Tagged: কাজের উদ্দেশ্য

ডায়েরি ২০১২: কাজ কেন করি, বেতন কেন পাই?

কেন কাজ করি? কেন বেতন পাই? এরকম কিছু সাংঘাতিক দার্শনিক জিজ্ঞাসা নিয়ে একদিন বসেছিলাম নিমগ্ন ধ্যানে। যা পেয়েছি, ধ্যানে পেয়েছি। তাই এখানে যা লেখা হয়েছে, তাতে কোন গলদ থাকলে তা ধ্যানের দায়, আমার নয়। :P তবে বলে রাখছি, দু’একজন মহান ব্যক্তির দু’একটি জ্ঞানের কথা ধ্যানের বিষয় থেকে বাদ যাবে। কিন্তু তারা আমার ধ্যানের সাক্ষী!

“জীবনের উদ্দেশ্য হলো সমস্ত মন-প্রাণ দিয়ে জীবনের উদ্দেশ্যকে খোঁজা।” সিদ্ধার্থ গৌতম
“৭টি মহাপাপ হলো: শ্রমহীন সম্পদ, বিবেকহীন আনন্দ, মানবতাহীন বিজ্ঞান,চরিত্রহীন জ্ঞা্ন, নীতিহীন রাজনীতি, নৈতিকাবিবর্জিত বাণিজ্য এবং ত্যাগহীন উপাসনা।” মহাত্মা গান্ধী
“যখন তুমি খেলো আন্তরিকভাবে খেলো; কিন্তু যখন কাজ করো তখন যেন খেলো না!” থিউডর রুজভেল্ট
“কাজ ৩টি মন্দকে দূরীভুত করে – বিরক্তি, পাপ ও দারিদ্র্য।” ভলটেয়ার

পৃথিবীতে মানুষের আগমন কি উদ্দেশ্যহীন? মানুষের জন্ম কি কোন দুর্ঘটনার ফল? সৃষ্টিকর্তা, যিনি বলেছেন যে তিনি কথিত জ্ঞানী ও দার্শনিকদের দৃষ্টি থেকে তাঁর সৃষ্টি রহস্য গোপন রেখেছেন, তিনি প্রত্যেক মানুষকেই একটি উদ্দেশ্য দিয়ে পাঠিয়েছেন; রোপন করে দিয়েছেন একেকটি স্বপ্ন। প্রত্যেক আত্মার জন্যই তাঁর একটি পরিকল্পনা আছে। তাঁর প্রধান পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয় যখন আমরা মানুষের জন্য কিছু করি, কারণ মানুষ সৃষ্টিকর্তার প্রিয়তম সৃষ্টি। ইবাদত বা উপাসনা সৃষ্টিকর্তাকে কখনও সন্তুষ্ট করতে পারে না, কারণ কেউই পরিপূর্ণভাবে তা করতে পারে নি।

কাজই উপাসনা (মহাত্মা গান্ধী ও টমাস কারলাইল)।
উপাসনাও কোন কর্মহীন প্রক্রিয়া নয়। কাজ দ্বারাই আমরা তাঁর উপাসনা করতে পারি এবং অন্যকে সেবাও করতে পারি, কারণ কাজ সবসময়ই অন্যের উদ্দেশ্যে করা হয়। ডাক্তার কাজ করেন তার রোগীর রোগমুক্তির জন্য; নাপিত বা ঝাড়–দার কাজ করেন অন্যদের পরিচ্ছন্নতা বিধানের জন্য; দর্জি কাজ করেন অন্যের পোশাক তৈরির জন্য; শিক্ষক শিক্ষাদান করেন যাতে অন্যের সন্তান শিক্ষিত হয় এবং কৃষক মাঠে সফল ফলান যাতে তার উদ্বৃত্ত অন্যের কাছে বিক্রি করতে পারেন। আমরা দেখতে পাই যে, আমরা যা কিছুই করি, তা অন্যকে উপকৃত করে; আর সেটাই সৃষ্টিকর্তার প্রধান পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের দিকে নিয়ে যায়। কাজ শুধুই আমাদের খাবারের সংস্থান করার জন্য নয়। তাই আমাদের কাজের প্রথম এবং শেষ উদ্দেশ্য হলো সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করা এবং তার মধ্য দিয়ে তাঁর উপাসনা করা। ঈশ্বরে বিশ্বাস করলে তো ঠিকই আছে, না করলেও সেদিকেই আমাদের গন্তব্য।

আমরা কাজ ছাড়া থাকতে পারি না: কেন পারি না?
কাজ কি শুধুই আমাদের জীবিকা অর্জনের জন্য? তাহলে অবসর গ্রহণ করার পরও কেন মানুষ কাজ খুঁজে বেড়ায়? কয়েদিরা কেন কাজের জন্য ব্যাকুল হয়? প্রথমত, কাজ ছাড়া আমরা থাকতে পারি না, কারণ এটা স্বভাব বিরুদ্ধ। কাজ মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। নিষ্ক্রিয়তা হলো মৃত্যু। কর্মহীনতা আমাদের দেহে রোগের সৃষ্টি করে, যার পরিণতি হয় অকাল মৃত্যু। মানুষকে কাজ ছাড়া থাকতে বাধ্য করা হলে, কাজের জন্য সে উম্মাদ হয়ে যায়। কাজ ছাড়া থাকা যায় না বলে কারাগারের কয়েদি সমস্ত ধর্মগ্রন্থ মুখস্থ করে ফেলতে পারে।

এডল্ফ হিটলার তার বিপ্লব সৃষ্টিকারী গ্রন্থ ‘মেইন কেম্প’ (আমার সংগ্রাম) লিখেছিলেন কারাগারে থেকে। আমাদের দেশের একজন সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান কবিত্ব অর্জন করেছেন কারাগারে থেকে। দ্বিতীয়ত, শুধু জীবিকা অর্জনের জন্য মানুষ কাজ করে না। সে কাজ করে মানবিক উৎকর্ষতার জন্য এবং তার আত্মার সন্তুষ্টির জন্য। অমরত্ব লাভের এক অদম্য ইচ্ছা থেকে এটা হয়। মানুষ অনেকের মধ্যে বিশিষ্টতা চায়, মহান হতে চায়। মানুষ এ ইচ্ছা পেয়েছে তার সৃষ্টিকর্তা থেকে, যিনি নিজেও মহান ও চিরন্তন এবং যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন নিজ কাঠামোতে সকল প্রাণীর রক্ষক ও তদারক হিসেবে। সৃষ্টিকর্তা চান যেন মানুষ শুধু প্রাণী থেকে নয়, মানুষ যেন মানুষের মধ্যেও মহান হয়। তিনি চান যেন মানুষ মানুষকে ভালবাসে, দয়া করে ও সাহায্য করে। তিনি বিশ্বের আলো হিসেবে মানুষকে দেখতে চান, যাতে তাঁর নাম আলোকিত হয়। কিন্তু একমাত্র কাজ দ্বারাই মানুষ নিজেকে উৎকর্ষতা দিতে পারে এবং অন্যের জন্য নিজেকে প্রয়োজনীয় করে তুলতে পারে, অকর্মন্যতা দিয়ে নয়। তাই কাজ মানুষের আদিম এবং জন্মগত প্রবণতা, কারণ সে সৃষ্টিকর্তার প্রতিনিধি।

কীভাবে কাজে মহত্ব ও অমরত্ব অর্জন করা যায়?
কাজই মানুষের জীবনকে দেয় অর্থ। পৃথিবীর সকল ধর্মে, সকল সংস্কৃতিতে, সকল সভ্যতায় কাজকে উপাসনার সাথে তুলনা করা হয়েছে। সভ্যতার সকল সৃষ্টি কাজের ফল। কাজ হলো ভালবাসার দৃশ্যমান প্রকাশ (খলিল গিবরান)।

কীভাবে কাজ দ্বারা উপাসনা করা যায়? 
কাজকে যদি সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত দায়িত্ব মনে করা হয় তবে সেটাই হয় সত্যিকার উপাসনা। সৃষ্টিকর্তা চান যেন আমরা যে কাজই করি তা তাঁর উদ্দেশ্যে করি। তাই, আমাদের সামনে যে কাজ আছে, বিশ্বস্তভাবে করলে সেটা দিয়েই মহত্ব অর্জন করা যায়। প্রয়োজন শুধু বিশ্বস্ততা এবং সততা। বাদশাহ সলোমন বলেছেন, নিজের কাজে সন্তুষ্ট থাকা ছাড়া মানুষের আর কিছুই করার নেই। সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যের কাছে আমাদের নিজেদের উদ্দেশ্যকে সমর্পণ করলেই আমাদের কাজ মহৎ হয়। সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যের কাছে নিজেকে সমর্পন করা মানে হলো মহৎ এবং বৃহত্তর লক্ষ্যে নিজের কাজকে পরিচালিত করা। মহৎ-বৃহৎ কাজে মানে যে কাজ মানবসেবা, দেশের সেবা, বঞ্চিত জনগোষ্ঠির অধিকার আদায় ইত্যাদি।

ঈশ্বর অবিনশ্বর। তিনি তার অবিনশ্বরতা দিয়ে তৈরি করেছেন মানুষ। সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস ছাড়া মানুষের উদ্দেশ্য মহৎ হতে পারে না। অলৌকিক কিছু করার জন্য চাই অলৌকিক ঈশ্বরের শক্তিতে আস্থা। আপনি মানুষকে ভরসা করলে মানুষে যা দিতে পারে সেপর্যন্ত আশা করতে পারেন, কিন্তু ঈশ্বরে আস্থা রাখলে আপনি যা লাভ করেন তা অসীম।

[গভীর ধ্যানের আপাতত সমাপ্তি :D।]

২৫ নভেম্বর ২০১২।

.

.

**ছায়াপথিক নামে সামু’তে কয়েকটি পোস্ট দিয়েছিলাম। চতর্মাত্রিক ব্লগেও একই নামে কিছু লেখা দিয়েছি। কিন্তু যত ভালোই হোক, ছদ্মনামে লেখার ইচ্ছেটুকু বেশি দিন টেকে নি। নিজের নামেই লেখবো, এ সিদ্ধান্তে আসার পর সে নামে আর পোস্ট দেই নি।

কৃষক ও শহুরে চাকুরেদের প্রবন্ধ

Image

একটি ছোট্ট গল্প বলি, যেটাকে দৃষ্টান্তও বলা যায়। আমার এক বন্ধু এ গল্পটি বলে আমাকে অনেকদিন চন্দ্রাহত করে রেখেছিল। তার মতে, আমাদের দেশের কৃষকরা অধিকাংশই চরম বোকা, বলা যায় বোকার হদ্দ। তারা আয়ব্যয়ের হিসাব জানেন না। সারা বছর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ৫০ হাজার টাকা একসাথে পেলে তারা খুশিতে আটকানা।

অথচ বীজ সার মুজুরি যন্ত্রপাতি কীটনাশক ইত্যাদি বাবদ বিভিন্ন কিস্তিতে হয়তো ৫০ হাজার টাকা বা তারও অধিক খরচ হয়ে গেছে। সেটা তারা কখনও যোগ করে দেখেন না। ফসল বিক্রিতে মাত্র ৫০ হাজার টাকা পেয়েই তারা আবার স্বপ্নের বীজ বুনতে শুরু করেন আগামি বছরের জন্য। এভাবেই চলছে তাদের জমি ও ফসলকে নিয়ে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জীবনচক্র। এথেকে ওঠে আসার কোন তাগিদ তাদের নেই, বরং একে তারা উপভোগ করছে। এটি পুরোটাই যেন আত্মিক বিষয় – কোন আর্থিক বিষয় এখানে নেই, নেই কোন লাভ-লোকসানের হিসাব। কী লাভ হলো মাঝখানে এই গাধার খাটুনি খেটে? আমার বন্ধুর এই প্রশ্নে আমি যোগ দেই, কী লাভ হলো?

এবিষয়টি নিয়ে এভাবে কখনও ভাবি নি, তাই মহাচিন্তিত আমি এবং উত্তেজিতও। হঠাৎ একদিন ‘আইনস্টাইনের হাতের আপেলের’ মতো আমি চমকে ওঠলাম। তাই তো! আমরা যারা শিক্ষিত জনতার কাতারে পড়ি, আমরাও তো একই রকম জীবনচক্রে আবদ্ধ হয়ে আছি। মাসে একগোছা পাঁচ’শ আর একহাজার টাকার নোট পেয়ে ভুলে যাই মাবাবা আত্মীয়স্বজন প্রতিবেশী আর বন্ধুর কথা। ভুলে যাই পুকুর নদী মাঠঘাট আর জোৎস্নারাতের কথা। যেখান থেকে বেড়ে ওঠেছি বড় হয়েছি বৃদ্ধি পেয়েছি দেহে মনে আর আত্মায় – সেই গ্রামের কথা ভুলে যাই। ভুলে যাই বাড়িভাড়া গাড়িভাড়া গ্যাস বিদ্যুৎ পানি বিল আর দারোয়ানের বেতন বাবদ কত টাকা খরচ করেছিলাম। মাস শেষ হবার ঠিক এক সপ্তাহ পূর্বেই ওই একগোছা নোট শেষ হয়ে যায়। অগ্রীম বেতনে চালাই বাকি এক সপ্তাহ। তবু মনে মনে খুশি এজন্যে যে, আমি শহরে আছি।
অবচেতনে অতিক্রম করে চলেছি পিতামাতা থেকে পাওয়া উত্তরাধীকারের জীবনটি। মাড়িয়ে চলেছি টিএস ইলিয়টের এই আধুনিক ওয়েস্ট ল্যান্ড, কিন্তু কিশোরকুমারে গানের মতো ‘চিতাতেই সব শেষ’।
হুমায়ুন আজাদের দর্শনমতো ‘সবকিছু নষ্ট’ হয়ে যাবে। কিং সলোমনের জীবনাভিজ্ঞতার মতো ‘সবকিছুই অসার’ আর ‘বাতাসের পেছনে দৌড়ানো’ – তবু দৌড়ে চলেছি। উদাসীন পথিকের মতো। অবশেষে মৃত্যু এসে সকলকে একাকার করে দিয়ে যায়।

চল্লিশ বা পঞ্চাশ অতিক্রম হবার পর অথবা বয়স যখন ষাট পেরিয়ে যায়, তখন দেখি শহরের মানুষ আর গ্রামের মানুষ সকলেই এক। পোশাকের ব্যতিক্রম আর ঘরের আসবাবপত্রের বৈচিত্র ছাড়া আর কোন উত্তম বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায় না শহুরে মানুষগুলোর জীবনে। তখন মনে পড়ে যায় সকল অপচয় আর নষ্ট জীবনের কথা। তখন যদি ‘কন্ট্রোল জেড’ দিয়ে তখন যদি আনডু করা যেতো! ভাল কাজ করার যখন কোন সামর্থ্য আর অবশিষ্ট থাকে না, তখন প্রচণ্ড ইচ্ছা জাগে স্বজাতির জন্য কিছু করার। তখন মাথা ঠুকে ঠুকে কপালে তিলক পরে গেলেও হতাশা রেখা মুছে যায় না।

এযাবত আমাদের দেশে ম্যাগসেসে এওয়ার্ড পেয়েছেন মোট ১১জন। তাদের প্রায় সকলেই বেসরকারি বা ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়নে অবদান রেখেছেন। যেমন: স্যার ফজলে হাসান আবেদ (১৯৮০), ড. মুহাম্মদ ইউনূস (১৯৮৪), জাফরুল্লাহ চৌধুরী (১৯৮৫), এঞ্জেলা গোমেজ (১৯৮৭), অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ (২০০৪), মতিউর রহমান (২০০৫), এএইচএম নোমান খান (২০১০) প্রমূখ। তারা সকলেই স্ব স্ব কর্ম দিয়ে আমাদের সমাজকে একটি উন্নততর অবস্থানে নিয়ে যেতে চেয়েছেন। ব্যক্তিগত সামর্থ্য ও কর্মদক্ষতাকে তারা সমাজের উন্নয়নে ব্যবহার করেছেন। পুরস্কার হলো তাদের এ কৃতীত্বের স্বীকৃতি।

অতি সম্প্রতি (২০১২) ম্যাগসেসে এওয়ার্ড পেয়েছেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, পরিবেশ সুরক্ষায় তার নিরলস কর্মকাণ্ডের জন্য। জাহাজভাঙ্গা শিল্পের বিস্তৃতির ফলে পরিবেশের ভয়ানক দূষণ রোধে রিজওয়ানা তার পরিচালিত ‘বাংলাদেশ পরিবেশবাদী আইনজীবী সংগঠন’ বেলা’র মাধ্যমে কাজ করেছেন। বিভিন্ন শিল্প কারখানায় শিশুশ্রম প্রতিরোধেও তিনি জোড়ালো ভূমিকা পালন করেছেন।

আমরা সকলেই কাজ করছি এবং করি। কাজ করেই আমাদের জীবনের সার্থকতা বিচার করি। কারও কাজের প্রকৃতিই এরকম যে, তা সমাজের উন্নয়নের জন্য নিবেদিত; আবার কারও কাজ হয়ত সরাসরি সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখে না। এ উভয় ধরণের পেশাজীবী নিয়েই আমাদের সমাজ। মনে অনেক প্রশ্ন জাগে – শুধুই বিদ্ধ হই ভেতরে। শুধুই কি জমাখরচের জন্য আমাদের কাজ? শুধুই কি পরিবার বিস্তৃত করার জন্য আমাদের কাজ? আমরা কি পারি না সামর্থ্য থাকতেই সমাজের জন্য কিছু করতে? তাতে কোন এওয়ার্ড আসুক আর না আসুক অন্তত এটুকু তো বলতে পারবো যে, আমাদের জীবনকে একটি মহৎ উদ্দেশ্যে পরিচালনা দিয়েছিলাম!

*ফটো ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।

**লেখাটি প্রথম আলো ব্লগে প্রকাশিত হয়েছে এবং সেখানে পাঠকের জ্ঞানগর্ভ মন্তব্য রয়েছে