Tagged: প্রথম আলো ব্লগ

প্রথম আলো ব্লগের ‘প্রিয়চিঠি আয়োজনে’ চিঠি নির্বাচন: মাটির ময়না’র চিঠি

[[ প্রিয় চিঠি আয়োজন নিয়ে প্রকাশিত মোট চারটি লেখায় ‘সাহিত্য আয়োজন’ সম্পর্কে আমার অভিমত, অভিজ্ঞতা এবং পরামর্শ নির্দ্বিধায় প্রকাশ করেছি। সহব্লগারদের যেকোন লেখায় যেমন দ্বিধাহীন মতামত দেই, এক্ষেত্রেও আমার স্বভাবের ব্যতিক্রম করি নি। এবার নির্বাচকের ভূমিকায় থেকে নিজের দ্বিধার সাথে একটু বেশিই যুদ্ধ করেছি এবং ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা থেকে ‘আয়োজক-আয়োজিত’ সকলের সম্পর্কেই মন্তব্য করেছি। কেউ পড়েছেন, কেউ আবার মন্তব্য দিয়ে উৎসাহিতও করেছেন। সকলকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা!  ]]

শুরুতেই প্রিয়চিঠি আয়োজনে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে যুক্ত সকল সম্মানীত সহব্লগারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। সম্মানীত উপদেষ্টা মণ্ডলি এবং নির্বাচক মণ্ডলিকে জানাচ্ছি আন্তরিক অভিনন্দন। চিঠিলেখা আয়োজনে কী বিশাল অভিজ্ঞতা ও ধারণা অর্জনের সুযোগ হয়েছে, তাতে ব্লগে কতটুকু কর্মচঞ্চলতার সৃষ্টি হয়েছে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আগেই বিস্তারিত বলেছি। আয়োজকের একনিষ্ঠতা এবং নির্বাচকের সমস্যা নিয়েও আলোকপাত করেছি‘প্রাক নির্বাচনী’ লেখাগুলোতে। প্রিয় চিঠি নির্বাচনের কাজটি কেন জটিল এবং ভবিষ্যতে এসব জটিলতাকে মোকাবেলা কীভাবে একটি সফল আয়োজন করা যায়, এসব নিয়ে বিগত ৩টি পোস্টেআমার ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরেছি। অতএব এসব নিয়ে আর কিছু বলছি না।
.
.
.
১) প্রিয় চিঠি নির্বাচনে বিবেচ্য বিষয়গুলো
পরিস্থিতির সার্বিক মূল্যায়ন করে, প্রিয়চিঠি নির্বাচনে বেশকিছু বিষয়কে মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহার করেছি। তাদের মধ্যে ৩টি বিষয় সম্মানীয় সহব্লগারদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরছি:
.
 চিঠির পটভূমি
 চিঠির বক্তব্যে সমাজ-সংশ্লিষ্টতা
 পাঠকের মনে আবেদন সৃষ্টি করার ক্ষমতা
.
চিঠি নির্বাচনে কোন শর্ত যুক্ত না থাকার সুবাদে, ইচ্ছাকৃতভাবেই ‘ভাষা শব্দচয়ন এবং বানানের’ বিষয়টিকে আমি চিঠি নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হিসেবে নেই নি। আমার অভিজ্ঞতায়, চিঠির স্বাভাবিক কোন পাঠক ভাষা ও শব্দচয়ন দিয়ে চিঠির পরিমাপ করেন না। বরং তারা এক নিঃশ্বাসে ‘ইতি’ পর্যন্ত গিয়ে চিঠির বক্তব্য হৃদয়ঙ্গম করতে সচেষ্ট হয়। ইউনিকোডে লেখতে গিয়ে অনিচ্ছায় অনেক বানানের ভুল হয়েই যায়। তারপরও বিষয়টিকে মন থেকে পুরোপুরি মুছে দিই নি। চেতনে অবচেতনে বানান ও ভাষার ভুলও পর্যবেক্ষণ করেছি।শব্দচয়ন অনেক উচ্চতর ভুল বিবেচনা করে এসব আমি আমলেই নিই নি।
.
.
অন্তত ২০টি চিঠি আমি প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করেছি। এগুলো হলো: কুদরতির প্রতি কাজী আনোয়ার হোসেনের চিঠি, মেজদা’র প্রতি গোলাম মোস্তফার চিঠি, আকাশের প্রতি কথামানবীর ১ম এবং ২য় চিঠি, প্রিয়তমেষূকে আলভিনা চৌধুরীর চিঠি, জননীর প্রতি সেলিনা হোসেনের চিঠি, শ্বশুরের প্রতি ফেরদৌসার চিঠি, তৌফিক মাসুদ কর্তৃক স্বপ্নদূতের চিঠি, স্বাধীনতা নিয়ে মোসাদ্দেকের চিঠি, বাঙলা ভাষাকে নিয়ে পলাশ বসুর চিঠি, রিয়াদ অরণ্য কর্তৃক উপস্থাপিত ‘নানাজানের চিঠি’, সাইদুল ইসলাম কর্তৃক শান্তিরক্ষী’র চিঠি, বান্ধবীর প্রতি জান্নাতীর চিঠি, নাসরিন চৌধুরী লিখিত রাজকন্যার চিঠি, বাবার প্রতি দীপ্ত দিপাঞ্জনের চিঠি, অনিন্দিতার প্রতি ‘আমি কালপুরুষের’ চিঠি, অসংজ্ঞায়িত মেহেদীকর্তৃক মা’কে লেখা চিঠি (২য়), শেমভিল হোসেন কর্তৃক ঘরজামাইয়ের চিঠি, নুসরাত জাহান আজমী কর্তৃক পিতা এবং অতীত বিষয়ক চিঠি এবং সব শেষে মৃত স্ত্রীর প্রতি মাটির ময়নার চিঠি।
.
.
ব্লগার মাটির ময়না’র চিঠির স্ন্যাপশট

[ব্লগার মাটির ময়না’র চিঠির স্ন্যাপশট]

 

২) প্রিয়চিঠি নির্বাচন এবং নির্বাচিত হবার ভিত্তিঅনেক দ্বিধাদ্বন্দ্বের মুখোমুখি হয়ে প্রথমে ১৬৫ থেকে ২০, তারপর ৩টি চিঠিতে আমি প্রাথমিকভাবে দৃষ্টি নিবদ্ধ করি। ওপরে উল্লেখিত শেষ ৩টি চিঠিকে আলাদা করে আয়োজকের কাছে প্রেরণ করি। তিনটি চিঠিকে নির্বাচন করলেও আমি অগ্রাধিকার নম্বর উল্লেখ করেছিলাম। অন্যান্য নির্বাচককে সুযোগ দেবার জন্যই ওই ব্যবস্থাটি রেখেছিলাম। অবশেষে মাটিরময়না’র ‘লাল রঙে রাঙাইয়া দিমু তোমার সিঁথি’ শীর্ষক চিঠিটি আমি চূড়ান্ত বলে নির্বাচন করার সুযোগ পাই। অধিকাংশ চিঠিতেই লিখিতভাবে আমার তাৎক্ষণিক মন্তব্য দিয়েছি। তাই শুধু চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত চিঠি সম্পর্কে আলোচনা করছি, এবং উল্লেখিত শর্তাবলীর আলোকে আমার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন তুলে ধরছি:

স্ত্রীর প্রতি স্বামী চিঠি। এটি স্বাভাবিক কোন প্রেমের চিঠি নয়। মৃত স্ত্রীর কাছে একজন অসহায় নিগৃহীত স্বামীর চিঠি। দেশ সমাজ সংসার এবং শেষে পুত্রের কাছে নিগৃহীত এক পিতার হাহাকার। চিঠিতে ফুটে ওঠেছে আমাদের সূর্যসন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের বর্তমান জীবন চিত্র। চিত্রিত হয়েছে একটি অকৃতজ্ঞ সমাজের ধ্বংসের ছবি। শুধু চিঠি বললে ভুল হবে, অল্প কথায় একটি সমাজচিত্র।

 

 চিঠির পটভূমি
“আমি যখন যুদ্ধ থাইকা আইলাম ফিইরা, তোমারে সিদুর দিতে গেছলাম যখন তুমি তো আমারে সিদুর লাগাইতে দিলা না। দিব্যি দিলা তোমার বইনের ইজ্জত লইয়া যেই রাজাকারের বাইচ্চারা খেলছে তাগো ভগবার বিচার না করা পর্যন্ত তুমি সিদুর দিবা না। রতনের মা, তুমি চাইয়া দেখো চাইরদিকে, দেশের বাতাসে এহন বিচারের গর্জন, তাগো বিচার করতাছে ভগবান। ভগবান কারো মাপ দেই নাই রতনের মা। তুমি আমার লাইগা অপেক্ষা করো রতনের মা, আমি আইতাছি লাল রঙ্গে রাঙ্গায় দিমু আমি তোমার সিথিঁ।”

চিঠিতে বহুমুখী পটভূমি রচনা করা হয়েছে বহুমুখী উদ্দেশ্যে। এখানে আছে মুক্তিযুদ্ধ, সাম্প্রদায়িকভাবে ছোট একটি গোষ্ঠির মুক্তযুদ্ধে অংশগ্রহণের সাক্ষ্য আর আছে সন্তানের কাছে পিতার প্রবঞ্চনার চিরচেনা চিত্র। আমি লক্ষ্য করেছি মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি এবং একজন মুক্তিযোদ্ধার জীবন যুদ্ধের বিষয়টি। যদিও যোদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে বিভিন্ন পক্ষে, তবু বিচারের আবশ্যকতা তুলে ধরা হয়েছে চিঠিটিতে।

 

 চিঠির বক্তব্যে সমাজ সংশ্লিষ্টতা
“তুমি শুনলে অনেক খুশি হইবা, তোমার রতন এখন অনেক বড় হইছে। অনেক বড় সাহেবের চাকরী করে সে। মেলা টাকা রোজগার করে। অনেক কথা কইতেও শিখছে আমাগো রতন। আমারে সেদিন কইলো, তার এই ছোড ঘরের মধ্যে আমি থাকলে তার পরিবারের কষ্ট হইয়া যায়। জায়গা নাকি অনেক কম ঘরে। ও, রতনের মা, এতো বড় একটা ঘরের মইধ্যে আমি সারে পাচঁ ফুটের একটা মানুষ কতো আর জায়গা খাই?”

আমাদের সমাজ অনেক এগিয়ে গেছে….প্রবৃদ্ধির হার বেড়েছে…..মাথাপিছু আয় বেড়েছে…..কর্মসংস্থান বেড়েছে। সে সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সমাজের অবক্ষয়। পশ্চিমা ‘এবং প্রতিবেশী প্রাচ্যের’ আগ্রাসনে বেড়েছে সাংস্কৃতিক চরিত্রহীনতা। মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি তো দূরের কথা পিতার স্বীকৃতিই মিলছে না আজ। আমরা হয়তো নিকৃষ্ট দৃষ্টান্তগুলো হয় দেখি না, না হয় মনে রাখি না – অথবা দু’একটা উত্তম দৃষ্টান্ত দেখে আত্মতৃপ্তিতে থাকি। কিন্তু যারা এসব প্রবঞ্চনার শিকার, তাদের কাছে উত্তম বলে পৃথিবীতে কিছু নেই। যেমন নেই, রিক্সাওয়ালা মল্লিক মিয়ার কাছে, যিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে দেশের জন্য জীবন বাজি রেখেছিলেন।

 

 পাঠকের মনে আবেদন সৃষ্টি করার ক্ষমতা
“দুই যুগ হয় আমি তোমার হাতের পায়েস খাইনা। তোমার সেই ঘন্টার পর ঘন্টা সময় দিয়ে পায়েস আর কেউ বানায় না গো । সেই কষ্ট, সেই মায়া, সেই ভালোবাসা আর কোন পায়েসে আমি পাইনা। ভগবানের কাছে মাঝে মাঝে কই তোমারে কি একটা দিনের জন্য ছুটি দেয়া যায়না?…… তোমার চুলে দেয়া সেই বাসনা তেলের বোতলটা এখনো রাইখা দিছি ……আইচ্ছা রতনের মা, ঐ পারে গেলে কি মানুষের চুল পাকে? তোমারও কি চুল্পাইকা গেছে? নাকি এহনো , যেমন আছলা তেমন আছো? ……. আমি সেই আগের মতো জোয়ান নাই গো রতনের মা। তবুও কি পারবা আমারে চিনতে?”

মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির ‘অবসেশন’ – বাঙালির অস্তিত্ব। মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে লিখিত চিঠিতে রয়েছে আমাদের সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্র। ফলে চিঠির বিষয় ইতিমধ্যেই পাঠকের মন কেড়েছে। চিঠিতে আবেগ ছিলো কানায় কানায় পূর্ণ, যা প্রথম থেকেই পাঠকের নজর আটকে দেয়। এ আবেগ যথার্থ পরিমিত এবং প্রাসঙ্গিক। চিঠি পড়লে কখনও মনে হবে না এটি ‘সুকুদা’ ছাড়া অন্য কেউ লেখেছে। প্রতিটি অনুচ্ছেদ যেন একেকটি প্লট।

 

৩) মাটির ময়নার চিঠিতে ‘পাখির চোখে দৃষ্ট’ বিষয়গুলো

*বিষয়: মৃত স্ত্রীর কাছে স্বামীর চিঠি
*পটভূমি: মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তি সামাজিক জীবন
*লেখকের ভঙ্গি: স্ত্রীর প্রতি সমাজ, সন্তান ও জীবন নিয়ে অনুযোগ
*মূল বক্তব্য: একজন স্বাধীনকর্মীর পরাধীন জীবনে মৃত্যুর অপেক্ষা আর মৃত স্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের অপেক্ষা।
*ভাষা: চলিত এবং আঞ্চলিক ভাষার ‘আরামদায়ক’ মিশ্রণ
*লেখার আকার: ৬৮২ শব্দ, ৬ অনুচ্ছেদ, ১.৫ পৃষ্ঠা।
*ঘটনা পরিক্রমা: “রতনের মা, তোমারে ছাড়া আমি হাপাই গেছি।আর কতো পথ চলুম একলা একলা?” সঙ্গীহারা ‘সুকুদা’র অনুযোগ দিয়ে শুরু চিঠি শুরু হলেও লেখক দক্ষতার সাথে গেয়ে গেছেন সমাজ পরিবর্তন আর অবক্ষয়ের গান। স্বাধীনতা পরবর্তি পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের শিকার হয়েছেন স্বাধীনতা-কর্মী ‘সুকুদা’।

নিজ পুত্রের কাছে প্রবঞ্চনার শিকারও হয়েছেন। প্রিয়তমা স্ত্রীকে ঠিক আগের মতোই দেখতে চান সুকুদা, যেমন দেখেছিলেন ২৬ বছর আগে। সৎভাবে চাকরি করতে না পেরে চাকুরি ছেড়ে দেন। এক ফাঁকে বলে যান, মুক্তিযোদ্ধা মল্লিক মিয়ার কথা, যে এখন রিক্সাওয়ালা। স্বজনহীন সুকুদা এখন মৃত্যুর দিন গুণে সময় অতিক্রম করছেন, যেমন অনেক মুক্তিযোদ্ধা করছেন আমাদের সময়ে।

 

৪) অন্যান্য পাঠকের অভিমত

সম্মানীত সহব্লগার মাটিরময়নার চিঠিটিতে কয়েকজন সহব্লগারের মন্তব্যকে আমি উল্লেখিত শর্তাবলীর সাথে প্রাসঙ্গিক মনে করছি:

রব্বানী চৌধুরী: এ চিঠি যেন সমাজের দর্পন। মন ছুঁয়ে যাওয়া চিঠি। আবেগের ছোঁয়ায় লেখা এ চিঠি খুব ভালো লাগলো।
মেঘনীল: ছুয়ে গেলো। শুরুটা যেমন করলা শেষটা ও দারুন। একটানা পড়ার পড়ে একটা হাহাকারবোধ জন্ম নিলো।
নুসরাত জাহান আজমি: আমাদের সমাজের বেশকটি সমস্যাই তুলে ধরা হয়েছে চিঠিটাতে। গত হওয়া স্ত্রীর কাছে স্বামীর দুই যুগ পর লেখা চিঠিটাতে আবেগ ছিল অনেক বেশি।
ফেরদৌসী বেগম শিল্পী: দুঃখ-কষ্ট, প্রেম-ভালোবাসা আর দেশপ্রেম সব মিলিয়ে বেশ সুন্দর চিঠি লিখেছেন মাটিরময়না ভাই। ভীষণ ভালো লাগলো।
ঘাস ফুল: মৃত স্ত্রীর কাছে লেখা চিঠিটার মধ্যে কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। রতনের মধ্যে দিয়ে ফুটে উঠেছে বাবা মার প্রতি সন্তানদের অবজ্ঞার কথা, আবার কিছু দুর্নীতির কথা। রতনের বাবা চাকুরি হারায়/সময়ের আগেই অবসর নিতে বাধ্য হয় দুর্নীতিকে মেনে নিতে পারে নাই বলে। মুক্তির জন্য যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা হল, কিন্তু এখনো কি আমাদের মুক্তি মিলেছে, সেই প্রশ্নটাও ওঠে এসেছে চিঠির মধ্যে। মুক্তিযোদ্ধাদের করুন চিত্রও চিঠিতে ছোট্ট আকারে তুলে ধরেছ। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সংখ্যা লঘুদের অংশগ্রহণের ব্যাপারটি ওঠে এসেছে।

 

৫) যা বলা যায় এবং যাদেরকে বলা যায় – তার সবই তাদেরকে বললাম!

প্রিয় চিঠি আয়োজন নিয়ে প্রকাশিত মোট চারটি লেখায় ‘সাহিত্য আয়োজন’ সম্পর্কে আমার অভিমত, অভিজ্ঞতা এবং পরামর্শ নির্দ্বিধায় প্রকাশ করেছি। সহব্লগারদের যেকোন লেখায় যেমন দ্বিধাহীন মতামত দেই, এক্ষেত্রেও আমার স্বভাবের ব্যতিক্রম করি নি। এবার নির্বাচকের ভূমিকায় থেকে নিজের দ্বিধার সাথে একটু বেশিই যুদ্ধ করেছি এবং ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা থেকে ‘আয়োজক-আয়োজিত’ সকলের সম্পর্কেই মন্তব্য করেছি। কেউ পড়েছেন, কেউ আবার মন্তব্য দিয়ে উৎসাহিতও করেছেন। সকলকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা!

 প্রিয় চিঠি: ‘লাল রঙে রাঙাইয়া দিমু তোমার সিঁথি

 

———————————————————-
প্রিয়চিঠি আয়োজন উপলক্ষে পূর্বতন লেখাগুলো:
প্রাক-নির্বাচনী বক্তব্য ১: প্রাপ্তির কথা
প্রাক-নির্বাচনী বক্তব্য ২: নির্বাচক হিসেবে চ্যালেন্জগুলো
প্রাক-নির্বাচনী বক্তব্য ৩: ভবিষ্যৎ আয়োজনের জন্য কিছু পরামর্শ

চিঠিলেখা আয়োজনে প্রাকনির্বাচনী বক্তব্য ৩: সাহিত্য প্রতিযোগিতা আয়োজনের কতগুলো নির্দেশনা

চিঠিলেখা আয়োজনে প্রাকনির্বাচনী বক্তব্য ২: সাহিত্য মূল্যায়নের সমস্যাগুলো

ভবিষ্যত আয়োজনে যা করা যেতে পারে:

আয়োজকদের আন্তরিকতায় কোন কমতি নেই, একথা নিশ্চিতে বলা যায়। কর্তব্যনিষ্ঠারও কমতি দেখি নি। যার যার কর্মজীবনের মধ্যে থেকে এর চেয়ে বেশি আশা করা যায় না। এজন্য প্রথমেই নিঃশর্ত সাধুবাদ জানাই। শুধু প্রসঙ্গ এসেছে বলে কিছু মতামত রেখে যেতে চাই ভবিষ্যতের জন্য। নির্বাচক হিসেবে শত অযোগ্যতা নিয়েও ব্যক্তিগত দায় থেকেই কিছু বলছি। আমার মতে, ব্লগ যেহেতু একটি পাবলিক প্লেইস, সেখানে উপযুক্ত পরিকল্পনা করেই মাঠে নামা উচিত। এখানে নানা মুণির নানা মত – অথচ সকল মুণিকেই একই ছাতার নিচে রাখা চাই। অন্তত একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। এজন্য চাই যথেষ্ট পরিকল্পনা, হোমওয়ার্ক ও দূরদর্শিতা। খুঁটিনাটি বিষয়গুলো প্রথম পোস্টেই জানিয়ে দিলে ভবিষ্যতে আরও ভালো প্রতিযোগিতার আয়োজন হতে পারে প্রথম আলো ব্লগে। প্রথম বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ হবার পূর্বে কমপক্ষে ১০টি পর্যায় অতিক্রম করা উচিত। লেখা মূল্যায়নের সহজ কিছু নির্দেশক বা পরিমাপক পূর্বেই প্রকাশ করলে সকল শ্রেণীর লেখকদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাছাড়া, সঞ্চালক বা ব্লগ কর্তৃপক্ষকে উপযুক্তভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে – এর বিকল্প নেই।

.

1111

[বিস্তারিত নিম্নে উল্লেখ করা হয়েছে]

সাহিত্য প্রতিযোগিতা যে কোন জনসংশ্লিষ্ট কোন আয়োজনের জন্য একটি চেকলিস্ট থাকলে একদৃষ্টে বুঝা যায় কী করা হলো, আর কী করা হলো না। ‘Forming-Storming-Performing’ নীতির আলোকে তৈরিকৃত নিম্নের চেকলিস্টটি কোন চূড়ান্ত বিধি নয় – এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে, যোগবিয়োগও হতে পারে। তবু তালিকাটি একটি ভালো আয়োজনের জন্য চিন্তার খোরাক যোগাতে পারে:

• প্রস্তুতি/আহ্বায়ক কমিটি গঠন
• লেখার বিষয় নির্ধারণ
• লেখার মাধ্যম নির্ধারণ
• প্রকাশনার মাধ্যম নির্ধারণ
• কর্তৃপক্ষ/সঞ্চালক প্যানেলের সাথে আলোচনা
• নির্বাচক কমিটি গঠনের বিজ্ঞপ্তি
• নির্বাচক কমিটি গঠন
• লেখক/অংশগ্রহণকারীদের জন্য সমতল পরিবেশ নিশ্চিতকরণ
• লেখা মূল্যায়নের নির্দেশক নির্ধারণ
• স্বীকৃতি/সম্মাননা প্রদানের মাধ্যম নির্ধারণ
• অংশগ্রহণের বিজ্ঞপ্তি
• লেখা সংগ্রহ ও মূল্যায়ন
• বিশেষ অতিথি ও বিশেষ স্থান
• যথাসময়ে ফলাফল বা স্বীকৃতি প্রদানের অনুষ্ঠান

কিছু বর্ণনা দেবার চেষ্টা করলাম:

I. প্রস্তুতি/আহ্বায়ক কমিটি গঠন: একটি প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা যেতে পারে যারা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে ১ থেকে ৫ পর্যন্ত কাজগুলোর দেখাশুনা করবেন।

II. লেখার বিষয় নির্ধারণ: ‘কী বিষয়ে লেখতে হবে’ সেটা নির্ধারণ করতে হবে – স্মৃতিচারণ, স্বদেশ, মুক্তিযুদ্ধ, বর্ষাকাল ইত্যাদি যা-হোক আগে সুস্পষ্ট করতে হবে।

III. লেখার মাধ্যম নির্ধারণ: কবিতা, প্রবন্ধ, ছোটগল্প, ছড়া নাকি স্মৃতিকথা? ফরম্যাট ঠিক করা থাকলে সকল প্রতিযোগী একই মনোভাব নিয়ে অগ্রসর হবেন।

IV. প্রকাশনার মাধ্যম নির্ধারণ: জমাকৃত লেখাগুলো কীভাবে প্রকাশ পাবে- পিডিএফ নাকি ছাপানো, ছাপানো হলে কী সাইজের ইত্যাদি। এখানে প্রকাশক বা সম্পাদকের তথ্য দেওয়া থাকলে আরও ভালো।

V. সঞ্চালক প্যানেলের সাথে আলোচনা: সঞ্চালক বা ব্লগ কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করে তাদের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিযোগিতাটি ব্লগ কর্তৃপক্ষের নীতিমালার সাথে মানানসই কিনা তাও দেখতে হবে।

VI. নির্বাচক কমিটি গঠনের বিজ্ঞপ্তি: নির্বাচক কমিটিতে যারা আসবেন তারা কিসের ভিত্তিতে নির্বাচিত হচ্ছেন সেটা আগেই প্রচার করা উচিত। যেমন, সময় বা লেখার সংখ্যার বিচারে তাদের জৈষ্ঠ্যতা, পাঠকের/সহব্লগারদের গ্রহণযোগ্যতা, পাঠকের মন্তব্যের ভিত্তিতে জৈষ্ঠ্যতা, লেখার মানের ভিত্তিতেও হতে পারে। এসব বিষয়গুলো পূর্বেই ব্লগে প্রকাশ করলে প্রতিযোগিতার বিষয়ে গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।

VII. নির্বাচক কমিটি গঠন: বিভিন্ন পর্যায়ের ব্লগার এবং সঞ্চালক কমিটির সদস্যদের সমন্বয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচক কমিটি গঠন করে ঘোষণা দিতে হবে। সাক্ষাতে সভা করা অসম্ভব হলে, গ্রুপচ্যাটিং ইত্যাদি করে ভারচুয়াল সভা করা যেতে পারে।

VIII. লেখক/অংশগ্রহণকারীদের জন্য সমতল পরিবেশ নিশ্চিতকরণ: উপরোক্ত শর্তগুলো অতিক্রম করলে স্বাভাবিকভাবেই সকলের অংশগ্রহণের সমান সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রেরণা পাবেন সকল পথের সকল মনের ব্লগারগণ।

IX. লেখা মূল্যায়নের নির্দেশক নির্ধারণ: প্রচলিত নির্দেশকগুলো হতে পারে এরকম – ক) ভাষা (শুদ্ধ বানান, সাধু ও চলিত ভাষার অবিমিশ্রিত ব্যবহার), খ) লেখার বিষয় (লেখাটি কি সময়ের প্রতিনিধিত্ব করছে, নাকি ইতিহাসের সাক্ষী হচ্ছে নাকি বিনোদন দিচ্ছে ইত্যাদি), গ) লেখার আকৃতি (কত শব্দের, কত পৃষ্ঠার, কোন্ কী বোর্ড ইত্যাদি), ঘ) কী কী বিষয়ে লেখা যাবে না, তাও উল্লেখ করে দেওয়া যায়।

X. স্বীকৃতি/সম্মানতা প্রদানের মাধ্যম নির্ধারণ: শ্রেষ্ঠ যদি সত্যিই শ্রেষ্ঠ হয়, তবে তাকে স্বীকৃতি দিতে কোন বাধা থাকে না। স্বীকৃতি যদি সঠিক ভিত্তির ওপরে স্থাপিত হয়, তবে কী দিয়ে তা প্রদান করা হলো, সেটি খুব বিবেচ্য নয়। তবে যা-ই হোক, সেটা ঘোষণা থাকা ভালো। শুধু একটি সনদপত্র/ক্রেস্ট দিয়েও স্বীকৃতি হতে পারে। হতে পারে একটি সুন্দর বই।

XI. অংশগ্রহণের বিজ্ঞপ্তি: উপরোক্ত ১০টি পর্যায় অতিক্রম করার পর নির্দ্বিধায় বিজ্ঞপ্তি প্রদান করা যায়। বিজ্ঞপ্তি যত দীর্ঘই হোক সেটা সংশ্লিষ্টরা অবশ্যই পড়বেন। তাই লেখার দৈর্ঘ নিয়ে চিন্তিত না হয়ে পরিপূর্ণতার দিকে খেয়াল দিতে হবে।

XII. লেখা সংগ্রহ ও মূল্যায়ন: প্রথমত অংশগ্রহণকারী সকল প্রতিযোগীর নাম ও লেখা তালিকাভূক্ত করতে হবে। কেউ যেন বাদ না পড়েন! অযোগ্যতা থাকলে তা আলাদা মন্তব্যে উল্লেখ করা যায়, কিন্তু তালিকায় নাম অবশ্যই থাকা চাই। পূর্বঘোষিত মাপকাঠি/শর্তাবলীর আলোকে প্রতিটি লেখাকে মূল্যায়ন করে, ‘ডিমিনিশিং’ পদ্ধতিতে তালিকা ছোট (শর্টলিস্টিং) করে আনা যায়। তাতে সকলেই সুবিচার পাবেন।

XIII. বিশেষ অতিথি ও বিশেষ স্থান: সম্মাননা বা স্বীকৃতি প্রদানের জন্য একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার সফল সমাপ্তি ঘটাতে হবে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিশেষ অতিথি নির্বাচন করে তার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ স্থান হলেও পূর্ব থেকেই সেটি নিশ্চিত করে রাখতে হবে। সম্মাননা অনুষ্ঠানের জন্য একটি আলাদা পোস্ট দেওয়া উত্তম। তবে খসড়া পরিকল্পনাটি প্রথম পোস্টেই প্রকাশ করা যায়।

XIV. যথাসময়ে ফলাফল বা স্বীকৃতি প্রদানের অনুষ্ঠান: এমনভাবে স্থান ও তারিখ নির্ধারণ করতে হবে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়া যার কোন পরিবর্তন হবে না। যথাসময়ে এবং যথাস্থানে অনুষ্ঠান শুরু করতে হবে। ৬টার অনুষ্ঠান ৯টায় হলে, অনুষ্ঠানের মান এবং সম্মান দু’টোই কমে যায়।

শেষ কথা হলো, সকলকে ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা!

কিছু সমস্যার কথা যোগ না করলে যেমন ‘প্রাপ্তির কথা’ বিশ্বাসযোগ্য হয় না, তেমনি কিছু পরামর্শ বা সুপারিশ না দিয়ে শুধু ‘সমস্যার কথা’ বলাও দায়িত্বহীনতা। এক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষায় কতটুকু সফল হলাম, পাঠক বলতে পারবেন। আমি বিশ্বাস করি, ব্লগারের পরিচয় হলো তার লেখায়। কিন্তু সকলেই তো রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত-রৌদ্র নন যে, নিজের প্রেরণায় লেখে যাবেন একটির পর একটি মাস্টারপিস। অধিকাংশ ব্লগারের প্রয়োজন পর্যাপ্ত প্রণোদনা বা প্রেষণা। লেখালেখিতে ব্লগারদেরকে তৎপর রাখার জন্য কতৃপক্ষকেই উদ্যোগ নিতে হয়। তা না হলে দলাদলি, ফেইকনিক, মেরুকরণ, ব্যানকরণ, ব্লককরণ ইত্যাদি নেতিবাচক উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করলে, অঙ্গুলি চলে যায় সঞ্চালকের দিকে। মাঝখানে পরে শান্তিপ্রিয় ব্লগাররা ভুল বুঝাবুঝির শিকার হন। ব্লগে ব্লগারদের কর্মচঞ্চলতা বাড়াতে বিভিন্ন আয়োজন নিয়মিত এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকুক, এই কামনা করছি। প্রিয়চিঠি আয়োজনে সংশ্লিষ্ট সকলকে শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

*প্রথম ছবি আলো ব্লগ থেকে নেওয়া, গ্রাফ-ছবিটি পোস্টদাতার তৈরি।

[ প্রথম আলো ব্লগে পাঠক প্রতিক্রিয়া ]

.

প্রথম আলো ব্লগে চিঠি লেখা আয়োজনের নির্বাচক হবার অভিজ্ঞতা

.

এবিষয়ে পূর্বের পর্ব: 

চিঠিলেখা আয়োজনে প্রাকনির্বাচনী বক্তব্য ২: সাহিত্য মূল্যায়নের সমস্যাগুলো

প্রাকনির্বাচনী বক্তব্য ১: ‘চিপায় পড়িয়ে যাহা হয়’

চিঠিলেখা আয়োজনে প্রাকনির্বাচনী বক্তব্য ২: সাহিত্য মূল্যায়নের সমস্যাগুলো

প্রাকনির্বাচনী বক্তব্য ১ ‘চিপায় পড়িয়ে যাহা হয়’

৫) চিঠির নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট বক্তব্য 

বিগত পোস্টে শুধুই প্রাপ্তির কথা বলেছি। ‘চিপায় পড়েছি’ বলেছি কেবলই মজা করার জন্য, যদিও সে সম্পর্কে কিছু বলা হয় নি। প্রিয় সহব্লগারগণ কেবল প্রাপ্তির বিষয় পড়ে আমার ‘চিপায় পড়া’ নিয়ে মজা করেছেন। আপনাদের মজায় পাওয়া দেখে আমিও মজা পেয়েছি। সবান্ধবে বিপদে পড়লেও সেটা হেসেখেলে অতিক্রম করা যায়। প্রাপ্তিই সেখানে বেশি। এবারও প্রাপ্তির কথাই বলবো – শুধু ভিন্ন আঙ্গিকে। যে কোন বিষয়েই বিচার অনেক কঠিন, কিন্তু সাহিত্যকর্মের বিচার করা সবচেয়ে কঠিন মনে হয়েছে। সাহিত্য রচনায় কোন বিশেষ শর্ত আরোপ করা যায় না বলে এর বিচার করা মোটামুটি জটিল। আমার মতে, সকল চিঠি নির্বাচকই এ জটিলতার মুখোমুখি হবেন। চিঠিলেখা আয়োজনে প্রত্যেক সম্মানীত লেখক অবারিত স্বাধীনতা নিয়েছেন তাদের চিঠি রচনার ক্ষেত্রে। স্বাধীনতা পরিমাপ না করা গেলেও তা কিন্তু অসীম নয়: একজনে বেশি পেলে অন্যজনের কম পড়ে। কয়েকটি কারণ তুলে ধরলাম, যাকে পুরোপুরি সমস্যাও বলা যায় না।

.

ক) পূর্ব থেকে কোন শর্তাবলী বা ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণ করা হয় নি: আমার ধারণা, না করাটাই ভালো, তাতে সকল পর্যায়ের লেখক যোগ দিতে উৎসাহিত বোধ করেছেন। লেখার মানউন্নয়ন করতে হলে প্রচুর লেখা চাই। পুরস্কার বা স্বীকৃতিটাই বড় বিষয় নয়।

.

খ) কোন কাঠামো বা প্রাপক বা অডিয়েন্স নির্ধারিত হয় নি: এটি পূর্বোক্ত কারণেই হয় নি। শুধু প্রকৃতি বা আকাশকে নয়, ‘নিজের’ সমীপেও চিঠি লিখেছেন এবং তা ভালোও লেগেছে। চিঠির সম্বোধন, ভাষা বা বিষয়-বিন্যাস নিয়ে কোন দিকনির্দেশনা ছিলো না। অনেকটা ‘লিখুন আপনার মনে যাহা চায়’-এর মতো। এতে নির্বাচকের জন্য সমস্যা হলেও, লেখায় এসেছে বৈচিত্র।

.

গ) প্রতিযোগিতার জন্য হলেও লেখকরা পেয়েছেন সর্বোচ্চ স্বাধীনতা: কেউ কবিতার ভঙ্গিতে, কেউ গল্পের ভঙ্গিতে আবার কেউ বা মাঝামাঝি ভঙ্গিতে চিঠি লিখেছেন। অন্তত শব্দের সংখ্যাটি ঠিক করে দেওযা যেতো। কেউ ২০০ শব্দে, কেউবা ২০০০ শব্দে চিঠি লিখেছেন।

.

ঘ) বিচারক/গণপাঠক সমীপে: প্রেরক-প্রাপকের মধ্যে আর কেউ নেই, অর্থাৎ এ চিঠি আর কেউ পড়বে না, এরকম মানসিকতা নিয়ে লেখা চিঠির সংখ্যা কম। যার নাম চিঠির প্রাপকের স্থানে আছে, একদম তাকেই উদ্দেশ্য করে সকল বক্তব্য বলা হয় নি। প্রচ্ছন্নভাবে বক্তব্যের গন্তব্য বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে গেছে: অনেকটা গণচিঠির মতো। এতে কোন অনিয়ম হয় নি, কারণ নিয়মই তো নেই – নির্বাচকের জন্য এটিও একটি চ্যালেন্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

.

ঙ) সীমানা নির্ধারণ না থাকায় প্রত্যেকেই স্ব স্ব বিষয়ের আঙ্গিকে ভালো লিখেছেন: প্রতেকেরই এরকম দাবি করার অধিকার আছে যে, তার চিঠিটি উত্তম হয়েছে, কারণ প্রতেক্যের চিঠির বিষয়ই আলাদা এবং অন্যের সাথে অতুলনীয়। কেউ ধারে, কেউবা ভারে; কেউ কবিত্বে, কেউবা প্রকৃত চিঠি লেখার দক্ষতায়; কেউ ভাষাগতভাবে এগিয়ে আবার কেউবা বিষয়গত ভাবে এগিয়ে। বিচারক এবার যাবেন কোথায়!
.

চ) নির্বাচক কমিটির বিচ্ছিন্নতা: কমিটি হলেই সেখানে মিটিং হবে, আলোচনা হবে, আর হবে সিদ্ধান্ত। এটিই সাধারণ রীতি। কিন্তু ব্লগারদের বেলায় সেটি সম্ভব হচ্ছে না, আমরা একেক জন একেক দিগন্তে বাস করি।

.

এসবের মধ্যেও কিন্তু নির্বাচক হিসেবে একটি চিঠি বের করতেই হবে। কেবলই একটি চিঠি। আমি তো কমপক্ষে ২০টি চিঠি পেয়েছি, যার প্রত্যেকটি স্ব স্ব ক্ষেত্রে উত্তম! কিন্তু বের করতে হবে একটি চিঠি – সেটি কার হবে? শত কর্মব্যস্ততার মাঝেও এটি আমার কাছে সবচেয়ে জটিল এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

.

৬) লেখকের ‘স্বাধীনতার’ একটুস খানি নির্বাচককে দেওয়া যায় না!?

আমাকে যদি বলা হতো ২০টি উত্তম চিঠি বের করতে হবে, তবে তা-ই করতে পারতাম। কিছু চিঠি সত্যিই বিশেষ স্থানে ওঠে এসেছে। চেতনা ও অনুভূতির শীর্ষে এসে কয়েকটি চিঠি এসে কঠিন প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছে। সৃষ্টি করেছে নির্বাচকের মনে পীড়াদায়ক দ্বন্দ্ব। বিবেকের কাছে স্বচ্ছ থাকতে চাইলে এটি যেন নির্বাচকের জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা! অনেক উত্তমের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হবে। একটি চিঠিই নির্বাচন করতে হবে। অতএব পিঠে চট বেঁধেছি, ইচ্ছেমত সমালোচনা করুন নির্বাচকের। যারা সরাসরি করবেন না, মনে মনে করবেন, তাদের জন্য বার্তা কক্ষ খোলা থাকলো। সমালোচনা করার যথার্থ কারণ যেহেতু আছে, তাই অগ্রিম ক্ষমা প্রার্থনা করছি। শেষ চেষ্টা হিসেবে বলে নিচ্ছি: লেখকেরা যেহেতু অবাধ স্বাধীনতা পেয়েছেন, নির্বাচকদেরকে সেখান থেকে একটুখানি স্বাধীনতা বরাদ্দ দিন, তাহলেই বর্তে যাই!

.

৭) সহব্লগারদের কাছে আগাম অনুরোধ:

চিঠিলেখা আয়োজনের কারণে একটি নির্দিষ্ট সময় ব্লগে থাকতেই হয়েছে। কর্মজীবন এবং সংসার ধর্ম করেও নিয়মিত ব্লগে থেকে সহব্লগারদের হৃদয়-নিংড়ানো লেখাগুলোতে দৃষ্টি দেওয়াকে একটি পবিত্র দায়িত্ব মনে করেছি। জানি না নির্বাচক হিসেবে কতটুকু দায় পালন করতে পারলাম। তবে আমার কাজ প্রায় শেষ বলেই আমি মনে করি। এখন কাজ শুধু একটি চিঠিকে নির্বাচন করে ঘোষণা দেওয়া। অনেক কঠিন হলেও তা আমাকে করতেই হবে। সকল সহব্লগারের কাছে বিনীত অনুরোধ: যেহেতু আয়োজক এবং অংশগ্রহণকারী সকলেই এখানে স্বেচ্ছাসেবী, চলুন একে অন্যকে গ্রহণ করি আন্তরিকতা দিয়ে। সিদ্ধান্ত যা-ই হোক, মানবিকতাবোধ এবং নিজস্ব রুচিবোধকে তুলে ধরি। এ ধরণের প্রতিযোগিতাগুলোতে মানুষের মূল্যবোধগুলো সবচেয়ে বেশি পরীক্ষিত হয়।

.

৮) ভবিষ্যত আয়োজনে যা করা যেতে পারে:

সমস্যা উত্থাপন করলে কিছু সমাধানের প্রস্তাবও দিতে হয়। ২০১৩ সালের চিঠিলেখা আয়োজনে যুক্ত থেকে লেখা প্রতিযোগিতা সম্পর্কে আমার কিছু মতামত জড়ো হয়েছে। ছাত্রজীবনে, এমনকি কর্মজীবনেও, এরকমের কিছু কিছু আয়োজন করতে হয়েছে। অচেনা এলাকার বৈরি জনতা, সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সকল পর্যায়ের লোকদেরকে নিয়ে এমন কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হয়েছে, যা ব্যর্থ হলে জুতা পড়ার সময় পাওয়া যেতো না! সেসব অভিজ্ঞতা থেকে শেষ পোস্টে প্রাসঙ্গিক কিছু বিষয় তুলে ধরতে চাই। শুধুই চিন্তায় খোরাক যোগাবার জন্য।

[প্রথম আলো ব্লগে পাঠক প্রতিক্রিয়া]

.

.

** প্রথম আলো ব্লগে চিঠি লেখা আয়োজনের নির্বাচক হবার অভিজ্ঞতা

এবিষয়ে পূর্বের পর্ব: প্রাকনির্বাচনী বক্তব্য ১ ‘চিপায় পড়িয়ে যাহা হয়’

চিঠিলেখা আয়োজনে প্রাকনির্বাচনী বক্তব্য ১: চিপায় পড়িয়ে যাহা হয়!

d3683c5f8da

১) চিপায় পড়িলে যাহা হয়: কিঞ্চিৎ গৌড়চন্দ্রিকা

কথায় আছে, কাহাকেও যদি একটু চিপায় ফেলিতে চাও, তবে তাহাকে নিকাহ করাইয়া দাও অথবা নির্বাচনে খাড়া করাইয়া দাও। আমার মনে হয়, সবকিছুরই আপডেট রহিয়াছে, বিবর্তন রহিয়াছে। অতএব এখন বলা উচিত, কাহাকেও চুপানি খাওয়াইতে চাইলে, বিচারক বানাইয়া দাও। চিঠিলেখা আয়োজনে বিচারক কমিটির অন্য সকলেই অভিজ্ঞ বিজ্ঞজন – একমাত্র আমিই হাতুড়ে লেখক! কী যাতনায় দিনাতিপাত করিতেছি, না পারি কহিতে – না পারি সহিতে। কারণ, ব্লগে লেখালেখি’র কর্মসূচি বৃদ্ধি করিবার নিমিত্তে আয়োজক মহাশয়কে তাগিদ দিতাম। এ্রইবার তাহার বিশেষ কর্মব্যস্ততার মধ্যে ইহা শুরু করাতে খুশিই হইয়াছিলাম। কিন্তু খুশি বিনাস করিলো নির্বাচক হবার প্রস্তাবে। তথাপি অন্য সকল ব্লগীয় প্রস্তাবের মতো নিরাপত্তিতে মানিয়া নিলাম। এখন আমার সামনে যোগ্যতম পত্রলিখকবৃন্দ আর পিছনে আয়োজকবৃন্দ। মধ্যিখানে আমি! যাহা হোক, আমি বর্তমানে কেমন শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় আছি তাহার বর্ণনা দিব পরবর্তি পোস্টে। এইবার বলি প্রাপ্তির কথা।

.

২) যাহা আমি শিখিলাম:

ছেলেবেলায় পাঠ্যপুস্তকে অনেক চিঠিই পড়িয়াছি। সঙ্গত কারণেই পিতার কাছে টাকা চাহিয়া পুত্রের চিঠিখানি বিশেষ খেয়াল আছে। লেখাপড়া মনযোগ বৃদ্ধি করতঃ ভালো ফলাফলের প্রেরণা দিয়া ছোটভাই/বোনের কাছে পত্র লিখ। তখন নিজেরই পড়াশুনার ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা! তথাপি তাহা খেয়াল আছে কিন্তু গুরুত্ব দিই নাই। চিঠির মর্যাদা তখন এতটা উপলব্ধি করি নাই, এইবার যাহা করিলাম। চিঠিলেখা আয়োজনে সম্পৃক্ত থাকিয়া বিরল অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হইলাম; বিচিত্র রকমের লেখার সাথে পরিচিত হইলাম আর জানিলাম চিঠি কাহাকে বলে, কত প্রকার এবং তাহা কী কী। বৈচিত্রময় চিঠির সমারোহে পড়িয়া চিঠি সম্পর্কে সকল পূর্ব ধারণার সংস্কার হইয়া গেলো। একজন প্রিয় সহব্লগার শুধু রিহার্সাল পর্ব দিয়াই চিঠিলেখা আয়োজনকে অনেক সার্থক করিয়া দিয়েছেন। ভিতরে ‘দ্রব্য’ থাকিলে যাহা হয়! তাহার চিঠিগুলোতে বাংলার সমাজ ও পারিবারিক জীবনের সুখ ও বিষাদের যে চিত্র ফুটিয়া ওঠিয়াছে তাহাতে অনেকের মতো আমিও মুগ্ধ।

.

৩) যাহা আমাকে বিমুগ্ধ করিয়াছে:

কবি কবিতা লেখিবেন, গল্পকার লেখিবেন গল্প – কিন্তু চিঠির বেলায় ব্যতিক্রম। সকলেই চিঠি লেখিতে পারেন। চিঠিতে কবিতার মতোই মনের গভীর অভিব্যক্তি প্রকাশ পাইতে পারে। তাই, চিঠি পড়ে সহব্লগারদের মনের গতিপথ সম্পর্কে কিছুটা জানিবার সুযোগ পাইলাম। কাহারো প্রেমিক-প্রেমিকার খবরও পাইয়া গেলাম এই যাত্রায়! একটি বিষয় আমাকে খুবই অনুপ্রাণিত করিয়াছে, তাহা হইলো: অধিকাংশ চিঠিই শুধু প্রেমের জন্য নহে, যদিও চিঠি স্বভাবগতভাবে প্রেমের কথাই কহে। সহব্লগাররা যে শুধুই প্রেম নামক একমুখি আবেগে ব্যপ্ত নহে, ইহা একটি জাতীয় সুখবর বলা যাইতে পারে। ‘জাতীয় সুখবর’ এইজন্যেই বলিলাম, কারণ স্বদেশকে নিয়া, মুক্তিযুদ্ধকে নিয়া, ভাষা আন্দোলনকে নিয়া, বাঙলাকে নিয়া, বিডিআর বিদ্রোহ, হরতাল, সাভার ট্রাজিডি নিয়ে বেশ কিছু চমৎকার চিঠি পড়িবার সৌভাগ্য আমার হইয়াছে। ইহাতে সহব্লগারদের স্বদেশ প্রেমের এক প্রেরণাদায়ক প্রমাণ পাইলাম। আরও ভালো লাগিয়াছে পিতা-মাতার প্রতি ভালোবাসা এবং তাহাদের প্রতি সহ-ব্লগারদের অনুভূতির প্রকাশ দেখিয়া। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চিঠি লিখা হইয়াছে পিতা-মাতার প্রতি। পিতারূপে শ্বশুরকে লক্ষ্য করিয়াও চিঠি লিখা হইয়াছে। তাহারা যে আমাদের জীবনে কতটুকু প্রভাব বিস্তার করিয়া আছেন, তাহা পরিমাপ করা না গেলেও অনুভব করিবার সুযোগ পাইলাম।

ইহাছাড়া প্রিয় প্রথম আলো ব্লগকে নিয়াও পত্র লিখিয়াছে আমাদের ক’জন সহব্লগার, যাদের অধিকাংশই প্রবাসী। প্রবাসীরাই কি তবে ব্লগকে বেশি প্রেম করেন? এই প্রশ্ন নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা চলিতে পারে। তবে আমি পূর্বাহ্নেই প্রবাসীদের পক্ষ নিয়া রাখিলাম! পক্ষপাতিত্ব না করিলে বিচারক হওয়া যায় না।

.

৪) চিঠিলেখা আয়োজনে ব্লগের কাটতি বাড়িয়াছে:

প্রথম আয়োজনে আমি সম্পৃক্ত ছিলাম না। বিভিন্ন আলোচনায় ভাবিয়াছিলাম তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে চিঠিলেখার আর কী প্রয়োজন থাকিতে পারে। গণমানুষের সাহিত্য হিসাবে চিঠির যে আলাদা একটি গুরুত্ব রহিয়াছে, তাহা প্রায় ভুলিতেই বসিয়াছিলাম। উপরন্তু এই আয়োজনে অনেক ভালো কিছু লেখকের সন্ধান পেলাম, যাহারা ব্লগে নিয়মিত আসেন না, কেবলই চিঠিলেখা উপলক্ষে আসিয়াছেন। অথবা, আসলেও শুধু পড়িতেন আর মাঝে মাঝে মন্তব্য করিতেন, কিন্তু নিজেরা তেমনভাবে লিখিতেন না। যাহারা নিয়মিত লিখেন, তারাও ভিন্ন কিছু লেখার প্রয়াস পাইলেন এই উপলক্ষে। ব্লগার, পাঠক, অতিথির যাতায়াত বাড়িয়াছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এইসবই চিঠিলেখা আয়োজনের কারণে হইয়াছে। দীর্ঘদিনের বিরতির পর চিঠিলেখা আয়োজনের বদৌলতে আলো ব্লগে আঘাত, মানে হিটও বাড়িয়াছে এই দিনগুলোতে। একটি পাবলিক ব্লগে এই অর্জন অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। আশা করছি আলোব্লগের কর্তারা এই কর্মচঞ্চলতাকে একটি স্থায়ি রূপ দিবার চেষ্টা করিবেন।

.

৫) চিঠি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বক্তব্য: সকল চিঠির উপস্থাপনা শেষ হইলে, পরের পোস্টে বিস্তারিত জানাইবার চেষ্টা করিব।

[প্রথম আলো ব্লগে পাঠক প্রতিক্রিয়া]

** প্রথম আলো ব্লগে চিঠি লেখা আয়োজনের নির্বাচক হবার অভিজ্ঞতা

::হটসিটের ডায়েরি::

প্রথম আলো ব্লগের হটসিটে আমি :)

প্রথম আলো ব্লগের হটসিটে আমি 🙂

৩০ ও ৩১ মার্চ ছিলো ব্লগার হিসেবে আমার একটি স্মরণীয় দিন। এই সম্মানীত স্থানে পূর্বে যারা এসেছেন তাদের সকলকে জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা। সেসাথে সকল সহব্লগারকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই আমার একটি দিনকে তাৎপর্যপূর্ণ আনন্দে ভরিয়ে দেওয়ার জন্য। ধন্যবাদ জানাই আলো ব্লগের প্রাণ নীল সাধু এবং সঞ্চালক মণ্ডলীকে। একটি ব্লগসাইটের ভিত (user base) দৃঢ়তর করা এবং ব্লগারদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে হটসিট নিঃসন্দেহে একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ইতোমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে। হটসিটকে আরও সার্বজনীন এবং সকল মতাবলম্বী ব্লগারদের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য সঞ্চালক এবং সহব্লগার নীল সাধুকে অনুরোধ জানাই।

সহব্লগারদের মস্তিস্কভেদি প্রশ্নাবলী: সহব্লগারদের অধিকাংশ প্রশ্ন ছিলো আমার পছন্দ, অপছন্দ, ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া ও আড্ডাকেন্দ্রিক। কিছু প্রশ্ন সংখ্যায় কম হলেও তাতে ছিলো তাৎপর্য ও গভীর অন্তর্দৃষ্টি। অনেক উপভোগ করেছি সকল প্রশ্ন। মেজদা’র প্রশ্নগুলো অনেক কৌতুকের সৃষ্টি করেছে। ঠিক বরাবর যা হয়, তার উপস্থিতি ছিলো অন্য সকলের জন্য আনন্দদায়ক। তাতে অনুষঙ্গ হিসেবে ছিলেন দীঘি, ঘাসফুল ও মাটিরময়না। দীঘি তো শুরুতেই সরল-কঠিন প্রশ্ন দিয়ে আমাকে দীঘিতে ফেলে দিলেন! কবি শাহীদুল হক, নাসির আহমেদ কাবুল, চারুমান্নান, রশীদ জামীল, ভুতের আছড়, গোলাম মোস্তফা প্রমুখ জৈষ্ঠ ব্লগাররা পর্যবেক্ষকের মতো সঙ্গ দিয়েছেন। নূর মোহাম্মদ নূরু এবং শারদ শিশির শুরুতে উপস্থিত থেকে শক্তি সঞ্চয় করেছেন হটসিটে তপ্ত অতিথিকে।সহব্লগার সোলায়মান ইসলাম নিলয় ব্যক্তিগত এবং লেখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছেন এবং উত্তর দেবার পর ‘ভারচুয়াল চিকেন’ খাইয়েছেন। জীবন ও ভালোবাসা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছিলেন সহব্লগার চারুকথা; তারপর কবি ‘চারুমান্নান’ এসে কষ্টের মধ্যে সহমর্মিতা জানালেন। ফটোব্লগার কামাল উদ্দিন প্রায় সারাক্ষণ সঙ্গে থেকে অগণিত মজার প্রশ্ন দিয়ে আমাকে ‘ভাসমান’ রেখেছেন। স্বভাব কবির নাকি সঙ্গীর অভাব: ঠিক এরকম একজন কবি আমাকে দারুন আন্তরিকতায় গ্রহণ করলেন হটসিটে। ঠিক ধরেছেন, তিনি হলেন কবি আশরাফুল কবীর। ব্যস্ততা থাকলেও ‘জীবন যেখানে যেমন’ লগইন করেছিলেন শুভেচ্ছা জানাবার জন্য। কাছের মানুষ এবার মনে হয় কাছেই (দেশে) ফিরেছেন – তার শুভেচ্ছা পেয়ে খুশি হলাম।প্রশ্ন দিয়ে উষ্ণতা দিয়েছেন সহব্লগার নুরুন্নাহার, মোসাদ্দেক, মেঘনীল ও ধ্বংসের নিমন্ত্রণ। ধ্বংসের নিমন্ত্রণ আমাকে বই প্রকাশের নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন – ভালো লাগলো! স্বাগত জানিয়েছেন ছাইফুল হুদু ছিদ্দিকি, অরিত্র অন্বয়, স্বপ্নের ফেরিওয়ালা, আলভী, নীল রুপাই, মোস্তাফিজুর রহমান, নুমান এবং মুক্তমন ৭১।
ফেরদৌসা আপা ভ্রমণে থাকায় বেশি সময় না পেলেও দু’বার ঢু মেরেছেন। সহব্লগার আরমানুজ্জামান আমাকে ডিম এবং নাসরীন চৌধুরী কফি খাওয়ালেন। নতুন ব্লগার মনের প্রতিবাদ, ছেলেমানুষ, হামিদ এবং ওমর ফারুক পরবিকে পেয়ে খুশি হলাম।তবে সঙ্গতকারণেই সকল ব্লগারের সকল প্রশ্নেরই পরিপূর্ণ উত্তর দেওয়া সম্ভব হয় নি। অন্যদেরকে অপেক্ষায় রাখতে চাই নি বলে, তাৎক্ষণিক উত্তর দিয়ে নিচের দিকে দৃষ্টি দিয়েছি। যেমন মেজদা আমার সঙ্গীতের আগ্রহ নিয়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন করলেও আমার সন্তুষ্টিমতো উত্তর তাকে দিতে পারি নি।

সকল প্রশ্নকারী ও অংশগ্রহণকারীদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তাদের প্রশ্ন নিজেকে বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করেছে। কিছু প্রশ্নে হৃদ্যতার ছোঁয়া পেয়েছি – কিছু প্রশ্নে গভীর জীবন ও সমাজ দর্শন।

বিষয়ভিত্তিক কিছু প্রশ্ন ও উত্তর: যেসব প্রশ্ন ব্লগিং, প্রেম, দর্শন, দেশের রাজনীতি এবং সাধারণভাবে সকল সহব্লগারের কাছে প্রয়োজনীয় হতে পারে সেরকমের কয়েকটি বিষয় আলাদাভাবে সংরক্ষণ করে রাখছি। বিষয়গুলো নিম্নরূপ:

(১) কামরুন্নাহার: আপনি কবে থেকে ব্লগিং করেন? আপনি কি মনে করেন প্রথম আলো ব্লগে এসে আপনি অনেক কিছু পেয়েছেন? পেয়ে থাকলে কি কি পেলেন? আপনার কি মনে হয় এক ব্লগার আরেক ব্লগারের প্রতি অনেক টান আছে,নাকি এগুলো লোক দেখানো টান?
—————————————————————-

আপনি কবে থেকে ব্লগিং করেন? >পাঠক ছিলাম সেই ২০০৯/১০ সাল থেকেই। নিবন্ধিত হয়ে লেখা দিতে শুরু করেছি গত অগাস্ট থেকে। সামু থেকে আলোতে!

আপনি কি মনে করেন প্রথম আলো ব্লগে এসে আপনি অনেক কিছু পেয়েছেন? পেয়ে থাকলে কি কি পেলেন? >অনেক কিছু পেয়েছি, এজন্যে যে এখানে পারস্পরিক সমমর্মিতা ও শ্রদ্ধাবোধ বেশি। সম্পর্ক এখানে সাহিত্যের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। সাহিত্য ছিলো এবং থাকবে, কিন্তু ক্ষয়িষ্ণু সমাজে ‘সম্পর্কের’ প্রয়োজন সবচেযে বেশি এখন। আমি পেয়েছি অনেক সুহৃদ বন্ধু। পেয়েছি পাঠকের তাৎক্ষণিক মন্তব্যে আত্মউপলব্ধি। আর কী চাই!

আপনার কি মনে হয় এক ব্লগার আরেক ব্লগারের প্রতি অনেক টান আছে,নাকি এগুলো লোক দেখানো টান? >যা দেখা যায়, তার সবটুকু ঠিক না হলেও ‘লোকদেখানো’ বলা যায় না। ব্লগে আর কতটুকু আন্তরিকতা আশা করা যায়। আমার মনে হয়, অন্যের মনের উত্তম বিষযটি লেখায় থাকে বলে তাদের লেখা নিয়ে আলোচনা করলে ‘একপ্রকার’ আত্মার সম্পর্ক স্থাপিত হয়। তাই, কোন ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ঘনিষ্ঠতার চেয়েও সহব্লগারের ঘনিষ্টতা বেশি।

(২) ডাঃ এনামুল হক এনাম: ক) নাস্তিকতার সংজ্ঞা (আপনার মতে) কি? খ) আস্তিকতার নামে ধর্মানুভুতি নিয়ে ব্যবসা/রাজনীতি কি চোখে দেখেন? গ) পরিবারতন্ত্র কি? উদাহরণসহ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করেন। ঘ) গণতন্ত্রে সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ, ধর্মে- সকল ক্ষমতার উৎস একমাত্র আল্লাহতালাহ, গণতন্ত্রে আস্থা রেখে মনুষ্য রচিত সংবিধানে বিশ্বাস স্থাপন করাকে আপনি কি বলবেন? ইসলামী দলগুলোর বাংলাদেশে রাজনীতি কি স্ববিরোধী এবং সাংঘর্ষিক নয়? ঙ) চোর, দূর্নীতিবাজ জেনেও প্রতিবার আমি/আমরা প্রতিনিধি নির্বাচিত করে সংসদে পাঠাচ্ছি, তাই দেশ পরিচালনার ব্যর্থতার ভাগীদার আমরাও, এবং সমান দোষে দোষী।
—————————————————————-

ক) নাস্তিকতার সংজ্ঞা (আপনার মতে) কি? >কঠিন প্রশ্ন। আপনি তো জানেন, ডাক্তার! ঈশ্বরের অস্তিত্বে যার আস্থা নেই। অন্য কোন সংজ্ঞা থাকলে জানাবেন।

খ) আস্তিকতার নামে ধর্মানুভুতি নিয়ে ব্যবসা/রাজনীতি কি চোখে দেখেন? >ওটা সমাজ ও রাষ্ট্র ধ্বংস করার পদ্ধতি। তবে ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থ আদায়ে ওটা খুবই প্রয়োজনীয়।

গ) পরিবারতন্ত্র কি? উদাহরণসহ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করেন। >আপনার প্রশ্নের দ্বিতীয় অংশে উত্তর দেওয়া আছে। উপমহাদেশে এই জিনিষটি ব্রিটিশরা উপুহার হিসাবে দিয়া গেছে। অন্য রকম হতে পারতো, হয় নি।

ঘ) গণতন্ত্রে সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ, ধর্মে- সকল ক্ষমতার উৎস একমাত্র আল্লাহতালাহ, গণতন্ত্রে আস্থা রেখে মনুষ্য রচিত সংবিধানে বিশ্বাস স্থাপন করাকে আপনি কি বলবেন? ইসলামী দলগুলোর বাংলাদেশে রাজনীতি কি স্ববিরোধী এবং সাংঘর্ষিক নয়? >এবারও প্রশ্নের দ্বিতীয়াংশে আপনি উত্তর দিয়েছেন, এবং আমি সেটাতে একমত পোষণ করি।

ঙ) চোর, দূর্নীতিবাজ জেনেও প্রতিবার আমি/আমরা প্রতিনিধি নির্বাচিত করে সংসদে পাঠাচ্ছি, তাই দেশ পরিচালনার ব্যর্থতার ভাগীদার আমরাও, এবং সমান দোষে দোষী। >একমত। তবে প্রশ্ন হলো দেশের কতভাগ জনগণ ভোট দেয়, এবং যারা দেয় তারা সমাজের কোন শ্রেণীর লোক।

(৩) মাটিরময়না: কবিতা কাহাকে বলে? কবিতার ধরণ দিন দিন পালটে যাচ্ছে। এটা কি ভালো দিক নাকি খারাপ যদি কবিতাকে একটা শিল্প হিসেবে বিবেচনা করেন? আপনার লিখায় সব সময় একটা শিক্ষনীয় কিছু থাকে। এমন লিখার পিছনে কারণ কি? নাকি কলম ছোয়ালেই চলে আসে??আমাদের যা গেছে একেবারেই কি গেছে কিছুই কি নেই বাকী— এটা রবি ঠাকুর বলছে– তয় প্রশ্ন হইলো — আপনি রাজনীতিক প্রেক্ষাপটে এটাকে ব্যাখ্যা করেন– দুই তিন হইলেও চলবে।
—————————————————————-

সবই দেহি বর্ণনামূলক জিজ্ঞাসা। রচনামূলক প্রশ্ন দিলেন এমসিকউ প্রশ্নপত্রে। যা-ই হোক, ছোটভাই বলে কথা…. দেহি কতটুকু পারি…

কবিতা কাহাকে বলে? >গ্রন্থগত সংজ্ঞা: ধারণা বা অনুভূতির বিশেষ প্রকাশকে কবিতা বলে। ‘বিশেষ’ বলতে ছন্দ, রূপক, উপমা, ব্যঙ্গ, ইঙ্গিত, দৃষ্টান্ত, ইত্যাদি হতে পারে। সংক্ষিপ্ততা, সৌন্দর্য্য, অনুভব ও আবেগের গভীরতা কবিতার বৈশিষ্ট। ব্যক্তিগত সংজ্ঞা: যাহা পড়িতে পারি, বুঝিতেও কিছুকটা পারি – কিন্তু পরকাশ করিতে পারি না, তাহাকে কবিতা বলা হয়। আপাতত এপর্যন্তই – কোনদিন পোস্ট দিয়ে বিস্তারিত জানাবোনে!

কবিতার ধরণ দিন দিন পালটে যাচ্ছে। এটা কি ভালো দিক নাকি খারাপ যদি কবিতাকে একটা শিল্প হিসেবে বিবেচনা করেন? >কবিতার ধরণ পাল্টে যাচ্ছে, এটি আমার দৃষ্টিতে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সমাজ সময় ও রাজনৈতিক কারণে সাহিত্যের বিষয় ও বৈশিষ্টে পরিবর্তন হবে। ঠেকাবে কে? কবিতা অবশ্যই শিল্প। কিন্তু শিল্পের চেয়েও বেশি কিছু। কেন বেশিকিছু, সংক্ষিপ্তভাবে তা ব্যাখ্যা করা কঠিন।

আপনার লিখায় সব সময় একটা শিক্ষনীয় কিছু থাকে। এমন লিখার পিছনে কারণ কি? নাকি কলম ছোয়ালেই চলে আসে? >লেখার বিষয়ে শিক্ষণীয় বিষয় থাকলে সহজেই বুঝা যায় যে, লেখক মহাশয় এখনও শিক্ষাগ্রহণ প্রক্রিয়ায় আছেন। আর কী কমু? লেহা দেহলেই লেহককে বুঝা যায় না, যেমন ফল দেহলে ফলের গাছ?

আমাদের যা গেছে একেবারেই কি গেছে কিছুই কি নেই বাকী– এটা রবি ঠাকুর বলছে– তয় প্রশ্ন হইলো — আপনি রাজনীতিক প্রেক্ষাপটে এটাকে ব্যাখ্যা করেন– দুই তিন হইলেও চলবে। >কিছুই যায় নি। সবই প্রগতির পথে। এদেশের রাজনীতি পৃথিবীর যেকোন দেশের রাজনীতির চেয়ে পুরাতন ও কঠিন, তাই উন্নয়নে দেরি হচ্ছে, বাকি সব উন্নতির পথে। বাংলাদেশকে কেউ থামিয়ে রাখতে পারে নি। ব্রিটিশ আমলেও উপমহাদেশকে বাঙালিরাই নেতৃত্ব দিয়েছে। কিছুই যায় নি, যাবেও না। সবই আছে এবং বৃদ্ধি পাচ্ছে।

(৪) কামালউদ্দিন: আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে আপনার কি মতামত? উন্নত দেশের শিক্ষা আর আমাদের শিক্ষার মধ্যে মুলত পার্থক্য কি কি??

ব্রিটিশ আধিপত্য আমাদেরকে এক শতাব্দি পিছিয়ে দিয়েছে। অনেকেই টের পাই নি। ‘ব্যবস্থা’ নিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর এখানেই আটকে আছে।

ব্রিটিশ সিস্টেমে ব্রিটিশেরাই নেই, আমরা ধরে রেখেছি। আমলাতন্ত্র থেকে শুরু করে রাষ্ট্রিয় প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্রিটিশ ব্যবস্থা থেকে উন্নততর কিছু সৃষ্টি হয় নি। তারা আমাদের সৃজনশীলতাকে ধ্বংস করে গেছে।

প্রাচ্যের যেসব দেশে ব্রিটিশ ছিলো না, তাদের সবকিছুই উন্নত। আমরাও টের পেয়েছি দেরিতে। এখন উন্নত হতে শুরু করেছে। বর্তমান সরকারের সকল ব্যর্থতার মধ্যেও মরুদ্যানের মতো মনে হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমকে।

(৫) ঘাসফুল: হুইটম্যান কেন তাঁর কবিতায় রূপক হিসাবে ঘাস কে বেছে নিলেন?
—————————————————————-

সবুজ ঘাস একদিকে কবির আশাবাদী চেতনার প্রতীক, অন্যদিকে পায়ের তলার এ ঘাস সমাজের বঞ্চিত মানুষের প্রতিনিধি। কবি ছিলেন নিগৃহীত কৃষ্ণাঙ্গ আর ক্রীতদাস প্রথার বিপক্ষে এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। এই বারবার গজিয়ে ওঠা ঘাস হলো অমরত্ব আর পুনর্জনমের প্রতীক।

(৬) মোহাম্মদ আব্দুলহাক: ভাইজানরে আইজ বাগে পাইছি, আইচ্ছা, বেবাকে যে স্বাধীনতা আর হরতাল বলে গলা ফাটিয়ে চিল্লায়, হরতাল আর স্বাধীনতা কি এক ঘরে বসবাস করতে পারে? আমি কিন্তু মহাচিন্তায় আছি (চিন্তার ইমোটিকোন)
—————————————————————-

আমারেও আপনি মহাচিন্তায় চুপা দিলেন, ভাইজান!
কী কমু, বুঝবার পারতাছি না। তয় দেশের স্বাধীনতার সাথে হরতালের বেশি বিবাদ নেই, যতটুকু আছে ব্যক্তিস্বাধীনতার সাথে। জানি না কী কইতে কী কইলাম। ভুলচুক মাফ করুক্কা!

(৭) অনিন্দ্য অন্তর অপু: আপনি ব্লগিং করেন কেন? ব্লগার হিসেবে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করুণ? একজন ব্লগার কিভাবে সামাজিক উন্নয়নে সাহায্য করে বলে আপনি মনে করেন?

ব্লগিং করি জোগিং-এর জন্যই। জোগিং করে যেমন শরীরটাকে ফিট রাখা যায়, ব্লগিং করলে আত্মাটাকে ফিট রাখা যায়। আত্মার স্বভাব হলো প্রকাশিত হওয়া আর আত্মীয়তা বাড়ানো। আমি ব্লগিং করি প্রথমতো নিজের জন্য। উদ্যেশ্য আত্মোপলব্ধি ও সংশোধন। প্রথাগত কোন লেখক হবার জন্য নয়। তবে দ্বিতীয় উদ্দেশ্য অনেক বিস্তারিত, সেটা আলাদা পোস্টে বলার চেষ্টা করেছি।

যে যতো বেশি এ্ক্সেপোজার পায়, সামাজিক দায় ততটুকুই বেড়ে যায়। আমি মনে করি। ব্লগাররা নিজেদের চিন্তা ও দর্শনের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে সামাজিক অবিচার দূর করবেন। কালোকে সাহসের সাথে ‘কালো’ বলবেন, ভালোকে ‘ভালো’।
অন্তত বাংলাদেশের ব্লগারদের নিকট থেকে এতোটুকু চাওয়াই যায়। কোন দেশের ব্লগাররা এতোটুকু একাত্ম হতে পারে নি, যা বাংলাদেশে হয়েছে।

(৮) বালুচর: রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য যোগ্য আর নিরপেক্ষ লোক বলতে কী বুঝায়। বাংলাদেশে এ ধরনের কোন লোক কী আদৌ পাওয়া যাবে নাকি না পাওয়ারই কথা । আপনার মূল্যবান মতামত দিন।
—————————————————————-

আমার যতটুকু মনে পড়ে, বালুচর ভাই একজন আইনজীবি। আপনার প্রশ্নের মধ্যেই উত্তর দিয়েছেন, এবং আমারও একই মত। আমাদের দেশের রাজনীতি সত্যিই রাজার নীতি, ওটা শুধুই রাজা বানানোর জন্য – রাজাকে কাজ করানোর জন্য নয়। গণতন্ত্র এখানে পাঁচবছরে একবার আসে, নির্বাচনের সময়। এরপর উদাও। রাজনীতিতে সত্যিই ‘নীতি’ থাকলে, তবে ‘নিরপেক্ষ’ শব্দাবলী নিয়ে চিল্লাচিল্লি করতো না কেউ।

নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু, অবাধ, স্বাধীন – আমাদের নেতৃবৃন্দের মুখে এসব শুনলে ওগুলোর উল্টো অর্থই কানে বাজে।

(৯) রব্বানী চৌধুরী: “প্রথম প্রেমের এই রীতি হায়, নিজে কাঁদে আর প্রিয়েরে কাঁদায়!” ব্যাখ্যা দিন, প্রথম প্রেমের কোন স্মুতি কী আপনাকে কাঁদায় !
—————————————————————-

রীতিটা একটু সংস্কার করতে হবে:

প্রিয়ে কাঁদোক আর নাই কাঁদোক
নিজে কেঁদে সারা!
প্রেমের এই রীতি ভাই
পুরাই লক্ষ্ণী ছাড়া!

(১০) ফেরদৌসী বেগম শিল্পী: এই হট সিটের উদ্দেশ্য কি? হট সিটে বসতে কেমন লাগে? কেনইবা বসানো হয়? আর কাদেরকে এই হট সিটে বসানো হয়? তয় আপনি কি ভয় পান ভাই এই হট সিটটাকে? আর এই হট সিট থেকে বেঁচে থাকার উপায়টা কি বলতে পারেন?
—————————————————————-

এই হট সিটের উদ্দেশ্য কি? এবিষয়ে ওপরে লেখা আছে। হটসিটে বসিয়ে সহব্লগারকে ব্যবচ্ছেদ করা হয়….হাহাহা। ভয় পাইয়েন আপা, আমরা তো আছি!

হট সিটে বসতে কেমন লাগে? প্রশ্নের মুখোমুখী হওয়া কখনও সুখদায়ক নয়, তবে এখানে তা সুখদায়ক।

কেনইবা বসানো হয়? আর কাদেরকে এই হট সিটে বসানো হয়? হটসিটকে আমি একটি আদর্শ আড্ডাস্থল বলতে পারি। সমাজ রাজনীতি দর্শন ও ব্যক্তিগত জীবন আলোচনার করার অফিশিয়ার সুযোগ! নিজেকে হটসিট থেকে বাঁচিয়ে রাখার সুযোগ নেই। আলো ব্লগে ওটা অবধারিত।

তয় আপনি কি ভয় পান ভাই এই হট সিটটাকে? কী প্রশ্ন কতটুকু পারবো, ইত্যাদি নিয়ে ভয় তো পেয়েছিই – অজানাকে কার না ভয়?

আর এই হট সিট থেকে বেঁচে থাকার উপায়টা কি বলতে পারেন? আলো ব্লগে পোস্ট বা মন্তব্য না দিলে হটসিট থেকে রক্ষা পেতে পারেন। কিন্তু ‘উহা অতীব গর্হীত কর্ম হইবে!’

(১১) আবারও কামাল উদ্দিন: বাংলা ব্লগ এর মধ্যে এই প্রথম আলো ব্লগকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
—————————————————————-

প্রথম আলো ব্লগ বাংলা ভাষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লগ, যাতে জড়িয়ে আছে একটি জনপ্রিয় জাতীয় দৈনিক। এদিক দিয়ে এর গুরুত্ব সর্বাধিক এবং এর গ্রহনযোগ্যতা বেড়েই চলেছে দিনকে দিন। তবে ব্লগসাইট হিসেবে একে আরও এগিয়ে আসতে হবে। একে ‘কাস্টমার-সাপ্লাইয়ার’ সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং ব্লগারদেরকে আরও সম্পৃক্ত করতে হবে। একসময় অন্যান্য ব্লগের মতো এখানেও ছিলো নগ্ন স্বজনপ্রীতি ও অবাধ পক্ষপাতিত্ব। এখন কম দেখা যায়। ব্যানার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ – পাঠক সম্পৃক্ততা বৃ্দ্ধি পায়। তাছাড়া না-বলা কিছু বিষয়ে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে আলো ব্লগ। এসব দিক দিয়ে আলো ব্লগকে বেশ সংগঠিত মনে হয়।
একটি ব্লগকে আরও সংগঠিত করার জন্য অনেক কিছুই করার আছে। যেমন:
> একটি নিয়ম করে, নির্দিষ্ট সময়ের অন্তরে নির্বাচিত কলামগুলো হালনাগাদ করা
> কোন পোস্টকে স্টিকি করার শর্তাবলী নির্ধারণ করা এবং ব্লগারদেরকে জানিয়ে দেওয়া
> খেয়ালখুশিমতো কোন পোস্টকে স্টিকি বা নির্বাচিত না করে, একটি নিয়ম অনুসরণ করা
> পূর্বে-অবহিত বিধি মোতাবেক একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর পোস্ট প্রকাশ করা
> ব্যক্তি নয় ‘লেখা বা পোস্টের মেরিট’ বিবেচনা করে সেটির প্রতি আচরণ করা
>এমন হয়েছে যে, লেখা পোস্ট করলাম ২/৩ঘণ্টা হয়ে গেলো। হঠাৎ করে প্রকাশিত হয়ে মাত্র ৫মিনিটের ব্যবধানে তা প্রথম পৃষ্ঠা থেকে উধাও! প্রতিটি পোস্টের সাথে জড়িয়ে আছে একটি মানুষের আত্মা – সঞ্চালনার ব্যাপারটিকে আরও গুরুত্বের সাথে দেখা।
> অন্যান্য ব্লগসাইট ও প্রাসঙ্গিক অনুসন্ধান চালিয়ে আলো ব্লগের জন্য ‘একটি স্ট্যানডার্ড ইন্টারফেইস ডিভেলপ’ করা ইত্যাদি ইত্যাদি….

(১২) উননুর: আপনার নিকট আমার প্রশ্ন আমাদের প্রিয় স্বদেশের ভবিষ্যত নিয়ে কিছুটা আলোকপাত করেন। আমাদের দেশে গণতন্ত্র পূর্ণ ধারায় বিকশিত হয়েছে কি? না হয়ে থাকলে কি কি অন্তরায়ের কারণে তা হচ্ছেনা। কিছুটা আলোচনামুলক উত্তর পাবো আশা করি।
—————————————————————-

সবাই বলছে রাজনীতিবিদদের দায়িত্বহীনতার কারণেই দেশের গণতন্ত্র বিকশিত হচ্ছে না। আমি বলি, অরাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কি কোন দায় নেই? আমাদের প্রত্যেকেরই দায় আছে দেশের শাসনব্যবস্থাকে সুসংহত করার ও রাখার। কিন্তু ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়েই আমরা তাদের হাতে সবকিছু ছেড়ে দিয়ে হাতপা গুটিয়ে রাখি। ১৬ কোটি মানুষের একটি দেশ কীভাবে শাসন করতে হয়, তা বোধ করি বারাক ওবামাও বলতে পারবেন না। আমি বলতে, চাই, দেশের সুশীল সমাজের কথা, বুদ্ধিজীবিদের কথা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বিখ্যাত ব্যক্তিদের কথা। আমরা সকলে দায় না নিলে এদেশে গণতন্ত্রের ভিত মজবুত হবে না।

তাই অন্তরায় শুধু রাজনীতিবিদদের নয় অরাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গও আজ অন্তরায়। একটি দেশের জনগণ তাদের যোগ্যতামতোই রাষ্ট্রনায়ক পায়। একথা আমার নয়।

তবে আশার কথা হলো, ঊনসত্তর আর নব্বইয়ের পর, দীর্ঘকাল হাইবারনেশনে থাকা তরুণ প্রজন্ম আবার জেগেছে। এখন কয়েক বছর এটি চলবে। আশা করছি রাজনীতির মাঠ খারাপ থেকে নিকৃষ্ট হচ্ছে একটি আলোর সকাল দেখার জন্য। আশায় বুক বেঁধে থাকা ছাড়া হতভাগা জাতির আর কীই করার আছে বলুন, উননুর ভাই?

(১৩) আবারও উননুর: জনাব মইনুল ভাই আপনার উত্তরে কথিত “১৬ কোটি মানুষের স্বদেশ” এর আলোকে সীমিত অবকাশে আবারএকটু প্রশ্ন করতে চাই। ধরুন প্রকৃতির বিচিত্র খেয়ালে আপনি দেশের একজন নীতি নির্ধারকের ভূমিকায় সুযোগ
পেলেন। অথবা না পেলেও ক্ষতি নেই, একজন শিক্ষিত সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনার নিকট প্রশ্ন।১৬ কোটি
মানুষের আমাদের ছোট স্বদেশের (বর্তমান সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ভু প্রাকৃতিক,ভূমিহীনতা, বন্যা,
খরা, নিম্ন উত্পাদনশীলতা এর প্রেক্ষিতে) উন্নতি (অন্তত: ইন্দোনেশিয়া সমপর্যায়ের) করতে হলে কি কি পদক্ষেপ
নিবেন। অর্থাত আপনার ভিশন কি হবে? Key Point গুলো বললেই হবে। ভুল জায়গায় পোসট হোয়ায় আবার এখানে পোসট করলাম।
—————————————————————-

কেন এত্তো বড় প্রশ্নগুলো এই অধমেরে করলেন – সম্মানীত বোধ করছি!

উননুর ভাই, দেশের মানুষ কাজ চিনেছে, নিজেকেও চিনেছে। তাদের অধিকাংশ কাজ পেয়েছেও – স্বদেশে বা বিদেশে। দেশের অধিকাংশ মানুষ কাজ করেই খেতে চায়, মুনাফেকি বা দলবাজি করে নয়। দেশের কর্তৃপক্ষকে একটি জিনিস নিশ্চিত করতে হবে শুধু। তা হলো, তারা যেন বাধামুক্ত হয়ে কাজ করতে পারে এবং তারা যেন তাদের কাজের মূল্যায়ন পায়। আমার মনে হয়, সরকারের প্রতি জনগণের এটি ন্যূনতম চাওয়া। গণতন্ত্র বলেন আর মানবাধিকার, সবই এখানে নিহিত।

অথচ দুর্নীতি জনগণের ওই চাওয়াকে প্রথমেই প্রত্যাখ্যান করে দেয়। তারপর আসছে, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা, এনার্জি সাপ্লাই এবং সরকারের সেবা সংস্থাসমূহ। আপনি দেখুন, ব্যাংক বিমান রেলওয়ে টেলিযোগাযোগ – যেটাই সরকারের হাতে সেটারই বারোটা বেজেছে। রাস্তা দিয়ে নিরাপদে হাঁটবো বা গাড়ি চালিয়ে দেশের অন্যত্র যাবো, এর জন্যও যদি সংগ্রাম করতে হয়, তবে দেশের মানুষ নিজের কাজ কখন করবে? দেশের শাসনব্যবস্থার ক্যান্সার হয়ে দাঁড়িয়ে দুর্নীতি। রাজনেতিক অস্থিরতা হলো দুর্নীতির জমজ ভ্রাতা। তাই একটি খতম হলে আরেকটি এমনিতেই কার্যকারীতা হারাবে।

ঝড় বন্যা জলোচ্ছ্বাসের এদেশে, মরার ওপর খরা ঘা হিসেবে এসেছে পরিবেশ বিপর্যয়। ফসলি জমি যাচ্ছে শিল্পপতি আর রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীর হাতে। তবু মানুষ এগিয়ে যাচ্ছে অকৃষি-ভিত্তিক শিল্পের দিকে। এতো বাধার মধ্যেও পোশাকশিল্প, মৎস ও পোল্ট্রি শিল্প এগিয়ে যাচ্ছে। ওঠোনে সবজি, ধান না হলে জমিতে ফুল বা কুলের ইত্যাদি উপায় অবলম্বন করে বছরব্যাপী দেশি ফল ও ফুলের অর্থনৈতিক উৎপাদন হচ্ছে। পৃথিবীর মানুষ অবাক তাকিয়ে কয়, এতো দুর্যোগের মধ্যেও এদেশের মানুষ হাসে কীভাবে! খায় কী? কিন্তু দেশের মানুস অলৌকিকভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে ক্ষুধার বিরুদ্ধে। এটি কোন বিশেষ ব্যক্তির পুরস্কার-বিজয়ী উদ্যোগে নয়, স্বাভাবিক এবং প্রকৃতির নিয়মেই মানুষ আরও দায়িত্বশীল হয়ে ওঠেছে, আগের চেয়ে অনেক বেশি। আমি নিজের চোখেই কয়েকটি প্রজন্মকে দেখেছি, যারা একটি বয়সে মিটিং মিছিল নেশা ও দলবাজি করে কাটিয়ে অবশেষে ইটখোলায় কাজ বা শহরের কোনে পানের দোকান দিতে। আপনাকে শুভেচ্ছা

(১৪) তৌফিক মাসুদ: ব্লগে আপনার লেখাগুলো পড়ে মনে হয় আপনি মধ্যপন্থা অবলম্বন করে থাকেন। এই সময় রাজনীতির মাঠে নিদৃষ্ট দলের প্রতি মনযোগ দেয়া বা সাথে থাকার পড়য়োজন কতটুকু?
—————————————————————-

জটিল আলাপ তুলেছেন, প্রিয় তৌফিক মাসুদ। ওপরে তাকালে দেখতে পাবেন কামাল ভাই এবং উননুর ভাইকে কী উত্তর দিয়েছি।
আমি কোন্ পন্থী সেটা চিল্লাচিল্লি করে প্রতিষ্ঠিত করার দরকার নেই, আচরণেই তা বের হয়ে যাবে। বড় দু’দলের উভয়েই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে চরমভাবে ব্যর্থ, অথবা আমরা তাদেরকে সফল হতে দিই নি। যোদ্ধাপরাধের মতো একটি জাতীয় দায়কে পূরণ করতে উভয়পক্ষই তালবাহানা করছে: এক দল বলছে “বিচার চাই, কিন্তু……” আর অন্য দলটি “বিচার করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ” বলে রাজনৈতিক ফায়দা লুটার চেষ্টাই করছে শুধু।

এদের কাউকেই সমর্থন না দেওয়ার মানে কি ‘মধ্যমপন্থা’? তবে সেটিই উত্তমপন্থা আপাতত। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে যখন স্বাধীনতাবিরোধীরা দেশে অবৈধ ও জনপ্রতিনিধিত্বহীন রাজনীতি করছে, দেশের মানুষকে ধর্মের দোহাই দিয়ে বিভ্রান্ত করছে, তখন আর পন্থা অবলম্বন করার সুযোগ নেই। আমি একজন স্বদেশপন্থী! স্বাধীনতা-বিরোধীকে প্রতিহত করো, এবং যারা দেশের স্বাধীনতাই চায় নি তাদের প্রতিপক্ষে জনমত তৈরি করো – এ হোক স্লোগান।

(১৫) জমির হায়দার বাবলা: আজ যখন প্রিয় মানুষটিকে একেবারে কাছে পেলাম- একেবারে চুপ করে থাকবো মেনে নিতে পারছিনা। আধুনিক সাহিত্যে অনেক ক্ষেত্রে মানুষে সুক্ষ অনুভূতিগুলো প্রকাশ পেয়েছে। এ সমস্যাগুলো প্রায় Psychological বলা যায়। নীরব সংবেদনাগুলো প্রতীক/রূপক/বিদ্রুপ/ফ্যাস্টাসী আকারে অনেকে প্রকাশ করেছেন।

উত্তারাধুনিক সাহিত্যে disintegration of language এর মাধ্যমে মানুষে জীবনকে meaningless বলা হচ্ছে। বিমূর্ত সাহিত্যিক Samuel Beckett প্রায় প্রমান করেই ছাড়লেন আমাদের অর্থহীন জীবনে কিছুই করার নেই, জানার নেই কারণ আমরা নিজেই জানিনা কী করব, কোথায় করব কিংবা কখন করব। সেখানে ভাষা কাজ করে না । যার কারনে সাহিত্যে ব্যবহৃত ইমেজগুলো বার বার ভেঙ্বে যায়। অনেক সময় কিছুই প্রকাশ করে না।
T S Eliot তাঁর বিখ্যাত The Waste Land কবিতায় লিখেছেন:
“A heap of broken images, where the sun beats,
And the dead tree gives no shelter, the cricket no relief,
আধুনিক এবং উত্তারাধুনিক সাহিত্যের মধ্যে কোনটিতে আমাদের জীবনের প্রতিফলন প্রবল
বলে আপনি মনে করেন ? এবং কেন?
————————————————————————

মডার্ন-এর চেয়ে পোস্ট-মডার্ন এমনিতেই তো সমসাময়িকতার কাছাকাছি অবস্থান করছে। স্বাভাবিকভাবে যেমন সর্বশেষ খবর অধিকতর সঠিক হয়, তেমনি পোস্টমডার্ন/ উত্তর আধুনিক সময়ের সাহিত্যে আমাদের জীবনের প্রতিফলন বেশি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিতে বিদ্যমান উত্তর-আধুনিক সাহিত্য মূলত enlightenment ও modernism এর প্রতি প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়। ভার্জিনিয়া উল্ফ ও জেমস রইস এর পরবর্তি সময়টাকে উত্তর-আধুনিক যুগ হিসেবে মেনে নেওয়া হয়েছে। আপনি যে টি এস ইলিয়টের ওয়েস্ট ল্যান্ড-এর কথা বললেন, সেটিও এ দু’যুগের মধ্যে একটি যাচাইকারী সাক্ষী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মূলত উত্তর-আধুনিক সাহিত্যের ব্যাপ্তি হয়েছে ৬০ ও ৭০ এর দশকে।

উত্তর-আধুনিক সময়ের সাহিত্য কেন আমাদের জীবনকে বেশি প্রতিবিম্বিত করছে, তা এখানে বলে শেষ করা যাবে না। তবে এসময়ের সাহিত্য স্বাভাবিকভাবেই বিমূর্ত নীতিকথা থেকে বাস্তবিক অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্বারোপ করে, যদিও তা ত্রুতিপূর্ণ তবু সেটা অধিক সত্য।

আধুনিক সাহিত্য যেখানে বৈজ্ঞানিক দার্শনিক বা ধর্মীয় নীতিমালা দিয়ে প্রায় সবকিছুকেই বিশ্লেষণ করতো, উত্তর-আধুনিকের ‘উত্তর’ সেখানে সবকিছুকেই ‘অতীত’ করে দিয়েছে। চূড়ান্ত সত্য বলতে কিছু নেই – সবকিছুই যাচাইযোগ্য। জন বার্থ (The Sot-Weed Factor, 1960), জোসেফ হেলার (Catch-22, 1961), জন হকস (The Cannibal, 1949) নামগুলো এমূহুর্তে উল্লেখ করতে পারি।