Tagged: তরুন প্রজন্ম

গণজাগরণের সহজিয়া

1111111

নষ্ট রাজনীতিতে মেতে থাকুক ভ্রষ্টরা
প্রজন্ম জেগেছে বিজয় আনার জন্য।
জয় বাংলা জন্মান্তরে এসেছে বাঙালির
চূড়ান্ত জয়ের জন্য।

তারা কি জানে যে,
মঞ্চ ভাঙলেও চেতনাকে ভাঙা যায় না,
ভাঙতে পারে না?
গণজাগরণ মঞ্চের সফলতা অর্জিত হয়েছে কত আগেই!
সারা বাংলাদেশে যা ছড়িয়ে পড়েছে
সেটা শাহবাগে আর না থাকলেই কী?
নতুন ফল জন্মনোর পর
বীজের আর কী প্রয়োজন!

 

[ শব্দনীড় ব্লগ – এ পাঠকের মন্তব্য ]

 

লস্ট এন্ড ফাউন্ড ক্ষুদ্রঋণ প্রবক্তা

তিনি এপ্রজন্মের আইকন, তার প্রমাণ পাওয়া গেলো যখন তারই গড়া প্রতিষ্ঠান থেকে অনেকটা আনসেরেমনিয়াসলি তাকে বের করে দেওয়া হলো। নিরপেক্ষ এবং নিঃশর্ত প্রতিবাদে তখন ফেটে পড়েছিলো দেশের তরুণ প্রজন্ম, যাদের লেজুড়বৃত্তি করার কোন প্রয়োজনই নেই। বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশের বিশিষ্ট এ নাগরিকের নীরবতা সেই তরুণদেরকেই আঘাত করেছে। নীরবতা যে কত নিষ্ঠুর হতে পারে, এখন বুঝিয়ে বলা সহজ হলো!

আজ যোদ্ধাপরাধের বিচার ও জামাতের অপরাজনীতির প্রতিরোধে যখন দেশের তরুণ সম্প্রদায় একটি নজিরবিহীন জনসমর্থনের সৃষ্টি করেছে; দেশের মানুষের একাত্মতাকে যখন মুক্তিযুদ্ধের সাথে তুলনার প্রয়াস পেয়েছে; যখন দেশের আবালবৃদ্ধবনিতা আবারও ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে জাতীয় অস্তিত্বের সন্ধান পেয়েছে এবং যখন দেশের সকলেই আন্দোলিত হচ্ছে এদিক ওদিক – তখন একজন ব্যক্তিকে কোনদিকেই না পেয়ে সকলেই বিস্মিত। গত দু’মাসের উত্তাল গণজাগরণের দিনগুলোতে প্রায় সকল শ্রেণীর সকল পেশার মানুষকে উপস্থিত হয়ে একাত্মতা জানাতে দেখা গেছে। কেউ কেউ রাজনৈতিক কারণে বিরোধীতা করলেও প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনকে উপেক্ষা করতে পারে নি এর প্রধান প্রতিপক্ষও। হয় পক্ষে না হয় সুস্পষ্ট বিপক্ষে।

কিন্তু ক্ষুদ্রঋণে বৃহৎ খ্যাতি-পাওয়া জাতির কৃতী সন্তান আজ পর্যন্ত একটি শব্দও ব্যয় করেন নি। তাতে দেশের তরুণ সম্প্রদায় বিস্মিত ও আহত হয়েছে। এমন নয় যে, তিনি কথা কম বলেন বা রাজনৈতিক বক্তব্য এড়িয়ে চলেন। ২০০৭ সালের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি যখন অযাচিতভাবে দেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তখন তিনি তাৎক্ষণিক সমর্থন প্রকাশ করতে কুণ্ঠা করেন নি।

মহামান্য রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে সকল শ্রেণীর মানুষের শোক আমাদেরকে জাতি হিসেবে একত্রিত হবার সুযোগ করে দিলো। সরকার ও বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দকে কিছু সময়ের জন্য হলেও একত্রিত হতে দেখা গেলো সেদিন। অল্পতেই খুশি দেশের হতভাগা জনগণ তবু স্বস্তিতে দীর্ঘশ্বাস ফেলেছে। সকল স্বস্তিকে ছাড়িয়ে গেছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ও বিশ্বমানের সনদপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তির আবির্ভাবে। শোকবার্তায় তার নামটি দেখে অনেকেই বিষ্মিত হয়েছেন।

ইন্টারনেটে প্রাপ্ত বিভিন্ন সূত্রমতে, তিনি এযাবত ৬৮টি দেশি-বিদেশি পুরস্কার, ১৫ টি সম্মাননা এবং বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২৮টি সম্মানসূচক ডিগ্রি পেয়েছেন। তিনি কী পুরস্কার পান নি, সেটিই এখন অনুসন্ধানের বিষয়। কিন্তু হতাশার বিষয় হলো, দেশের দুর্যোগে দেশের এ কৃতি সন্তান প্রায় লাপাত্তা। ভালো যে, একটি মৃত্যু উপলক্ষে দূর পশ্চিমের কোন দেশ থেকে তার আওয়াজ পাওয়া গেলো। তিনি ভালো থাকুন তার পরাক্রমশালী বন্ধু আর বিশ্বব্যাপী সুনাম নিয়ে।

.

*প্রথম আলো ব্লগে পাঠক প্রতিক্রিয়া

.

[২৭ মার্চ ২০১৩ তারিখে প্রিয় ডট কমে প্রকাশিত]

Capture240313