Tagged: জীবন দর্শন

আত্ম উন্নয়নের পথগুলো

self-chaning-crop

নিজেকে জানার জন্য মানুষ জন্ম জন্মান্তরে দেশ দেশান্তরে ঘুরেছে। যেখানেই যা কিছু পেয়েছে, তা দিয়ে গান কাব্য গল্প উপন্যাস রচনা করেছে। জীবন মানেই নিঃশ্বাসের খেলা। অথচ নিঃশ্বাস বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমরা একে নিয়ে ততটা ভাবি না।

লোকে বলে নিঃশ্বাসের বিশ্বাস নেই। অথচ নিঃশ্বাসেই লুকিয়ে আছে জীবনের সাক্ষ্য। নিঃশ্বাস বন্ধ হলে মানুষ মারা যায়। আবার নিঃশ্বাস বিলম্বিত হলেও কিছু সময়ের জন্য মানুষের চিন্তাশক্তি লোপ পায়।

স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোরে নিঃশ্বাস নেওয়াটাও সুস্থ মানসিকতার পরিচয় না। আমরা যখন ক্ষিপ্ত হই, তখন খুব ঘনঘন নিঃশ্বাস নেই। হতাশ হলে বা বিস্মিত হলেও অজান্তে নিঃশ্বাসের ছন্দপতন হয়। এই নিঃশ্বাসকেই ছন্দবদ্ধ করার জন্য কেউ ধ্যান, কেউবা যোগব্যায়াম আবার কেউবা একাকীত্বকে বেছে নেন।

এরকম কিছু চিন্তাকণা নিয়ে এবারের লেখাটি। খুব পরিপূর্ণ নয়। শুধুই চিন্তার খোরাক। এটি যত না পাঠকের জন্য, তারচেয়েও বেশি লেখকের জন্য।

 

১. নিঃশ্বাসের সাথে ওড়িয়ে দিন অশান্তি ও অসন্তুষ্টির বিষয়গুলো

slide2

 

২. অন্যকে গড়ে তুলুন: ভেঙ্গে ফেলবেন না
slide3

 

৩. কথা নয়, পরিবর্তন দেখান
slide4

 

৪. নিজের আচরণ বদলান
slide5

 

৫. নিজের চিন্তায় পরিবর্তন আনুন
slide6

 

৬. অন্যের ইতিবাচক দিকে দৃষ্টি দিন
slide7

 

৭. ইতিবাচক হবার জন্য চর্চা করুন
slide8

 

৮. ইতিবাচক মনোভাব ইতিবাচক অভিজ্ঞতা এনে দেয়
slide9

 

৯. প্রতিদিনই কিছু সৃষ্টি করুন
slide10

 

১০. আজকের দিনটিকে ধরুন। আজই ভবিষ্যত
slide11

 

১১. ভয়কে অতিক্রম করতে হয়। ভয় একটি প্রতিবন্ধকতার নাম
slide12

 

১২. সততাই ব্যক্তিত্ব। সবক্ষেত্রে এক রকম থাকুন
slide13

 

১৩. সৎভাবে আপন সত্ত্বাকে তুলে ধরুন
slide14

 

১৪. অন্যের ইতিবাচক বিষয়কে প্রশংসিত করুন
slide15

 

১৫. প্রশংসা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে
slide16

 

১৬. অন্যকে উদার মনে শুনুন
slide17

 

১৭. ভালোবাসা হলো সকল সম্পর্কের সূত্রপাত
slide18

 

১৮. নিঃশ্বাস নিন, স্বস্তিতে করুন
slide19

 

১৯. রাগ বা উত্তেজনায় নিয়ন্ত্রণ চলে যায়
slide20

 

২০. নাগে শান্তি নষ্ট হয়
slide21

 

২১. রুক্ষতা দুর্বল ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন

self_changing_thoughts

 

২২. কথা শেষ হলে এবার থামুন
slide23

 

২৩. মাঝেমাঝে নিজেকে সঙ্গহীন করুন, যেন অজানাকে জানতে পারেন।
slide24

 

২৪. একা হলে শক্তি সঞ্চিত হয়।
slide25

 

২৫. একাকীত্বের মধ্যে আছে আত্মশক্তির রহস্য।
slide26

 

২৬. শান্তির অবস্থান নিজের মধ্যেই
slide27

 

২৭. কোমল থাকুন, রুক্ষতাকে জায়গা দেবেন না
slide28

 

২৮. কৃতজ্ঞতাবোধের চর্চা করুন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক বৈশিষ্ট্য
slide29

 

২৯. অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ সকলের মাঝে গ্রহণযোগ্য করে তোলে
slide30

 

৩০. মেনে নেবার মানসকিতা হতাশা থেকে মুক্তি দেয়
slide31

 

 

 


সূত্র: একই সাথে উল্লেখ করা হয়েছে।

অখণ্ড জীবনের খণ্ডিত ভাবনাগুলো!

বিরহ যন্ত্রণা সহ্য হয় কারণ চলমান জীবনে এরকম দৃষ্টান্তের অভাব নেই।  সঙ্গী আছে সহমর্মীতা জানাবার। তাছাড়া আছে, উপন্যাস কবিতা আর কথা উপকথা। বিচ্ছেদের কষ্টে আছে মজনু হবার স্বাদ আর দেবদাসের অনুভব। বিচ্ছেদ এনে দেয় ক্লিওপেটরা’র এন্তোনি হবার গৌরব। বন্ধুরা সান্ত্বনা দেয় সাহচর্য্য দেয়, আত্মীয় দেয় অনুকম্পা। বান্ধবীরা এগিয়ে আসে শূন্যস্থান পূরণ করতে। বিচ্ছেদে আছে না-পেয়ে-না-পাওয়ার সুখ। আছে আক্ষেপ করে সময় কাটানোর উপলক্ষ। কিন্তু মিলনে কী আছে? সত্যি কি কিছু আছে? একি মিলনান্তক বিচ্ছেদ নয়? নাকি বিয়োগান্তক মিলন? আমি বলি মিলনান্তক বিচ্ছেদ। এখানে কেউ নেই সাথে। আছে পেয়ে-ও-না-পাওয়ার দুঃসহ বেদনা। এ থেকে কি মুক্তি নেই? X(( :P

——–

দুই) জান বাঁচানো কি সততার চেয়েও মূল্যবান? মাঝে মাঝে আমার খটকা লাগে। ভুল হলে, দয়া করে, কেউ শুধরে দিন। ‘জান বাঁচানো ফরজ’ কথাটি কি ভালো থাকার বাধ্যবাধকতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে না? ‘সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা’ কথাটি কি তবে সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়? মানে কি আরও কিছু দিন বেঁচে থাকার জন্য আমি দু’একটি মিথ্যাচার করতে পারবো? মৃত্যুর ভয়ে তবে কি আমি অপরাধী হয়ে গেলাম না? মৃত্যু ভয় থাকলে অপরাধ কম হবে, কথাটি এখানে কতটুকু অকাট্য? এখানে মৃত্যুভয়ই আমাকে অপরাধী হতে বাধ্য করলো না? মাঝে মাঝে, সহজ বিষয়গুলোকে বড্ড কঠিন লাগে! 8-|

——–

তিন) পৃথিবীতে মানুষের আগমন কি উদ্দেশ্যহীন? মানুষের জন্ম কি কোন দুর্ঘটনার ফল? কেবলই কি বিবর্তনের ফল? ‘চিতাতেই কি সব শেষ?’বিবর্তনবাদীরা ঠিক নাকি সৃষ্টিতত্বের বিশ্বাসীরা ঠিক? আমরা কাজ ছাড়া থাকতে পারি না: কেন পারি না? কাজ কি শুধুই আমাদের জীবিকা অর্জনের জন্য? তাহলে অবসর গ্রহণ করার পরও কেন মানুষ কাজ খুঁজে বেড়ায়? কয়েদিরা কেন কাজের জন্য ব্যাকুল হয়? কাজ যদি মানুষের নিয়তি হয়ে থাকে, তবে তো বলা যায় জীবনের উদ্দেশ্য আছে! এখানে বিবর্তনবাদীদের যুক্তি কোথায়? :)

——–

চার) কাউকে দায়িত্বজ্ঞান শেখাবার জন্য কি ‘দায়িত্বশীল’ হতে হয়, নাকি ‘দায়িত্বহীন’ হলে ভালো? সন্তানের বাবা হবার পর বুঝতে পারলাম যে বেশি দায়িত্বশীল হওয়া পরিবারের জন্য মঙ্গলজনক নয়। মূলত বিয়ের পরই বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছিলাম, কিন্তু তখন বিষয়টিকে এস্কেপিজমের মতো লেগেছিল। পরিবার হবার পর দেখতে পেলাম, আমি স্বাভাবিক মাত্রায় দায়িত্বশীল হলেও পরিবারের সদস্যরা আমার ওপর নির্ভরশীল হতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে। এতে কোনভাবেই একটি পারস্পরিক দায়িত্বশীল পরিবার গড়ে ওঠবে না। সিদ্ধান্ত নিলাম যে, ছোট ছোট বিষয়ের দায় নিতে আমি ভুলে যাবো, অথবা উদাসীনতার ভাণ করবো। কিন্তু আমি কি লাইনে আছি? আমি ক্রমেই দায়িত্বহীন হয়ে যাচ্ছি না? ;) B-)

——–

পাঁচ) আত্মবিশ্বাস কি একটি সামর্থ্য নাকি সিদ্ধান্ত? ভালো পোশাক-পরিচ্ছদ, ভালো কমন সেন্স এবং সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়েও অনেকে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী হতে পারে না। অথচ পরিস্থিতিতে পড়ে যখন মানুষ দেখে যে, আত্মবিশ্বাসী না হলে তার বিপদ আছে (ধরুন: আইনপ্রয়োগকারীদের অযাচিত প্রশ্নের মুখে পড়লে), তখন শুধু সিদ্ধান্ত নিয়েই সে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। পোশাক-আশাক, শিক্ষা-দীক্ষা তখন গৌন হয়ে যায়। সময়ই বড় শিক্ষক। কিন্তু সময় নাকি ‘পরিস্থিতি’ নামেই মানুষের সামনে আসে! :)

ব্যর্থ হোন, সফলতার সাথে – let’s fail successfully!

[এক]

আজ আমরা কমপিউটার ব্যবহার করছি যেখানে সেখানে। টেবিলে কম্পিউটার – কোলেও কম্পিউটার, হাতের মুঠোতেও কম্পিউটার – হাতের কব্জিতেও কম্পিউটার। সত্তরের দশকের আমেরিকার অবস্থা এরকম ছিলো না। মার্কিনীদের কমপিউটার ব্যবহারে বিপ্লব এনেছিলেন স্টিভ জবস। চলমান বিশ্বের বিখ্যাত কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান অ্যাপেল’র প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস ম্যাকিনটশ তৈরি করলেন। প্রতিষ্ঠা করলেন মার্কিনীদের গর্বের প্রতিষ্ঠান অ্যাপেল। ম্যাকিনটশ তৈরি করে মানুষকে তাক লাগিয়ে দিলেন। প্রাপ্তবয়স্ক হতে না হতেই তারকা বনে গেলেন স্টিভ। কিন্তু প্রতিভাবান মানুষেরা ভালো প্রশাসক হতে পারেন না – এটি তাদের সাথে যায় না। তিনি ব্যর্থ হলেন। কিন্তু ফল খুবই ভয়ানক। এক বছরের মধ্যেই নিজের গড়া প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত হলেন। “আমার প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের একমাত্র মনযোগের বিষয়টি থেকে বিতাড়িত হলাম। এটি ছিলো নিঃস্ব হয়ে যাবার মতো অবস্থা। ভেবেছিলাম সিলিকন ভ্যালি ছেড়ে দিয়ে চলে যাবো। কিন্তু আমার কাজটিকে আমি দারুণ ভালোবাসতাম। তাই নতুন করে শুরু করলাম।” অ্যাপল থেকে নির্বাসিত হয়ে জবস তার আসল সত্ত্বাকে খুঁজে পেলেন। তিনি ‘নেক্সট’ প্রতিষ্ঠা করলেন। ১৯৯২-১৯৯৩ সাল থেকে যারা কমপিউটার ব্যবহার করছেন, তারা হয়তো নেক্সট দেখে থাকতে পারেন। তিনি এনিমেশন স্টুডিও ‘পিকসার’কে বিখ্যাত করে তুলেন কর্পোরেট জগতে। তৈরি হয় ওয়াল্ট ডিজনি’র কার্টুন ছবিগুলো। নিজের প্রতিষ্ঠানকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যান, যার মাধ্যমে আবার তিনি স্বগৌরবে অ্যাপেলে ফিরে আসেন। রূপকথার গল্পের মতো। মাইক্রোম্যানেজার হিসেবে স্টিভ জবসের দুর্নাম আছে। প্রতিভাবানদের এসব দোষ থাকেই। কিন্তু ব্যর্থ না হলে এবং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা না পেলে স্টিভ জবসকে আজকে আমরা চিনতেই পারতাম না। (১)

ব্যর্থতা এবং ব্যর্থতা থেকে সফলতার উচ্চশিখরে ওঠেছেন, এমন আরেকটি দৃষ্টান্ত হলেন, বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুকে ওয়াশিংটন, মহাত্মা গান্ধী এবং ডি ভ্যালেরা’র চেয়েওউচ্চতর স্থান দিয়েছিলেন ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ লর্ড ফেনার ব্রকওয়ে (১৮৮৮-১৯৮৮) । নিউজউইক ম্যাগাজিন যাকে ‘রাজনীতির কবি’ বলে অভিহিত করেছিল (এপ্রিল ১৯৭১), সেই বঙ্গবন্ধু জেনেছিলেন সফলতার জন্য দরকার আত্মবিসর্জন। তিনি বলতেন, “কীভাবে জীবন দিতে হয়, তা আমরা এতদিনে শিখে গেছি। কাজেই কেউ আমাদেরকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না।” বারবার তিনি নিজেকে ফাঁসিকাষ্ঠে তুলে দিয়ে নিজেকে সমর্পন করেন। তেইশ বছরে বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যর্থতার পথ ধরে আসে সফলতার মাহেন্দ্রক্ষণ। এই তালিকাটি একদম ছোট নয়, ওয়াশিংটন, নিউটন, নেপোলিয়ন… এভাবে অনেক নাম বলা যায়। তারা ব্যর্থতা থেকে সফলতার বীজ খুঁজে পেয়েছেন।

 

[দুই]

//ভালোভাবে চেষ্টা করলে ব্যর্থতা নিয়ে চিন্তা করার সময়ই পাওয়া না। কিছু ব্যর্থতা বিজয়ের চেয়েও বিজয়ী করে তোলে। কৃতিত্বের মাধ্যমে সফলতা আসে এরকম ধারণা করা ভুল। সফলতা আসে ব্যর্থতার পথ ধরে। সফলতার চেয়ে অধিক ব্যর্থতা আর কোথাও নেই, কারণ সফলতা থেকে আমরা কিছু শিখি না। আমরা শিখি শুধু ব্যর্থতা থেকে।// (২)

ভালোমতো ব্যর্থ না হলে নাকি সেখান থেকে পরিপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায় না। অর্থাৎ নিশ্চিতভাবে এবং ষোলকলায় ব্যর্থ না হওয়া পর্যন্ত যেমন সমস্যার রকম বুঝা যায় না, তেমনি জেদও আসে না মনে। সফলভাবে ব্যর্থ হবার প্রক্রিয়ার মধ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে সফলতার বীজ।

‘নিশ্চিত ব্যর্থতা’ বিকল্প পথ ধরতে অনুপ্রাণিত করে। পারবো-কি-পারবো-না মনোভাব আমাদেরকে লেগে থাকা আর ছেড়ে দেবার মাঝ পথে আটকে দেয়। আমরা কিছুই করতে পারি না। সফল হতে তো পারিই না, ব্যর্থ হবারও সুযোগ পাই না। মাঝখানে জীবনের মূলবান সময় নষ্ট হয়ে যায়।

ব্যর্থতার ভয় আমাদেরকে প্রচেষ্টা থেকে নিরুৎসাহিত করে। আমাদের অহংকার অল্পতেই আহত হয়। ছেড়ে দিই, না বুঝেই। ফিরে আসি ব্যর্থ হবার আগেই। ফলে নিজের ত্রুটি বা দুর্বলতা কোথায়, তা বুঝতে পারি না। নিজেকে জানার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হই।

আমি ব্যর্থ হই নি – শুধু জানতে পেরেছি যে ১০,০০০টি উপায় কেন কাজে আসবে না (থমাস আলভা এডিসন)। হেনরি ফোর্ড বলেন, “প্রকৃত ভুল তখনই হয়, যখন তা থেকে আমরা কিছুই শিখি না।” কিন্তু ব্যর্থতার ভয় আমাদেরকে চেষ্টা করা ও ভুল করা থেকে বিরত রাখার কারণে আমাদের শেখা হয় না।

 

[তিন]

ব্যর্থতাকে আপনি কী ভাবে দেখছেন, সেটা আপনার সাফল্যের বড় ভিত। এই মত রাহুল দ্রাবিড়ের। এবং এই মতামত প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে দ্রাবিড় যেমন নিজের উদাহরণ এনেছেন, তেমনই টেনে এনেছেন সচিন তেন্ডুলকরের কেরিয়ারকেও।

বেঙ্গালুরুর এক স্পোর্টস কনক্লেভের মঞ্চে গতকাল, বুধবার  বলতে উঠেন ভারতীয় ব্যাটিংয়ের এক সময়ের বড় ভরসা, ‘দ্য ওয়াল’। টেস্ট এবং ওডিআই মিলিয়ে দ্রাবিড়ের মোট রান ২৪,১৭৭। মোট সেঞ্চুরি ৪৮টি। কিন্তু এই সাফল্যের থেকে তাঁর ব্যর্থতা যে অনেক বেশি, সেটাই বোঝানোর চেষ্টা করেন তিনি। দ্রাবিড় বলেন, “আমার সময় অর্ধশতরানকে ন্যুনতম ভাল স্কোর বলে বিবেচনা করা হত। সব ফর্ম্যাটের ক্রিকেট মিলিয়ে আমি ভারতের হয়ে ৬০৪ বার ব্যাট করেছি। তার মধ্যে ৪১০ বারই ৫০ রানের গণ্ডি পেরতে পারিনি। আমি যত না সাফল্য পেয়েছি, তার থেকে বেশি ব্যর্থ হয়েছি। সাফল্যের তুলনায় আমার ব্যর্থতাই বেশি।”

একই কথা স্বয়ং সচিন তেন্ডুলকরের ক্ষেত্রেও প্রায় একই ভাবে প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। “আমার সময়কার সেরা ব্যাটসম্যান সচিন তেন্ডুলকর। সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি করেছে ও। কিন্তু ভারতের হয়ে সব ফর্ম্যাটের ক্রিকেট মিলিয়ে ৭৮১ বারের মধ্য ৫১৭ বারই হাফ সেঞ্চুরি করতে পারেনি। ফলে সচিনেরও সফল্যের তুলনায় ব্যর্থতাই বেশি।”

কেন এমন উদাহরণ তুলে ধরলেন রাহুল? তাঁর মতে, ভবিষ্যত প্রজন্মকে শিখতে হবে যে, ব্যর্থতাকেই সাফল্যের মূল ভিত্তি। ব্যর্থতার পথ ধরেই সাফল্য আসে।

ওপরের (তিন নম্বর) অংশটি সরাসরি আনন্দবাজার পত্রিকা থেকে সংযুক্ত। তারিখ ২৩ ডিসেম্বর ২০১৭।

 

[চার]

ব্যর্থতা থেকে কোনকিছু শেখা অবশ্য সহজ কাজ নয়। কে তিক্ত পথে শিখতে চায়! নিজের ভুল বা ত্রুটিকে আমরা খুব কমই দেখতে পাই। যা কামনা করি, তাতেই লেগে থাকি আমরা। যেটি আমাদের প্রয়োজন, সেটিই আকর্ষণীয়। যাকে চিনি সে-ই নজরে আসে। আমাদের মস্তিষ্ক এমনভাবে গঠিত যে, আমরা যা চাই, তা-ই দেখতে পাই। অন্যেরা ভুল করুক তা আমরা চাই, তাই অন্যের ভুলই শুধু দেখি। নিজের দুর্বলতা দেখা যায় না, কারণ তা আমরা চাই না। সহকর্মীর ভুল ধরা তার চেয়ে ঢের বেশি সহজ, কারণ এটা আমরা দেখতে চাই। ভুল থেকে শিখতে চাইলে, নিজের দিকে দৃষ্টি দিতে হয়।

মস্তিষ্ক বিভ্রম সেটিকেই বলে যখন যখন ভালোকে মন্দ এবং মন্দকে ভালো মনে হয়। আমাদের মস্তিষ্ক যেহেতু আমাদের বিপক্ষেই কাজ করে, সেহেতু ব্যর্থতা থেকে শেখার জন্য আমাদের কিছু শৃঙ্খলা মানতে হয়। শৃঙ্খলার কথা বললেই, মনে পড়ে যায় সেনাবাহিনীর কথা। শৃঙ্খলতাই তাদের শক্তি। প্রতিটি কাজের শেষে তারা ৪টি প্রশ্ন নিয়ে ‘কাজ-পরবর্তি, মূল্যায়নে বসে যায়। ১) আমাদের উদ্দেশ্য কী ছিলো? ২) কী হয়েছে? ৩) কেন তা হয়েছে? ৪) পরবর্তিতে আমরা কী করতে পারি? কিন্তু নিজেদের কাজে সফল হবার জন্য সকলকেই সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে হবে, তা তো সম্ভব নয়। তবে কাজের শেষে এধরণের আত্মমূল্যায়ন আসলে কাজেরই অংশ।

আমরা ব্যর্থ হতে চাই, যেন পরিপূর্ণরূপে সফল হতে পারি। সফলতার জন্যই ব্যর্থতার প্রতি ভয় কাটুক। নোবেল বিজয়ী এবং ‘ওয়েটিং ফর গোডো’ খ্যাত আইরিশ লেখক স্যামুয়েল বেকেটের উক্তি দিয়ে শেষ করছি:
“আবার চেষ্টা করুন – আবার ব্যর্থ হোন – ভালোভাবে ব্যর্থ হোন।”

(এলোমেলো নোটসকল)

———————————————————————————————

লেখাটি সামহোয়্যারইন ব্লগ থেকে সরাসরি স্থানান্তরিত

———————————————————————————————-

৬৪টি মন্তব্য

১. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:০০

মামুন রশিদ বলেছেন: আমরা ব্যর্থ হতে চাই, যেন পরিপূর্ণরূপে সফল হতে পারি।

+++++

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:০৬

লেখক বলেছেন:

আমি দেখেছি যেসব কাজ ভালোমতো পারি না, সেগুলোতে ব্যর্থ হবার অভিজ্ঞতা ছিলো না ;)

ধন্যবাদ, মামুন ‘রসিক’ ভাই ….. B-)

২. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:০৬

প্রবাসী পাঠক বলেছেন: সফলতার চেয়ে অধিক ব্যর্থতা আর কোথাও নেই, কারণ সফলতা থেকে আমরা কিছু শিখি না। আমরা শিখি শুধু ব্যর্থতা থেকে।

চমৎকার জীবন দর্শন। ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সফল হতে চাই।

+++++

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:০৮

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ, প্রবাসী পাঠক….

দুবাইয়ে ব্লগ দিবসের ডাক দিন….
আমরা যেতে পারি না পারি আওয়াজ দেবো অবশ্যই ;)

৩. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:১২

দীপংকর চন্দ বলেছেন: “আবার চেষ্টা করুন – আবার ব্যর্থ হোন – ভালোভাবে ব্যর্থ হোন।”

চিন্তায় ফেললেন! ভীষণ রকম!

অনেক অনেক ভালো, সুগ্রন্থিত উপস্থাপন।

অনিঃশেষ শুভকামনা জানবেন। সবসময়।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:১৭

লেখক বলেছেন:

কবি দীপংকর চন্দকে দেখে খুশি হলাম…

মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা জানবেন :)

৪. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:১৪

প্রবাসী পাঠক বলেছেন: মইনুল ভাই মানসিক ভাবে প্রস্তুত না। তাই এ বছর হয়ত করতে পারছি না। তবে ইনশাআল্লাহ নেক্সট ইয়ার বড় করে পালন করার চেষ্টা করব।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:১৮

লেখক বলেছেন:

আচ্ছা…. ওকে…. অলরাইট…. কোই বাত নেহি…. :)

৫. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:০১

বঙ্গভূমির রঙ্গমেলায় বলেছেন: “আবার চেষ্টা করুন – আবার ব্যর্থ হোন – ভালোভাবে ব্যর্থ হোন।”

আমি ব্যর্থ হইতাম চাই মাঈনুল ভাই সফলতার জন্য।

দারুণ+++++++++++++++

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:১৩

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ।

অনেক দিন পর আপনাকে পেলাম…. :)

৬. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:২৫

কয়েস সামী বলেছেন: +++++++++++্

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:১৩

লেখক বলেছেন:

ধন্যবাদ :)

৭. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:৩৮

রিয়াদ হাকিম বলেছেন: কিছু মানুষের জন্ম হয় শুধুই ব্যর্থ হবার জন্য…

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:১৪

লেখক বলেছেন:

এটি দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়…
আপনার জন্য অনেক শুভেচ্ছঅ, রিয়াদ হাকিম :)

৮. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:৫১

অন্ধবিন্দু বলেছেন:
ব্যর্থতা আছে বলেই আপনি আমি এখানে এইভাবে কথা বলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে হচ্ছে ! তা-না হলে তো গুহায় বসেই খোঁচাখুঁচি করতুম… আপনার এহেন লেখালেখি আমাকে আনন্দিত করে …কৃতজ্ঞতা।

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:১৪

লেখক বলেছেন:

আমার লেখালেখি আপনাকে আনন্দিত করায় আমিও আনন্দিত :)

অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা, প্রিয় অন্ধবিন্দু :)

৯. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:৫২

ইমিনা বলেছেন: আমার জন্য অাদর্শ পোস্ট। সেজন্য অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া :)

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:১৫

লেখক বলেছেন:

তাই? :)
অনেক আনন্দ পেলাম, ইমিনা….
অনেক শুভেচ্ছা জানবেন :)

১০. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:২৩

সুমন কর বলেছেন: আমরা ব্যর্থ হতে চাই, যেন পরিপূর্ণরূপে সফল হতে পারি। সফলতার জন্যই ব্যর্থতার প্রতি ভয় কাটুক।

অামার জন্য অার্দশ পোস্ট ! :(

শুধু ব্যর্থতা ব্যর্থতা ব্যর্থতা ব্যর্থতা !! ঘুরে ফিরে ….. নাকি নিজের সব ভুল, হিসেব মেলানো দায়!

চমৎকার গুছিয়ে অারো একটি মাষ্টার পিস (পোস্ট) দেবার জন্য ধন্যবাদ। ;)

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:১৬

লেখক বলেছেন:

প্রিয় ব্লগবন্ধু সুমন কর, আপনার চোখে মাস্টারপিস আমি গর্বিত….
প্রেরণা দেবার জন্য ধন্যবাদ….

কারও কাজে আসলে সেটি আমার জন্য বিরাট প্রাপ্তি হবে…
ভালো থাকবেন :)

১১. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:৪৪

একলা ফড়িং বলেছেন: যদিও ব্যর্থতা কারো কাম্য নয় তবুও ব্যর্থতার সিঁড়ি না ডিঙিয়ে সফলতার চূড়ায় পৌঁছানো সহজ নয়!

আবার চেষ্টা করুন – আবার ব্যর্থ হোন – ভালোভাবে ব্যর্থ হোন!

পোস্টে প্লাস!

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:১৭

লেখক বলেছেন:

একলা ফড়িং আপনি বেশ সুন্দর করে বলেছেন…. ভালো লাগলো :)

১২. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১:১০

এনামুল রেজা বলেছেন: আমরা ব্যর্থ হতে চাই, যেন পরিপূর্ণরূপে সফল হতে পারি। সফলতার জন্যই ব্যর্থতার প্রতি ভয় কাটুক।

গ্রেট!

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:১৭

লেখক বলেছেন:

এনামুল রেজাকে অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা :)

১৩. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ৭:৫১

পরিশেষের অপেক্ষায় বলেছেন: দোয়া করবেন যেন সফলতার সাথে ব্যার্থ হতে পারি

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:১৮

লেখক বলেছেন:

শুভেচ্ছা থাকলো…..
অনেক ধন্যবাদ ভাই/বোন :)

১৪. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১১:২৪

সোহানী বলেছেন: অবশ্যই ব্যর্থ শব্দটা নিজের ডিকশানারিতে রাখতে চাই না….. যতক্ষন ডেসিমল ফ্যাক্টর সম্ভাবনা ও আছে…….

পোস্টে ভালো লাগা সহ +++++++++

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:১৯

লেখক বলেছেন:

বাহ্…. দারুণ কথা বলেছেন, সোহানী :)

ধন্যবাদ!
অনেক শুভেচ্ছা আপনার জন্য……..

১৫. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১১:৫২

মহামহোপাধ্যায় বলেছেন: হুম। এবার আমার জীবনে শুদ্ধভাবে পিলার রোপনের (!) পথে কেউ বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে নাB-) B-)

চমৎকার পোস্ট মইনুল ভাই। আসলে সফলতা ব্যর্থতা তো মুদ্রার দুই পিঠের মতই। আর আমরা শুধুই সফল হতে চাই……. প্রকৃতি বা মহাকালের নিয়ম উল্টে যাবে যে!!

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:২০

লেখক বলেছেন:

আরে মহামহোপাধ্যায় বাবু, এতদিন পর!! :-B

কেমন আছেন?

আপনার মন্তব্যে এবার আমিও প্রেরণা পেলাম, ভাই!
অনেক ধন্যবাদ….. :)

১৬. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:৫৬

ডি মুন বলেছেন: কিন্তু প্রতিভাবান মানুষেরা ভালো প্রশাসক হতে পারেন না – এটি তাদের সাথে যায় না।

মাইক্রোম্যানেজার হিসেবে স্টিভ জবসের দুর্নাম আছে। প্রতিভাবানদের এসব দোষ থাকেই। কিন্তু ব্যর্থ না হলে এবং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা না পেলে স্টিভ জবসকে আজকে আমরা চিনতেই পারতাম না।

নিউজউইক ম্যাগাজিন যাকে ‘রাজনীতির কবি’ বলে অভিহিত করেছিল (এপ্রিল ১৯৭১), সেই বঙ্গবন্ধু জেনেছিলেন সফলতার জন্য দরকার আত্মবিসর্জন। তিনি বলতেন, “কীভাবে জীবন দিতে হয়, তা আমরা এতদিনে শিখে গেছি। কাজেই কেউ আমাদেরকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না।”

সফলভাবে ব্যর্থ হবার প্রক্রিয়ার মধ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে সফলতার বীজ।

ব্যর্থতার ভয় আমাদেরকে প্রচেষ্টা থেকে নিরুৎসাহিত করে। আমাদের অহংকার অল্পতেই আহত হয়। ছেড়ে দিই, না বুঝেই। ফিরে আসি ব্যর্থ হবার আগেই। ফলে নিজের ত্রুটি বা দুর্বলতা কোথায়, তা বুঝতে পারি না। নিজেকে জানার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হই।

দারুণ সব অনুপ্রেরণামূলক কথা। :) কিছু কিছু ঘরের দেয়ালে(সেই সাথে মনের দেয়ালেও) সেটে রাখার মত।

পোস্ট প্রিয়তে নিলাম++++

প্রিয় মইনুল ভাইকে শুভেচ্ছা। :)

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:২২

লেখক বলেছেন:

অনেক সুন্দর করে লেখার বিভিন্ন অংশকে মূল্যায়ন করেছেন, আপনি, ডি’মুন। ভালো লেগেছে….

প্রিয়তে যেতে পেরে আমিও আনন্দিত…. :)
শুভেচ্ছা জানবেন :)

১৭. ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:২৯

স্বপ্নবাজ অভি বলেছেন: ভালোভাবে ব্যার্থ হতে চাই :(

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:২৩

লেখক বলেছেন:

শুভেচ্ছা থাকলো, আপনার সঙ্গী হয়ে :)

ধন্যবাদ, কবি!

১৮. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:০৩

অন্তরন্তর বলেছেন:
চমৎকার পোস্ট মইনুল ভাই। পোস্টে ভাল লাগা।
একটু উল্টো করে বলি সফল হউন ব্যর্থতার মাঝে।
শুভ কামনা।

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:২৩

লেখক বলেছেন:

উল্টো হলেও সুন্দর হয়েছে কিন্তু ;)

ধন্যবাদ, অন্তরন্তর…….

১৯. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:২৫

কলমের কালি শেষ বলেছেন: অনেক দামী কথা ।

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:২৪

লেখক বলেছেন:

হাহাহাহা! তাই নাকি? দামের দরকার নেই ভাই, কামে লাগলেই আমি খুশি…. B-)

অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা! :)

২০. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:৩১

আহমেদ জী এস বলেছেন: মাঈনউদ্দিন মইনুল ,

লাগসই একটি মন্তব্য করতে গিয়ে হলোনা । সফলতার সাথেই ব্যর্থ হলুম ।

এবার কি এই মন্তব্যটি সফলতা পাবে ??????????

শুভেচ্ছান্তে ।

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৫:৫৪

লেখক বলেছেন:

কেন ভাই…. মন্তব্য দিতে সমস্যা হচ্ছে?

আমি তো আপনার স্বভাবসুলভ সুন্দর মন্তব্যটি সহিসালামতে পেলাম।

অনেক ধন্যবাদ :)

২১. ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:৩৩

স্বপ্নচারী গ্রানমা বলেছেন:
ভালোমতো ব্যর্থ না হলে নাকি সেখান থেকে পরিপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায় না। অর্থাৎ নিশ্চিতভাবে এবং ষোলকলায় ব্যর্থ না হওয়া পর্যন্ত যেমন সমস্যার রকম বুঝা যায় না, তেমনি জেদও আসে না মনে। সফলভাবে ব্যর্থ হবার প্রক্রিয়ার মধ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে সফলতার বীজ। দুঃসময়ে আপনার পোস্টগুলো রিফ্রেসার এর মতো কাজ করে !অনুপ্রেরনাদায়ি পোস্ট টি তাই নিজের কাছেই রাখতে চাই ।

ভালো থাকুন, সুন্দর থাকবেন, আমার জন্য দোয়া করবেন ।

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৫:৫৬

লেখক বলেছেন:

অনুপ্রেরণা হয়েছে? বাহ্ খুশি হলাম… স্বপ্নচারী গ্রানমা!

আপনার শরীর এখন কেমন…. শরীর মনে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠুন…

অনেক শুভেচ্ছা :)

২২. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:০৬

খেলাঘর বলেছেন:

“বঙ্গবন্ধুকে ওয়াশিংটন, মহাত্মা গান্ধী এবং ডি ভ্যালেরা’র চেয়েও উচ্চতর স্থান দিয়েছিলেন ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ লর্ড ফেনার ব্রকওয়ে (১৮৮৮-১৯৮৮) ”

-শেখ সাহেব কি করেছেন, মাইক্রোস্কোপ দিয়ে খুঁজে বের করতে হবে; উনি যা বলতেন, তা নিজে বুঝতেন কিনা সেটা বুঝার চেস্টা করছি।

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:০০

লেখক বলেছেন:

-হাহাহা, আমি জানতান এবিষয়টিতে আপনার দৃষ্টি পড়বে।

আপনার মনোভাবকে সম্মান জানাই। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে সমালোচনার ঊর্ধ্বে রাখুন ভাইজান… তারা যা করেছেন সেগুলো পরিমাপ করতেই কয়েক আমাদের জনম যাবে…

অন্তত দু’একজন নেতাকে রাজনৈতিক ক্যারিকেচার থেকে মুক্ত রাখা উচিত… দেশের কল্যাণেই

আন্তরিক মন্তব্যের অনেক ধন্যবাদ, প্রিয় সহব্লগার :)

২৩. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১১:৪২

বৃতি বলেছেন: “আবার চেষ্টা করুন – আবার ব্যর্থ হোন – ভালোভাবে ব্যর্থ হোন।”

সুন্দর পোস্ট :) ভালো লাগলো ভাইয়া।

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:০০

লেখক বলেছেন:

বৃতিকে অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা :)

২৪. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১১:৫৯

নেক্সাস বলেছেন: আর কত ব্যর্থ হবো?

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:০১

লেখক বলেছেন:

সফলতা না পর্যন্ত ;)

শুভেচ্ছা জানবেন, প্রিয় নেক্সাস….

অনেক দিন পর? :)

২৫. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:০৪

আরজুপনি বলেছেন:

আমি ব্যর্থ এমন হতাশার কথাই ভাবতে চাই না । তবে এটা সত্যি ব্যর্থতাই উঠে দাড়াতে সাহায্য করে।

দারুন পোস্ট ।

আপনার হাজারতম পোস্টে মন্তব্য করার আশা পোষণ করি ।

৮ম প্লাস ।।

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:০২

লেখক বলেছেন:

আশাজাগানিয়া আরজুপনির মন্তব্য মানেই হলো বিরাট প্রেরণা পাওয়া।

আপনার মন্তব্য পড়ে গুণে দেখলাম…. দু’বছরে মাত্র ৯৪ পোস্ট :(

অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা জানবেন… প্রিয় সহব্লগার :)

২৬. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:৩২

অপূর্ণ রায়হান বলেছেন: ৯ম ভালোলাগা +

পোস্ট আগেই পড়েছিলাম। মন্তব্য করা হয় নি।

ভালো থাকবেন সবসময় :)

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:০৩

লেখক বলেছেন:

অনেক ধন্যবাদ আপনাকে :)

২৭. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:৩৯

পাতি মাস্তান বলেছেন: অসাধারণ লিখেছেন জনাব আপনাকে +++++

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:০৩

লেখক বলেছেন:

জনাব, আপনাকেও ধন্যবাদ :)

২৮. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১:১৩

মাহমুদ০০৭ বলেছেন: আমি মাইনুল ভাইয়ের মত ব্যর্থ হতে চাই ;)
কাজের পোস্ট । :)

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:০৪

লেখক বলেছেন:

আরে, মাহমুদ লাকি সেভেন…. এতদিন পর!
কেমন আছেন, ভাইটি? ব্লগ দিবসের আয়োজন হচ্ছে তো?

‘কাজের পোস্ট’ কাজে লাগুক…. আর আমি ধন্য হই! :)

২৯. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৪:৫৭

ব্লগার মাসুদ বলেছেন: পোস্টে ভালো লাগা সহ ++++++

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:০৫

লেখক বলেছেন:

আপনকে অনেক ধন্যবাদ :)

৩০. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৫:২৫

ঢাকাবাসী বলেছেন: চমৎকার পোস্ট, ভাল লেগেছে। পোস্টে+++++++++++

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:০৫

লেখক বলেছেন:

ঢাকাবাসীকে অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা…….

৩১. ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৪:৫২

লিরিকস বলেছেন: :)

১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:২৯

লেখক বলেছেন:

শুভেচ্ছা লিরিকস….!

৩২. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ ভোর ৫:৪৫

হাসান মাহবুব বলেছেন: চমৎকার পোস্ট।

১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:৩০

লেখক বলেছেন:

অশেষ ধন্যবাদ আপনাকে, প্রিয় হাসান মাহবুব…
শুভেচ্ছা জানবেন :)

]

 

সক্রেটিসের হেমলক পান এবং নিজেকে চেনা

বিচারের শেষ মুহূর্তে শাস্তি এড়াতে না পারলেও মৃত্যুদণ্ডকে এড়াতে পারতেন সক্রেটিস। তখন এথেন্সের বিচার ব্যবস্থায় অপরাধ চিহ্নিত হবার পর অপরাধীকে জিজ্ঞেস করা হতো, সে কী শাস্তি চায়। পাঁচশ’ জুরির উপস্থিতিতে সক্রেটিসকেও জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি কী শাস্তি চান। কিন্তু যেহেতু তিনি নিজেকে অপরাধী মনে করতেন না, তার আচরণ ছিলো স্বভাবসুলভ অনমনীয়। তিনি শাস্তির পরিবর্তে পুরস্কারের প্রস্তাব করেন! উদ্বেগহীন সক্রেটিস প্রস্তাব করলেন, প্রাইটেনিয়াম হলে (পাবলিক হল) তাকে নিয়ে যেন বিশেষ এক ভোজের আয়োজন করা হয়। এটি প্রথাগতভাবে গ্রীসের বীরদের জন্য  করা হতো। তাই জুরিরা ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠেন এবং বিপক্ষের জুরি সংখ্যা হঠাৎই ২৮০ থেকে ২২০ এ ওঠে গেলো। বিচার নিয়ে ঠাট্টাকারী সক্রেটিসের জন্য কঠিন শাস্তির প্রস্তাব আসলো।মৃত্যুদণ্ড বা শাস্তি নিয়ে সক্রেটিসের উদাসীনতার এখানেই শেষ নয়। শিষ্য আর বন্ধুরা মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত সক্রেটিসের জন্য মৃত্যুদণ্ডের পূর্ব পর্যন্ত এক মাস পেরোলে মুক্ত রাখার আবেদন করেছিলেন। তাতে আদালত মুক্তিপণ হিসেবে ৩০০০ দ্রাকমা (রৌপ্যমুদ্রা) দাবী করে, কিন্তু সক্রেটিস মাত্র ১০০ দ্রাকমা দিতে রাজি হন। অতএব জেলেই থেকে গেলেন দণ্ডপ্রাপ্ত সক্রেটিস। ওদিকে সময় হয়ে এলো হেমলক পানের।

সক্রেটিসের সময়ে শিষ্য, বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত জেলে আসতে পারতো এবং থাকতে পারতো। অবশ্য সাথে প্রহরীরাও থাকতো ছায়ার মতো।

মৃত্যুর দিনের সন্ধ্যাবেলার দৃশ্য। সক্রেটিস তার শিশুপুত্র মিনেজেনাস কে বললেন, তুমি গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো। স্বাভাবিকভাবে হাসিখুশি এবং শান্ত সক্রেটিস। তাকে ঘিরে বসে আছেন তার ভক্ত শিষ্য ও বন্ধুরা। মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই তাদের গুরুর মৃত্যুর দৃশ্য মঞ্চায়িত হবে। সাক্ষী হতে হবে এক অনাকাঙিক্ষত মৃত্যুর। শিষ্যরা সকলেই হতাশা আর আসন্ন বিচ্ছেদের বেদনায় আচ্ছন্ন হয়ে আছেন। ওদিকে সক্রেটিস তার মৃত্যুর পরের পোশাক গোছানো নিয়ে ব্যস্ত। তিনি পড়ে নিচ্ছেন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পোশাক, কারণ তিনি চান না মৃত্যুর পর কেউ তার গায়ে হাত দিক। শিষ্য আর বন্ধুদের কাছ থেকে কিছু সময় আলাদা হয়ে পরিবারের সকলের সাথে কথা বলে নিলেন।

জেল কর্মকর্তা একটু সময় আগে শেষ বিদায় জানিয়ে গেলেন। তার দু’চোখ ছিলো অশ্রুতে পূর্ণ। তিনি বলে গেলেন যে, সক্রেটিস ছিলেন তার অভিজ্ঞতায় শ্রেষ্ঠ আসামি, সবচেয়ে ভদ্র আর অসম্ভব সাহসী। কিছুক্ষণ পরই হেমলকের রসে পূর্ণ পাত্র নিয়ে প্রবেশ করলো জল্লাদ। তীব্র এই হেমলক হৃদপিণ্ডে গিয়ে পৌঁছে নিমিষে শরীরকে অসাড় করে দেয়। জল্লাদ নিরাবেগ কণ্ঠে বললো, এই পাত্রে এক ফোঁটা হেমলকও যেন বাইরে না পড়ে! সবটুকু পান করতে হবে! সক্রেটিস জল্লাদকে নিশ্চয়তা দিয়ে বললেন, একটি ফোঁটাও নষ্ট হবে না। তারপর তিনি কিছুক্ষণ প্রার্থনা করলেন। রুদ্ধনিঃশ্বাসে সকলেই তাকিয়ে আছে সক্রেটিসের উদ্বেগহীন শান্ত মুখটির দিকে। মানসিকভাবে সকলেই অস্থির, একমাত্র সক্রেটিস ছাড়া।

প্রার্থনা শেষ করে বিষের পাত্র তুলে নিলেন সত্তর বছরের সক্রেটিস। পান করে নিলেন সবটুকু হেমলক রস, এক নিঃশ্বাসে। বিকৃত মুখভঙ্গি দেখলেই বুঝা যায় কেউ বিষ পান করছে, কিন্তু সক্রেটিসকে দেখে তা বুঝার উপায় নেই। তার মুখ বিন্দুমাত্র বিকৃত হয় নি। জলপানের মতো পান করেছিলেন তিক্ত বিষ। উপস্থিত সকলে উচ্চস্বরে কাঁদতে লাগলেন। একজন শিষ্য মৃগীরোগীর মতো কাতরাচ্ছিলেন। সক্রেটিস তাকে কোলে নিয়ে চোখেমুখে পানি দিয়ে সুস্থ করলেন।

পাষণ্ড জল্লাদ এবার দিলো তার নিষ্ঠুরতম নির্দেশটি। জল্লাদ বললো, এবার সক্রেটিসকে কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করতে হবে যেন বিষটুকু ভালোভাবে সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। শিউরে ওঠে শিষ্যরা না না ধ্বনিতে মুখর করে তুললো জেলকক্ষটি। ভাবলেশহীন সক্রেটিস তা-ই করলেন। নিজের জীবনের বিনিময়েও তিনি জল্লাদের দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা দিতে চান। তিনি ওঠে পায়চারি করতে লাগলেন। একসময় নিস্তেজ হয়ে এলো তার পা যুগল। অসাড় হয়ে এলো তার বিশালাকৃতির শক্ত দেহখানি। নিজের হাতেই মুখ ঢেকে শুয়ে পড়লেন তিনি। এবার সবাই শান্ত, একটি শব্দও নেই কারও মুখে। কিছুক্ষণ সবই নিশ্চুপ, শান্ত।

হঠাৎ মুখ থেকে কাপড় সরিয়ে সক্রেটিস বললেন, ক্রিটো, একটি মুরগি ধার করেছিলাম আমাদের পরিবারের জন্য। মনে করে তা আসক্লিপিয়াসকে শোধ করে দিও। এই তার শেষ বাক্য, যেন শেষ মুহূর্তে নিজেই নিজের বিচার করছিলেন। তারপর সবকিছু আবারও নিশ্চুপ। আর কোন শব্দ হয়নি।

ভেবে পাই না, জীবনটা কতটুকু শুদ্ধ হলে ‘চিটাগং যাবার মতো করে’ দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়া যায়। সক্রেটিস সম্পর্কে জানতে গিয়ে নিজের জীবন সম্পর্কে শুধু প্রশ্নেরই সৃষ্টি হলো!

.
.
সূত্র: প্লেটো’র ‘এপোলজি’ এবং সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত ‘বরণীয় মানুষ স্মরণীয় বিচার’।

.
.
.
[প্রথম আলো ব্লগে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।]
.

খ্যাতিমান ও ক্ষমতাবানদের মৃত্যুকালীন শেষ বাক্য ও কিছু বিশ্লেষণ

life and death

এক) জীবন ও মৃত্যুর অজানা বন্ধন

“জীবন এবং মৃত্যু – এগুলো খুব সুন্দর এবং মধুর কোনও বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আছে। তবে কীভাবে তা আমি জানি না।” কথাগুলো বলেছেন মার্কিন অভিনেত্রী ও গায়িকা গ্লোরিয়া সোয়ানসন। মৃত্যু নিয়ে মানুষ যেমন কৌতূহলী, তেমনই অনাগ্রহী। নিশ্চিত দুর্দশা নিয়ে মানুষ বেঁচে থাকতে চায়, তবু অনিশ্চিত স্বর্গসুখের জন্য মৃত্যুকে বরণ করতে চায় না। যদিও বুদ্ধ বলেছেন, “বিচক্ষণতার সাথে জীবন যাপন করলে মৃত্যুকে ভয় পাবার কোনই কারণ নেই।” কঠিন শর্ত! কেমন বিচক্ষণতা তা তো পরিষ্কার কেউ জানে না।

মৃত্যু ও মৃত্যু-পরবর্তি জীবন নিয়ে মানবজাতির রয়েছে সুপ্রাচীন আগ্রহ। মৃত্যুর পরে কী হবে এবিষয়ে অনেক তাত্ত্বিক মত প্রচলিত থাকলেও মৃত্যুর সময় কেমন লাগে, এ নিয়ে মৃতের আত্মীয়স্বজনেরা অনেক আলোচনা পর্যালোচনা করে থাকেন। অনেকে সেগুলো নিয়ে বিগত জীবনের চিত্র খুঁজে পান। অনেকে তা ভুলে যান।

মৃত্যু-পূর্ব অভিজ্ঞতাকে মার্কিন বিজ্ঞানী *কেনেথ রিং পাঁচটি পর্বে ভাগ করেছেন ১) শান্তি ও সন্তুষ্টি, ২) দেহের বিচ্ছিন্নতা, ৩) অন্ধকারে প্রবেশ, ৪) আলোর আবির্ভাব, ৫) আলোতে প্রবেশ। তিনি বলেন, ৬০% মানুষ প্রথম পর্বের অভিজ্ঞতা উপলব্ধি করতে পারে এবং মাত্র ১০% মানুষ মৃত্যুকালে পঞ্চম পর্ব, অর্থাৎ আলোতে প্রবেশের অভিজ্ঞতা বুঝতে পারে। এসব হলো বিজ্ঞানের কথা।

মানুষ সাধারণত মৃত্যুবরণ করে তিন ভাবে: অসুস্থতা বা দুর্ঘটনায় (দৈবাৎ), আত্মহত্যায় এবং মৃত্যুদণ্ডে। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে একজন মৃত্যু পথযাত্রী কী করে এবং কী বলে, এবিষয়ে মানুষের কৌহূহলের শেষ নেই। এবিষয়ে প্রখ্যাত ব্যক্তিদের শেষ উক্তি নিয়ে একটি অনুসন্ধান চালিয়ে বেশ মজার তথ্য পেয়েছি।  কেবল তথ্য বললে ভুল হবে, সেখানে পেয়েছি জীবন ও মৃত্যু সম্পূর্কে কিছু দুর্লভ বিশ্লেষণ।

লেখক, রাজনীতিক এবং বিপ্লবী – একেক ব্যক্তিত্ব একেকভাবে মৃত্যুকে গ্রহণ করেছেন। শেষ বাক্যের মাধ্যমে মৃত্যু সম্পর্কে তাদের তাৎক্ষণিক অভিজ্ঞতা রেখে গেছেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। মৃত্যু সম্পর্কে নিজেদের পূর্ব-প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে জীবন সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ দর্শন দিয়ে গেছেন তারা। এগুলো দার্শনিকদের চিন্তা থেকে আলাদা হলেও তা আকর্ষণীয় এবং চিন্তা-জাগানিয়া। সকল কথার শেষ কথা হলো, কে শুনে কার কথা! অথবা বলা যায় ….না শুনে ধর্মের কাহিনী!

 

ক্ষমতাবানদের পক্ষে মৃত্যুকে গ্রহণ করা সবচেয়ে কঠিন

ক্ষমতাবানদের পক্ষে মৃত্যুকে গ্রহণ করা সবচেয়ে কঠিন

দুই) পৃথিবীর ক্ষমতাবানদের জীবনের শেষ কথা!

 আজিকে হয়েছে শান্তি, জীবনের ভুলভ্রান্তি, সব গেছে চুকে।

রাত্রিদিন ধুক ধুক, তরঙ্গিত দুঃখসুখ, থামিয়াছে বুকে।

যত কিছু ভালোমন্দ, যত কিছু দ্বিধা দ্বন্দ্ব, কিছু আর নাই।

বলো শান্তি, বলো শান্তি, দেহ সাথে সব ক্লান্তি, হয়ে যাক ছাই।

(মৃত্যু পরে/ রবীন্দ্রনাথ)

বস্তুগত দুনিয়ায় মানুষের দু’টি শ্রেণী আছে: যাদের নেই এবং যাদের আছে। কথার বলে, নেংটার নেই ছিনতাইয়ের ভয়। পৃথিবীতের যার সম্পদ নেই, ক্ষমতা নেই, নাম-যশ কিছুই নেই, তার পক্ষে মৃত্যুবরণ করাটা একটু স্বস্তিরই। প্রতিবেশীরা বলে, বেটা মরে বেঁচে গেলো। বিষয়টি কত নিষ্ঠুর অথচ কত সত্য! অন্যদিকে যাদের উপরোক্ত সবকিছুই আছে তাদের মৃত্যুই যেন ‘সবকিছুর মৃত্যু’ ঘটায়। এ দ্বিতীয় শ্রেণীর মানুষগুলোর পক্ষেই মৃত্যুকে মেনে নেওয়া কঠিন। খ্যাতিমানদের মৃত্যু-মুহূর্তের শেষ কথাগুলো যেন একটি জানালা খুলে দেয় আমাদের জন্য। এ জানালা দিয়ে তাকালে তাদের কর্ম ও মনস্তত্বকে অবলোকন করার সুযোগ হয়।

মৃত্যুর পূর্বে মানুষ কী বলে, তা জানার আমার আজন্ম আগ্রহ। মনে হয়, অন্যদের চেয়ে একটু বেশিই। মৃত্যুপথযাত্রী যাবার বেলা কী বলে গেলো, কার সাথে তার সর্বশেষ কথা হয়েছিলো – এগুলো কে না জানতে চায়! অখ্যাত অনেকেরই কথা আমার স্মৃতিতে আছে। এবার সুযোগ নিলাম প্রখ্যাতদের সম্পর্কে জানার। বিষয়গুলো অনেকেরই চিন্তার দরজাকে খুলে দিয়ে ভাবনার সাগরে ফেলে দেবে। কবিরা কবিতা লেখবেন, গল্পকাররা পাবেন নতুন চরিত্র। নিচে কয়েকজন খ্যাতিমান ব্যক্তির জীবন সায়াহ্নের শেষ মুহূর্তের কথাগুলো নিয়ে আলোচনা করলাম। লেখার বিষয়ের মতো পাঠকের মন্তব্যও আমার কাছে অনেক আকাঙ্ক্ষিত!

আমার সকল সম্পদ একটি মুহূর্তের জন্য।  প্রথম এলিজাবেথ – মৃত্যু ১৬০৩, ইংল্যান্ডের রানী।

ইউরোপিয়ান সাহিত্যে এলিজাবেথান যুগের প্রবর্তনকারী কুমারি রানী এলিজাবেথ বিভিন্ন কারণেই ইতিহাসে বিখ্যাত। ব্রিটিশ রাজা অষ্টম হেনরি’র কন্যা। ব্রিটিশ রাজনীতিতে তিনিই প্রথম কাউন্সিল বা উপদেষ্টা প্রথার শুরু করেন। শাসন কার্যে একনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ না হয়ে একদল উপদেষ্টা বা মন্ত্রীর পরামর্শে তিনি দেশ পরিচালনা করতেন। কুমারি ছিলেন, আমৃত্যু কুমারিই থেকে গেলেন রানী এলিজাবেথ। অনেকের ধারণা ছিলো টিউডর রাজবংশের শেষ উত্তরাধিকারী হিসেবে তিনি হয়তো বিয়ে করে উত্তরাধিকার রেখে যাবেন। তা তিনি করেন নি। সম্পদ বা ক্ষমতায় তা লোভ যে ছিলো না, তা তার শেষবাক্যে বুঝা যায়।

কেন কান্না করছো? তোমরা কি ভেবেছিলে আমি অমর?” চতুর্দশ লুই, মৃত্যু ১৭১৫, ফ্রান্সের রাজা।

বাহাত্তর বছর রাজক্ষমতায় থাকলে তো মানুষের এরকম ধারণা হবেই! তার ওপর তিনি বিশ্বাস করতেন যে, রাজারা ঈশ্বর কর্তৃক নিযুক্ত হন। ফরাসি রাজ চতুর্দশ লুই রাজক্ষমতায় ঐশ্বরিক বা স্বর্গীয় প্রভাবে বিশ্বাসী ছিলেন। প্রতিবেশী ডাচ, স্প্যানিশ ইত্যাদি শক্তিধর প্রতিপক্ষের সাথে কঠিন অসম্ভব শক্তি দেখিয়ে বিজয় অর্জন করেন এবং ফরাসি বিপ্লবের পূর্ব পর্যন্ত প্রবল পরাক্রমে দেশ শাসন করেন। তখনকার বিশ্বেও চতুর্দশ লুইয়ের নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র ছিলো সুপরিচিত।

 আমার মৃত্যু কঠিন, কিন্তু আমি যেতে ভয় পাই না। জর্জ ওয়াশিংটন – মৃত্যু ১৭৯৯, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেজিডেন্ট।

উত্তর আমেরিকানদের জাতির পিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেজিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন তার দীর্ঘদিনের বন্ধুকে কথাগুলো বলেছিলেন। স্ত্রীকে বললেন, “ড্রয়ার থেকে দু’টি কাগজ বের করে নিয়ে এবং একটি রেখে অন্যটি পুড়িয়ে দাও। ওগুলো আমার উইল। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পূর্বে আমার মৃতদেহ নিয়মমতো তিন দিন রাখো।” মৃত্যুকে একটি দৈনন্দিন বিদায়ের মুহূর্ত হিসেবে মেনে নিয়ে, পৃথিবীর সফলতম ব্যক্তিটি এভাবেই তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দু’টি মেয়াদে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় ছিলেন। পরবর্তিতে ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু রাষ্ট্রিয় দায়িত্বে থাকলেও প্রশাসনের গভীরে আর প্রবেশ করতে চান নি জর্জ ওয়াশিংটন।

আমি একজন রানী। কিন্তু নিজের হাতগুলোও নাড়াবার ক্ষমতা আমার নেই। রাণী লুই, মৃত্যু ১৮২০

প্রাশিয়ার রাজা ফার্দিনান্দ (১৭৩০-১৮১৩)এর স্ত্রী। প্রাশিয়া বর্তমানে জার্মানির সাথে যুক্ত।

 

আহা, কান্না করো না। ভালো মানুষ হও, দেখা হবে স্বর্গে। এন্ড্রু জ্যাকসন, মৃত্যু ১৮৪৫, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেজিডেন্ট।

 যুক্তরাষ্ট্র আমেরিকার ৭ম রাষ্ট্রপতি এন্ড্রু জ্যাকসন ব্যক্তি স্বাধীনতার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ইতিহাসে সমাদৃত। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ডেকোক্র্যাটিক পার্টির প্রতিষ্ঠাতা। “সাহসী মানুষ সংখ্যাগরিষ্টের সমর্থন পায়” উক্তির জন্য বিখ্যাত। প্রেজিডেন্ট এন্ড্রু জ্যাকসন যেমন প্রভাবশালী ছিলেন, তেমনি ছিলেন প্রবল আগ্রাসী ও বিতর্কিত। তার তিনজন দত্তক সন্তান ছিলো। অন্তিমকালে ভালো হবার চেতনা প্রবল হয়ে এসেছিলো এবং তা-ই বিতরণ করে গিয়েছেন জীবনের শেষ মুহূর্তে।

সঠিক কাজটি করতে আমি কঠিন চেষ্টা করেছি। গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড, মৃত্যু ১৯০৮, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেজিডেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের ২২ ও ২৪তম প্রেজিডেন্ট। ক্লিভল্যান্ড মরলেন ঠিক সেভাবে, যেভাবে তিনি বেঁচেছিলেন – আত্মনিয়ন্ত্রিত। থিওডর রুজভেল্ট তার শ্রদ্ধাঞ্জলিতে তাকে ‘সুখী যোদ্ধা’ বা হ্যাপি ওয়ারিয়র হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তিনি সম্মানজনভাবে দু’টি আলাদা মেয়াদে প্রেজিডেন্ট হবার বিরল মর্যাদা তিনি পেয়েছিলেন, কারণ তিনি জানতেন প্রেজিডেন্ট হওয়া মানে হলো ‘জনগণের আস্থা’।

মতাদর্শে ভিন্ন হলেও ক্লিভল্যান্ডের মৃত্যুর সময় ভেনিজুয়েলা তাদের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রেখেছিলো। অন্যের মতামত দিয়ে যদি কাউকে বিচার করতে হয়, তবে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড সঠিক কাজটি করার চেষ্টা করেছেন।

“আমি প্রস্তুত। উডরো উইলসন – মৃত্যু ১৯২৪, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেজিডেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের ২৮তম প্রেজিডেন্ট হিসেবে টমাস উডরো উইলসন দু’টি মেয়াদ কাঠিয়েছেন, ১৯১৩ থেকে ১৯২১। “কোন কিছুতে সংস্কার এনে দেখুন কীভাবে শত্রু তৈরি হয়!” – তার বিখ্যাত উক্তি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় উত্তর আমেরিকাকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং লীগ অভ নেশনস গড়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যার বর্তমান রূপ জাতিসংঘ। সংবিধানে সংশোধনী এনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নারীদেরকে ভোটাধিকার প্রদান করেন। বিশ্ব শান্তি এবং নারী অধিকারের জন্য ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছেন যিনি, তিনি তো বলতেই পারেন, “আমি প্রস্তুত!”

আমার বুকে গুলি করো। মৃত্যুদণ্ড কার্যকারীদের প্রতি।বেনিটো মুসলিনি – মৃত্যু ১৯৪৫, ইটালির একনায়ক শাসক।

ভূমিকা নিষ্প্রয়োজন। ইটালির ২৭তম প্রধানমন্ত্রী এবং ন্যাশনাল ফ্যাসিস্ট পার্টির প্রধান বেনিটো মুসলিনি। কুদেতা বা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন ফ্রাসিস্ট ও উগ্র জাতিয়তাবাদী মুসলিনি। গুপ্তঘাতক দ্বারা অনেকবারই আক্রান্ত হয়েছেন – তারা নাক পর্যন্ত সফল হয়েছিলো! ব্যর্থতার শাস্তি হিসেবে তাদের কাউকে কাউকে একই স্থানে মরতে হয়েছে। তাই মৃত্যুদণ্ডের সময় বুকে গুলি করার পরামর্শ দেওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।

আত্মসমর্পনের অপমান এড়ানোর জন্য আমি এবং আমার স্ত্রী মৃত্যুকে বেছে নিলাম। শেষকৃত্য সম্পর্কে আমাদের ইচ্ছা হলো, তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের মৃতদেহকে পুড়িয়ে ফেলা হোক সে স্থানে যেখানে আমি আমার বিগত বিশ বছরের জনসেবার গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলো কাটিয়েছি। আত্মহত্যাপূর্ব চিরকুট (সুইসাইড নোট)।

-এডলফ হিটলার, মৃত্যু ১৯৪৫, জার্মানির রাষ্ট্রনায়ক ও সামরিক প্রধান।

এপ্রিলের ২৯ তারিখে ইভা ব্রাউনের সাথে বিয়ে এবং ৩০ তারিখে আত্মহত্যা! হিটলার নিজ গুলিতে, ইভা সায়ানাইড ক্যাপসুলে। পরম মিত্র ইটালির একনায়ক মুসলিনির নিহত হবার একদিন পর হিটলার আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। হিটলারের জনপ্রিয়তা তার মৃত্যুর সাথে সাথে উদাও! শত্রু-আক্রান্ত জার্মানিতে সহযোদ্ধারা নিজ প্রাণ রক্ষাতেই ব্যস্ত – শোকাহত হবার সময় পায় নি। তবে জার্মানিরা তাকে যেভাবেই দেখুক, হিটলারের মৃত্যুর সাথে সাথে ইউরোপে জার্মান আধিপত্যের অবসান হয়।

 আল্লাহ ছাড়া মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ সা. আল্লাহর প্রেরিত রাসুল।” সাদ্দাম হুসেন, মৃত্যু ২০০৬, ইরাকের প্রেজিডেন্ট। মৃত্যুদণ্ডের পূর্বে।

পূর্ব এবং পশ্চিমের সব গণমাধ্যম প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিলো সাদ্দাম হুসেনকে দেওয়া পাশবিক মৃত্যুদণ্ডের এমেচার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর। বিবিসি, টাইমস এবং দ্য হিন্দু এটিকে মধ্যযুগীয় মৃত্যুদণ্ড বলে আখ্যায়িত করেছিলো। তৈল-কেন্দ্রিক বিশ্ব রাজনীতির কথা না হয় বাদই দিলাম! পৃথিবীর ক্ষমতাবানদের হাতেই ধর্ম, এই বলে অনেক মেইভারিক লেখক মন্তব্য করে থাকেন। কিন্তু সাদ্দাম হুসেন যেভাবে একেশ্বরবাদকে ফাঁসির মঞ্চ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তাতে শুধু ধর্ম নিয়ে নয়, ঈশ্বরের পরাক্রম নিয়েও নতুন করে ভাবা উচিত। নিজেকে বিলীন করে দিয়েও নিজের বিশ্বাসকে অটুট রেখে সাদ্দাম শেষ মুহূর্তে সমালোচকদেরকে নিজের পক্ষে রেখে গেলেন!

 

 

কীর্তিমান ব্যক্তিরা মৃত্যুকে গৌরবান্বিত করেছেন

কীর্তিমান ব্যক্তিরা মৃত্যুকে গৌরবান্বিত করেছেন

তিন) মৃত্যুর ঠিক পূর্বে কী বলেছিলেন বিখ্যাত ব্যক্তিরা?

পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী আমার বাবা মারা যান আশির দশকের শেষে। প্রচণ্ড ধূমপান আর অনবরত চা পান করতেন তিনি খালি পেটেও। কিডনি সমস্যার সমাধান হবার পূর্বেই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান, অনেকটা অকালেই, কারণ তিনি কেবল ষাট অতিক্রম করেছিলেন তখন। চার ভাইয়ের মধ্যে শুধু একজন ভাই তখন উপার্জন সক্ষম। সবচেয়ে ছোটভাই তখনও ভালোমতো স্কুল শুরু করে নি। আমি হাইস্কুলে। এক ভাই লেখাপড়া ছাড়া আর চাকরি ধরা’র মাঝখানে অবস্থান করছিলেন। পরিস্থিতি যে কতটুকু ঘোরতর, তা আমরা কেউ টের পাই নি। সে বয়সেই ছিলাম না। কিন্তু বুঝেছিলেন আমার মুমূর্ষু বাবা, কারণ আমার দাদার সময় থেকেই স্বচ্চলতায় ভাটি পড়েছিলো। অবশিষ্ট ছিলো মাত্র কিছু নগণ্য জমি আর ভিটা বাড়ি। হয়তো মৃত্যুর পূর্বে প্রতিটি সেকেন্ড তার কেটেছে আমাদের ভবিষ্যৎ জীবনের অনিশ্চয়তা নিয়ে। মৃত্যুর পূর্বে তিনি কী বলেছিলেন আমার ততটা খেয়াল নেই। শুধু মনে আছে, ঠোঁট নাড়িয়ে কিছু বলার ভঙ্গি করে তিনি তার হাতের চারটি আঙ্গুল তুলে ধরেছিলেন আমার মায়ের দিকে। দুঃখিনী মায়ের অবশিষ্ট সম্বল বলতে ছিলাম কেবল আমরা চারটি ভাই! সৃষ্টিকর্তার কৃপায়, আমাদের মাঝেই মা আজ আছেন।

মানব জীবনের সর্বশেষ আত্মমূল্যায়নের উপলক্ষ হলো মৃত্যু। তবে এই মূল্যায়নের সুফল দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কিছু করার সুযোগ আর পান না – সেটি কেবলই পরবর্তি প্রজন্মের জন্য। মোনালিসা’র মতো অনবদ্য চিত্রকর্মের নির্মাতা লিওনার্দো দ্য ভিন্চির [১] মৃত্যু-সময়ের বক্তব্য থেকে বুঝা যায়, সকল মানুষের অন্তরে রোপিত আছে একটি অসন্তুষ্ট অন্তরাত্মা যা মানুষকে উৎকর্ষের দিকে নিয়ে যায়।

বিবর্তনবাদের প্রবর্তক ডারউইন [৫] তার মৃত্যুর পূর্বে ঘোষণা দিয়ে গেলেন যে তিনি মৃত্যুকে বিন্দুমাত্র ভয় পাচ্ছেন না। ‘লাইফ এন্ড লেটারস অভ চার্লস ডারউইন’ গ্রন্থ থেকে জানা যায়, জীবনের প্রতিটি ঘণ্টাকে তিনি কাজে লাগাবার চেষ্টা করেছেন। এক জায়গায় তিনি বলেছেন, “যে ব্যক্তি একটি ঘণ্টাও নষ্ট করার সাহস পায়, সে জীবনের মূল্য খুঁজে পায় নি।”

বিপ্লব সফল করতে হলে প্রয়োজন আত্মবিসর্জন। এ কথা মাস্টারদা সূর্যসেন কত আগেই জানিয়ে গেছেন (১৯৩০)!

মৃত্যুর পূর্বে চে জানিয়ে গেলেন যে, মৃত্যু কেবল মানুষকে শেষ করে, বিপ্লবকে নয়। বিপ্লবীকে মারলেই যে বিপ্লব নিহত হয় না, এই স্বতঃসিদ্ধ সত্যটি জানিয়ে গেলেন কিংবদন্তী বিপ্লবী চে গুয়েভারা [১২]। চে’র জীবন আমাদেরকে অনেক কিছুই দিয়ে গেছে। তবে অমূল্য উপহারটি হলো এই যে, মানুষের জীবন কেবলই জীবনধারণের জন্য নয়, জীবন বিসর্জনের মধ্যেও জীবনের উদ্দেশ্য রোপিত থাকে।

মৃত্যুকে বাড়ি ফেরার সাথে তুলনা করেছেন উপন্যাসিক ও’ হেনরি [৯], যার আসল নাম সিডনি উইলিয়াম পোর্টার।

মৃত্যুর পূর্বে মার্কিন কবি এমিলি ডিকিনসন ‘ভেতরে’ যেতে চেয়েছেন, কারণ বাইরে ‘কুয়াশা’ পড়ছে [৭]। অর্থাৎ মৃত্যুর ওপারে তিনি আশ্রয় দেখতে পেয়েছেন।

বলা বাহুল্য, কবি রবার্ট ব্রাউনিং তার অধিকাংশ লেখায় মৃত্যু এবং এর পরবর্তি জীবনকে মানবজাতির অনিবার্য গন্তব্য তথা ‘পরিপূর্ণ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ’ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

‘কালো আলো’ – কী ভীষণ সত্য এক রূপক দিয়ে মৃত্যুকে বর্ণনা করলেন ফরাসি লেখক কবি ও নাট্যকার ভিকটর হুগো। কালো রঙ্গের আলো কি কেউ দেখেছেন কখনও? মৃত্যুর পূর্বে ভিকটর হুগো তা দেখে গেছেন। যা-হোক, তিনি তো একে আলো হিসেবে সাক্ষ্য দিয়ে গেলেন। তবে আর ভয় কিসের?

মৃত্যু কি জীবনের শেষ নাকি অর্ধেক?

খ্যাতিমানদের মৃত্যুকালীন শেষকথাগুলো এমনভাবে অন্তরে গেঁথে আছে, যার অনুভূতিতে ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। মৃত্যু জীবনের চেয়েও সত্য কিন্তু একে মেনে নিতে পারাটা অত্যন্ত কঠিন। আমি ঠিক বুঝতে পারছি না, মৃত্যুকে মেনে নেওয়া কি ‘ভালো মানুষ হওয়ার’ মতোই কঠিন, নাকি দু’টোই এক। মৃত্যু-ভয়ই কি মানুষের পরিপূর্ণতার পথে বাধা, নাকি ওটি একটি দরওয়াজা?  মৃত্যু ভয় কি আমাদেরকে ভালো হবার বা মহৎ হবার পথকে বাধাগ্রস্ত করে, নাকি উৎসাহিত করে? মৃত্যুর প্রতি অনীহা কি আমাদেরকে মানবিক উৎকর্ষতা সাধনের প্রচেষ্টাকে সংকুচিত করে? মৃত্যু কি জীবনের ফাঁদ, নাকি জীবনের পরিপূর্ণতা? প্রশ্নগুলোর চূড়ান্ত উত্তর কারও জানা থাকলে দয়া করে সহভাগিতা করবেন!

বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনের শেষ কথা

১) “ঈশ্বর ও মানবজাতিকে আমি হতাশ করেছি, কারণ আমার কাজগুলো যথাযথ মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারে নি।” লিওনার্দো দ্য ভিন্চি, ইটালিয়ান চিত্রশিল্পী। মৃত্যু ১৫১৯।

২)  “মৃত্যুকে নির্ভীকভাবে গ্রহণ করে যারা, তাদের জন্য পরকালে কী আছে আমি খুব জানতে চাই।” পাদ্রির প্রতি পিয়েট্রো পেরুগিনো, ইটালিয়ান চিত্রশিল্পী। মৃত্যু ১৫২৩।

৩) “আমি আমার সর্বশেষ ভ্রমণে যাচ্ছি – অন্ধকারে একটি বড় পদক্ষেপ।” থমাস হব্স, লেখক, মৃত্যু ১৬৭৯

৪) “আমি তোমায় ভালোবাসি, সারাহ। চিরদিনের জন্য, আমি তোমাকে ভালোবাসি।” স্ত্রীর প্রতি জেমস কে পোক, যুক্তরাষ্টের প্রেজিডেন্ট, মৃত্যু ১৮৪৯

৫) “মরতে আমি বিন্দুমাত্র ভয় পাচ্ছি না।” চার্লস ডারউইন, বিবর্তনবাদের প্রচলক, মৃত্যু ১৮৮২

৬) “কালো আলো দেখতে পাচ্ছি।” ভিকটর হুগো, লেখক, মৃত্যু ১৮৮৫

৭) “আমাকে ভেতরে যেতে হবে, কুয়াশা বেড়ে যাচ্ছে।” এমিলি ডিকিনসন, কবি, মৃত্যু ১৮৮৬

৮)  “হয় দেয়ালের ছবিটি যাবে, নতুবা আমি।” অসকার ওয়াইল্ড, লেখক, ১৯০০

৯) “আলোগুলো জ্বালিয়ে দাও। অন্ধকারে আমি বাড়ি ফিরতে চাই না।” ও’ হেনরি (উইলিয়াম সিডনি পোর্টার), লেখক, মৃত্যু ১৯১০

১০)  “ওখানে অনেক সুন্দর!” থমাস আলভা এডিসন, বিজ্ঞানী ও আবিষ্কারক, মৃত্যু ১৯৩১

১১)  “কিছুরই মূল্য নেই, কিছুরই মূল্য নেই।” লুইস বি মেয়ার, চলচ্চিত্র প্রযোজক, মৃত্যু ১৯৫৭

১২) “আমি জানি, তুই আমাকে মারতে এসেছিস। গুলি কর, কাপুরুষ! তুই তো শুধু একজন মানুষই পারবি।” গুপ্তঘাতকের প্রতি আরনেস্টো চে গুয়েভারা, মৃত্যু ১৯৬৭

১৩) “হায় ঈশ্বর! একি হলো!” ডায়ানা স্পেনসার, ওয়েলসের রাজকন্যা, মৃত্যু ১৯৯৭

8ffc871

৩টি পর্বে প্রথম আলো ব্লগে প্রকাশিত

পর্ব ১:  জীবন ও মৃত্যুর অজানা বন্ধন

পর্ব ২: পৃথিবীর ক্ষমতাবানদের জীবনের শেষ কথা

পর্ব ৩: মৃত্যু কি জীবনের শেষ নাকি শুরু।   শেষপর্বটি সামহোয়ানইন ব্লগে নির্বাচিত হয়।

 

> প্রাসঙ্গিক একটি পত্রিকার সংবাদ্: জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে অনুভূতি কেমন হয়। গবেষণা। দৈনিক প্রথম আলো।

 

——————————-
*কেনেথ রিং ১৯৮০, নিউইয়র্ক: “লাইফ এট ডেথ: আ সাইয়েন্টেফিক ইনভেস্টিগেশন অভ নিয়ার ডেথ এক্সপিরিয়েন্স” পৃষ্ঠা ৪০।

ছবি এবং অধিকাংশ তথ্য ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।