Tagged: গণজাগরণ

অভিনন্দন জানাবার মতো মানসিক স্বস্তি পাচ্ছি না আজ। বন্ধুগণ ক্ষমা করো!

Capture28

অভিনন্দন জানাবার মতো মানসিক স্বস্তি পাচ্ছি না আজ। যখন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সনদটি তিনি পেয়েছিলেন, তখন সমগ্র জাতির সাথে খুশিতে আত্মহারা হয়েছি। এরপর অনেক পুরস্কার অনেক সনদ। যখন তিনি এনজিও পরিচালনার কায়দায় রাজনীতির মাঠ গরম করতে চাইলেন, তখনও ভেবেছি তিনি সফল হবেন। এবং স্বাগত জানিয়েছি। নোংরা রাজনীতির শিকার হয়ে যখন নিজের গড়া প্রতিষ্ঠানকে বিতাড়িত হলেন, তখন সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছি। তার প্রতিটি কথায় শক্তি পেয়েছি – উদ্ধৃতি করেছি বিভিন্ন জায়গায়। তার কোন কিছুতেই নেতিবাচক কিছু দেখি নি। কিন্তু গণজাগরণ ও তরুন বিপ্লব, অতঃপর বাঙালির অস্তিত্ব নিয়ে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ। প্রবল ভূমিকম্পে যেমন ভূগর্ভস্থ প্রাণীসকল বের হয়ে যায়, তেমনি দেশের শত্রু-মিত্র-দালাল-মোসাহেব বের হয়ে গেলো নিমিষে! সমীকরণ বদলে গেলো! এবার যখন একই ব্যক্তির নামে আরেকটি সেরা পুরস্কারের খবর ভেসে বেড়াচ্ছে আকাশে-বাতাসে, ঠিক উচ্ছ্বসিত হবার মতো জোর পাচ্ছি না মনে। বোধ হয়, স্বদেশ প্রেমে ঘাটতি আছে আমার। বন্ধুগণ, ক্ষমা করো!

 

২০ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে প্রিয় ডট কমে প্রকাশিত:

 

বুদ্ধিমানের জন্য ইশারাই যথেষ্ট!

সবাই ছ্যাঁ ছ্যাঁ করছেন, কিন্তু এরকম উভয় সংকটে পড়লে সকলেই তা করতো। আর ওটাকে তো উভয় সংকট বলা চলে না, জলে কুমির ডাঙায় বাঘের মতো। ‘শ্যাম রাখি নাকি কুল রাখি’ অবস্থা। দূর থেকে সমালোচনা করা সহজ, কিন্তু অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে সকলেই বুঝতে পারেন। পলিটিক্স-এর মারপেঁচ রাজনীতিবিদেরাই বুঝেন। ওটা আমজনতার কাজ নয়।

আমিও প্রথমে বুঝতে পারি নি। ‘গণহত্যা’ ‘নাস্তিক’ ‘নষ্ট ছেলেমেয়ে’ ইত্যাদি মন্তব্যে বিস্মিত হয়েছি, হতাশও হয়েছি। পরে সবকিছু খোলাসা হয়ে গেলো। বুঝতে পারলাম রাজনীতির ওপরে আর কিছুই নেই। আগে চাই ক্ষমতা, তারপর দেশ ও জনগণের স্বার্থ।

নির্বাচন এগিয়ে এসেছে। এখন দরকার দলকে সংগঠিত করার, দরকার আন্দোলনের। এতোদিন তো কত চেষ্টাই হল, কর্মব্যস্ত জনতাকে আটকানো গেলো না। এতো বড় বড় দুর্নীতির ঘটনায়ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলানো গেলো না! এবার যেহেতু ধর্ম নিয়ে জামায়াতিরা ইতিমধ্যেই একটি আলো-আধারি অবস্থা সৃষ্টি করতে পেরেছে, এখনই সুযোগ সরকারকে ঘায়েল করার। এমন পরিস্থিতিতে কি বন্ধুকে শত্রু করা চলে? ওই শাহবাগীরা যতই সংগঠিত হোক, ওরা কি বিএনপি’কে সাদরে গ্রহণ করবে? পুরাতন বন্ধু জামায়াতের চেয়ে কি প্রজন্ম চত্বরের ওরা বেশি কাজে আসবে? কখনও না।

তাছাড়া ওই গণজাগরণের আন্দোলন যদি সফল হয়, তার ফল কি বিএনপি’র ঘরে আসবে? কোন নিশ্চয়তা আছে? নেই, কারণ তারা তো বহু আগেই এ বিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। অতএব, যা করতে হবে তা পূর্ণ শক্তি দিয়েই করতে হবে। শাহবাগীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে, অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে। দ্বিধাদন্দ্বে অনেক কেটেছে দিন। আর নয়।

‘ব্লগাররা নাস্তিক’ বলে একটি ব্যাপক প্রোপাগান্ডা তো আগে থেকেই আছে। ওটাকে মিথ্যা প্রমাণ দায় কি বিএনপি’র? যেটা প্রচলিত থাকলেই রাজনৈতিক ফায়দা আসে, সেটাকে মুছে ফেলার কী দরকার আছে? বরং রাজনৈতিক রঙ লাগিয়ে ওটাকে যত বলা যায়, ততই মঙ্গল। পুনরাবৃত্তি হতে হতে মিথ্যা হয়ে যাবে সত্য। তাতে সুফল আসবে ঘরে। চেতনার গোষ্ঠী কিলাই!

তাতে গণমাধ্যম যা বলে বলুক, সুশীল সমাজ গোল্লায় যাক – ওরা কোন দিন বিএনপিকে সমর্থন দেয় নি, দেবেও না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা? ওটা একটা সেকেলে ব্যাপার! চেতনার ডাকে মানুষকে আহ্বান করতে তারা অভ্যস্ত নন – যতটা সিদ্ধহস্ত ধর্মের ব্যবহারে। তাই, যাতে দক্ষতা আছে আর যার মধ্য দিয়ে এগিয়ে এসেছে এতোটা পথ, সেপথেই কি এগিয়ে যাওয়া মঙ্গল নয়? বুদ্ধিমানের জন্য ইশারাই যথেষ্ট।

 

প্রথম আলো ব্লগে প্রকাশ