।

যারা ভ্রমণ করেন, ছবি তুলেন, সাংস্কৃতিক বা ভৌগলিক বৈচিত্র নিয়ে দেশ-দেশান্তরে স্থান-স্থানান্তরে যান, তারা স্থানীয়/আন্তর্জাতিকভাবে পর্যটক/ট্যুরিস্ট হিসেবে পরিচিত, ট্রাভেলার হিসেবে নয়।

এবার ট্যুরিস্ট এবং ট্রাভেলারের আভিধানিক অর্থটি দেখুন: tourist> যে ব্যক্তি travel করে, বিশেষত আনন্দের জন্য। traveler> ব্যক্তি বা বস্তু, যা travel করে। এই অর্থ কিন্তু আমার বানানো নয়। শুধু ট্রাভেল শক্তটিকে আমি বাংলায় অনুবাদ করি নি। শব্দগুলো ডিকশনারি ডট কমে গিয়ে পেস্ট করলেই পেয়ে যাবেন।

ভ্রমণকে আপনি ভালোবাসেন। তাই এরজন্য আলাদা আবেগ, আলাদা কিছু ব্যাখ্যা আপনার থাকতেই পারে। আপনার সেই জায়গাটিতে আমি সবসময় শ্রদ্ধা জানিয়েছি এবং জানাবো। কিন্তু আপনার দেওয়া পার্থক্যে আমি একমত হতে পারলাম না, কিন্তু আপনার উপস্থাপনায় মুগ্ধ হয়েছি।

আমার কোথাও ভুল হলে আপনি কিন্তু সংশোধন করে দেবেন। ভ্রমণ বিষয়ে এত গভীরভাবে আমি ভাবতে পারি না। সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় না – আপনিই তো বললেন!

আপনার দীর্ঘ মন্তব্যের জন্য অশেষ ধন্যবাদ।

ভালো থাকবেন ফটো ভাই….

kamaluddinকামাল উদ্দিন২০ মে ২০১৪, ০৭:৩১

ডিকশনারী আমাকে মাইর দিয়ে দিয়েছে, এবার দেখলেন আমার ব্লগিং হালকা না পাতলা
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২০ মে ২০১৪, ১৯:০৯

শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানবেন, প্রিয় ফটো ভাই
nuru07নূর মোহাম্মদ নূরু১৮ মে ২০১৪, ০৯:৩২

অনেক যত্ন নিয়ে, অনেক খাটুনির
অনেক গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট।
আশা করি
যারা গবেষণাধর্মী কাজের সাথে সম্পৃক্ত
তাদের উপকারে আসবে।
ধন্যবাদ মাইনুল ভাই
আপনার অসাধারণ
লেখার জন্য।
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১৮ মে ২০১৪, ১৯:২৪

নূরু ভাইকে অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা
ssangrammগোলাম মোস্তফা১৮ মে ২০১৪, ১৫:১০

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১৮ মে ২০১৪, ১৯:২৫

সংগ্রাম ভাইকে একরাশ ভালোবাসা
Ami123আমি..১৮ মে ২০১৪, ১৭:৪৬

সঞ্চালক ভাই,সালাম, আমি “আমি মেজদা” নাম নিয়ে লেখা লেখি করতে চাই। এটার সাথে আমার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। প্রথম আলো ব্লগে আমি নতুন। শুরুতেই এরকম একটি ধাক্কা খেয়ে আমি হতাশ। -আমি কালপুরুষ- যদি কালপুরুষ নামের সাথে লেখালেখি করতে পারে তবে আমি নই কেণ? এখানে সকলের স্বাধীনতা রয়েছে। প্রথম আলো মুক্ত স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আপনি আমার পূর্বের নামটি ফিরিয়ে দিন। এটা ব্লগারদের প্রতি জুলুম। আমার নাম ঠিক করে না দেয়া পর্যন্ত আমি আন্দোলন চালিয়ে যাব। ইশ্বর আমার সাথে আছেন।

আমি মেজদা

khalidumarখালিদ উমর১৮ মে ২০১৪, ১৮:০৪

কেমন আছেন মইনুল ভাই?
অসাধারণ একটা বিশ্লেসনি প্রবন্ধ লিখেছেন। একেবারে বাস্তব চিত্র এঁকেছেন। বোঝাই যাই অনেক দিন ধরে পর্যবেক্ষনের ফল।
ভাল থাকুন। ধন্যবাদ।
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১৮ মে ২০১৪, ১৯:২৬

হাই… খালিদ উমর ভাই! ভালো আছি ভাই
আপনি ভালো তো?বেশি কিছু করি নি ভাই, প্রিয় তালিকা থেকে কপি এবং পেস্ট

আন্তরিক মন্তব্যের জন্য অশেষ ধন্যবাদ। আপনিও ভালো থাকুন

PARVESহাসান পারভেজ১৮ মে ২০১৪, ১৯:৩৮

অামার মত নতুন ব্লগকর্মীর জন্য এটা নিশ্চয়ই দরকারী পোস্ট। তাই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা মাঈন ভাইকে।
প্রিয়তে যুক্ত হ’ল।
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২০ মে ২০১৪, ১৯:১০


‘ব্লগকর্মী’
ভালো বলেছেন….

অনেক ধন্যবাদ, প্রিয় হাসান পারভেন

mukto75মুক্তমন৭৫২২ মে ২০১৪, ১৭:১৯

অনেকদিন পর প্রিয় মাঈনউদ্দিন মইনুল ভাইকে ব্লগে লিখছি।
ফেসবুকে না গেলে জানতেও পারতাম না আপনার এত সুন্দর পোষ্ট এর কথা, যেখানে আমার নিজের লেখাও একটা পোষ্ট দেখতে পারছি।যাহোক, কর্মক্ষেত্রের প্রচন্ড চাপে এবং সেই সংগে অনিয়মিত নেট কানেকশনের জন্য বেশ কঠিনভাবেই বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছি আপনাদের থেকে।

তবে চেষ্টা থাকবে যখনই নেট পাবো, অন্তত হাই হ্যালো বলে যাবো

শুভকামনা রইলো। ভালো থাকবেন।

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২২ মে ২০১৪, ২১:৩৪

আমিও অনেক দিন পর প্রিয় মুক্তমন৭৫ ভাইকে ব্লগে পেয়েছি।
আপনি যে ব্লগের গুরুত্বপূর্ণ এক ব্লগার ছিলেন, তা অনুপস্থিতিতে বুঝেছি।
বুঝার পালা শেষ। এবার ফিরে আসুন ভাই… নেট পেলেই যেন একবার ঢু মারেন….অনেক শুভেচ্ছা…
সমুদ্রনিবাসে ভালো থাকা হোক… প্রিয় নাবিক

mukto75মুক্তমন৭৫২৩ মে ২০১৪, ০২:২৬

অবশ্যই প্রিয় মঈন ভাই।আমিও খুব মিস করি আপনাকে সহ সহ ব্লগার সকলকেই।

নেট পেলেই পাশে পাবেন ফ্রি সময় গুলোতে।

ভালো থাকবেন।

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২৩ মে ২০১৪, ০৮:২৮

আপনাকে দেখে মনে পড়লো, ব্লগারদের কলকাকলিতে কত গরম ছিলো প্রথম আলো ব্লগ

Shimi12ফেরদৌসী বেগম (শিল্পী)০৯ জুন ২০১৪, ০৮:২৯

আপনার ব্যক্তিগত প্রিয় তালিকার পোস্টগুলো নিয়ে এই সংকলনে লেখা আপনার মূল্যবান কথাগুলো পড়ে খুবই ভালো লাগলো এবং চুম্বক অংশটুকু পড়ে অনেক কিছু জানা হলো। আপনাদের মত গুণীজনেরাই পারেন সেরা/প্রিয় পোষ্টগুলো সঠিক মূল্যায়ন করতে। আপনার প্রিয় পোষ্টগুলো শেয়ার করার জন্য এবং আমাদেরও দেখার সৌভাগ্য করে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ মইনুল ভাইকে। আপনাকে সহ আপনার প্রিয় পোষ্টের লেখকদের জন্যও রইলো অনাবিল শুভেচ্ছা।

অন্যের লেখায় ভুল ধরবো, নাকি ধরবো না…?

11111

ব্লগিং নিয়ে আমার কিছু প্যাচাল

 

[   নভেম্বর ৯, ২০১৪   ৬:০২ অপরাহ্ন   ৯০টি মন্তব্য]

 

১) নতুন-পুরাতন, নবীন-প্রবীণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পেশাদার-অপেশাদার, লেখক-পাঠক, রসিক-সমঝদার, সমাজদার সকলের সমাবেশ এই কমিউনিটি ব্লগ। ‘দৃশ্যমান সমাজের’ (virtual society) বৈশিষ্ট্য নিয়ে এব্লগে সহাবস্থান করছেন সব রকমের এবং সব বয়সের লেখক ও পাঠক। পথ, মত ও আদর্শের ভিন্নতার মধ্যেই একটি পাবলিক ব্লগের সৌন্দর্য্য। কিন্ত এসৌন্দর্য্যকে অক্ষুণ্ন রাখার কাজে প্রধান সহায়ক হলেন সহব্লগাররা।

.

ভাষাগত ভুল ধরা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ কর্ম। এধরণের ভুলগুলো অনেক সময় আপেক্ষিকও – আমার কাছে যা ভুল, অন্যের কাছে তা সঠিক। একটি প্রতিষ্ঠিত দৈনিক পত্রিকা যাকে লিখছে ‘ইতোমধ্যে’ সকলে সেটিকে দিব্বি ‘ইতিমধ্যে’ লেখে যাচ্ছেন। আমি ভাবতাম ‘ঐকমত্য’, কিন্তু প্রতিষ্ঠিত লেখকরা এটিকে ভুল না বললেও তাদের লেখায় ‘ঐক্যমত্য’ লেখে যাচ্ছেন। ‘সম্মানকে’ অধিকাংশ মানুষ ‘সন্মান’ লেখছে এবং বলছেও। বড় বড় সমঝদার ব্যক্তি আজকাল ‘সন্মান’ বলেন। বিখ্যাতে লেখকরা আত্মাকে লেখছেন ‘আত্না’, সত্ত্বাকে সত্বা, দ্বন্দ্বকে দ্বন্ধ ইত্যাদি। একে বলে আগ্রাসন – ভাষার নীতিতে বিদ্রোহ। ‘আগ্রাসন’ হলো ভাষা বদল বা বহমানতার একটি বড় কারণ। বেশির ভাগ সময়েই ‘আগ্রাসন’ হয় না জানা এবং না মানার কারণে। ‘আমি মানলাম না আপনার ভাষারীতি, হয়েছে?’ এভাবে ‘অবাধ্য ভাষাভাষীদের’ সংখ্যা অধিক হলে এবং কয়েকটি প্রজন্ম অতিক্রম করলেই সেটি অবধারিতভাবে অভিধানে ওঠবে।

.

অনেকেই অভিধান আর ব্যাকরণের কথা বলেন। ব্যাকরণের গায়ে জোয়ালি রেখে তারা অন্যদের চর্চিত ভাষার ক্ষেত্রে আরামে মই দেন। ব্যাকরণ আর অভিধান কুরানের (বাইবেলের/ গীতার/ ত্রিপিটকের) বাণী নয়। অভিধানের কথা বলি: অভিধান সঠিক শব্দটি বলার জন্য নয়, সকল প্রচলিত শব্দকে তালিকাবদ্ধ করার জন্য। ব্যাকরণের কথা বলি: এর প্রধান কাজ মানুষের ভাষাকে শুদ্ধ করা নয়, মানুষের প্রচলিত ভাষাকে শ্রেণীবদ্ধ ও গ্রন্থবদ্ধ করে তা প্রজন্মের জন্য ব্যবহার-উপযোগী করা। আজকের ‘মাইরালা আমারে’ হয়তো একদিন অভিধানে ওঠবে, সেদিন আমরা থাকি বা না থাকি। অভিধানের শব্দটি হলো একদল মানুষের সুচিন্তিত এবং আলোচনাপ্রসূত সংজ্ঞা। একে ‘অর্থ’ বলাটাও সেটি আপেক্ষিক। আকাশ থেকে এসে পড়ে নি। ফলে সেটি অকাট্য বা অলঙ্ঘনীয় নয়।

.

.

.

২) ভুল ধরবো কার? তিনি কি আমার সংশোধন গ্রহণ করবেন? বা সেটি গ্রহণ করার অবস্থানে আছেন? তিনি কোন্ কিবোর্ড ব্যবহার করেন, এর ওপরও অনেকটা নির্ভর করে, তার ভুলটি ইচ্ছাকৃত কিনা। তাছাড়া আছে বয়সের ব্যাপার; সামর্থ্যের ব্যাপার। লেখকের নামটি দেখলেই কিন্তু বুঝা যায় না, লেখক কোন্ স্তরের। বুঝা যায় না, তিনি কোন্ বয়সের। দেখা যাবে যে, ‘পরিমিত ভাষাজ্ঞান’ অর্জনের সময়ই লেখকের হয় নি, অথবা পেশাগত কারণে সেদিকে বেশিদূর হাঁটতে পারেন নি। কিন্তু আমি একটি তুচ্ছ ভুল ধরে, তার লেখার স্পৃহাকে নষ্ট করে দিলাম অথবা আত্মবিশ্বাসকে বেলুনের মতো ফুটো করে দিলাম।

.

ভুল ধরা এক বিষয়, আর নিজের পাণ্ডিত্য জাহির করা ভিন্ন বিষয়। সামান্য বানান বা ভাষার ভুলের জন্য বিশাল বড় যুক্তি দেবার প্রয়োজন আছে কিনা, মাঝে মাঝে ভাবি। রূপক উপমা ভাষাগত ভুল থাকলে, বা লেখার মধ্যে পরস্পর-বিরোধী বিষয় থাকলে, সেটি যদি উপযুক্তভাবে উপস্থাপন করা না যায়, তবে নিরবে এড়িয়ে যাওয়াই অনেক সময় ভালো মনে হয়। পর্যাপ্ত দৃষ্টান্ত ও ব্যাখ্যা সহকারে এর মূল্যায়ন করা যায়, যেখানে থাকবে লেখার সবল এবং দুর্বল দিকের ভারসাম্যপূর্ণ আলোচনা

.

রাজনৈতিক তথ্য, দেশের মৌলিক ইতিহাস, সামাজিক মূল্যবোধ ইত্যাদি বিষয়ে লেখকের অনিচ্ছাকৃত ভুল থাকলে, সেক্ষেত্রে ভুল সংশোধন সুযোগ সৃষ্টি হয়।

.

কিন্তু আমি সত্যিই ভুলটি ধরবো কি না, সেটা নির্ভর করছে বেশ কিছু পরিস্থিতির ওপর। যথা:
• ভুল বা নেতিবাচক বিষয়টি সব দৃষ্টিকোণ থেকে যথার্থ কিনা
• লেখকের সাথে সম্পর্ক বা বোঝাপড়া
• লেখক কতটুকু বুঝতে পারবেন, সেই সম্ভাবনা
• লেখক নিজেই সেটি সংশোধন করবেন কিনা, সেই পরিস্থিতি
• ভুলটি পাঠকের দৃষ্টিভঙ্গিকে ভুলপথে পরিচালিত করার আশঙ্কা আছে কিনা ইত্যাদি

আমরা কেউই সর্বজ্ঞ যেমন নই, তেমনই সকলেই পেশাদার ক্রিটিকও নই। তাই সাহিত্য-বিষয়ক ভুল থাকলে, সেখানে ভারসাম্যপূর্ণ মূল্যায়ন থাকতে হবে। শুধু ভুল দেখালে সেটি একপেশে হয়ে যায়।

.

বিশাল বড় ভুল না হলে এবং তা লেখার মেসেজকে বদলে না দিলে প্রথমত না ধরাই শ্রেয়, যদি সেরকম বোঝাপড়া না থাকে লেখকের সাথে।

.

তারপরও পাবলিক ব্লগ হিসেবে যদি ভুল ধরতেই হয়, সেখানে যেন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধটুকু থাকে। যিনি একটু বেশি জানেন, তাকে এ-ও প্রমাণ করতে হবে যে, তার জ্ঞান তাকে বিনয়ী করতে পেরেছে। প্রকৃত জ্ঞানের মানে যেহেতু ‘নিজের অজ্ঞনতার পরিমাপ’ সেহেতু জ্ঞানের প্রথম বহিঃপ্রকাশ হলো বিনয়ে।

.
.

.

৩) আমি খুব চাই, পাঠক আমার লেখার প্রতি ক্রিটিকেল হোক। অনেক লেখার নিচে ‘নির্দয় সমালোচনা’ করার জন্য একটি নিমন্ত্রণপত্রও জুড়ে দেই। কিন্তু অনেকেই সেরকম মন্তব্য করেন না। এপর্যন্ত যারা করেছেন, তারা আমার খুবই আপনজন এবং ঘনিষ্ট ব্লগার। বুঝা গেলো, আপনজনই কেবল সংশোধনের কথা বলেন। এতে পুরোনো একটি বিশ্বাসই আরও দৃঢ় হচ্ছে। তা হলো, যারা ভুল ধরিয়ে দেন, তারা লেখকের উপকারই করেন। যারা নেতিবাচক দিক নিয়ে আলোচনা করেন, তারা গভীরভাবেই লেখাটি পড়েন।

.

বড় ভুল বড় পরিণতি ডেকে আনে। একটি প্রজন্মকে বিভ্রান্ত, সমাজকে বিপথে পরিচালিত করতে পারে। অন্যদেরকে বিভ্রান্ত করতে পারে এরকম লেখা পেলে, অরাজনৈতিক বিষয় হলে, সেসব লেখার প্রতিবাদ করেছি। লেখক যা-ই মনে করুন, সামাজিক ব্লগে এটি প্রতিটি ব্লগারের দায়িত্ব।

.

নেতিবাচক দিক নিয়েও আমি কিছু লেখায় মন্তব্যের মাধ্যমে জানিয়েছি। বেশ সোজাসুজিভাবেই তা করেছি। সৌভাগ্যবশত, আমার সাথে কারও সম্পর্ক নষ্ট হয় নি এবং আজ তারা আমার অনেক ভালো বন্ধু। এর কমপক্ষে দু’টি কারণ থাকতে পারে: ক) লেখক প্রাজ্ঞ এবং উন্নয়নকামী এবং/অথবা খ) আমার সাথে তার ভালো সম্পর্ক আছে। তাছাড়াও, সমালোচনাটি গ্রহণ করার জন্য লেখককে কমপক্ষে প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে।

.

সবশেষে কথা হলো, সমালোচনা যেন সত্যিই হয় ‘সম আলোচনা’: ইতিবাচক এবং নেতিবাচক বিষয়ের সুষম বিন্যাস। কারও দুর্বল দিকের উন্নয়ন করতে গিয়ে তা যেন ব্যক্তিগত রেষারেষিতে গিয়ে না ঠেকে। সমালোচনা হবে সাহিত্য সমালোচনা এবং যুক্তি ও মননশীলতার সুসমন্বয়।
.
.
.

——————-
পরিমার্জন ছাড়াই প্রকাশ করা হলো।

  • নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

    না জানা দোষের নয়
    তবে জানতে না চাওয়া ক্রাইম!
    সুতরাং ভুল ধরা বা শুধরে দেওয়া
    সকল সচেতন ব্লগার ও পাঠকের
    দ্বায়বদ্ধতা। সুতরাং ভুল ধরুন, শুধরে দিন,
    পরামর্শ সাদরে গ্রহীত হবে বলে আমার বিশ্বাস।
    ধন্যবাদ মইনুল ভাই।

  • ঘাস ফুল বলেছেন:

    পোস্ট পড়লাম মইনুল ভাই। কিন্তু মন্তব্যটা কী দেবো সেটা নিয়ে ভাবছি। কারণটা মনে হয় আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আপনারই কথা, বুদ্ধিমানের জন্য ইশারাই যথেষ্ট। আপাতত

    সঞ্চালককে পোস্টটা স্টিকি করার অনুরোধ করে গেলাম।

    পরে আবার বিস্তারিত মন্তব্য নিয়ে আসছি। আলোচনা সমালোচনা চলতে থাক (সম ভাবে)।

  • কামাল উদ্দিন বলেছেন:

    মইনুল ভাই, আমি গোবেচারা মানুষ……..জ্ঞাণী কথাগুলো আমার মাথায় ঢোকে কম। তবে আমি মনে করি, কেউ ভুল করলে অন্য কারো যদি সঠিকটা জানা থাকে তাকে সেটা জানানো উচিৎ, সেটা সে মানুক কিংবা না মানুক। তবে সবই হতে হবে মাধুর্য্যতা রক্ষাকরে, কারো মনে কষ্ট দিয়ে নয় (আমার এখানে কয়টা ভুল আছে সেটাও জানতে চাই)

  • আলভী বলেছেন:

    বানান ভীতির কারনেই লিখতে সাহস পাইনা!
    এখানে ক’টা ভুল করেছি মইনুল ভাই?

  • আলভী বলেছেন:

    ‘মাইরালা আমারে’ এটা দারুন লেগেছে আমার কাছে!

  • আলভী বলেছেন:

    ভুলের ভয়ে হয়না লেখা
    মনের ভিতর রাখি
    কেমন করে প্রকাশ করি
    লজ্জায় মরে আঁখি!

  • আলভী বলেছেন:

    সাহস দিলে লিখবো আবার
    নিজের মত করে
    আশা করছি ভুলগুলো সব
    দিবেন আপনি ধরে।

  • সুমন আহমেদ বলেছেন:

    শিরোনামে যে প্রশ্ন রেখেছেন তার উত্তর পোস্টেই আছে। খুব গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো এবং প্রাসঙ্গিক। মনে করি মন্তব্যে উপস্থাপনার ধরনের ওপর নির্ভর করে বিষয়টি। পাশাপাশি যে বিষয়গুলো স্মরণে রাখা ভালো বলে মনে করি –

    ১। উপযুক্ত যুক্তি বিনয়ের সাথে উপস্থাপন।
    ২। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে রেফারেন্স ব্যবহার।
    ৩। সমালোচনার প্রকৃত অর্থ বুঝে সমালোচনা করা।
    ৪। ভুলটাকে সরাসরি তুলে না ধরে ইঙ্গিতে কিংবা “এমন না হয়ে এমন হলে কি ভালো হয়?” -এভাবে বলা।

    ৫। পাঠক অথবা লেখকের যুক্তি যদি উভয়ের কাছে উপযুক্ত না মনে হয় তাহলে পুনরায় পারষ্পারিক যুক্তি তুলে ধরা। এটা না মনে করা আমি বললাম মানলো না! আর বলবো না।

    ৬। পরষ্পরে মন্তব্য আদান-প্রদানে শ্রদ্ধাবোধ রাখা।
    ৭। মন্তব্য গ্রহণ ও প্রদানের মানসিকতা থাকা।

    ৮। কোনো লেখকের লেখা প্রথম পাঠের সময় নিজের পাঠকযোগ্যতাকে উপযুক্তভাবে উপস্থাপনার মাধ্যমে লেখকের মনে একটি আস্থা তৈরি করে নেওয়া, যা থেকে লেখক পাঠকের জ্ঞানের পরিধি সম্পর্কে একটা ধারণা লাভ করবেন।

    ৯। লেখক-পাঠক উভয়ে পারষ্পারিক সু-সম্পর্ক তৈরি করে নেওয়া।
    ১০। পাণ্ডিত্য জাহির নয় উভয় উভয়কে সহযোগিতা করছি এই মনোভাব থেকে ব্লগিং করা।

    খুব দৃষ্টিকটু না হলে বানান ভুল না ধরাই ভালো (কেননা বানানরীতি নিয়ে মতপার্থক্য স্বয়ং ব্যাকরণবিদগণের মধ্যে) আবার লেখকেও সজাগ থাকা দরকার যে তিনি এমন এক স্থানে লেখছেন যেখানে, সব ধরনেরই পাঠক রয়েছেন। এ-ক্ষেত্রে লেখককে নিজেই নিজের লেখার সমালোচকের ভূমিকা নেওয়া অথবা লেখা পোস্ট করবার আগে এ-বিষয়ে তার চেয়ে ভালো জানা-শোনা আছে এমন কাউকে দিয়ে দেখিয়ে নিয়ে পোস্ট করা।

    লেখকে মনে রাখা একজন ভালো সমালোচক হচ্ছে তার প্রকৃতবন্ধু। সমালোচনার আড়ালে আসলে তিনি তাকে সতর্ক এবং সহযোগিতাই করে চলেছেন। আর একজন সমালোচকের মনে রাখা যে, তিনি যা বলছেন তা খুব ভেবে-চিন্তে বলছেন (ভুল ধরার ক্ষেত্রে) এবং সমালোচকের মতামত প্রতিষ্ঠা করার মতো উপযুক্ত যুক্তি তার রয়েছে।

    ব্লগিং শিখতে যেয়ে আমার এ-উপলব্ধিগুলো হয়েছে। আর আপনি যা বলেছেন তাতে শতভাগ সমর্থন রয়েছে।
    ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। ভালো থাকবেন।

    • মাঈনউদ্দিন মইনুল বলেছেন:

      সুমন আহমেদ ভাই, যথাযথ নির্দেশনা দিয়ে যেমন ভুল সংশোধনের বিষয়টিকে স্পস্ট করেছেন, তেমনি লেখাটিকে দিয়েছেন সমৃদ্ধি।

      আপনার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

      শুভেচ্ছা জানবেন………

  • রোদের ছায়া বলেছেন:

    খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ের অবতারণা করেছেন দেখে ভাল লাগল। আপনার এই পোস্ট পড়ে আগামীতে হয়ত কারো লেখায় ভুল ধরতে গেলে সেটা যতোই আন্তরিক ভাবেই হোক না কেন, কিছুক্ষণ ভাবতে হবে। তবে আমার লেখায় সবাইকে ভুল ধরার অবাধ স্বাধীনতা দেয়া হোল।

  • মেজদা বলেছেন:

    এটা তো ভুল ধরা না, এটা সংশোধন করে দেওয়া। যত পারেন আমাকে সংশোধন করে দিন, মাইন্ড খাবো না। এ আমার প্রমিজ ও প্রতিজ্ঞা।

  • জেসমিন বলেছেন:

    কি বলবো বুঝতে পারছি না । অনেকদিন কিছু না বলার অভ্যাস , যেটুকু বলার ছিল তাও খুঁজে পাচ্ছি না । যাই হোক , পড়ে নিজের যেটুকু নেওয়ার সেটুকু নিয়ে নিলাম ।
    বাকি কথা পরে

  • এটা তো ভুল ধরা না, এটা সংশোধন করে দেওয়া। যত পারেন আমাকে সংশোধন করে দিন, মাইন্ড খাবো না। এ আমার প্রমিজ ও প্রতিজ্ঞা।

  • এনামুল হক মানিক বলেছেন:

    আমি মেজদার সাথে একমত । শুভেচ্ছা সবাইকে ।

  • ফেরদৌসা রুহি বলেছেন:

    আপনার এই পোস্ট পড়ার সময় আকিফ তার পড়া নিয়ে এসে বলে ”মা আমার পড়া ধরেন”। আমি বললাম ”আমি খুব ইম্পরট্যান্ট একটা লেখা পড়ছি, এখন ডিস্টার্ব করবেনা”।
    এবার বুঝেন কত গুরুত্ব দিয়ে পড়লাম।
    আপনার প্রতিটা কথার সাথেই একমত তাই আর কিছু কইলামনা ।

  • সোহেল আহমেদ বলেছেন:

    “আজকের ‘মাইরালা আমারে’ হয়তো একদিন অভিধানে ওঠবে, সেদিন আমরা থাকি বা না থাকি। অভিধানের শব্দটি হলো একদল মানুষের সুচিন্তিত এবং আলোচনাপ্রসূত সংজ্ঞা। একে ‘অর্থ’ বলাটাও সেটি আপেক্ষিক। আকাশ থেকে এসে পড়ে নি। ফলে সেটি অকাট্য বা অলঙ্ঘনীয় নয়।”
    =====================
    সুন্দর বলেছেন। হয়তো তা হবে। আমরা আজ যেভাবে লিখি, বঙ্কিম আমলে এ লেখা সাহিত্যে দুরস্ত হতো না। আর অভিধান নিয়ে আপনার ব্যাখ্যাও যুক্তিগ্রাহ্য।

  • রব্বানী চৌধুরী বলেছেন:

    অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানবেন মইনল ভাই।

    যারা ব্লগে লিখেন তাদের জন্য একটি গুরুত্ব পূর্ণ লেখা, আমি মনে হয় একটি ব্লগের কথা জানি যেখানে সামান্য বানানের ভুল খুব বড় করে দেখা হয়, ফলে ব্লগটি এখন দৈউলিয়া দশায় পড়েছে, লেখার মান রাখতে গিয়ে ব্লগ যদি লেখক শূণ্য হয়ে পড়ে বা ভুল বানানের কারনে বা ভয়ে লেখক যদি লেখায় ইতি টানে তবে সেটা সুখকর উন্নতি নয় যদিও আমার এই মতামতটি বাংলা সাহিত্যের বেলায় একটি কু-ফল দিক।

    তবে সবার সঠিক বানানে সঠিক ভাষায় লেখা উচিত, বাবানে বা ভাষায় ঘাটতি থাকলে তা উন্নতি করা দরকার আর যিনি সাহিত্যিক হবে তিনি তো সাহিত্যে অনেক জ্ঞানের অধিকারী হবেনই।

    ঘুড়িতে এক জন লেখক একটি লেখা লিখলেন একজন পাঠক তা পড়ে শুধু মন্তব্য করলেন সৃতি বানানটি ভুল সঠিক হবে স্মৃতি, এমন মন্তব্য কাম্য নয়। পাঠকের উচিত অনেক দক্ষতায় লেখকের ভুলটি তুলে ধরা। তা ছাড়া প্রযুক্তির নানান লেখার অপসনের কারণে অনেকে সঠিক অক্ষর ফুটিয়ে তুলতে পারেন না।

    অনেক অনেক শুভেচ্ছা মইনুল ভাই।

    • মাঈনউদ্দিন মইনুল বলেছেন:

      রব্বানী ভাইয়ের পর্যবেক্ষণটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

      ভাষাগত শুদ্ধতা যেন আমাদের মানবিক শুদ্ধতাকে অতিক্রম না করে ফেলে।

      সুন্দর মন্তব্য দিয়ে আলোচনায় যুক্ত হবার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

  • ঘাস ফুল বলেছেন:

    আলোচনা, সমালোচনা, গঠনমূলক, বিশ্লেষণ, পর্যালোচনা এগুলো সবই প্রকারন্তে একসূত্রে বাঁধা, যা ব্লগিং এর ক্ষেত্রে অপরিহার্য। বিশেষ করে বাংলা ব্লগিং এর ক্ষেত্রে। কারণ বাংলা ব্লগিং এখন আর ব্যক্তিগত ব্লগিং এর পর্যায়ে পরে না। এটা সাহিত্য চর্চার বিকল্প মাধ্যম হিসাবে ইতিমধ্যেই সুপ্রতিষ্ঠিত। এটা বললেও মনে হয় অত্যুক্তি হবে না যে, বাংলা ব্লগিং এখন বাংলা সাহিত্যের মূল ধারার সাথে সমান্তরালভাবে এগিয়ে চলছে। যার প্রমাণ হিসাবে বই মেলায় ব্লগারদের প্রকাশিত বইয়ের তালিকাই যথেষ্ট, যেখানে ব্লগগুলো সরাসরিও অংশগ্রহণ করছে। তাই ব্লগে প্রকাশিত পোস্টের ওপর আলোচনা ও সমালোচনা সবই হওয়া উচিৎ এবং এগুলো সবাইকে ইতিবাচক হিসাবেই গ্রহণ করা উচিৎ এবং এগুলো গ্রহণের মন মানসিকতাও আমাদের মধ্যে গড়ে উঠা উচিৎ। যদি সেটা করতে আমরা ব্যর্থ হই, তবে বাংলা ব্লগিং একদিন হয়তো হারিয়ে যাবে কিংবা সাহিত্য চর্চার মাধ্যম হিসাবে আর পরিগণিত হবে না, যা আমাদের জন্য সুখকরও হবে না বলে আমি বিশ্বাস করি।

    আপনি নিজেই যথেষ্ট সুন্দর করে এবং গুছিয়ে লিখেছেন, সেখানে সংযোজন খুব একটা জরুরী নয়। পাশাপাশি সুমন ভাইও চমৎকার একটা মন্তব্য দিয়ে আপনার পোস্টকে ইতিমধ্যেই বেশ বিস্তৃত করে দিয়েছেন। যা অনুধাবন এবং প্রয়োগ করতে পারলেই আপনার পোস্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যটা পূরণ হয়ে যাবে।
    আপনি নিজেই আমার পোস্টের মন্তব্যে বলেছিলেন, আজকাল প্রমাণ ছাড়া কেউ কিছু মেনে নিতে চায় না। তাই কিছুটা প্রমাণ দেয়ার চেষ্টা করছি কেবল।
    আপনি বলেছেন, “ভুল ধরা এক বিষয়, আর নিজের পাণ্ডিত্য জাহির করা ভিন্ন বিষয়।” সুমন ভাই একই কথাকে একটু ভিন্নভাবে বলেছেন। তিনি বলেছেন, “পাণ্ডিত্য জাহির নয় উভয় উভয়কে সহযোগিতা করছি এই মনোভাব থেকে ব্লগিং করা।”
    আপনাদের দু’জনেই যথার্থ বলেছেন। যদি আমরা পাণ্ডিত্য জাহিরের চেষ্টা করি, তখন নিজেদের মধ্যে জেতার একটা প্রবণতা তৈরি হবে। যা লেখক এবং পাঠকের জন্য কখনই সুখকর হবে না। বরং পরস্পর দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হবে, যা পরস্পরের সম্পর্কের অবনতি ঘটাবে। এটা কখনোই আমাদের কাম্য না। আলোচনা হওয়া উচিৎ পরস্পরের উন্নতির জন্য, বিজয়ের জন্য নয়। এই প্রসঙ্গে ফরাসী লেখক Joseph Joubert এর একটা উক্তি উল্লেখ করা যেতে পারে। তিনি বলেছেন, “The aim of argument, or of discussion, should not be victory, but progress.”
    আলোচনার মাধ্যমে আমাদের মধ্যে পারস্পারিক জ্ঞানের বিনিময় হয়, আর বিতর্কে হয় অজ্ঞতা বিনিময়। এই জন্যই অ্যামেরিকান সাংবাদিক Robert Quillen বলেছেন, “Discussion is an exchange of knowledge; an argument an exchange of ignorance.”
    আলোচনা যেমন সাহিত্যের ক্ষেত্রে কিংবা অন্য যেকোনো ব্যাপারেই অগ্রগতিতে ভুমিকা রাখে, সমালোচনাও ঠিক তাই করে। কখনো কখনো সমালোচনা বড় কোন ভুলের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করে। সমূহ বিপদের আগেই আমাদের সতর্ক করে দেয়। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Winston Churchill তাই যথার্থই বলেছেন, “Criticism may not be agreeable, but it is necessary. It fulfils the same function as pain in the human body. It calls attention to an unhealthy state of things.”
    অ্যামেরিকান পাদ্রি Norman Vincent Peale যা বলেছেন, সেটা সমালোচনাকে গ্রহণ করার মানসিকতাকে নিঃসন্দেহে আরও বাড়িয়ে দেবে। তিনি বলেছেন, “The trouble with most of us is that we would rather be ruined by praise than saved by criticism.”
    তবে যারা আমরা কোন মতেই সমালোচনাকে সহ্য করতে রাজি নই, তাদের জন্য অ্যামেরিকান লেখক Elbert Hubbard খুব সুন্দর উপায় বাৎলে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “To avoid criticism, do nothing, say nothing, and be nothing.”
    আর কী অনেক হয়ে গেলো বোধ হয়! দুঃখিত। আপনার পোস্ট এবং সুমন ভাইয়ের মন্তব্য দুইয়ে মিলে যা আছে, যা আমাদের বুঝার জন্য এবং অনুধাবনের জন্য যথেষ্ট। দায়িত্বটা এখন আমাদের ওপর। আমরা কীভাবে আপনার পোস্ট এবং সুমন ভাইয়ের মন্তব্যটা গ্রহণ করছি এবং কীভাবে এটা নিজেদের মধ্যে প্রয়োগ করছি।
    অনেক ধন্যবাদ মইনুল ভাই। আপনার পোস্ট আমাদের সবার চোখ খুলে দিক। তবে হয়তো ব্লগিংটা সবার কাছে উপভোগ্য হয়ে উঠবে, যা আমাদের বাংলা সাহিত্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বহুদূর। ব্লগিং তখন অমরত্ব পেয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

    • মাঈনউদ্দিন মইনুল বলেছেন:

      //আলোচনা হলো জ্ঞানের বিনিময়, বিবাদ হলো অজ্ঞানতার বিনিময়//
      -হাহাহা! দারুণ উদ্ধৃতি।

      //বাংলা ব্লগিং এখন বাংলা সাহিত্যের মূল ধারার সাথে সমান্তরালভাবে এগিয়ে চলছে। যার প্রমাণ হিসাবে বই মেলায় ব্লগারদের প্রকাশিত বইয়ের তালিকাই যথেষ্ট, যেখানে ব্লগগুলো সরাসরিও অংশগ্রহণ করছে। তাই ব্লগে প্রকাশিত পোস্টের ওপর আলোচনা ও সমালোচনা সবই হওয়া উচিৎ এবং এগুলো সবাইকে ইতিবাচক হিসাবেই গ্রহণ করা উচিৎ এবং এগুলো গ্রহণের মন মানসিকতাও আমাদের মধ্যে গড়ে উঠা উচিৎ।//
      -চমৎকার সংযুক্তি!

      বিশাল বড় মন্তব্যটি যেন ভারসাম্যপূর্ণ মন্তব্য প্রদানে সকলকে প্রেরণা দেয়।

      আপনার সুচিন্তিত মন্তব্য সবসময় আমাকে উৎসাহ যোগায়, ঘাসফুল।
      ভালো থাকবেন……….

  • কে এম রাকিব বলেছেন:

    সমালোচনা হবে সাহিত্য সমালোচনা এবং যুক্তি ও মননশীলতার সুসমন্বয়।
    সুন্দর আলোচনা করেছেন। প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো ধারাবাহিকভাবে সাজিয়েছেন।

    সমালোচককে আমি আমার প্রকৃত বন্ধু মনে করি। কারণ আমি তো জানি যা লিখি কিছু হয় না। কিন্তু কিছু সমালোচক ব্লগারের কাছ থেকে যা আমি শিখতে পেরেছি( যদিও আমার ব্লগিং লাইফ অল্পদিনের) তাকে অমূল্য মনে করি।

    ## পোস্টটিকে স্টিকি করতে সঞ্চালককে অনুরোধ করছি।

    শুভেচ্ছা ও ভালবাসা জানুন মাঈনউদ্দিন মইনুল ভাই।

  • সোহেল আহমেদ বলেছেন:

    তারপরও পাবলিক ব্লগ হিসেবে যদি ভুল ধরতেই হয়, সেখানে যেন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধটুকু থাকে। যিনি একটু বেশি জানেন, তাকে এ-ও প্রমাণ করতে হবে যে, তার জ্ঞান তাকে বিনয়ী করতে পেরেছে। প্রকৃত জ্ঞানের মানে যেহেতু ‘নিজের অজ্ঞনতার পরিমাপ’ সেহেতু জ্ঞানের প্রথম বহিঃপ্রকাশ হলো বিনয়ে।
    =============================
    পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধটুকু খুব জরুরী। অনেকসময় ভুলটা একটু কৌশলে ঠিক করে দেয়া যায় । ভুল শব্দটার শুদ্ধ ব্যবহার করে একটা মন্তব্য করা বা অন্য ভাবেও করা যেতে পারে। আজকের দিনে, শিক্ষকগণও বন্ধুর মতো।

    অনেক ধন্যবাদ প্রিয় মইনুল ভাই

  • এম এ কাশেম বলেছেন:

    সহমত মাইনুল ভাই

    শুভেচ্ছা নেবেন।

  • হামিদ বলেছেন:

    আপনার সুচিন্তিত পোস্টে অকৃত্রিম সহমত ………………..

    ভুল যে ধরল তার এটিচিউড একটি বড় ফ্যাক্টর। এক জায়গায় আমি অনেক চেষ্টা করেও কীবোর্ডের সমস্যার কারণে রেফ দিতে পারছিলাম না। এখন একজন যদি আমাকে বলে:

    কী লেখেন এসব। আগে ভাষা শিখে তারপর লেখেন – তাকে আমি কষে গালি দিবই দিব।

    আমি ছাত্র জীবনে একটা প্রকাশনায় কাজ করতাম। যত বড় লেখকই হোক না কেন পান্ডুলিপিতে অসংখ্য বানান ভুল থাকবেই। এমন না যে লেখক বানান জানেন না। পান্ডুলিপি লেখার সময় বানানের লেখার ভাবের দিকে মন বেশি নিবদ্ধ থাকে। ব্লগ এখনকার ব্লগ লেখাটা পান্ডুলিপির জায়গায় ধরতে হবে। এখানে বানান ভুল ধরার কছিু নাই। যখন দরকার হবে ঠিক করে নয়ো যাবে। বানান সম্পর্কে কেউ অসচেতন নয় বা এটা এমন বিদ্যা নয় যে কেবল পন্ডিতগণ পারবেন। বরং পন্ডিতদের বানান ঠিক করার জন্য প্রেসে প্রূফরিডার রাখতে হয় যারা একটি ছোট্ট রচনা লেখারও যোগ্য নয়।

    সবচেয়ে বড় কথা আমি বাজি ধরে বলতে পারি যারা অন্যের বানান ভুল ধরে খুব ভাব নেয় তাদেরকে ইন্সট্যান্ট একটা পেজ অভিধান না দেখে লেখতে দেন দেখবেন বানান ভুলে তারাও এভারেজদের কাতারে।

    • মাঈনউদ্দিন মইনুল বলেছেন:

      //ভুল যে ধরল তার এটিচিউড একটি বড় ফ্যাক্টর।//

      হুম। এর অনুপস্থিতি দেখে মাঝে মাঝে নিজেই লজ্জা পাই।

      অভিধান কীভাবে লেখককে অচল করে দেয় দেখুন: একজন বাঙলার প্রফেসরকে আমি দেখেছি একটি বাক্য লেখতে অন্তত তিনবার অভিধান বের করতে।

      শুভেচ্ছা জানবেন, হামিদ ভাই।

  • হামিদ বলেছেন:

    এ পোস্টটি স্টিকি করলে ভাল হয় ।

  • তাপসকিরণ রায় বলেছেন:

    বেশী না লিখে আমি শুধু ঘাস ফুলের মন্তব্যের সামান্য অংশ তুলে দিলামঃ
    আপনি(লেখক)নিজেই যথেষ্ট সুন্দর করে এবং গুছিয়ে লিখেছেন, সেখানে সংযোজন খুব একটা জরুরী নয়। পাশাপাশি সুমন ভাইও চমৎকার একটা মন্তব্য দিয়ে আপনার পোস্টকে ইতিমধ্যেই বেশ বিস্তৃত করে দিয়েছেন। যা অনুধাবন এবং প্রয়োগ করতে পারলেই আপনার পোস্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যটা পূরণ হয়ে যাবে।
    ধন্যবাদ।

  • আমির হোসেন বলেছেন:

    পাণ্ডিত্য জাহির নয় উভয় উভয়কে সহযোগিতা করছি এই মনোভাব নিয়ে ভুল ধরিয়ে দিতে পারেন। সেটা বানান হোক বা বাক্য হোক। অনেক সময় টাইপ মিসিং হয়। পাঠক যদি বিনয়ের সাথে সেই ভুলটা ধরিয়ে দেয় তাহলে লেখক বুঝতে পারবে তার কি ধরনের ভুল হয়েছে। টাইপ মিসিং নাকি সঠিক বানান না জানার ভুল। অনেকে আছে নিজের পাণ্ডিত্য জাহির করার জন্য সবার লেখাতেই বানান ভুল ধরে থাকেন। যে বানানটাকে সারা জীবন যিনি শুদ্ধ জেনে আসছেন সে বানানটাকে তিনি ভুল বলছেন। এটা মোটেও উচিত নয়।

  • প্রহেলিকা বলেছেন:

    চমৎকার একটি বিষয় নিয়ে লিখেছেন, আপনি বলেছেন “দেখা যাবে যে, ‘পরিমিত ভাষাজ্ঞান’ অর্জনের সময়ই লেখকের হয় নি, অথবা পেশাগত কারণে সেদিকে বেশিদূর হাঁটতে পারেন নি। কিন্তু আমি একটি তুচ্ছ ভুল ধরে, তার লেখার স্পৃহাকে নষ্ট করে দিলাম অথবা আত্মবিশ্বাসকে বেলুনের মতো ফুটো করে দিলাম।”

    আপনার এই কথা বলার পর আর কোন কিছুই বলার থাকে না কারণ আপনি শেকড় পর্যন্ত পৌঁছে গেছেন। সম্পূর্ণ সহমত আপনার সাথে। পারষ্পারিক সহযোগিতার আবডালে একটি লেখকের (হোক সে আনাড়ি) স্পৃহা যাতে নষ্ট না হয়ে যায় সেই দিকে নজর রাখাটা অনেক প্রয়োজন। অনেক সময় টাইপিং জাতীয় একটি ভুলের জন্য অনেকে কটুবাক্য ছুড়ে দেন যা ঠিক না। কিছুদিন পূর্বে এক ব্লগারের একটি লেখায় কিছু বানান ভুলের কারণে এক বিশিষ্ট পণ্ডিত মন্তব্য করলেন যে, “আপনার ভুল বানান দেখে আমি অনেক বিরক্ত হয়েছি, আপনার লজ্জা হওয়া উচিত।” সেদিন থেকে সেই সদ্য কলম ধরা লেখকের লেখা আর পোষ্ট হয়নি কোন ব্লগেই। ফেবুতে ব্যক্তিগতভাবে তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে উত্তর দিলো, ” ভাই আমার পিসি নেই মোবাইল থেকেই পোষ্ট লিখি ব্লগে পোষ্ট করি, তাই অনেক জানা বানানও ভুল হয়। নিজের কাছেই লজ্জা লাগে।” লক্ষ্য করলে দেখবেন মোবাইল থেকে “দূর” আর “দুর” এই দুটোর মাঝে পার্থক্য জুম করে না দেখলে খুঁজে পাওয়া যায় না। কোন পণ্ডিতের একটি কটুমন্তব্য একজন উঠতি লেখকের জন্য বিপদজনক মনে হয়।

    হ্যা আমার নিজেরও অনেক অনেক বানান ভুল হয় তাই বলে যদি কটুকথা শুনতে হয় তাহলে আমার এসবের দরকার নেই। তবে এটি আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে যে একজন লেখক কখনোই ইচ্ছেকৃতভাবে বানানভুল করে না।

    আপনাকে অনেক ধন্যবাদ শ্রদ্ধেয় পোষ্টির জন্য। অনেক ভালো থাকুন।

    • মাঈনউদ্দিন মইনুল বলেছেন:

      কটুকথা ছাড়া অনেকে জানেনও না! এ হলো আমাদের দৈন্যতা।

      আপনার দৃষ্টান্তগুলো পড়লাম।

      ব্লগে নবীন লেখক বেশি। তাই মন্তব্য করা উচিত দায়িত্বের সাথে।

      আমারও বানান ভুল হয়। এলেখায়ও বেশি কিছু ভুল হয়তো পাবেন।

      প্রাসঙ্গিক দৃষ্টান্ত দিয়ে আলোচনায় যুক্ত হবার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, প্রহেলিকা:)

      শুভেচ্ছা জানবেন!

  • হামিদ বলেছেন:

    ১. বানান ভুল ধরার কিছু নাই। এটা যখন প্রয়োজন হবে লেখক নিজেই সময় করে দেখে ঠিক করে নিতে পারবেন।

    ২. বিতর্কিত বানানের ক্ষেত্রে নিজের মতটা চাপিয়ে দিতে চেষ্টা করা একটা সভ্যতা বিবর্জিত কাজ।

    ৩. হ্যাঁ, যাদের সাথে ব্যাক্তিগত ভাল সম্পর্ক্ আছে তাদের বানানাট ঠিক করে দেয়াই যায়।

  • নীলসাধু বলেছেন:

    শুভেচ্ছা সুপ্রিয় ভ্রাতা!

    পোষ্টটি নিঃসন্দেহে মূল্যবান। ওজনদার অনেক কথা আছে পোষ্টে।
    সহ ব্লগারদের চমৎকার অংশগ্রহণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য আরও বেশী মূল্যবান।
    একটি পোষ্ট সবাই আগ্রহ নিয়ে পড়লে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মন্তব্য আদান প্রদান করলে সেই পোষ্টটি সত্যিকার অর্থে সফল এবং স্বার্থক হয়ে উঠে- এই পোষ্টটি তার প্রমাণ।
    ব্লগিং তখন শুধু নিছক ব্লগিং থাকে না হয়ে উঠে তার চেয়ে কিছুটা বেশী।

    শুভেচ্ছা নিরন্তর জানবেন।
    পোষ্ট
    মন্তব্যে ভুল ধরা বা
    কিভাবে কি করা যায়
    কি করলে ভালো হবে সে সব আলাপে গেলাম না।
    আমি এসব এড়িয়ে চলি ভ্রাতা!;);)

  • একজন প্রকৃত লেখকের কাজ নিজের লেখালেখি করা। অন্যের খুঁত খোঁজা নয়।
    চলমান সময়ের অনেকেই বানান বিষয়ে অর্ধজ্ঞাত- না হয় অজ্ঞ। এরা অভিধান দেখেন
    না। দৌড়ের উপ্রে কবি লেখক বনে যেতে চান। তাই তাদের লেখা নিয়ে মন্তব‌্য করাও
    কঠিন কাজ। এদের অনেকেই পড়াশোনা করেন না। কবিতার,সাহিত্যের,গদ্যের বিবর্তন
    কীভাবে হচ্ছে- তা তারা জানেন না, জানতে চান না।
    এই অবস্থায়, কেউ টিউটোরিয়াল খুলে কি কাউকে শিখাতে পারবেন ? না পারবেন না ।
    যদি নিজে কেউ অধ্যবসায়ী না হয়, অন্য কেউ কাউকে কিছু গিলাতে পারবে না।
    শুভেচ্ছা সবাইকে।

  • আরজু মুন জারিন বলেছেন:

    অসাধারন পোষ্ট।আপনি সবসময় গুরুত্বপূর্ণ পোষ্ট করেন।আপনি নিখূত বানান,শব্দের প্রয়োগে দক্ষ।আপনি ভূল ধরে দিলে বা শুদ্ধ করিয়ে দিলে কেও কিছু মনে করবেনা মইনুল ভাই।আমরা আপনার আন্তরিকতা টুকু বুঝতে পারি।

    আমার লেখা দিয়ে শুরু করুন।আমার বানানে সবাই ভূল ধরে।আপনি এখন ও ধরেন নি।আমার একটা প্রবলেম হচ্ছে ইদানীং বানানে।বানান ভূলে যাচ্ছি মনে হয়।লজ্জা!!

    চমৎকার পোষ্টটিতে কোটি কোটি লাইক।

    শুভেচ্ছা রইল।ভাল থাকবেন।

  • এই মেঘ এই রোদ্দুর বলেছেন:

    ১০২ বার ভুল ধরবেন ভুল না ধরলে শিখুম ক্যামনে।

    অসাধারণ পোষ্ট অনেক ভাল লাগা

  • আমার ভুল কেউ ধরলে আমি খুশি হই বা হবো। শুভেচ্ছা মইনুল ভাই।

    • মাঈনউদ্দিন মইনুল বলেছেন:

      ভাইজান…. ধরার মতো ভুল ক’জনের হয়?
      তাছাড়া, সেরকমের ভুল বুঝতেও কিছু তাকত লাগে, যেটা আমার মতো অনেকেরই নাই।

      কিন্তু ‘ভুল’ বিষয়ে আপনার উদারতায় আমি আনন্দিত….
      মালেক জমাদ্দার ভাইকে অনেক ধন্যবাদ!

  • লিনা জামবিল বলেছেন:

    আমরা যারা লিখি পড়ি আর মন্তব্য করি আমাদের মানসিকতা এমন হওয়া উচিত যে আমার ভুল যত ধরিয়ে দিবে তত আমি ভুল আর করবোনা ভবিষ্যতে। সচেতনের মাত্র বেড়ে যাবে তবে এখানে যে ইস্যুগুলো তুলে ধরা হয়েছে সেটা খুবই জরুরী ইস্যু — অনেক তথ্যবহুল আর শেখারও –অনেক অনেক শুভেচ্ছা

  • রুদ্র আমিন বলেছেন:

    অন্যের কথা বলতে পারি না, অনেকে এটা সহজে গ্রহণ করে না কিন্তু আমি মূর্খ মানুষ আমি শিখতে চাই। আমি নিজের কথা বলতে পারি শুধুই। আমার লেখা ভুল থাকলে সেগুলো ধরিয়ে দিলে আমি উপকৃত হবো ভাই। আমি শিখতে চাই।
    অতীতের ভুলগুলো আজ শুধুই তাড়া করে
    সময় আর নেই,
    অতীত তাই বর্তমানকে ধিক্কার জানায় আপন মনে
    আরও আপনাকে হারাই।

  • মাহমুদ০০৭ বলেছেন:

    সবকিছু ডেল কার্নেগী স্টাইলে হ্যান্ডল করতে হবে;)
    পোস্টের সাথে একমত ।
    ভাল থাকবেন প্রিয় মাইনুল ভাই:)

  • কামরুন্নাহার বলেছেন:

    আপনার মূল্যবান এই লেখাটির প্রতিটি চরণই উদ্ধৃত করার দাবি রাখে। ///ভুল ধরবো
    নাকি ধরবো না?/// আপনার এই প্রশ্নের পরে, দয়া কর আপনি আবারো প্রশ্ন রাখুন,” সংশোধিত ভুল গ্রহনের মানষিকতা আছে কি নেই?”

    নীল সাধু ভাই-এর কল্যাণে গত দু’বছরে “প্রিয় চিঠি আয়োজনের”- মাধ্যমে অনেক শিক্ষা হয়েছে আমার। একজন প্রতিষ্ঠিত ব্লগার/লেখকের সাধারন একটি ভুল সংশোধন করেছিলাম। তাও করতাম না, যদি না তিনি সে ভুল আবারো না করতেন। একটি শব্দ তিনি তিন/চার বার ব্যবহার করেছিলেন, যার প্রতিটাই ভুল ছিল। বার্তার মাধ্যমে তাঁকে আমি জানিয়েছিলাম এবং তাও প্রতিষ্ঠিত আরেক লেখকের উক্তি দিয়ে। তার জবাবে তিনি মূল পোষ্টেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।

    তাই ভুল শংশোধন আর আমাকে দিয়ে হবে না (আমার থলিতেই ভুলের বেড়ালের অবাধ বিচরন)।

========================================================

লেখাটি ঘুড়ি ব্লগ থেকে সরাসরি স্থানা্ন্তরিত।

========================================================

Blogging Ideas: ব্লগ লেখার কৌশল

ক] ব্লগ লেখার প্রচলিত বিষয়গুলো

————————————————————————————————————————————–

.

কী নিয়ে ব্লগ লিখবো, এটি একটি অবান্তর প্রশ্ন। বলা উচিত ‘কী উদ্দেশ্যে’ ব্লগিং করবো। উদ্দেশ্য ঠিক করা থাকলে, ব্লগিংএর বিষয় এমনিতেই চলে আসে। সৃজনশীল লেখক/ব্লগাররা তো লেখতে লেখতে আঙ্গুলে ব্যথা করে, তবু তাদের ভাবের নির্গমন শেষ হয় না। সহজ বিষয়ে গুরুগম্ভীর অনুচ্ছেদ না লিখে, সরল উপস্থাপনায় তুলে ধরলাম। উদ্দেশ্য: আড্ডার খোরাক যোগানো।

ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে লিখতে পারেন:

১) ব্যক্তিগত মূল্যবোধ: আপনি যা বিশ্বাস করেন বা মেনে চলেন

২) কোন স্মরণীয় ঘটনা, যা থেকে আপনি অনেক কিছু শিখেছেন, অনেক চেতনা পেয়েছেন

৩) আপনার অনাগত সন্তানকে লক্ষ্য করে একটি চিঠি লিখতে পারেন

৪) কোন খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করে থাকলে, সেটা কীভাবে ত্যাগ করতে পেরেছেন লিখতে পারেন

৫) বাল্যস্মৃতি বা ছোটকালের কোন স্মরণীয় ঘটনা বা দুর্ঘটনা

‘সেরা’ নিয়ে লিখুন: সেরা হয়ে যান

৬) আপনার দেখা সেরা সিনেমা অথবা আপনার পড়া সেরা বইটি/ ব্লগপোস্ট

৭) আপনার চোখে সেরা লেখক/রাজনীতিক/পেশাজীবি/শিক্ষক/ক্রিকেটার/ব্লগার ইত্যাদি

৮) আপনার অভিজ্ঞতায় সেরা অ্যাপস/ওয়েবসাইট/প্রযুক্তি ইত্যাদি

৯) সপ্তাহের আলোচিত সংবাদটি নিয়ে একটি বিশ্লেষণী মন্তব্য লিখতে পারেন

১০) পৃথিবীর সেরা ব্যক্তি/বিষয়টিকে কেন আপনার ‘সেরা’ মনে হয় না, তা নিয়ে লিখুন

.

.

সাক্ষাৎকার বা অনুসন্ধানী লেখা

১১) দেশের ‘পাগলাটে গার্মেন্টস শিল্পটিকে’ কীভাবে বাঁচানো যায়, তা নিয়ে অনুসন্ধান করুন

১২) বিশেষ পেশা বা ব্যতিক্রমী জীবনের কোন ব্যক্তির সঙ্গে অন্তরঙ্গ আলাপে লিপ্ত হোন

১৩) বাংলা ব্লগের সাথে অন্য কোন বিখ্যাত ভাষায় লিখিত পাবলিক ব্লগের সাথে তুলনা খুঁজুন

১৪) চল্লিশ-ঊর্ধ্ব এবং ষাটের নিচের বয়সী নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে কীভাবে সাক্ষরতা দান করা যায় প্রস্তাব লিখুন

১৫) পৃথিবীর উন্নত গণতন্ত্রের দেশগুলো নেতানেত্রীদের আচরণ ও রাজনৈতিক পরিবেশ অনুসন্ধান করে একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ হাজির করতে পারেন

সৃজনশীল লেখা

১৬) আপনার শিক্ষা/কর্মজীবনের মজাদার ব্যক্তিটিকে নিয়ে লিখুন

১৭) প্রবাস জীবনের ব্যতিক্রমী বিষয়গুলো যা স্বদেশে দুষ্প্রাপ্য/অকল্পনীয়

১৮) প্রবাস জীবনের হতাশাগুলো যা স্বদেশে থাকলে ভিন্নরকম হতো

১৯) ঘুনেধরা ও বিপদগ্রস্ত রাজনীতিকে উন্নয়নের দিশা দিন (তবে সাবধানে!)

২০) এসিডদগ্ধ মেয়ে বা অপহৃত শিশুর মানসিক যন্ত্রণাকে তুলে ধরে গল্প

…. এরকম চলতে থাকবে শত থেকে সহস্র পর্যন্ত, অথবা আরও দূরে!

ব্লগিং আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করতে করতে সমাজের অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতির বিষয় মনে পড়ে গেলো। আজ সব লিখলাম না। আমার মনে হয় এবিষয়ে আড্ডা হতে পারে সহব্লগারদের মধ্যে। তুমুল আড্ডা! ব্লগ পোস্ট হোক বা না হোক, কিছু প্রণিধানযোগ্য বিষয় ওঠে আসবে সকলের সামনে। এবিষয়ে আজ আর বেশি না বলে, সকলের ব্লগারের অংশগ্রহণ কামনা করছি।

.

.

.

খ] স্টিকি পোস্ট কীভাবে লেখবেন?

————————————————————————————————————————————–

.

একটি স্টিকি পোস্ট লেখতে খুব মুনচায়, যেমন মুনচায় রবীন্দ্র সঙ্গীত লেখতে! আইয়ুব আমলে দেশের সুশীল সমাজে রবি বাবুর প্রভাব ‘সইহো’ করতে না পেরে রবীন্দ্র সঙ্গীত লেখার জন্য চাপ আসে বাংলা একাডেমি’র ওপর। তখন জনৈক আব্দুল হাই সাহেব বিনম্র প্রতিবাদে জানালেন, “স্যার, রবীন্দ্র সঙ্গীত তো কেবল রবি বাবুই লেখতে পারবেন। আমি লেখলে তা হবে হাই সঙ্গীত।” স্টিকি পোস্ট লেখা আবার সেরকম কঠিন নয় – ব্লগের গতিধারা বুঝতে পারলে সকলেই তা লিখতে পারেন। অনেক ব্লগার আছেন, তারা নিয়মিত স্টিকি পোস্ট লিখে যাচ্ছেন! (অবশ্য সব লেখাই স্টিকি হয়না!) এখানে লেখকের স্বাধীনতা একটু খর্ব হয় বটে। তবু অনেকেই চান তার লেখাটি ব্লগের ব্যানারের নিচে শোভা পাক। মানসম্মত লেখা হলে গল্প-কবিতাও কি স্টিকি হয়না? হওয়া উচিত। কিন্তু লেখায় কী থাকলে সেই পোস্ট স্টিকি হবে?

প্রশ্ন হলো, ১) স্টিকি পোস্ট লেখবো, নাকি ২) নিজের মতোই লিখে যাবো, স্টিকি হোক বা না হোক?  নিজে দ্বিতীয় শ্রেণীর লেখক হবার কারণে ব্যক্তিগতভাবে আমি দ্বিতীয় তন্ত্রে বিশ্বাসী। তবু ‘প্রথম তন্ত্রে’ যারা একটু সময়ের জন্যও বিশ্বাস করেন, তাদের ‍বিষয়ে এই আলোচনা।

পোস্ট স্টিকি করা বা কোন ‘লেখা নিয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করার বিষয়টি’ অনেকাংশেই নির্ভর করে ব্লগ কর্তৃপক্ষের মন-মেজাজ এবং তাদের সম্পাদকীয় নীতিমালার ওপর। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দেশের অধিকাংশ ব্লগেই ‘পোস্ট দৃষ্টি আকর্ষণে নেবার জন্য’ কোন সু্স্পষ্ট/লিখিত নীতিমালা বা স্ট্যান্ডার্ড নেই। তারা অনেকাংশেই বিশেষ দিন,  বিশেষ ব্যক্তি এবং বিশেষ ঘটনাবলীর ওপর ভিত্তি করে লেখায় অনুমোদন দেন। এক্ষেত্রে হয় তারা ব্লগার বা পোস্টদাতা কর্তৃক প্রভাবিত হন, নয়তো নিজেদের খেয়াল-খুশি বা মুখ-চেনা লেখক দ্বারা পরিচালিত হন।

উপরোক্ত পরিস্থিতিতে কীভাবে ‘স্টিকি পোস্ট’ লেখা যায়, সে সম্পর্কে কিছু ‘মনগড়া’ আলোচনা করছি।পাঠক এখানে সম্পূর্ণ দ্বিধাহীনভাবে অংশ নিয়ে মন-খোলা মন্তব্য দিতে পারেন।

১) জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ দিন: এখানে খেয়াল রাখতে হবে দেশের চলমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে কোন্ দিকটি বেশি প্রাসঙ্গিক। অহেতুক তথ্যের পুনরাবৃত্তি কেউ পছন্দ করে না।

২) বিশেষ ব্যক্তির জন্ম/মৃত্যু দিবস: কোন খ্যাতিমান ব্যক্তির মৃত্যু হলে, তখন মৃত্যু দিবসটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মৃত ব্যক্তিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো হাস্যকর। তাদের জন্য শ্রদ্ধাঞ্জলি/ট্রিবিউট জানানোটাই বেশি প্রাসঙ্গিক।

৩) চলমান ঘটনাবলী নিয়ে বিশ্লেষণী লেখা: চলমান ঘটনাবলী নিয়ে বিশ্লেষণ করতে হলে যথেষ্ট পূর্বজ্ঞান থাকা চাই। খবরের কাগজ থেকে কপি-পেইস্ট করলে, সেই পোস্ট কিন্তু স্টিকি হবে না!

৪) চলমান রাজনৈতিক/সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক/রসাত্মক বস্তুনিষ্ট লেখা: রাজনৈতিক বিষয়ে লেখতে গেলে সাবধান! পর্যাপ্ত তথ্য, যুক্তি এবং ঐতিহাসিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে না পারলে ‘জীবনের মতো’ দাগি ব্লগারে রূপান্তরিত হতে হবে।

৫) ব্লগে গুরুত্বপ্রাপ্ত প্রকাশিত লেখাকে বিবেচনায় আনা: সংশ্লিষ্ট ব্লগে কোন্ ধরণের লেখাকে এপর্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, বা বেশি পড়া হয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করলে ফায়দা আছে বহুত!

.

.

লেখা স্টিকি করা বা নির্বাচিত কলামে নেবার বিষয়ে ব্লগ কর্তৃপক্ষ যা করতে পারেন

ক) কোন্ লেখা ব্লগ কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দেন তা সাধারণ ব্লগারদেরকে বুঝতে দেওয়া।

খ) নির্বাচিত কলামে লেখা দেবার বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকা এবং তা প্রকাশ করা।

গ) লেখা স্টিকি করার বিষয়ে যুক্তিসংগত নীতিমালা থাকা এবং তা প্রকাশ করা।

ঘ) মুখ চিনে মুগেরডাল না দেওয়া।

ঙ) নবীন লেখক বা নবাগত ব্লগারকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য ‘উদার’ নীতিমালা থাকা।

বাংলা ভাষায় এমন ব্লগও আছে, যেখানে সঞ্চালকের লেখাই স্টিকি হয়ে থাকে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে। নির্বাচিত কলামেও থাকে তারই লেখা, অথবা তার কোন নিকাটাত্মীয়ের। একটি ব্লগের চরিত্র এবং এর গতিপথকে বুঝতে পারা যায় তাদের ‘লেখা নির্বাচনের’ নমুনা দেখে। এসব বিষয়ে ব্লগ কর্তৃপক্ষ যত স্বচ্ছ হবে, ব্লগের এগিয়ে চলা হবে ততই মসৃণ। আমি মনে করি, লেখক সত্ত্বার বিকাশ ঘটে অন্তরে-সৃষ্ট প্রেরণা থেকে; কিন্তু ব্লগার সত্ত্বার সৃষ্টিতে সংশ্লিষ্ট ব্লগ কর্তৃপক্ষের কিছুটা হলেও অবদান থাকে – কম হলেও এর প্রভাব অপরিসীম।

.

.

.

————————————————————————————————————————————–

[ ব্লগ লেখার কৌশল সম্পর্কে আরও জানতে ]

*Serious Blogging: উত্তম ব্লগ পোস্ট তৈরিতে ৫টি প্রশ্ন

Serious-blogging-crop

মানুষের ভেতরের অংশটি যেমন কোমল, তেমনি স্পর্শকাতর – এটি সহজেই খুশি হয় আর সামান্য অবহেলায় হয়ে যায় হতাশ। কখনও পোস্ট দিয়ে হতাশ হয়েছেন কি? এমন কি কখনও হয়েছে যে, অনেক যত্ন করে একটি ব্লগ পোস্ট দিলেন, কিন্তু তাতে মাত্র দু’একটি রিসপন্স পেয়েছেন, অথবা একদমই কোন সাড়া মিলে নি? সাধারণভাবে বললে, বেশি রিসপন্স পাওয়া মানেই ভালো লেখা নয়। তবু অনলাইন লেখকেরা যেহেতু পাঠকের একদম কাছাকাছি অবস্থান করছেন, পাঠকের প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে লেখককে অনুপ্রাণিত করে।  ইন্টারএকটিভ পাঠকরা চান তাৎক্ষণিক উপকারিতা। তাই লেখায় ‘উপকার তত্ত্বকে’ খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। অন্য কথায় বলা যায়, একে এড়িয়ে চলা যায়, তবে অস্বীকার করা যায় না।

লেখার মান বৃদ্ধির জন্য ভবিষ্যতে মাত্র ৫টি প্রশ্ন করুন আপনার পরবর্তি পোস্টটি ‘পাবলিশ’ করার পূর্বে। কয়েকটি পোস্টে এরকমভাবে চেক করলে, পরবর্তিতে তা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে।

পোস্ট দেবার আগে ৫টি প্রশ্ন;

১) পোস্টটিতে একটি কেন্দ্রীয় বিষয় (key point) আছে কি না?

২) পোস্টের লেখা কীভাবে পাঠককে উপকৃত/বিনোদিত/আমোদিত করতে পারে, এবিষয়ে পর্যাপ্ত বিষয়বস্তু আছে কি না?

৩) পোস্টের লেখককে কতটুকু/কীভাবে উপকৃত করতে পারে, এবিষয়ে কোন নির্দেশনা আছে কি না?

৪) পোস্টে লেখা ও তথ্যের বিন্যাস (format) ঠিক আছে কি না?

৫) পোস্টের শিরোনামটি (title) পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো হয়েছে কি না?

.

প্রশ্নগুলো উত্তর যদি মোটামুটি ‘হাঁ’ হয়, তবে ধরে নেওয়া যায়, লেখাটি পাঠকের দৃষ্টিতে পড়বে। এখানে পাঠকের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। পোস্টদাতার প্রকার ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ি পাঠক তার লেখার মান যাচাই করবেন। পোস্টদাতাকে বিষয়গুলো বিবেচনায় আনতে হবে। ভালো লেখার ইচ্ছা থাকলে, সেটি একসময় আয়ত্তে আসেই। অনলাইন লেখক হিসেবে পরিপক্কতা অর্জন করলে স্বাভাবিকভাবেই কিছু কলা-কৌশল আয়ত্তে চলে আসে। বিষয়গুলোকে অভিজ্ঞ ব্লগাররা বিভিন্নভাবে দেখে থাকবেন। নিচে সংক্ষিপ্তভাবে কিছু ব্যাখ্যা দেওয়া হলো।

.

  • একটি কেন্দ্রীয় বিষয় থাকা/ key point: লেখার কেন্দ্রীয় বিষয় ঠিক রাখা আর ‘ঝড়োহাওয়ায় নাওয়ের বাদাম’ ঠিক রাখা একই কথা। দেখা গেলো লিখা শুরু করলেন এক বিষয় নিয়ে, আর লেখা চলতে থাকলো আরেক বিষয় নিয়ে, আবার লেখা শেষ হলো সম্পূর্ণ নতুন আরেকটি বিষয় নিয়ে। তাই কেন্দ্রে থাকার কাজটি কঠিন। আমি তো চিঠি লিখতে গিয়েই কেন্দ্রীয় বিষয় ধরে রাখতে পারি না! মন যে কোথায় গিয়ে ‘রঙের ঘোড়া’ দৌড়ায় তা বুঝা যায় না। মানুষের মনকে নিয়ন্ত্রণে রাখা বড়ই কঠিন কাজ। তবে লিখিতভাবে কোনকিছু প্রকাশ করতে গেলে কেন্দ্রীয় বিষয় একটি থাকা চাই। পাঠককে বিভ্রান্ত করে কী লাভ? প্রাসঙ্গিকভাবে অন্য বিষয় বা সাব-সেকশন থাকতে পারে, কিন্তু মূল বিষয় থাকা চাই একটি। কেন্দ্রীয় বিষয়টি নিয়েই তৈরি হয় লেখার শিরোনাম।
  • পাঠককে উপকৃত করতে পারা/ food for thought: এটি হলো ‘উপকার তত্ত্বের’ প্রথম ধাপ। ব্লগের ক্ষেত্রে এটি সর্বোচ্চ প্রযোজ্য। সৃজনশীল লেখায় এর ব্যতিক্রম হতে পারে। সাধারণ ব্লগিং ক্ষেত্রে উপকর তত্ত্বটি খেয়াল রাখা দরকার। নিজের চিন্তা ও জীবনাচারণের সরাসরি মার্কেটিং না করে পাঠকের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখা খুব জরুরি। পাঠক কীভাবে চায়, তাতে গুরুত্ব দিতে হবে। পাঠকের মনে কী প্রশ্নের উদ্রেক হতে পারে, লেখায় তার জবাব তুলে ধরতে হবে।
  • লেখকের নিজস্ব সুবিধা/ writer’s expression: পাঠকের উদ্দেশ্যে লেখা, তবু লেখকের একটি উদ্দেশ্য আছে। সেই উদ্দেশ্যের বাস্তবায়ন থাকতে হবে। এটি ‘উপকার তত্ত্বের’ দ্বিতীয় ধাপ। কেউ বলবেন এটিই প্রথম হওয়া উচিত। আমার দ্বিমত নেই। নিজের অনুভূতি, অভিজ্ঞতা, জীবনবোধকে প্রকাশ করে লেখক সেখানে আত্মতৃপ্তি লাভ করেন। অর্থ আসুক বা না আসুক, হৃদয় শুধু আনন্দ সাগরে ভাসুক। নতুবা তা হবে শুধুই সময় আর অর্থের অপচয়। পাঠকের কোন করণীয় থাকলে, তা অবশ্যই প্রাসঙ্গিক এবং উপযুক্ত ভাষায় উপস্থাপন করতে হবে।
  • লেখা ও তথ্যের বিন্যাস/ style and format: ছাপানো বই হলে কাজটি প্রেস-ওয়ালাই করতো, কিন্তু অনলাইন লেখককে খেয়াল রাখতে হবে, লেখাটি কমপিউটার স্ক্রিনে দেখতে কেমন দেখাবে। সাব-সেকশনগুলো আলাদাভাবে দেখানো হয়েছে কিনা, বোল্ড ইটালিক আন্ডারলাইন টিক আছে কিনা, উদ্ধৃতিগুলো দেখানো হয়েছে কিনা, ভাষার ব্যবহার এবং বানান ঠিক আছে কিনা, তথ্যসূত্র সঠিকভাবে দেখানো হয়েছে কিনা ইত্যাদি চেক করেই ‘পাবলিশ’ বাটনে চাপ দিতে হবে।
  • আকর্ষণীয় শিরোনাম/ good title: বিষয়টি কেন্দ্রীয় বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। লেখার শিরোনাম দেখেই পাঠক ঠিক করবেন, আপনার লেখাটি পড়বেন কি না। অতএব ভালোভাবে চিন্তা করে শিরোনাম নির্ধারণ করুন। লেখার সারবস্তুকে ধরে রাখে তার শিরোনাম – তা না হলে শুধুই বদনাম! শিরোনামকে তাই লেখার সংক্ষিপ্ত সারাংশও বলা চলে। তবে চটকদার শিরোনাম দিয়ে লেখায় তার প্রতিফলন রাখতে না পারলেও উল্টো ফল হয়।  ‘রাণী-কুঠির বাকি ইতিহাস…’ নামটির মধ্যে যেমন আছে আকর্ষন, তেমনি আছে লেখার সারবস্তুর প্রতি ইশারা। মানুষ সহজাতভাবেই বাকি ইতিহাস জানতে চাইবে। পাঠক এখানে ‘স্বামী কেন আসামি’ শিরোনামটিও নিয়ে আসতে পারেন। অথবা ‘আমি যেভাবে ফতুর হলাম…’ এরকম শিরোনামও কম আকর্ষণীয় নয়!

.

প্রিন্ট মাধ্যমের বিষয়টি আলাদা, কিন্তু অনলাইন লেখকের জন্য পাঠক-প্রিয়তা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা। লেখার মান ঠিক রাখার জন্য ‘পাঠকের দৃষ্টিকোণ থেকে’ নিজের ব্লগ পড়া এবং অন্যের ব্লগ দেখা একটি অতি প্রয়োজনীয় সুঅভ্যাস। লেখার তুলনায় পড়ার পরিমাণ কমপক্ষে দ্বিগুন হওয়া উচিত। পড়া ছাড়া লেখার মান বৃদ্ধি করার অন্য কোন উপায় আছে কি না, আমার জানা নেই।

.

মাত্র পাঁচটি বিষয়কে তুলে ধরা হলো। লেখার মান বৃদ্ধি করার জন্য আরও অনেক বিষয়ই থাকতে পারে। কেবল ব্রেইনস্টর্মিং করার জন্য চিন্তার খোরাক হিসেবে তুলে ধরা হলো। আমার চাওয়া হলো ‘পাঠকমুখী লেখার’ জন্য চিন্তার দোয়ার খুলে দেওয়া! তবে এসব বিষয়ে দরকার প্রচুর আড্ডা বা মতবিনিময়। যেমন: উপরোক্ত কোন্ বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, পাঠক তা তুলে ধরতে পারেন। অথবা, আরও কোন বিষয় মনে আসলে, তা মন্তব্যের ঘরে লিখে দিতে পারেন। তাতে ভবিষ্যতের জন্য এবিষয়ে আরও সমৃদ্ধ তথ্য সংগৃহীত হবে।

.

*পুনশ্চ: ১) আমি বলছি সিরিয়াস ব্লগিংয়ের কথা। ক্যাচাল, ফেইসবুকিং বা ‘বিনোদনী’ ব্লগিং সম্পর্কে এখানে কিছু বলা হয় নি। ২) ব্লগিং করে অনেকেই আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে, মান বৃদ্ধি করা এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আমাদের যুবসম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বর্তমান লেখাটিতে ‘পাঠকমুখী ব্লগিংকে’ বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

.

::::: ব্লগিং নিয়ে অন্যান্য লেখাগুলো:

১)) ৩৯টি ব্লগিং অভিজ্ঞতা

২)) অন্যের পোস্টে সৃজনশীল মন্তব্য দেবার ১০ উপায়

৩)) ২১ রকমের ব্লগার: ব্লগিংয়ের উদ্দেশ্য

৪)) আধুনিক ব্লগারদের ১০টি প্রিয় ভুল

৩৯টি ব্লগ অভিজ্ঞতা।

ব্লগিং নিয়ে আমার কিছু প্যাচাল

ব্লগিং নিয়ে আমার কিছু প্যাচাল

ব্লগিং একটি গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যম হিসেবে ইতিমধ্যে পাশ্চাত্যে প্রমাণিত হয়েছে, যেখানে লেখক বা সাংবাদিক মাত্রই রয়েছে একটি ব্যক্তিগত ব্লগসাইট। আমরাও পারি ব্লগিং দিয়ে দেশ ও আর সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে, যদি ইতিবাচক ব্লগিং-এ বিশ্বাস করে ভারচুয়াল সামাজিকতাকে সম্মান জানাই। যেহেতু লেখক না হয়েও ব্লগার হওয়া যায়, তাই এখানে, মানে সাইবার জগতে, লেখকের চেয়েও ব্লগার হবার প্রয়োজন সর্বাধিক। এজন্য চাই ব্লগারসুলভ আচরণ এবং ব্লগারের ব্যক্তিত্ব। উত্তম ব্লগিং নিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আর অনুসন্ধানের মিশ্রণে একটি তালিকা তৈরি করলাম, যাতে পাঠকেরা আরও কিছু যোগ করতে পারেন। আলোচনা-সমালোচনাও করতে পারেন। লেখাটির জন্য তীব্র সমালোচনা কাম্য!
.
আমার অর্জিত ৩৯টি ব্লগিং অভিজ্ঞতা: 

.

:::এক থেকে তেরো

১) উত্তম ভাবনায় উত্তম লেখা – নেতিবাচক ভাবনায় ধ্বংসাত্মক ব্লগিং
২) ভাষাগত শুদ্ধতা ব্লগারের স্ট্যান্ডার্ডকে উন্নত করে: তাই, যথাসম্ভব ভাষাগত ভুল এড়িয়ে চলা
৩) প্রচুর অন্যের ব্লগ পড়া এবং আন্তরিকভাবেই পড়া, অবশ্যই পছন্দমতো – নিজের পছন্দের বিপক্ষে যাবার প্রয়োজন নেই
৪) মন্তব্য দেবার সময় লেখকের উত্তম/ইতিবাচক দিকটিতে ফোকাস করা (একান্তই প্রয়োজন হলে, অন্য উপায়ে নেতিবাচক বলা)
৫) কারও উত্তম/ইতিবাচক বিষয় নিয়ে আলোচনা করলে, ইতিবাচক দিকের উন্নয়ন হয় আর নেতিবাচকতা খাটো হতে থাকে
৬) লেখার তাৎপর্য এবং ‘লেখাকে’ লক্ষ্য করে মন্তব্য দেওয়া (ব্যক্তিকে নয়)
৭) লেখা দিয়েই ব্লগারকে মূল্যায়ন করা, তার নাম ছবি সামাজিক পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়া
৮) লেখা সংক্ষিপ্ত হওয়ার চেয়েও বেশি প্রয়োজন লেখায় সারবস্তু থাকা, তবে অহেতুক দীর্ঘ করার প্রয়োজন নেই
৯) সহজ এবং সোজা ভাষায় লিখিত ব্লগ পঠিত হয় সর্বাগ্রে
১০) সাময়িক পোস্ট না হলে প্রচুর প্রুফরিডিং বা সংশোধন করা, পোস্ট করার আগে
১১) উদারতা ক্ষমাশীলতা এবং রসিকতা – উত্তম ব্লগারের গুণ (ভালো মানুষেরও!)
১২) এমন বিষয়ে লেখা যা নিজেকেও সাহায্য করেছে, উপকৃত করেছে, বিদগ্ধ করেছে
১৩) সারবস্তুহীন লেখা মনে আসলে পোস্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা
.

:::চৌদ্দ থেকে ছাব্বিশ

১৪) পাঠককে প্রাজ্ঞ বিচক্ষণ এবং পর্যবেক্ষণশীল মনে করা, এবং সেটাই যথার্থ!
১৫) যা কিছুই লেখা হোক, তাতে নিজের মতামত ও বিশ্লেষণ থাকা উচিত
১৬) লেখায় নিজের ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ করতে দেওয়া (প্রথাগত লেখকের জন্য ১৫ এবং ১৬ প্রযোজ্য না-ও হতে পারে)
১৭) নিজ বিষয়ে প্রচুর অনুসন্ধান ও অধ্যয়ন করা এবং শ্রম বিনিয়োগ করা
১৮) লেখার বক্তব্য যথাসম্ভব সরাসরি পেশ করতে হয়, অনাবশ্যক ভূমিকায় বিরক্তি উৎপাদন করে
১৯) নিজের প্রিয়/অর্জিত বিষয়টি দিয়েই লিখতে শুরু করা
২০) তথ্য বা তত্ত্বের পরিবেশনায় রেফারেন্স করার সময় যে কোন একটি মাধ্যমকে আস্থা না করা
২১) “১ ছবি ১০০০ শব্দের কথা বলে” – লেখায় প্রাসঙ্গিক ছবি যুক্ত করা
২২) পাঠকের সময়ের মূল্য দেওয়া: লেখার ‘আকৃতি ও প্রকৃতি’ নিয়ে ভালোভাবে চিন্তা করা
২৩) প্রশ্ন এবং মন্তব্যের উত্তর দিতে হয়, এটি ন্যূনতম সৌজন্যতা
২৪) অন্য ব্লগারের উপস্থিতিকে সম্মান করা, অনাবশ্যক বিতর্ক এড়িয়ে চলা
২৫) ব্লগিংএ জুনিয়রদেরকে অনুপ্রাণিত করা, গঠনমূলক মতামত দেওয়া এবং তাদেরকে গেঁথে তোলা
২৬) লেখায় অন্যের অবদান বা অনুপ্রেরণা থাকলে তা যথাযথভাবে স্বীকার করা
.

:::সাতাশ থেকে ঊনচল্লিশ

২৭) নিজের ভালো লেখা এবং অন্যের লেখায় দায়িত্বশীল মন্তব্য দিয়ে ব্লগিং ক্রেডিবিলিটি বা পাঠকের আস্থা ধরে রাখা
২৮) দেশপ্রেম মূল্যবোধ ক্ষমা ভালোবাসা স্নেহ ইত্যাদি মানবিক উৎকর্ষতার বিষয়গুলো, আচরণে না থাকলেও, অন্তত লেখায় তুলে ধরা
২৯) জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক দিবসগুলো এবং বিশেষ ব্যক্তিদের বিশেষ দিনের প্রতি মনোযোগ রাখা
৩০) একটি নির্দিষ্ট শেডিউল রক্ষা করে পোস্ট দিলে উত্তম, যেমন প্রতি বৃহস্পতি ও শনিবার ইত্যাদি
৩১) নিজের চাহিদামত প্রযুক্তিগত বিষয়গুলোতে (যেমন, এসইও বা অপটিমাইজেশন স্কিল) দক্ষতা অর্জন করতে পারলে সোনায় সোহাগা
৩২) আত্মমূল্যায়ন এবং নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারার জন্য নিজের প্রকাশিত ব্লগে এবং অন্যের মন্তব্যে মাঝে মাঝে দৃষ্টিপাত করা
৩৩) সৌন্দর্য্য সকলেরই কাম্য – লেখায় পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য্যবোধের পরিচয় দিতে হয়
৩৪) সামাজিক অসঙ্গতি অবিচার দুর্নীতি অন্যায় অত্যাচার দ্বারা ক্ষুব্ধ ব্যথিত হলে, তথ্য তত্ত্ব ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ ও দৃষ্টান্তসহ লেখা উচিত
৩৫) লেখায় দেশমাতৃকা ও স্বদেশের ঐতিহ্যকে তুলে ধরার চেষ্টা অব্যাহত রাখা
৩৬) রাজনীতি না বুঝলে এবং নিজের বক্তব্য যৌক্তিকভাবে তুলে ধরতে না পারলে, রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকা
৩৭) ধৈর্য্য যেমন সকল ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়, ব্লগিং-এ এর প্রয়োজনীয়তা সর্বাধিক
৩৮) সমাজের উন্নয়নের জন্য, পরিবেশ প্রকৃতি উত্তম কোমলতা সৌন্দর্য্য দেশ নারী শিশু অক্ষম অবহেলিত পিছিয়ে-পড়া নিপীড়িত – ইত্যাদি সংস্কারমূলক ইস্যুতে যথাসম্ভব এবং আপ্রাণ পক্ষপাতিত্ব থাকা
৩৯) ব্লগারকে ব্লগিং নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয়, অন্য কিছু নিয়ে নয় – অর্থাৎ অন্যের দুর্বলতার অনুসন্ধান বা ক্যাচালে অংশ না নিয়ে, নিজের লেখায় মনোনিবেশ করা।

.
.
লিখতে বসেছি, তাই যা মনে আসলো সবগুলোই লিখলাম। তালিকা দেখে যেন কেউ আতঙ্কিত না হন। সকল গুণই একসাথে একজন ব্যক্তির মধ্যে থাকা অসম্ভব না হলেও কঠিন।
.
ব্লগিং নিয়ে যতই অনুসন্ধান করেছি, ততই বিস্মিত হয়েছি এর সম্ভাবনা ও বহুল প্রযোজ্যতা দেখে। ৭০ আর ৮০’র দশককে যদি কমপিউটার যুগ বলা যায়, তবে এখন আমরা আছি ইন্টারনেট যুগে। ইন্টারনেরেটর যুগ মানেই হলো নিজেকে প্রকাশের সময়। যেভাবে প্রকাশ, সেভাবেই জানবে ভারচুয়াল সমাজ। এযুগে নিজের মতামতকে অতি সহজেই জনসমক্ষে উপস্থাপন করা যায়। নিজের চিন্তা দিয়ে অন্যকে প্রভাবিত করা যায় – অন্যের চিন্তার ভাগ পাওয়া যায়।  এর সুফল নিতে হলে সুজন হতে হয়।
.
.
[কাউকে জ্ঞান দেবার জন্য নয়, নিজের চিন্তাকে যাচাই করার জন্যই লিখে রাখলাম ব্লগে। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, আধুনিক ব্লগারদের শক্তি সামর্থ্যে আর সম্ভাবনা পূর্বের যেকোন সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি। বিশ্বাস করি, ছাপার অক্ষরের চেয়ে ব্লগারের লেখার শক্তি অন্যরকমভাবে বেশি, কারণ এখন বইয়ের পাতার চেয়ে কম্পিউটারের স্ক্রিনে মানুষ বেশি দৃষ্টি রাখে। তাই, এবিষয়ে ধারাবাহিকভাবে লিখে যাওয়ার ইচ্ছা আছে।]
.
.
.
.
=============================================================
[প্রথম আলো ব্লগে পাঠক প্রতিক্রিয়া] ব্লগ বন্ধ হয়ে যাবার পর মন্তব্যগুলো ‘কপি-পেস্ট’ করা হলো………

৫৮ টি মন্তব্য

meghneelমেঘনীল১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৪৯

আপনার এই ধারাবাহিক পোষ্টটা সত্যিই চমৎকার।উপাত্তগুলো অনুকরনীয়।দারুন লিখছেন।

হৃদ্যতা মইনুল ভাই।শুভকামনা নিরন্তন।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৯

“উপাত্তগুলো অনুকরনীয়।”

ধন্য হলাম শুনে।

মেঘনীল ভাইকে অনেক শুভেচ্ছা!মুছে ফেলুন

fardoushaফেরদৌসা১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৫০

পরে পড়বো , অর্ধেক পড়ছি

ব্লগিং এত কঠিন উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

meghneelমেঘনীল১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৫৬

আপা টাইনা টাইনা মাথার চুল ছিইড়া ফালাইলে তো বিউটিপার্লারের হেয়ার স্পেশালিষ্টরা তো না খাইয়া মইরা যাইবোমুছে ফেলুন | ব্লক করুন

kabirbdboyকাছের মানুষ১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০৫

ব্লগিং এত কঠিন

সহমত মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

fardoushaফেরদৌসা১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০৮

কাছের মানুষ ভাই আপনি কিন্তু এখনো বিবাহ করেন নাই,

চুল ছিঁড়ে ফেললে পরে সমস্যা হলে সব দোষ মইনুল ভাইয়ের মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

kabirbdboyকাছের মানুষ১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:২৭

বিবাহের আগেই যদি মাথা ফকফকা হয় তাইলে কি হইব

সব দোষ মইনুল ভাইয়ের – সহমত মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২১

“ব্লগিং এত কঠিন”

দুঃখিত। আরও সহজে বলতে পারতাম।

ফেরদৌসা আপাকে অনেক ধন্যবাদ, অর্ধেক পর্যন্ত পড়ার জন্য।
ইচ্ছা হলেই বাকিটুকু পড়বেন।মুছে ফেলুন

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২২

হ্যাঁ, কাছের মানুষ ভাই, সব দায় আমার।
মাথা পেতে নিলাম।

শুভেচ্ছা আপনার জন্য।মুছে ফেলুন

kabirbdboyকাছের মানুষ১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০৪

পুরোটা পড়লাম। পরের পর্ব গুলোর জন্য অপেক্ষায় রইলাম।

অনেক শুভচ্ছা রইল উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২৩

পুরোটাই পড়ে ফেলার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ, কাছের মানুষ ভাই।
আসলে লেখাটি আরও ছোট এবং সরল করা যেতো।মুছে ফেলুন

SADAMATACHELEসাদামাটা ছেলে১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০৬

ধন্যবাদ মাঈনুল ভাই এমন একটা লেখা পোষ্ট দেয়ার জন্য। আপনার লেখা পইড়া তো মনে হইলো ব্লগার হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতেই বয়স শেষ হইয়া যাইবো!!!

শুভেচ্ছা রইলো মাঈনুল ভাই।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২৫

“আপনার লেখা পইড়া তো মনে হইলো ব্লগার হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতেই বয়স শেষ হইয়া যাইবো!”

হাহাহা! একদম ঠিক বলেছেন।
আসলে সবগুলো বিষয় একসাথে মনে আসলো, এক সাথেই উপস্থাপনা করলাম।
তবু পড়ার জন্য ধন্যবাদ। অনেক শুভেচ্ছা, সাদামাটা ভাইকে!মুছে ফেলুন

SADAMATACHELEসাদামাটা ছেলে১২ ডিসেম্বর ২০১২, ১১:১৮

আপনাকে শুভেচ্ছা মঈনুল ভাই….মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

nomaansarkarনোমান সারকার১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:১৫

মইনুল ভাই, খুবই আগ্রহ নিয়ে পড়লাম। খুব ভালো লাগল। খুটিয়ে খুটিয়ে পড়ার মতন মশ্ললা আছে এখানে।

বড় মাপের মোবাইলের দাম যেভাবে নীচে নেমে আসছে তাতে নেটে পড়ার সংখ্যা দুই এক বছরে অনেক অনেক বেড়ে যাবে। আর এখনই বা খুব কম কিসে? তাই ব্লগিং এর বিষয়ে এ লেখাটা সবার কাজে আসবে। সবার আসলে দায়িত্বের একটা বিষয় চলে আসাটা খুব জরুরী ব্লগিং , এই বাস্তবতা ফুটে উঠেছে লেখাটায়। অনেক অনেক ধন্যবাদ।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২৬

‘আগ্রহ নিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে’ পড়েছেন – এমনভাবে আমার পোস্ট কেউ পড়েছেন এই প্রথম শুনলাম।

খুবই আনন্দ পেলাম, প্রিয় নোমান সারকার ভাই!
ভালো থাকবেন, এই শুভেচ্ছা!মুছে ফেলুন

AhmedRabbaniআহমেদ রব্বানী১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:১৭

এক কথায় অসাধারণ একটি পোস্ট প্রিয় মইনুল ভাই।ধন্যবাদ আপনার প্রতি এত সুন্দর একটি পোস্ট দেয়ার জন্য।ব্লগিং নিয়ে আপনার চিন্তা-চেতনা সবাইকে ছুঁয়ে যাক সেই কামনা করি।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২৭

প্রিয় আহমেদ রব্বানী ভাইকে অনেক কৃতজ্ঞতা!মুছে ফেলুন

lnjesminলুৎফুন নাহার জেসমিন১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৩০

অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি পোস্ট । ভাবছি , ঠিক কি যোগ্যতা নিয়ে ব্লগিং করছি !!
নিয়মিত চাই এমন দিক নির্দেশনামূলক পোস্ট ।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২৮

প্রিয় জেসমিন আপা, আপনার সকল যোগ্যতাই আছে।
এটি কেবল একটি তালিকা। সবাইকে সবকিছু হতে হয় না, হওয়া যায়ও না।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য।মুছে ফেলুন

sularyআলভী১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২৩

মইনুল ভাই আপনার লেখা পড়ে নিজেকে খুব ছোট মনে হচ্ছে। আপনার দেয়া নির্দেশনার বিন্দু মাত্র আমার মাঝে বিদ্যমান নেই! জোর করে নিজেকে পাঠক হিসেবে ধরে রাখতে চেয়েছিলাম,এখন দেখছি একজন ভালো পাঠকের যোগ্যতাও আমার মধ্যে নেই। মনে কিছু নিবেন না লেখার দুঃসাহসিকতা হয়ত দেখাবো না তবে আদর্শ পাঠক না হলেও নিয়মিত পাঠক হিসেবে আপনাদের মাঝে থাকতে চাই।
আপনার সৃজনশীল পরামর্শ হদয়ঙ্গম করে নিজেকে গর্বিত মনে করছি…..। সুন্দর পোষ্টের জন্য অনেক কৃতজ্ঞ…..

উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩২

“মইনুল ভাই আপনার লেখা পড়ে নিজেকে খুব ছোট মনে হচ্ছে। আপনার দেয়া নির্দেশনার বিন্দু মাত্র আমার মাঝে বিদ্যমান নেই! জোর করে নিজেকে পাঠক হিসেবে ধরে রাখতে চেয়েছিলাম,এখন দেখছি একজন ভালো পাঠকের যোগ্যতাও আমার মধ্যে নেই।”

ইয়া আল্লাহ! মাফ চাই, ভাই! মার্জনা করবেন, এটি কেবল একটি তালিকা। এর লেশমাত্র আমার মধ্যেও নেই। থাকুক তালিকার জায়গায় তালিকা। সবাই একসাথে সবকিছু হতে পারে না। প্রত্যেকেরই ভালো হবার নিজস্ব ভঙ্গি আছে।

আপনার চেতনাদীপ্ত মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ প্রিয় আলভী ভাই!মুছে ফেলুন

asrafulkabirআশরাফুল কবীর১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২৬

ব্লগিং একটি গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যম হিস��উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২৯

প্রিয় আশরাফুল কবীর ভাইয়ের নিঃশব্দ উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞতা।মুছে ফেলুন

asrafulkabirআশরাফুল কবীর১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৩

asrafulkabirআশরাফুল কবীর১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩২

ব্লগিং একটি গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যম হিসেবে ইতিমধ্যে পাশ্চাত্যে প্রমাণিত হয়েছে, যেখানে লেখক বা সাংবাদিক মাত্রই রয়েছে একটি ব্যক্তিগত ব্লগসাইট। আমরাও পারি ব্লগিং দিয়ে দেশ ও আর সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে, যদি ইতিবাচক ব্লগিং-এ বিশ্বাস করে ভারচুয়াল সামাজিকতাকে সম্মান জানাই। যেহেতু লেখক না হয়েও ব্লগার হওয়া যায়, তাই এখানে লেখকের চেয়েও ব্লগার হবার প্রয়োজন সর্বাধিক।

#অভিনন্দন আপনাকে প্রিয় মাঈনউদ্দিন মইনুল ভাই..ব্লগিং নিয়ে ধারাবাহিকভাবে লিখবার জন্য..শুভেচ্ছা

#শেখার আছে অনেক কিছু…আপনার পোস্টগুলো আসলে ভ্যারিয়েশন ক্রিয়েট করে…এক্সিলেন্ট

#পৃথিবীর অনেকগুলো শক্তিশালী যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর মধ্যে ব্লগিং তার স্থান ক্রমান্বয়ে উচুতে নিয়ে যাচ্ছে..হাইলাইট করছে চারপাশের পরিবেশকে অত্যন্ত দারুনভাবে..অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে এসেছেন…একজন আইডিয়াল ব্লগারের জন্য পোস্টটি হবে দারুন কিছু

#ব্লগ রত্নকে আবারো শুভেচ্ছা..ভাল থাকুন সবসময়, এ প্রত্যাশাউত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৬

“পৃথিবীর অনেকগুলো শক্তিশালী যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর মধ্যে ব্লগিং তার স্থান ক্রমান্বয়ে উচুতে নিয়ে যাচ্ছে..হাইলাইট করছে চারপাশের পরিবেশকে অত্যন্ত দারুনভাবে”

সহমত জানাই। ব্লগিংকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করলে আমরাও পারি সুন্দর দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে।

প্রিয় আশরাফুল কবীর ভাই, আপনার প্রশংসার বন্যায় ভেসে গেলাম। একে আমি ভালোবাসার বন্যা বলতে পারি।

লিখছি তেমন কিছুই না। আপনার সাহচর্যই আমার কাছে অনেক মূল্যবান।
অনেক শুভেচ্ছা আপনার জন্য উত্তর দিন | মুছে ফেলুন

Rjamilরশীদ জামীল১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৮

আবার পড়তে হবে।
এই লেখার চাহিদা হলো একাধিকবার পড়ে তারপর কথা বলা

————–উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১২ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৫৬

“আবার পড়তে হবে।
এই লেখার চাহিদা হলো একাধিকবার পড়ে তারপর কথা বলা”


হাহাহা! আচ্ছা ঠিক আছে! পড়ে মনে ধরলেই মতামত দেবেন, অথবা দেবেন।
এপর্যন্ত কৃতজ্ঞতা রইলো!মুছে ফেলুন

sularyআলভী১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৪৩

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১২ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০৬

pramanik99শ‍হীদুল ইসলাম প্রামানিক১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৫২

৭০ আর ৮০’র দশককে যদি কমপিউটার যুগ বলা যায়, তবে এখন আমরা আছি ইন্টারনেট যুগে।

অনেক ধন্যবাদ জানাইউত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১২ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০৫

ব্লগের অন্যতম ছড়াকার, প্রামাণিক ভাইকে অনেক কৃতজ্ঞতা!মুছে ফেলুন

kamalghatailশ্যামল নওশাদ১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৫৫

লেখা ছাইড়া দিয়া পড়া শুরু করলাম। ভাবছি, পড়াশোনাটা আগে শেষ হোক। ব্লগিং এর শুরুতে এমন একটা তালিকা ধরিয়ে দেয়ার জন্য আবারো ধন্যবাদ।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১২ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০৪

“লেখা ছাইড়া দিয়া পড়া শুরু করলাম। ভাবছি, পড়াশোনাটা আগে শেষ হোক।”

হাহাহা! শ্যামল নওশাদ ভাই! তালিকা তো করলাম, এবার আমারও পালন করার পালা!
এটি কেবল তালিকা, আর আমি কেবল লেখক। হাহাহা!
এর চেয়ে বেশি ভেবে আমাকে বিপদে যেন না ফেলেন।

সুন্দর মন্তব্যের জন্য কৃতজ্ঞতা!মুছে ফেলুন

moutushi1basharমৌটুশি বাশার১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২৩:১৭

প্রিয় মইনুল ভাই , আপনার এই লেখাটি আমাদের মত নব্য ব্লগার দের জন্য অনেক উপকারী । খুব মনোযোগ দিয়ে পড়লাম । অবশ্য এমন একটি গবেষণাসিদ্ধ যত্নে গড়া লেখা মনোযোগের দাবীই রাখে । আপনার জন্য সহস্র শ্রদ্ধা ।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১২ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০২

প্রিয় মৌটুশী বাশার, আপনার মন্তব্যে অনেক শক্তি আছে। আছে ভালোবাসাও।
দু’টির জন্যই ধন্যবাদ দিই, আপনাকে।
ব্লগে আপনার পদচারণা সুন্দর হোক!মুছে ফেলুন

Rabbaniরব্বানী চৌধুরী১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২৩:৫৬

সত্যি মূল্যবান সময় ব্যয় করে একটি গবেষনা ধর্মী পোষ্ট। পোষ্ট ও পোষ্টের লেখককে শ্রদ্ধা জানাই।

ভালো থাকবেন মইনুল ভাই।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১২ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৫৯

প্রিয় ব্লগার রব্বানী চৌধুরী ভাইকে অনেক ধন্যবাদ।
আপনাকেও শ্রদ্ধা জানাই!
ভালো থাকবেন মুছে ফেলুন

jinjinmiyaজিনজিন মিয়া১২ ডিসেম্বর ২০১২, ০০:০৯

ভাল লাগল। শুবকামনা রইল বাই।
আমি জিনজিন মিয়াউত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১২ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৫৪

হাহাহা! আপনি যে জিনজিন মিয়া, তা জানি।

লেখায় মতামতের জন্য অনেক কৃতজ্ঞতা!মুছে ফেলুন

KohiNoorমেজদা১২ ডিসেম্বর ২০১২, ০০:১৭

ভাল লাগলো, সকলের উপকারে আসবে, ভুল বুঝাবুঝি অবসান হবে যদি মন থেকে এই লেখার অন্তর্নিহিত কথা অনুধাবন করে ব্লগের সকলেই। ধন্যবাদ মইনুল ভাই। উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১২ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৫৭

মেঝদাকে অনেক ধন্যবাদ আর শুভেচ্ছা মুছে ফেলুন

chomok001মোঃ হাসান জাহিদ১২ ডিসেম্বর ২০১২, ০০:৩৬

আগের পর্বটাও পড়েছিলাম । প্রিয় মইনুল ভাই যে বিষয় গুলো তুলে ধরেছেন সেগুলো খুবই যুক্তিযুক্ত । খুব ভালো লাগলো । জানতে পারলাম অনেক কিছু । উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১২ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৫৫

প্রিয় হাসান জাহিদ ভাইকে অনেক ধন্যবাদ, সব সময় পাশে থাকার জন্য।

ভালো থাকবেন, অনেক!মুছে ফেলুন

kamaluddinকামাল উদ্দিন১২ ডিসেম্বর ২০১২, ০৮:৪৩

আপনার ৩৯টা ধারাই পড়লাম, আপনার বক্তব্য আমার মনে ধরেছে ।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১২ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৫৩

“আপনার বক্তব্য আমার মনে ধরেছে ।”


শ্বেতমনের মানুষের মনে ধরাতে পারা তো বিশাল ব্যাপার!
খুব খুশি হলাম, সিনিয়র! অনেক শুভেচ্ছামুছে ফেলুন

BABLAমোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা১২ ডিসেম্বর ২০১২, ১৪:৫১

বেশ ভালে লিখিয়াছেন তবে ইহাতে আমাদের চরিত্রের কোন পরিবর্তন হইবে বলিয়া মনে হইতেছে না। পাহাড় ধসিয়া যাইতে পারে কিন্তু আমাদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি কোন কালেই পরিবর্তন হইবে না।

ইহার পরও বলিব আপনি লিখিয়া যাইতে থাকুন। বেশ গুছাইয়া লিখিতে পারেন। আপনার লেখা প্রায় হারাইতে বসিয়াছিলাম। ভাগ্যগুনে পাইয়া গিয়াছি।
শুভকামনা থাকলো।
উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১২ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৫১

“ইহার পরও বলিব আপনি লিখিয়া যাইতে থাকুন। বেশ গুছাইয়া লিখিতে পারেন। আপনার লেখা প্রায় হারাইতে বসিয়াছিলাম। ভাগ্যগুনে পাইয়া গিয়াছি।”

হাহাহাহা! ইহার পরও বলিব সাথে থাকুন। সঙ্গগুণে লোহা জলে ভাসে!
সুন্দর মতামতের জন্য বাবলা ভাইকে অনেক ধন্যবাদ।মুছে ফেলুন

shmongmarmaএস এইচ মং মারমা১২ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:২৫

ব্লগিং লেখাটা ভাল লেগেছে প্রিয় মইনুল……………….শুভেচ্ছা জানবেন।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১৪ ডিসেম্বর ২০১২, ০৯:৫৬

প্রিয় কবি মং মারমা ভাইকে অনেক শুভেচ্ছা!

মুছে ফেলুন

neelsadhuনীল সাধু১২ ডিসেম্বর ২০১২, ২৩:১২

মইনুল ভাই গ্রেট! এমন বিশ্লেষণ!

এমন সময় শ্রম এবং একাগ্রতা নিয়ে যে পোষ্ট লেখা হয় তা নিশ্চিত ব্লগের নির্বাচিত পোষ্টে জায়গা পেতে পারে। আল্লাহ জানে সঞ্চালক কি করে! যাই হোক আমরা ভাগ্যবান এমন মানসম্পন্ন পোষ্ট পেয়ে।
ভালো থাকুন। শুভকামনা নিরন্তর!উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল১৪ ডিসেম্বর ২০১২, ০৯:৫৮

নীল এবং সাধু ভাইকে অনেক ধন্যবাদ এই মহল্লায় আসার জন্য।

অনেক শুভেচ্ছা উত্তর দিন | মুছে ফেলুন

rudronilরুদ্রনীল১৮ মে ২০১৪, ১৭:১৮

প্রিয় মাঈনউদ্দিন মইনুল ভাই, আপনার লেখা নিয়মিত পড়ছি আর নিজেকে জানার চেষ্টা করে যাচ্ছি। নিজেকে একজন ভালো ব্লগার হিসেবে তৈরি করতে আপনার লেখা আমার মত নতুন ব্লগারদের যে কি পরিমাণ উপকার হচ্ছে তা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। এ রকম পোস্ট আরো চাই।

ব্লগারকে ব্লগিং নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয়, অন্য কিছু নিয়ে নয়।——–এই লাইনটা নিয়ে আমি দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছি। আমি তো এখনও ছাত্র। তবে গদবাঁধা পরীক্ষা পাসের পড়াশুনা পড়াশুনা প্রায় শেষের দিকে। কিন্তু চাকরির জন্য তো পড়াশুনা করতে হবে। আর চাকরি না করলে আমার চলবে না। সে ক্ষেত্রে কি আমার ব্লগার হওয়া হবে না? কারণ আমার বেশির ভাগ সময় তো ঐ দিকেই চলে যাচ্ছে।

ধন্যবাদ ভাই। শুভেচ্ছা নিবেন।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২০ মে ২০১৪, ১৯:১৫

-হাহাহা, আমি ‍দুঃখিত। বিষয়টি ভুল বুঝারই কথা।

ব্লগিং করতে যেয়ে অনেকে দলাদলি/ক্যাচাল/ফেইসবুকিং ইত্যাদিতে জড়িয়ে যায়। আমি যা বুঝাতে চেয়েছি, তা হলো: যখন আপনি ব্লগিং করার জন্য কম্পিউটারের সামনে বসবেন, তখন শুধু সেটিই করুন। যেমন: নিজের লেখার জন্য গবেষণা, লেখায় অন্যের মন্তব্যের জবাব দেওয়া, অন্য সহব্লগারদের লেখা পড়া, সেখানে অভিমত দেওয়া… ইত্যাদি।

আন্তরিক মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ, রুদ্রনীল মুছে ফেলুন

kamaluddinকামাল উদ্দিন২০ মে ২০১৪, ১৯:২৪

কমপক্ষে আরো একটা পয়েন্ট অর্জন করে কিন্তু আপনি আমাদেরকে দুই কুড়ি শিক্ষা আমরা পেতে পারতামউত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল২০ মে ২০১৪, ২০:২৩

ভালোবাসা জানবেন, জনাব

মুছে ফেলুন

kamaluddinকামাল উদ্দিন২২ মে ২০১৪, ০৮:১২

চিঠিলেখা আয়োজনে প্রাকনির্বাচনী বক্তব্য ৩: সাহিত্য প্রতিযোগিতা আয়োজনের কতগুলো নির্দেশনা

চিঠিলেখা আয়োজনে প্রাকনির্বাচনী বক্তব্য ২: সাহিত্য মূল্যায়নের সমস্যাগুলো

ভবিষ্যত আয়োজনে যা করা যেতে পারে:

আয়োজকদের আন্তরিকতায় কোন কমতি নেই, একথা নিশ্চিতে বলা যায়। কর্তব্যনিষ্ঠারও কমতি দেখি নি। যার যার কর্মজীবনের মধ্যে থেকে এর চেয়ে বেশি আশা করা যায় না। এজন্য প্রথমেই নিঃশর্ত সাধুবাদ জানাই। শুধু প্রসঙ্গ এসেছে বলে কিছু মতামত রেখে যেতে চাই ভবিষ্যতের জন্য। নির্বাচক হিসেবে শত অযোগ্যতা নিয়েও ব্যক্তিগত দায় থেকেই কিছু বলছি। আমার মতে, ব্লগ যেহেতু একটি পাবলিক প্লেইস, সেখানে উপযুক্ত পরিকল্পনা করেই মাঠে নামা উচিত। এখানে নানা মুণির নানা মত – অথচ সকল মুণিকেই একই ছাতার নিচে রাখা চাই। অন্তত একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। এজন্য চাই যথেষ্ট পরিকল্পনা, হোমওয়ার্ক ও দূরদর্শিতা। খুঁটিনাটি বিষয়গুলো প্রথম পোস্টেই জানিয়ে দিলে ভবিষ্যতে আরও ভালো প্রতিযোগিতার আয়োজন হতে পারে প্রথম আলো ব্লগে। প্রথম বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ হবার পূর্বে কমপক্ষে ১০টি পর্যায় অতিক্রম করা উচিত। লেখা মূল্যায়নের সহজ কিছু নির্দেশক বা পরিমাপক পূর্বেই প্রকাশ করলে সকল শ্রেণীর লেখকদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাছাড়া, সঞ্চালক বা ব্লগ কর্তৃপক্ষকে উপযুক্তভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে – এর বিকল্প নেই।

.

1111

[বিস্তারিত নিম্নে উল্লেখ করা হয়েছে]

সাহিত্য প্রতিযোগিতা যে কোন জনসংশ্লিষ্ট কোন আয়োজনের জন্য একটি চেকলিস্ট থাকলে একদৃষ্টে বুঝা যায় কী করা হলো, আর কী করা হলো না। ‘Forming-Storming-Performing’ নীতির আলোকে তৈরিকৃত নিম্নের চেকলিস্টটি কোন চূড়ান্ত বিধি নয় – এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে, যোগবিয়োগও হতে পারে। তবু তালিকাটি একটি ভালো আয়োজনের জন্য চিন্তার খোরাক যোগাতে পারে:

• প্রস্তুতি/আহ্বায়ক কমিটি গঠন
• লেখার বিষয় নির্ধারণ
• লেখার মাধ্যম নির্ধারণ
• প্রকাশনার মাধ্যম নির্ধারণ
• কর্তৃপক্ষ/সঞ্চালক প্যানেলের সাথে আলোচনা
• নির্বাচক কমিটি গঠনের বিজ্ঞপ্তি
• নির্বাচক কমিটি গঠন
• লেখক/অংশগ্রহণকারীদের জন্য সমতল পরিবেশ নিশ্চিতকরণ
• লেখা মূল্যায়নের নির্দেশক নির্ধারণ
• স্বীকৃতি/সম্মাননা প্রদানের মাধ্যম নির্ধারণ
• অংশগ্রহণের বিজ্ঞপ্তি
• লেখা সংগ্রহ ও মূল্যায়ন
• বিশেষ অতিথি ও বিশেষ স্থান
• যথাসময়ে ফলাফল বা স্বীকৃতি প্রদানের অনুষ্ঠান

কিছু বর্ণনা দেবার চেষ্টা করলাম:

I. প্রস্তুতি/আহ্বায়ক কমিটি গঠন: একটি প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা যেতে পারে যারা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে ১ থেকে ৫ পর্যন্ত কাজগুলোর দেখাশুনা করবেন।

II. লেখার বিষয় নির্ধারণ: ‘কী বিষয়ে লেখতে হবে’ সেটা নির্ধারণ করতে হবে – স্মৃতিচারণ, স্বদেশ, মুক্তিযুদ্ধ, বর্ষাকাল ইত্যাদি যা-হোক আগে সুস্পষ্ট করতে হবে।

III. লেখার মাধ্যম নির্ধারণ: কবিতা, প্রবন্ধ, ছোটগল্প, ছড়া নাকি স্মৃতিকথা? ফরম্যাট ঠিক করা থাকলে সকল প্রতিযোগী একই মনোভাব নিয়ে অগ্রসর হবেন।

IV. প্রকাশনার মাধ্যম নির্ধারণ: জমাকৃত লেখাগুলো কীভাবে প্রকাশ পাবে- পিডিএফ নাকি ছাপানো, ছাপানো হলে কী সাইজের ইত্যাদি। এখানে প্রকাশক বা সম্পাদকের তথ্য দেওয়া থাকলে আরও ভালো।

V. সঞ্চালক প্যানেলের সাথে আলোচনা: সঞ্চালক বা ব্লগ কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করে তাদের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিযোগিতাটি ব্লগ কর্তৃপক্ষের নীতিমালার সাথে মানানসই কিনা তাও দেখতে হবে।

VI. নির্বাচক কমিটি গঠনের বিজ্ঞপ্তি: নির্বাচক কমিটিতে যারা আসবেন তারা কিসের ভিত্তিতে নির্বাচিত হচ্ছেন সেটা আগেই প্রচার করা উচিত। যেমন, সময় বা লেখার সংখ্যার বিচারে তাদের জৈষ্ঠ্যতা, পাঠকের/সহব্লগারদের গ্রহণযোগ্যতা, পাঠকের মন্তব্যের ভিত্তিতে জৈষ্ঠ্যতা, লেখার মানের ভিত্তিতেও হতে পারে। এসব বিষয়গুলো পূর্বেই ব্লগে প্রকাশ করলে প্রতিযোগিতার বিষয়ে গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।

VII. নির্বাচক কমিটি গঠন: বিভিন্ন পর্যায়ের ব্লগার এবং সঞ্চালক কমিটির সদস্যদের সমন্বয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচক কমিটি গঠন করে ঘোষণা দিতে হবে। সাক্ষাতে সভা করা অসম্ভব হলে, গ্রুপচ্যাটিং ইত্যাদি করে ভারচুয়াল সভা করা যেতে পারে।

VIII. লেখক/অংশগ্রহণকারীদের জন্য সমতল পরিবেশ নিশ্চিতকরণ: উপরোক্ত শর্তগুলো অতিক্রম করলে স্বাভাবিকভাবেই সকলের অংশগ্রহণের সমান সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রেরণা পাবেন সকল পথের সকল মনের ব্লগারগণ।

IX. লেখা মূল্যায়নের নির্দেশক নির্ধারণ: প্রচলিত নির্দেশকগুলো হতে পারে এরকম – ক) ভাষা (শুদ্ধ বানান, সাধু ও চলিত ভাষার অবিমিশ্রিত ব্যবহার), খ) লেখার বিষয় (লেখাটি কি সময়ের প্রতিনিধিত্ব করছে, নাকি ইতিহাসের সাক্ষী হচ্ছে নাকি বিনোদন দিচ্ছে ইত্যাদি), গ) লেখার আকৃতি (কত শব্দের, কত পৃষ্ঠার, কোন্ কী বোর্ড ইত্যাদি), ঘ) কী কী বিষয়ে লেখা যাবে না, তাও উল্লেখ করে দেওয়া যায়।

X. স্বীকৃতি/সম্মানতা প্রদানের মাধ্যম নির্ধারণ: শ্রেষ্ঠ যদি সত্যিই শ্রেষ্ঠ হয়, তবে তাকে স্বীকৃতি দিতে কোন বাধা থাকে না। স্বীকৃতি যদি সঠিক ভিত্তির ওপরে স্থাপিত হয়, তবে কী দিয়ে তা প্রদান করা হলো, সেটি খুব বিবেচ্য নয়। তবে যা-ই হোক, সেটা ঘোষণা থাকা ভালো। শুধু একটি সনদপত্র/ক্রেস্ট দিয়েও স্বীকৃতি হতে পারে। হতে পারে একটি সুন্দর বই।

XI. অংশগ্রহণের বিজ্ঞপ্তি: উপরোক্ত ১০টি পর্যায় অতিক্রম করার পর নির্দ্বিধায় বিজ্ঞপ্তি প্রদান করা যায়। বিজ্ঞপ্তি যত দীর্ঘই হোক সেটা সংশ্লিষ্টরা অবশ্যই পড়বেন। তাই লেখার দৈর্ঘ নিয়ে চিন্তিত না হয়ে পরিপূর্ণতার দিকে খেয়াল দিতে হবে।

XII. লেখা সংগ্রহ ও মূল্যায়ন: প্রথমত অংশগ্রহণকারী সকল প্রতিযোগীর নাম ও লেখা তালিকাভূক্ত করতে হবে। কেউ যেন বাদ না পড়েন! অযোগ্যতা থাকলে তা আলাদা মন্তব্যে উল্লেখ করা যায়, কিন্তু তালিকায় নাম অবশ্যই থাকা চাই। পূর্বঘোষিত মাপকাঠি/শর্তাবলীর আলোকে প্রতিটি লেখাকে মূল্যায়ন করে, ‘ডিমিনিশিং’ পদ্ধতিতে তালিকা ছোট (শর্টলিস্টিং) করে আনা যায়। তাতে সকলেই সুবিচার পাবেন।

XIII. বিশেষ অতিথি ও বিশেষ স্থান: সম্মাননা বা স্বীকৃতি প্রদানের জন্য একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার সফল সমাপ্তি ঘটাতে হবে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিশেষ অতিথি নির্বাচন করে তার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ স্থান হলেও পূর্ব থেকেই সেটি নিশ্চিত করে রাখতে হবে। সম্মাননা অনুষ্ঠানের জন্য একটি আলাদা পোস্ট দেওয়া উত্তম। তবে খসড়া পরিকল্পনাটি প্রথম পোস্টেই প্রকাশ করা যায়।

XIV. যথাসময়ে ফলাফল বা স্বীকৃতি প্রদানের অনুষ্ঠান: এমনভাবে স্থান ও তারিখ নির্ধারণ করতে হবে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়া যার কোন পরিবর্তন হবে না। যথাসময়ে এবং যথাস্থানে অনুষ্ঠান শুরু করতে হবে। ৬টার অনুষ্ঠান ৯টায় হলে, অনুষ্ঠানের মান এবং সম্মান দু’টোই কমে যায়।

শেষ কথা হলো, সকলকে ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা!

কিছু সমস্যার কথা যোগ না করলে যেমন ‘প্রাপ্তির কথা’ বিশ্বাসযোগ্য হয় না, তেমনি কিছু পরামর্শ বা সুপারিশ না দিয়ে শুধু ‘সমস্যার কথা’ বলাও দায়িত্বহীনতা। এক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষায় কতটুকু সফল হলাম, পাঠক বলতে পারবেন। আমি বিশ্বাস করি, ব্লগারের পরিচয় হলো তার লেখায়। কিন্তু সকলেই তো রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত-রৌদ্র নন যে, নিজের প্রেরণায় লেখে যাবেন একটির পর একটি মাস্টারপিস। অধিকাংশ ব্লগারের প্রয়োজন পর্যাপ্ত প্রণোদনা বা প্রেষণা। লেখালেখিতে ব্লগারদেরকে তৎপর রাখার জন্য কতৃপক্ষকেই উদ্যোগ নিতে হয়। তা না হলে দলাদলি, ফেইকনিক, মেরুকরণ, ব্যানকরণ, ব্লককরণ ইত্যাদি নেতিবাচক উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করলে, অঙ্গুলি চলে যায় সঞ্চালকের দিকে। মাঝখানে পরে শান্তিপ্রিয় ব্লগাররা ভুল বুঝাবুঝির শিকার হন। ব্লগে ব্লগারদের কর্মচঞ্চলতা বাড়াতে বিভিন্ন আয়োজন নিয়মিত এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকুক, এই কামনা করছি। প্রিয়চিঠি আয়োজনে সংশ্লিষ্ট সকলকে শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

*প্রথম ছবি আলো ব্লগ থেকে নেওয়া, গ্রাফ-ছবিটি পোস্টদাতার তৈরি।

[ প্রথম আলো ব্লগে পাঠক প্রতিক্রিয়া ]

.

প্রথম আলো ব্লগে চিঠি লেখা আয়োজনের নির্বাচক হবার অভিজ্ঞতা

.

এবিষয়ে পূর্বের পর্ব: 

চিঠিলেখা আয়োজনে প্রাকনির্বাচনী বক্তব্য ২: সাহিত্য মূল্যায়নের সমস্যাগুলো

প্রাকনির্বাচনী বক্তব্য ১: ‘চিপায় পড়িয়ে যাহা হয়’

চিঠিলেখা আয়োজনে প্রাকনির্বাচনী বক্তব্য ১: চিপায় পড়িয়ে যাহা হয়!

d3683c5f8da

১) চিপায় পড়িলে যাহা হয়: কিঞ্চিৎ গৌড়চন্দ্রিকা

কথায় আছে, কাহাকেও যদি একটু চিপায় ফেলিতে চাও, তবে তাহাকে নিকাহ করাইয়া দাও অথবা নির্বাচনে খাড়া করাইয়া দাও। আমার মনে হয়, সবকিছুরই আপডেট রহিয়াছে, বিবর্তন রহিয়াছে। অতএব এখন বলা উচিত, কাহাকেও চুপানি খাওয়াইতে চাইলে, বিচারক বানাইয়া দাও। চিঠিলেখা আয়োজনে বিচারক কমিটির অন্য সকলেই অভিজ্ঞ বিজ্ঞজন – একমাত্র আমিই হাতুড়ে লেখক! কী যাতনায় দিনাতিপাত করিতেছি, না পারি কহিতে – না পারি সহিতে। কারণ, ব্লগে লেখালেখি’র কর্মসূচি বৃদ্ধি করিবার নিমিত্তে আয়োজক মহাশয়কে তাগিদ দিতাম। এ্রইবার তাহার বিশেষ কর্মব্যস্ততার মধ্যে ইহা শুরু করাতে খুশিই হইয়াছিলাম। কিন্তু খুশি বিনাস করিলো নির্বাচক হবার প্রস্তাবে। তথাপি অন্য সকল ব্লগীয় প্রস্তাবের মতো নিরাপত্তিতে মানিয়া নিলাম। এখন আমার সামনে যোগ্যতম পত্রলিখকবৃন্দ আর পিছনে আয়োজকবৃন্দ। মধ্যিখানে আমি! যাহা হোক, আমি বর্তমানে কেমন শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় আছি তাহার বর্ণনা দিব পরবর্তি পোস্টে। এইবার বলি প্রাপ্তির কথা।

.

২) যাহা আমি শিখিলাম:

ছেলেবেলায় পাঠ্যপুস্তকে অনেক চিঠিই পড়িয়াছি। সঙ্গত কারণেই পিতার কাছে টাকা চাহিয়া পুত্রের চিঠিখানি বিশেষ খেয়াল আছে। লেখাপড়া মনযোগ বৃদ্ধি করতঃ ভালো ফলাফলের প্রেরণা দিয়া ছোটভাই/বোনের কাছে পত্র লিখ। তখন নিজেরই পড়াশুনার ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা! তথাপি তাহা খেয়াল আছে কিন্তু গুরুত্ব দিই নাই। চিঠির মর্যাদা তখন এতটা উপলব্ধি করি নাই, এইবার যাহা করিলাম। চিঠিলেখা আয়োজনে সম্পৃক্ত থাকিয়া বিরল অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হইলাম; বিচিত্র রকমের লেখার সাথে পরিচিত হইলাম আর জানিলাম চিঠি কাহাকে বলে, কত প্রকার এবং তাহা কী কী। বৈচিত্রময় চিঠির সমারোহে পড়িয়া চিঠি সম্পর্কে সকল পূর্ব ধারণার সংস্কার হইয়া গেলো। একজন প্রিয় সহব্লগার শুধু রিহার্সাল পর্ব দিয়াই চিঠিলেখা আয়োজনকে অনেক সার্থক করিয়া দিয়েছেন। ভিতরে ‘দ্রব্য’ থাকিলে যাহা হয়! তাহার চিঠিগুলোতে বাংলার সমাজ ও পারিবারিক জীবনের সুখ ও বিষাদের যে চিত্র ফুটিয়া ওঠিয়াছে তাহাতে অনেকের মতো আমিও মুগ্ধ।

.

৩) যাহা আমাকে বিমুগ্ধ করিয়াছে:

কবি কবিতা লেখিবেন, গল্পকার লেখিবেন গল্প – কিন্তু চিঠির বেলায় ব্যতিক্রম। সকলেই চিঠি লেখিতে পারেন। চিঠিতে কবিতার মতোই মনের গভীর অভিব্যক্তি প্রকাশ পাইতে পারে। তাই, চিঠি পড়ে সহব্লগারদের মনের গতিপথ সম্পর্কে কিছুটা জানিবার সুযোগ পাইলাম। কাহারো প্রেমিক-প্রেমিকার খবরও পাইয়া গেলাম এই যাত্রায়! একটি বিষয় আমাকে খুবই অনুপ্রাণিত করিয়াছে, তাহা হইলো: অধিকাংশ চিঠিই শুধু প্রেমের জন্য নহে, যদিও চিঠি স্বভাবগতভাবে প্রেমের কথাই কহে। সহব্লগাররা যে শুধুই প্রেম নামক একমুখি আবেগে ব্যপ্ত নহে, ইহা একটি জাতীয় সুখবর বলা যাইতে পারে। ‘জাতীয় সুখবর’ এইজন্যেই বলিলাম, কারণ স্বদেশকে নিয়া, মুক্তিযুদ্ধকে নিয়া, ভাষা আন্দোলনকে নিয়া, বাঙলাকে নিয়া, বিডিআর বিদ্রোহ, হরতাল, সাভার ট্রাজিডি নিয়ে বেশ কিছু চমৎকার চিঠি পড়িবার সৌভাগ্য আমার হইয়াছে। ইহাতে সহব্লগারদের স্বদেশ প্রেমের এক প্রেরণাদায়ক প্রমাণ পাইলাম। আরও ভালো লাগিয়াছে পিতা-মাতার প্রতি ভালোবাসা এবং তাহাদের প্রতি সহ-ব্লগারদের অনুভূতির প্রকাশ দেখিয়া। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চিঠি লিখা হইয়াছে পিতা-মাতার প্রতি। পিতারূপে শ্বশুরকে লক্ষ্য করিয়াও চিঠি লিখা হইয়াছে। তাহারা যে আমাদের জীবনে কতটুকু প্রভাব বিস্তার করিয়া আছেন, তাহা পরিমাপ করা না গেলেও অনুভব করিবার সুযোগ পাইলাম।

ইহাছাড়া প্রিয় প্রথম আলো ব্লগকে নিয়াও পত্র লিখিয়াছে আমাদের ক’জন সহব্লগার, যাদের অধিকাংশই প্রবাসী। প্রবাসীরাই কি তবে ব্লগকে বেশি প্রেম করেন? এই প্রশ্ন নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা চলিতে পারে। তবে আমি পূর্বাহ্নেই প্রবাসীদের পক্ষ নিয়া রাখিলাম! পক্ষপাতিত্ব না করিলে বিচারক হওয়া যায় না।

.

৪) চিঠিলেখা আয়োজনে ব্লগের কাটতি বাড়িয়াছে:

প্রথম আয়োজনে আমি সম্পৃক্ত ছিলাম না। বিভিন্ন আলোচনায় ভাবিয়াছিলাম তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে চিঠিলেখার আর কী প্রয়োজন থাকিতে পারে। গণমানুষের সাহিত্য হিসাবে চিঠির যে আলাদা একটি গুরুত্ব রহিয়াছে, তাহা প্রায় ভুলিতেই বসিয়াছিলাম। উপরন্তু এই আয়োজনে অনেক ভালো কিছু লেখকের সন্ধান পেলাম, যাহারা ব্লগে নিয়মিত আসেন না, কেবলই চিঠিলেখা উপলক্ষে আসিয়াছেন। অথবা, আসলেও শুধু পড়িতেন আর মাঝে মাঝে মন্তব্য করিতেন, কিন্তু নিজেরা তেমনভাবে লিখিতেন না। যাহারা নিয়মিত লিখেন, তারাও ভিন্ন কিছু লেখার প্রয়াস পাইলেন এই উপলক্ষে। ব্লগার, পাঠক, অতিথির যাতায়াত বাড়িয়াছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এইসবই চিঠিলেখা আয়োজনের কারণে হইয়াছে। দীর্ঘদিনের বিরতির পর চিঠিলেখা আয়োজনের বদৌলতে আলো ব্লগে আঘাত, মানে হিটও বাড়িয়াছে এই দিনগুলোতে। একটি পাবলিক ব্লগে এই অর্জন অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। আশা করছি আলোব্লগের কর্তারা এই কর্মচঞ্চলতাকে একটি স্থায়ি রূপ দিবার চেষ্টা করিবেন।

.

৫) চিঠি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বক্তব্য: সকল চিঠির উপস্থাপনা শেষ হইলে, পরের পোস্টে বিস্তারিত জানাইবার চেষ্টা করিব।

[প্রথম আলো ব্লগে পাঠক প্রতিক্রিয়া]

** প্রথম আলো ব্লগে চিঠি লেখা আয়োজনের নির্বাচক হবার অভিজ্ঞতা