Category: পড়া নিয়ে লেখা

গীতিকার শফিকুল ইসলাম কোহিনূরের ‘কে বুঝিতে পারে দয়াল’

পাঠক প্রতিক্রিয়া: সফিকুল ইসলাম কোহিনূরের ‘কে বুঝিতে পারে দয়াল’

444
জীবনের প্রধান অংশটি অতিক্রম করে একজন ‘সংসার পরিব্রাজক’ ব্লগে এসে নিজেকে প্রকাশ করতে শুরু করলেন। রাজনীতি, ব্যবসায় এবং সংসার নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটানোর পর তিনি দেখলেন একটি বিষয়ে খুঁজ নেওয়ার খুবই দরকার। এজন্য তিনি আগেই প্রকাশে মনযোগ দিলেন – প্রকাশের চাপে অনুসন্ধান বেড়ে গেলো। গানকে তিনি বেছে নিলেন তার আত্মপ্রকাশের মাধ্যম হিসেবে। জীবন, সংসার, জীবনের গন্তব্য এবং ঈশ্বর ও ঈশ্বরের সৃষ্টি নিয়ে তিনি প্রকাশ করতে লাগলেন তার অনুভবগুলো। লেখতে লেখতে যেমন লেখকের পর্যবেক্ষণ ক্রমান্বয়ে ক্রমান্বয়ে শানিত হয়, তেমনভাবে তার অনুভবগুলো ক্রমেই ধারালো হতে থাকলো। ‘খোঁজার বিষয়টি’ নিয়েই তিনি খোঁজ শুরু করলেন। রচিত হতে থাকলো গান, একের পর এক। এক সময় ‘কী খুঁজবেন’ তা তিনি খুঁজে পেয়ে বলে ওঠলেন, কে বুঝিতে পারে দয়াল! “কোন্ পাথরে নুরি আছে, কে যে বুঝতে পারে/ মালিক নিজেই লুকাইয়া রয়, পাথরের ভিতরে (১)।” এর চেয়ে উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া আর কী হতে পারে! আসল সত্য যে কার নাগালে আছে, তা কে জানে?
.
যা হোক, জীবনের রহস্য অনুসন্ধানকারী সেই ব্যক্তিটি হলেন, সফিকুল ইসলাম কোহিনূর। ব্লগে তিনি ‘মেজদা’ নামে পরিচিত। তার প্রথম গ্রন্থ ‘কে বুঝিতে পারে দয়াল’ কে আমি মেজদা’র আত্মউপলব্ধির প্রথম খণ্ড বলতে চাই।  দেখি তার আত্মউপলব্ধি থেকে আমাদের কি পাওয়ার আছে।
.
সম্প্রতি দেশের এক খ্যাতিমান পর্বতারোহীর সবচেয়ে উঁচু পর্বতটিতে আরোহন নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে, কারণ তার উপলব্ধিগুলো অসংলগ্ন এবং প্রতিটি পর্বের পর্যাপ্ত বিবরণ তিনি দেন নি। তাই গীতিকার কোহিনূর কী খুঁজে পেলেন, সে বিষয়ে পরে আসছি। খোঁজাখুঁজির এই দার্শনিক ভ্রমণে কোথায় কী উপলব্ধি তার হলো, সেটিই আমার কৌতূহলের বিষয়।
.
জ্ঞান-বিজ্ঞান আর পুস্তক থেকে
কে শেখাবে তোমাকে
মহাজ্ঞানী বসে আছে
তোমার এই বুকে।
(২)
.
সৃষ্টির রহস্য কি জগতের জ্ঞানীদের কাছে আছে? এ এক বিরাট প্রশ্ন। বিজ্ঞানের প্রধান উদ্দেশ্যই হলো সৃষ্টির রহস্য উন্মোচন করা। জীবনের রহস্য কি তারা জানেন? খোদ অনুসন্ধান যন্ত্রটি নিয়েই সনাতন সৃষ্টি-সন্ধানীদের একটি প্রশ্ন আছে। যা থাকে ভেতরে, তাকে বাইরে কি পাওয়া যায়? প্রচলিত একটি তত্ত্ব হলো এরকম, ঈশ্বর তথাকথিত জ্ঞানীদের দৃষ্টি থেকে তার সৃষ্টির রহস্য লুকিয়ে রেখেছেন। তিনি তার রূপের রহস্য প্রকাশ করেছেন অর্বাচিন রাখাল বালকের কাছে।.

গীতিকার কোহিনূর বলেছেন, ‘দিলের ভেতর দয়ালের বই’। আমরা যেন সেই বইয়ের পাতা ওল্টাই। অন্য একটি গানে তিনি প্রায় একই কথা বলেছেন: “আমার মন মণ্ডপে যার বসবাস/ সে তো আমার মনতরী” (৩)।

.

ঈশ্বর যদি দেখা দিতো
চিনিতে পারিতাম
আমার রূপে রূপ মিশাইয়া
মিলাইয়া দেখিতাম।
(৪)

.

সৃষ্টির রহস্যে লুকিয়ে আছে ঈশ্বর রহস্য। এটি নিজের চেষ্টায় বা ধর্মকর্মে পুরোপুরি সিদ্ধ হয় কিনা তা নিয়ে বিতর্ক আছে। এজন্য ধর্মকর্মের পাশাপাশি প্রয়োজন একটি নিরহংকার মন। ঈশ্বর প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজন আত্মসংযম ও আত্মসমর্পন। ‘ঈশ্বর যদি দেখা দিতো চিনিতে পারিতাম’ বলে গীতিকার তা-ই বলতে চেয়েছেন। ঈশ্বর সমর্পিত হৃদয়ে দেখা দেন।

.

যেসব কথায় গীতিকারের উপলব্ধি আমার উপলব্ধিকে নাড়া দিয়েছে:

প্রায় সবগুলো গানই আত্মিক ভ্রমণের উপলব্ধিতে ভরা। প্রায় সব গানেই ঈশ্বরপ্রাপ্তির বাসনা। প্রেমের গানটিও গুরু বন্দনায় তিনি শেষ করেছেন। শেষ গানটিতেও তিনি গেয়েছেন, ‘জানিতে চাই গুরু তুমি ভালো আছো নি।’ কোহিনূরের মাতৃবন্দনায়ও সৃষ্টির গৌরব প্রকাশ পেয়েছে। আমার পছন্দের গানগুলো থেকে কয়েকটি উদ্ধৃতি দিচ্ছি। পাঠকের জন্য কিছু বাকি রাখলাম। সব দিচ্ছি না!

.

জীবন দর্শন ও দেহতত্ত্ব

•পৃথিবীতে ভরে আছে/কত জ্ঞানের বই/ ধর্ম-কর্ম সমাজতন্ত্র/ আসল বস্তু কই? [পৃ ২৪]
•আমি আছি তোমার পানে/ এক নিরিখে চেয়ে/ পূবের বেলা পশ্চিমে যায়/ দ্রুত বেগে ধেয়ে। [পৃ ৭৫]
•আমার ভেতর আমি কোনটুক/ তা তো জানি না/ দেহের ভেতর বাস করে যে/ সে কি আপন জনা? [৫৪]
•মন্দিরেতে নাই রে ঈশ্বর/ কে দেখেছে তারে/… [পৃ ৭৪]
•কী বলিবো দুঃখের কথা/ অন্তর জ্বালায় জ্বলি/ সুখের ঘরে বস করে/ মাওলাকে যায় ভুলি। [৮২]
•ঘরের ভেতর বসে রাজা/ কর্মে ব্যস্ত ছয়জন প্রজা/ আঠারো মোকামে তারা/ আদান-প্রদান করে রে। [৪০]
•দেহের মালিক বানায় মোরে/ ভেতরে দিলো মন/ মনের ভিতর বাস করিয়া/ থাকে সে গোপন। [৫৪]

.

মানবতাবাদি কথাগুলো:

•এমন সুন্দর ধরায় দেখি/ রক্তারক্তির খেলা/ মানুষ হয়ে মানুষ মারছে/ রক্তে ভাষায় ভেলা। [পৃ ৫৫]
•আমি তো ভেবে পাই না/ মানুষ কেন শ্রেষ্ঠ/ মানুষ দেখি পশুর অধম/ পশু নয় নিকৃষ্ট। [পৃ ৫৫]
•মানুষে মানুষে পিরিত/ করতো জোড়া জোড়া/ সকল জাতি মিলে করতো/ হিংসা বিদ্বেষ তাড়া। [পৃ ৯৮]
•বনের যত পশু পাখি/ তাদের মধ্যে একই দেখি/ সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে/ মা’ই বাঘের খাদ্য হয়। [পৃ ৮৩]

.

আমরা যারা সফলতার লক্ষ্য নিয়ে উল্টো পথে হাঁটি, তারা পঞ্চাশ-ষাট অতিক্রম করার পর কেবল বুঝতে শুরু করি যে, আসল বিষয়টি অধরাই থেকে গেছে। ‘আসল বিষয়টি’ খুঁজতে গিয়ে গীতিকার কী খুঁজে পেলেন, তারই অনুসন্ধান করেছি আমি তার একশ ছ’টি গানে। গানগুলো সত্যিই সুখপাঠ্য। আরেকটি কথা, আমি দেখেছি, ব্লগের পড়ার চেয়ে বইয়ের পড়া অনেক মনযোগ আকর্ষণ করে এবং আরও বেশি অনুভব সৃষ্টি করে। অর্থাৎ বই এখনও ভারচুয়াল জ্ঞানের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠতে পারে নি!

.

সমালোচনা:

গীতিকার যতটুকু গভীরতায় জীবনকে উপলব্ধি করেছেন, সমালোচনা করার জন্য পর্যাপ্ত গভীরতায় যেতে পারি নি। তবে সাহিত্য হিসেবে শুধু এটুকু বলা যায়, ছন্দ এবং ভাষাগত বিষয়ে কিছু বিচ্যুতি আছে। বানান এবং সাধু-চলিত মিশ্রণের দোষও আছে। কিন্তু এগুলো আমি গণনা করার মতো মনে করছি না। গানে প্রাণ দেবার জন্য ভাষা ও ছন্দে অনেক প্রখ্যাত গীতিকার তাদের লেখায় কিছু বিচ্যুতি এবং কিছু ব্যতিক্রম করেছেন। সেই বিচারে গীতিকার কোহিনূরের গানগুলোও বেশ আরামসে উতড়ে যায়। সমালোচনা শেষ!

.

ব্লগে প্রকাশিত লেখাগুলো সাধারণত অন্য একজন ব্লগারই পড়ে থাকেন। ব্লগার হিসেবে নিবন্ধিত নন এরকম পাঠক অবশ্যই আছেন, তবে তাদের সংখ্যা খুবই নগণ্য। ব্লগার পড়েন অন্য ব্লগারের লেখা। লেখার বিষয় বা তাৎপর্য যা-ই হোক আমরা একে বলি, ব্লগ পোস্ট। পড়ার পর কেউ মন্তব্য দেন, কেউ দেন না। অনেকেই মন্তব্য দেন, বিনিময়ে আরেকটি মন্তব্য পাবার জন্য। বিনিময় পাঠক – মানে পড়ার বিনিময়ে পড়া। ‘আপনার লেখা আমি পড়ে দেবো, বিনিময়ে আপনি আমার লেখা পড়ে দেবেন। এখানে বিনিময়ের বিষয়টি হলো মন্তব্য। মন্তব্যে মন্তব্য আনে, যেমন টাকায় টাকা আনে। শুনতে ‘শ্রোতিকটু’ হলেও বাস্তবের সমীকরণটি এরকমই। পাঁচ বছরের পুরাতন ব্লগার, যতই ভালো লিখুন, তিনি অনিয়মিত। তিনি মন্তব্য পাবেন দু’টো! বিষয়ের প্রতি আগ্রহী হয়ে অথবা লেখার তাৎপর্যে আকৃষ্ট হয়ে পড়তে এসেছেন, ব্লগে এরকম পাঠক খুবই কম। পুরো সমাজেই পাঠক কম, ব্লগের পাঠক আসবে কোত্থেকে! ওই রকমের পড়াকে ‘সামাজিক পড়া’ বলা যায়।

.

উপলব্ধির সমান্তরালে না গেলে লেখার মর্ম বুঝা যায় না। ‘সামাজিক’ পড়ায় পাঠক কিছুই উদ্ধার করতে পারেন না। ব্লগার যদি ভালো লেখক হতে চান, তবে ভালো পাঠক তাকে হতেই হবে। ‘সামাজিক পড়া’ যতই জনপ্রিয় হোক না কেন, তাতে আমার সমর্থন নেই। পড়ার জন্য এবং নিজের আনন্দের জন্য যেসব পাঠক ব্লগ পড়েন, তারা মেজদা’র লেখায় শুধুই আনন্দ পাবেন না, জীবনের সত্যও খুঁজে পাবেন।

.

উপসংহারের কথা:

প্রচলিত শব্দাবলী দিয়ে লেখেন বলে মেজদা’র গানগুলো দেখতে সাদামাটা মনে হলেও পড়তে গেলে তা কখনও হালকা মনে হয় নি। বরং মনে হয়েছে, এতে গভীরে তিনি কীভাবে গেলেন! তার অধিকাংশ গানের রচনার সময়টি হলো রাত দু’টা অথবা তিনটা, এমনকি রাত চারটাও! গীতিকার কোহিনূর তার বইয়ের ভূমিকায় কয়েকটি গানের উল্লেখ করেছেন, যা তার দৃষ্টিতে বিশিষ্ট। কিন্তু বিষয়ের গভীরতায় আমি দেখেছি তার প্রতিটি গান আলাদাভাবে বিশিষ্ট। প্রতিটি গান নিয়ে একেকটি প্রবন্ধ লেখা যায়। কিন্তু নিজেকে সংবরণ করেছি – লেখেও আবার কেটে দিয়েছি। ব্লগের পাঠকের বিষয়টি বিবেচনা করে এবং প্রথম প্রকাশিত বইটির প্রসারের বিষয়টি মনে রেখে আলোচনাটি সংক্ষিপ্ত রাখার চেষ্টা করেছি। ব্লগ পোস্টের মত করেই লেখেছি। ভবিষ্যতে কোন প্রিন্ট প্রকাশনায় আরও বিস্তারিত লেখার ইচ্ছা আছে।

.

ব্লগারদের প্রকাশিত বইগুলো নিয়ে ‘পাঠক প্রতিক্রিয়া’ চলতে থাকবে। এরপর আসছে আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলামের ‘স্বপ্নবাসর’ যা নিয়ে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু ব্লগের প্রাজ্ঞ লেখক জমির হায়দার বাবলা পূর্বেই ‘স্বপ্নবাসর’ নিয়ে একটি চমৎকার লেখা উপহার দিয়েছেন। একই বিষয়ে ছড়াকার শহিদুল ইসলাম প্রামানিকও অসাধারণ একটি ছড়া দিয়েছেন। তাই ‘স্বপ্নবাসর’ দ্বিতীয়তে রাখলাম। তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম… পর্বের বিষয়গুলো ক্রমান্বয়ে জানানো হবে।

 

 

—————-
(১) গানের শিরোনাম: কে বুঝিতে পারে দয়াল। পৃষ্ঠা ৭।
(২) গানের শিরোনাম: জ্ঞান-বিজ্ঞান আর পুস্তক থেকে। পৃষ্ঠা ২৪।
তার গানের কথাগুলো পড়ে ব্লগেও আমি চমকে ওঠতাম, কিন্তু মন্তব্য দেবার উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষা করছিলাম।
(৩) গানের শিরোনাম: আমার মন মণ্ডপে যার বসবাস। পৃষ্ঠা ২৫।
(৪) গানের শিরোনাম: মন্দিরেতে নাইরে ঈশ্বর। পৃষ্ঠা ৭৪।

 

—————-

 

.

.

.

প্রথম আলো ব্লগে প্রাপ্ত মন্তব্য ============================================

৫৬ টি মন্তব্য

anindyaantarঅনিন্দ্য অন্তর অপু০৬ জুন ২০১৪, ২১:৪৫

অসাধারণ একটা পোস্ট প্রিয় মইনুল ভাই । লেখাগুলোর ভেতরে গিয়ে এর নির্যাস উপলব্ধি করে যেন ছড়িয়ে দিতে চাইছেন পাঠক অন্তরে ।শুভ কামনা নিরন্তরউত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৬ জুন ২০১৪, ২৩:০১

অনেক ধন্যবাদ আপনাকে মুছে ফেলুন
pramanik99শ‍হীদুল ইসলাম প্রামানিক০৬ জুন ২০১৪, ২১:৫৩

উপলব্ধির সমান্তরালে না গেলে লেখার মর্ম বুঝা যায় না। ‘সামাজিক’ পড়ায় পাঠক কিছুই উদ্ধার করতে পারেন না। চমৎকার সমালোচনামূলক বই আলোচনা। মইনুল ভাই যে এত ভাল সমালোচক এই আলোচনাটি না পড়লে বুঝতে পার‍তাম না। বই আলোচনা খুবই ভাল লাগল। ধন্যবাদ মইনুল ভাই অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল সেই সাথে কোহিনুর ভাইকেও।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৬ জুন ২০১৪, ২৩:০২

প্রিয় ছড়াকার প্রামানিক ভাই, দরাজ দিলের প্রশংসার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা মুছে ফেলুন
Rabbaniরব্বানী চৌধুরী০৬ জুন ২০১৪, ২১:৫৪

লেখক ও সাধক কবি আমাদের সকলের প্রিয় মেজদা / কহিনূর ভাইকে আমাদের প্রাণ ঢালা অভিনন্দন।পরে আলোচনায় আসব একে বারে রোববার। ভালো থাকবেন ততক্ষণ পর্যন্ত।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৬ জুন ২০১৪, ২৩:০৩

উপস্থিতির জন্য অনেক ধন্যবাদ, প্রিয় রব্বানী চৌধুরী ভাই মুছে ফেলুন
abdulhaqueমোহাম্মাদ আব্দুলহাক০৬ জুন ২০১৪, ২২:০৫

“কোন্ পাথরে নুরি আছে, কে যে বুঝতে পারে/ মালিক নিজেই লুকাইয়া রয়, পাথরের ভিতরে ,মেজদার ভাবপ্রকাশ সহজ কিন্তু সুগভীর।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৬ জুন ২০১৪, ২৩:০৪

মেজদা’র সরল ভাষা তার গড়ল তত্ত্বের পোশাক কৃতজ্ঞতা জানবেন, মুরুব্বি মুছে ফেলুন
abdulhaqueমোহাম্মাদ আব্দুলহাক০৬ জুন ২০১৪, ২৩:০৮

“মেজদা’র সরল ভাষা তার গড়ল তত্ত্বের পোশাক “মা রে মা মাইর দিছে আমারে!মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৬ জুন ২০১৪, ২৩:১২

হ্যাঁ বড়াইছাব, কথা কিন্তু ঠিকই কইছি।
সহজ ভাষা মনে করে পড়তে যাবেন, ভেতরে গিয়ে পড়বেন ফ্যাসাদে…
অতএব সাবধান… মুছে ফেলুন
abdulhaqueমোহাম্মাদ আব্দুলহাক০৬ জুন ২০১৪, ২৩:১৩

জবর চালু মানুষ!জি সত্য বলেছেন।মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৬ জুন ২০১৪, ২৩:১৬

জবর চালু মানে!… সংসার পরিব্রাজক!আপনি তো আমার চাইতে আরও ভালো চেনেন, জনাব!মুছে ফেলুন
abdulhaqueমোহাম্মাদ আব্দুলহাক০৬ জুন ২০১৪, ২৩:১৭

না গো ভাই না। এক্কেবারে নাদান মানুষ।মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৬ জুন ২০১৪, ২৩:২২

আব্দুলহাক ভাইয়ের বিনয়, ব্লগের সবাই জানেন।আপনি অনেক জানেন, কিন্তু তবু অন্যকে জিজ্ঞেস করায় আপনার জুড়ি নেই।
অন্যের মুখে নিজের কথা শুনায় আপনার তৃপ্তি মুছে ফেলুন
abdulhaqueমোহাম্মাদ আব্দুলহাক০৭ জুন ২০১৪, ০০:৫০

আপনারে ভাই ডাকি আর লজ্জা দিলেন। (অপমান বলতে চাই না)আমার চেয়ারে বসলে আপনিও দুই হাত তুলে বলবেন, ভাইগো আমি কোনতা জানি না।
আমার দৌড় তো অভিধান পযর্ন্ত। আমি সত্যি জানি না। তবে জানতে সময় লাগে না। এই জন্য অনেকে মনে করে আমি অনেক কিছু জানি।
আমার মন আরশের দরজায় ঠুকে বলে, মাবুদ ভিক্ষা দাও।
আমি ভিক্ষা পাই। প্রয়োজন হলে নফল নামাজ পড়ে সিজদায় কেঁদে বলি, মাবুদ জ্ঞান দাও।(আজ সিকরেট বলেদিলাম। দয়াকরে আর কখন এমন করে লজ্জা দেবেন্না। আমি সত্যি জানি না। আপনাদের পাশে বসতে বললে আমি সত্যি মাটিতে বসব। কারণ আমি চেয়ারে যোগ্য নয়। মজা করছি না)মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৮ জুন ২০১৪, ২০:৩১

বড়াইছাব, আপনার কথায় আপনার প্রতি শ্রদ্ধা আরও বেড়ে গেলো।
আমরা সবাই মানুষ… ‘রেল লাইন বহে সমান্তরাল’
সবাই এক জায়গায় এসে মিশে যাবো।
যে যা-ই হই না কেন, যেখানেই ঘুমাই না কেন, মাটির ঘর হবে গন্তব্য…এখানে আর কোন বিষয় না থাকুক সালাম ও শুভেচ্ছা জানবেন, মুরুব্বি মুছে ফেলুন
neelsadhuনীল সাধু০৬ জুন ২০১৪, ২২:১১

অসাধারণ –
পোষ্ট ভালো লেগেছে।
আমি মেজদার বইটি পড়েছি। আমার কাছেও বেশ মুল্যবান মনে হয়েছে।
খুব হেসে খেলেই মেজদা এই ব্লগেই সৃষ্টি করেছেন অসংখ্য গান যা আমাদের ভাবনার আকাশকে করবে বিস্তৃত অসীম। যা খুব সহজে বলা হলে অর্থের দিক দিয়ে বেশ গভীর বানী সমৃদ্ধস্যালুট ভ্রাতা মাঈউনদ্দিন ভাইকে উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৬ জুন ২০১৪, ২৩:০৬

মেজদার গীতিকার হয়ে ওঠার পথ পরিক্রমাটি পাঠক হিসেবে সহজই মনে হয়।
বাস্তবে হয়তো তত সহজ ছিলো না।
এর ভেতরে আরও তত্ত্ব আছে হয়তো, যা ভবা পাগলায় বাকিটা বলতে পারবেন অনেক ধন্যবাদ নীলসাধু ভাই মুছে ফেলুন
neelsadhuনীল সাধু০৬ জুন ২০১৪, ২৩:২৫

হুম তিনি ভাবের সাগরে ডুব দিতে পেরেছেন বলেই এমন সব অনুভবের কথা লিখতে পেরেছেন অবলীলায়।
ভাব ছাড়া কেমনে কিমুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৮ জুন ২০১৪, ২০:৩৫

//ভাব ছাড়া কেমনে কি// কথা কিন্তু ঠিক। ভাব না থাকলে ভাষা দিয়া কি তরকারি খামু
অদৃষ্টের নির্মম পরিহাস হলো, ভাব আসে না
মাথায় হাতুড়ি পেটালেও হয় তো আসবে না! ভাবের কাঙ্গাল… অনেকেই পেয়ে কাঙ্গাল
আমি না পেয়ে কাঙ্গাল দোয়া খায়ের করবেন… মুছে ফেলুন
PulakBiswas67পুলক বিশ্বাস০৬ জুন ২০১৪, ২২:৩৫

কোহিনূর ভাইয়ের গানের কথা বেশ সুন্দর ভাব ও বিশ্লেষণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন মইনুল ভাই। যা আমাদের মতো অবোধকে বুঝতে সাহায্য করবে।নিরন্তর ভালোবাসা জানবেন।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৬ জুন ২০১৪, ২৩:০৭

কৃতজ্ঞতা জানবেন, কবি পুলক বিশ্বাস মুছে ফেলুন
MainulAminমাইনুল আমিন০৬ জুন ২০১৪, ২২:৪৪

আজ অনেকদিন পরেই প্রিয় আলোব্লগ আর প্রাণের মানুষগুলোর জন্যে প্রাণ কেদে উঠলো হঠাৎ করে | মাঝে মধ্যে আস্তে চাইলেও ব্যস্ততার কারণে লগ ইন করা হয় না কোনমতে | আজ একদিকে আমার ভাবগুরু মেজদার প্রথম গানের বই অন্যদিকে আমার প্রিয় মিতা মইনউদ্দিন মইনুল’ এর জ্ঞানগর্ব গভীর বিশ্লেষণাত্মক সমালোচনার শৈল্পিক ব্যঞ্জনা ! মনকে আর দূরে ধরে রাখতে পারলাম না |পুরো সমালোচনাটি পড়েছি গভীরে ডুব দিয়ে | অসাধারণ এক শব্দের মায়াজাল বুনেছেন প্রিয় গীতিকার এবং নান্দনিক শব্দের মেস্তুরি কবি ও অনুবাদক, এবং গবেষক মাইনউদ্দিন মইনুল ভাই |
সাবাস প্রিয় গীতিকার ! সাবাস শব্দ কারিগর ! ……………….।দুজনকেই অধমের সালাম |আশা করি সামনের মেলায় আসলে বইটি কিনবো | ভালো থাকুন মেজদা, ভালো থাকুন প্রিয় মিতা মইনুল ভাই |
উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৬ জুন ২০১৪, ২৩:১০

প্রিয় মিতা কবি মাইনুল আমিন ভাই, আপনার ছায়াটি কোথায় দেখে যেন শুভেচ্ছা দিয়ে এসেছি। আমার লেখায় আপনাকে পাওয়া মানে তো বিশাল কিছু পাওয়া।
আপনার উদার হৃদয়ের প্রশংসা সবসময়ই আমার প্রেরণা ছিলো। আজও তাই।শব্দের কারিগর বললে কিন্তু একজনের নাম প্রথমে আসে, সে হলেন আপনি।
সময় পেলে বলবো আরও বলবো কোনদিন।অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা জানবেন, মিতা।
সময় নিয়ে নিয়মিত হোন মুছে ফেলুন
MirHamidহামি্দ০৬ জুন ২০১৪, ২৩:২৮

তার প্রথম গ্রন্থ ‘কে বুঝিতে পারে দয়াল’ কে আমি মেজদা’র আত্মউপলব্ধির প্রথম খণ্ড বলতে চাই। আমি যতটুকু পড়েছি তাতে আমি আপনার এমূলায়নের সাথে একমত। মইনুল ভাই এবং মেজদার জন্য শুভেচ্ছা রইল………..উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৮ জুন ২০১৪, ২০:৩৫

জি… দ্বিতীয় খণ্ডের অপেক্ষায় আছি, হামিদ ভাই আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা মুছে ফেলুন
AhmedRabbaniআহমেদ রব্বানী০৭ জুন ২০১৪, ০০:০০

চমৎকার একটি গানের বই ‘কে বুঝিতে পারে দয়াল’।ধন্যবাদ প্রিয় মইনুল ভাইকে বইটির সমালোচনা লেখার জন্য।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৮ জুন ২০১৪, ২০:৩৬

ধন্যবাদ জানবেন, কবি ও গীতিকার আহমেদ রব্বানী ভাই মুছে ফেলুন
diponkar07দীপংকর চন্দ০৭ জুন ২০১৪, ০০:৩৭

আপনার অসাধারণ বিশ্লেষণ একজন পাঠককে বইটি পাঠে উৎসাহিত করবে অনিবার্যভাবে।
আপনার অনেক লেখা আমার পড়া হয়নি। আশাকরি পড়ে ফেলবো সময় করে। পড়ার আগেই অনুচিত হলেও যে কথাটা সাহস করে বলে ফেলতে ইচ্ছে করছে, অসাধারণ অভিজ্ঞতা হয়তো যুক্ত হবে আমার স্বল্প অভিজ্ঞতার ঝুলিতে।শুভকামনা অনিঃশেষ জানবেন। সবসময়।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৮ জুন ২০১৪, ২০:৩৭

প্রেরণা পেলাম
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, দীপংকর চন্দ … মুছে ফেলুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৮ জুন ২০১৪, ২০:৩৭

Mzarin31আরজু মুন জারিন০৭ জুন ২০১৪, ০২:৩৬

মেজদাকে অভিনন্দন বইয়ের প্রকাশনায় আর মইনুল ভাইকে ধন্যবাদ পোস্ট টির জন্য। শুভেচ্ছা জানবেন।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৮ জুন ২০১৪, ২০:৩৭

আরজু মুন জারিন আপা, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ…
ভালো থাকুন প্রবাসে মুছে ফেলুন
missildhakaভোরের মিছিল০৭ জুন ২০১৪, ০২:৫৪

সালাম জানবেন ভাই ,আপনি অনেক সুন্দর করে গুছিয়ে লিখতে পারেন ।আপনার সব লেখা গুলো দারুন গুছানো ।এই পোস্তটিও খুব সুন্দর করে সাজিয়েছেন ।
মেজদা ভাই অনেক সুন্দর লিখেন তার কিছু লেখা আমি পড়েছি ,খুবি ভাল লেখেন
আপানাদের দুজন কে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৮ জুন ২০১৪, ২০:৩৮

ধন্যবাদ।আপনাকেও অনেক শুভেচ্ছা, ভোরের মিছিল
ভালো থাকবেন…মুছে ফেলুন
aihena039আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম০৭ জুন ২০১৪, ০৭:১৫

বই হিসাবে মেজদার “কে বুঝিতে পারে দয়াল’ পড়ার সুযোগ হয়নি। তবে বইটির কিছু সংগীত পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে, যা মেজদা নিজেই ব্লগে পোস্ট দিয়েছিলেন। এক কথায় সত্যিই অনবদ্য। মইনুল ভাইয়ের পর্যবেক্ষণের প্রতি আমার শতভাগ আস্থা ও শ্রদ্ধা রয়েছে। পুরো বইটি পড়তে পারলে মিলিয়ে দেখতে পারতাম। আশা করি, আগামীতে পড়তে পারবো।চমৎকার বই আলোচনার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ, মইনুল ভাই।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৮ জুন ২০১৪, ২০:৪২

‘দাদাজানের কথায় আস্থা রেখেই তার কথা না শুনে ঘুমিয়ে পড়লাম।’
-ব্যাপারটা এরকম না তো? মজার মানুষের সাথে মজা না করে থাকতে পারি না। চুলকায় আরকি অনেক ধন্যবাদ প্রিয় আবুহেনা ভাই
হৃদযন্ত্রের যত্ন নেবেন কিন্তুমুছে ফেলুন
aihena039আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম০৮ জুন ২০১৪, ২১:০৯

আরে না মইনুল ভাই! আমার সাথে রসিকতা করবেন না তো কার সাথে করবেন? তেতাল্লিশ বছর ধরে আমি তো রং তামাশার মধ্যেই বেঁচে আছি ভাই। তা’ না হলে কবেই ফুটুস হয়ে যেতাম। তারপরেও তো একবার স্ট্রোক (২০০৬ সালে) আর একবার হার্ট এ্যাটাক (কয়েকদিন আগে) হয়ে বেঁচে গেলাম। আপনাদের সকলের আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসা আমাকে মরতে দিচ্ছে না ভাই।আমার শরীরের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, মইনুল ভাই।মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
kamaluddinকামাল উদ্দিন০৭ জুন ২০১৪, ০৮:৩৯

আপানাদের এমন বিশ্লেষনী লিখা পড়লে নিজেকে অতি ক্ষুদ্র মনে হয়, আমি আসলে কোন জ্ঞানই রাখি না।মেজদা ও মইনুল ভাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছাউত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৮ জুন ২০১৪, ২০:৪৬

ভাইজান, এভাবে বলে লজ্জা না দিলেই কি নয়?
একেক মানুষ একেক দায়িত্ব/গুণ নিয়ে পৃথিবীতে এসেছেন।
একই কথা আপনার পোস্ট নিয়েও কিন্তু বলা যায়। তখন তো আমার স্থানই হবে না অনেক ধন্যবাদ, কামাল ভাই
ভালো থাকবেন… মুছে ফেলুন
Ami123আমি..০৭ জুন ২০১৪, ১১:২১

সঞ্চালক ভাই,সালাম, আমি “আমি মেজদা” নাম নিয়ে লেখা লেখি করতে চাই। এটার সাথে আমার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। প্রথম আলো ব্লগে আমি নতুন। শুরুতেই এরকম একটি ধাক্কা খেয়ে আমি হতাশ। -আমি কালপুরুষ- যদি কালপুরুষ নামের সাথে লেখালেখি করতে পারে তবে আমি নই কেণ? এখানে সকলের স্বাধীনতা রয়েছে। প্রথম আলো মুক্ত স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আপনি আমার পূর্বের নামটি ফিরিয়ে দিন। এটা ব্লগারদের প্রতি জুলুম। আমার নাম ঠিক করে না দেয়া পর্যন্ত আমি আন্দোলন চালিয়ে যাব। ইশ্বর আমার সাথে আছেন।আমি মেজদাউত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
BABLAমোহাম্মদ জমির হায়দার বাবলা০৭ জুন ২০১৪, ১৫:৫১

প্রচলিত শব্দাবলী দিয়ে লেখেন বলে মেজদা’র গানগুলো দেখতে সাদামাটা মনে হলেও পড়তে গেলে তা কখনও হালকা মনে হয় নি। বরং মনে হয়েছে, এতে গভীরে তিনি কীভাবে গেলেন!–প্রিয় মইনুল ভাই যথার্থ লিখেছেন। আমরা বাইরে থেকে সবাই কমবেশী সুখী মানুষ। কিন্তু সে মানুষটির ভেতরে আরেকটি অতৃপ্ত মানুষ বাস করে যে কখনো তৃপ্ত হয় না। তাঁর কাছে বাইরের পৃথিবীর চেয়ে ভেতরের জগতের মর্ম অনেক বেশী । তাই তো ভাব সাগরে ডুব দিয়ে অসীমের খোজ করতে থাকেন। তারা জানেন এ অসীমের ভাব সাগরের কেন তল নেই আবার সেই অতলেরও কোন তল নেই। সে অতল দরিয়ায় ডুব সাতার দিয়েছেন আমাদের মেঝদা। মাঝে মাঝে ভাব সাগরের ছোয়া আমরা পেয়ে ধন্য হয়। মেঝদা সবচেয়ে বড়গুন তিনি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রতে ভাবের জগতের ছায়া দেখেন । যা সত্যি আমাকে বিস্মিত করে।
মইনুল ভাই অসাধারণ লিখেছেন।দুজনকেই শ্রদ্ধা জানাই।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৮ জুন ২০১৪, ২০:৪৮

//সে অতল দরিয়ায় ডুব সাঁতার দিয়েছেন আমাদের মেঝদা। মাঝে মাঝে ভাব সাগরের ছোঁয়া আমরা পেয়ে ধন্য হই। মেঝদা সবচেয়ে বড়গুন তিনি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রতে ভাবের জগতের ছায়া দেখেন। যা সত্যি আমাকে বিস্মিত করে। // আমাকেও বিস্মিত করেছে। ছাপার বইয়ে তার গানগুলো অন্য আবহ তৈরি করে।অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা, বাবলা ভাই মুছে ফেলুন
aihena039আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম০৭ জুন ২০১৪, ২১:২২

মেজদা একজন ব্যতিক্রমী গীতিকার। তাঁর লেখা গানগুলো ভালো শিল্পীরা গাইলে অবশ্যই তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত গীতিকারের মর্যাদা পেতেন।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৮ জুন ২০১৪, ২০:৪৯

//তাঁর লেখা গানগুলো ভালো শিল্পীরা গাইলে অবশ্যই তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত গীতিকারের মর্যাদা পেতেন।//-আমিও সেরকম ধারণা করি, আবুহেনা ভাই
অল্প কথায় যথার্থ মূল্যায়ন করেছেন।রসিক গল্পকারের জন্য অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা মুছে ফেলুন
jadobযাদব সূত্রধর০৮ জুন ২০১৪, ১০:৫৯

শরীর ভাল নেই। তাই ব্লগে নিয়মিত আসা হয়না। মেজদাকে নিয়ে পোস্ট দেখে আর না এসে পারলাম না।বইটা পড়া হয়নি। তবে ব্লগ ও ফেইসবুকে বেশ পড়েছি। অনেক ভাল গান লিখেন মেজদা।অসুস্থতা থাকার কারনে একটি চলচ্চিত্রের কাহিনী অর্ধেক লিখে ফেলে রেখেছি। এই চলচ্চিত্র লিখতে গিয়ে মেজদার কয়েক্টা গানের লাইন আমার চোখে ভেসে উঠলো। মনে মনে মেজদার গান নিয়ে ভাবছি। নিসচই মেজদার সাথে আলোচনা সাপেক্ষে তিনির গান আমার ফিল্মে
নেব।মেজদাকে শুভেচ্ছা।
সুন্দর লেখার জন্য মাইনুল ভাইকে ধন্যবাদ.উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৮ জুন ২০১৪, ২০:৫১

অসুস্থ অবস্থায়ও লেখা পড়ে মন্তব্য দেওয়ায় বিশেষভাবে সম্মানীত বোধ করছি, প্রিয় যাদব সুত্রধর দয়া করে সুচিকিৎকার ব্যবস্থা নিন।
আপনার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।
দোয়া করি সুস্থ হয়ে চলচ্চিত্র কাজটুকু শেষ করুন…অনেক শুভেচ্ছা মুছে ফেলুন
Rabbaniরব্বানী চৌধুরী০৮ জুন ২০১৪, ১৪:৫৬

এই পোষ্টের উর মন্তব্য করার আমার কিছু নেই বরং শুধু আবাক হয়েছি মারাত্মক ভাবে এই কারণে যে, একটি পার্থক্য বের হয়ে আসাতে। একই সময়ে সফিকুল ইসলাম কোহিনূর ভাইয়ের ‘কে বুঝিতে পারে দয়াল’ বইটি হাতে পেয়েছিলাম কিন্তু আপনার মত গভীর দৃষ্টি কোন দিয়ে দেখা হয় নি। আপনি দেখেছেন সঠিক ভাবে বিশ্লষন করতে পেরেছেন।আপনার ও মেজদার পরিশ্রম আমাদের সামনে চলার পথ দেখায়।অনেক অনেক ধন্যবাদ মইনুল ভাই।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৮ জুন ২০১৪, ২০:৫২

অনেক ধন্যবাদ, প্রিয় রব্বানী চৌধুরী ভাই আপনার মন্তব্য সবসময় আমার লেখার গভীরতাকে তুলে ধরে।
এটি আমার জন্য বিরাট উপহার।অনেক কৃতজ্ঞতা এবং শুভেচ্ছা রইলৈা…মুছে ফেলুন
lnjesminলুৎফুন নাহার জেসমিন০৮ জুন ২০১৪, ২১:১০

আরও একটি দারুণ উদ্যোগ । তার জন্য জানাই সাধুবাদ মেজদার অনেক লেখা পড়েছি । সহজ ভাষায় গভীর ভাবের লেখা । কিছু কিছু লেখা বুঝতে পেরে থমকে গিয়েছি , কিছু পড়ে আনন্দ পেয়েছি । আবার কিছু কিছু বুঝিও নি । নীরবে বের হয়ে এসেছি ।
মানুষটা এভাবেই তার সৃষ্টি বাড়াতে থাকুক । আহারে আমিও যদি একটা বই বের করতে পারতাম
বাকিগুলোর অপেক্ষায় থাকলাম ।উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৯ জুন ২০১৪, ২২:২০

সবার আগে আপনাকেই বই বের করতে হতো…
আপনার পরে যারা লিখতে শুরু করেছেন, তারা কিন্তু বই বের করেছেন।এতটা দেরি করা আপনার উচিত হয় নি আপনার ভ্রমণ পোস্টগুলো নিয়ে বেশ চমৎকার একটি বই হতে পারে।
লিখুন, আমি রিভিউ লিখে দেবো ক্ষণ শুভেচ্ছা, গিসেন আপার জন্য মুছে ফেলুন
ayesha1960আয়েশা আহমদ০৮ জুন ২০১৪, ২২:০৫

মেজদার গানের বই নিয়ে মইনুলভাইয়ের চমৎকার বিশ্লেষণধর্মী লেখা পড়ে মুগ্ধ হলাম ।
দুজনের জন্যেই রইলো শুভকামনা —উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৯ জুন ২০১৪, ২২:২১

আয়েশা আপা, আপনার মন্তব্য পেয়ে বেশ ভালো লাগলো শুভেচ্ছা জানবেন, হে সু্বচন কবি …. মুছে ফেলুন
Shimi12ফেরদৌসী বেগম (শিল্পী)০৯ জুন ২০১৪, ০৯:১৮

প্রথমেই সফিকুল ইসলাম কোহিনূর ভাই উরফে মেজদাকে এবং উনার ‘কে বুঝিতে পারে দয়াল’ এই প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থটির জন্য রইলো আমার আন্তরিক অভিনন্দন, শুভেচ্ছা আর শুভকামনা। মেজদার এই বইটি আমার সংগ্রহে থাকবে ইন শা আল্লাহ! যদিও এখনো আমার হাতে এসে পৌঁছেনি। ‘কে বুঝিতে পারে দয়াল’ গ্রন্থটির চমৎকার মূল্যায়ন করেছেন মইনুল ভাই, পড়ে সত্যিই মুগ্ধ হলাম। চমৎকার সমালোচনামূলক অপর এই বই আলোচনা পোষ্টটি শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ আর শুভেচ্ছা জানিয়ে গেলাম। আপনাদের দুইজনার জন্যই ফুলেল শুভেচ্ছা রেখে গেলাম।
উত্তর দিন | মুছে ফেলুন | ব্লক করুন
Maeenমাঈনউদ্দিন মইনুল০৯ জুন ২০১৪, ২২:২৩

ফেরদৌসী আপা, আপনার আন্তরিক মন্তব্য বিগলিত হয়ে আমি অভ্যস্ত হয়ে আছি। তাই থামাবেন না পিলিস তারপর, কবিতা কই? অনেক দিন কিন্তু আপনার কবিতা পাচ্ছি না… অনেক শুভেচ্ছা….

 

 

বাংলার সাথে ইংরেজি ভাষার সখ্যতা: একটি অনুসন্ধানভিত্তিক লেখা

Ban-Eng_Analogy

আমরা জানি বাংলা শব্দভাণ্ডারে আছে অনেক দেশের ভাষা। কিন্তু ইংরেজির ভাণ্ডারে যে অনেক বাংলা শব্দ রয়েছে, এটি দেখানোই এই লেখার উদ্দেশ্য। অবশ্য ইংরেজি প্রথমত একটি পশ্চিম-জার্মানি ভাষা, দ্বিতীয়ত এটি একটি শংকর ভাষা। কারণ জার্মান, ল্যাটিন, গ্রিক এবং ফরাসি ভাষার মিশ্রণে গড়ে ওঠেছে আজকের ইংরেজি ভাষা। তবে এটি বলাই বাহুল্য যে, বাংলা, সংস্কৃত তথা উপমহাদেশীয় শব্দ ইংরেজিতে প্রবেশের সঙ্গে ইংরেজদের এদেশে বসবাসের যোগসূত্র আছে এবং থাকবে।

.

ক) বাংলা ও সংস্কৃত থেকে বের হওয়া ইংরেজি শব্দ

নিম্নোক্ত শব্দগুলোর উদ্ভাবনের কাল এবং ইংরেজদের এদেশে প্রবেশের কাল বিবেচনা করলে দেখা যাবে যে, ব্রিটিশদের দু’শ বছরের মধ্যেই (১৭৫৭-১৯৪৭) শব্দগুলো ইংরেজিতে প্রবেশ করেছে।

Dacoit /ডাকইট//dəˈkɔɪt/ (দক্ষিণ এশিয়া) সশস্ত্র ডাকাতের দল।

বাংলা অর্থ: দস্যু, লুণ্ঠনকারী, বলপূর্বক অপসরণকারী

মূল: হিন্দি/বাংলা ‘ডাকাইত/ডাকাত’ থেকে

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৮০০-১৮১০ খ্রিষ্টাব্দ

Jungle /জাংগল//ˈdʒʌŋɡ(ə)l/ অযত্নে বেড়ে ওঠে ঘণ বনাঞ্চল

বাংলা অর্থ: বন, অরণ্য, আগাছা, ঝোপছাড়

মূল: সংস্কৃত/বাংলা ‘জঙ্গল’ থেকে

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৭৭০-১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দ

Jackal /জ্যাকল//ˈdʒakəl/  মৃত প্রাণীর মাংস খায় দীর্ঘ পা-যুক্ত এক প্রকার কুকুর, এরা একসাথে শিকার করে খায়

বাংলা অর্থ: শেয়াল, শৃগাল

মূল: সংস্কৃত ‘শৃগাল’ থেকে (তুর্কি: জ্যাকাল)

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৫৯৫-১৬০৫ খ্রিষ্টাব্দ

Loot /লুট//luːt/ শক্তি প্রয়োগ করে অন্যের জিনিস কেড়ে নেওয়া

বাংলা অর্থ: লুট করা, লুণ্ঠন করা। লুট, লুণ্ঠন।

মূল: সংস্কৃত/বাংলা ‘লুণ্ঠন’ থেকে

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৭৮০-১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দ

Jute /জুট//dʒuːt/ ঘানি, বস্তা ইত্যাদিতে ব্যবহৃত শক্ত আঁশ

বাংলা অর্থ: পাট, বাংলাদেশের সোনালি আঁশ।

মূল: বাংলা/সংস্কৃত ‘জুট/ঝুট’ থেকে (ঝুঁট/ঝুঁটি= বাঁধা চুল)

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৭৪০-১৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ

Maya /মায়া/ /ˈmɑːjə/ ইন্দ্রজাল, যাদু, কুহক। দেবতাদের (ইন্দ্রজাল সৃষ্টির) শক্তি।

বাংলা অর্থ: ইন্দ্রজাল, কাপট্য, ছলনা। যাদুকর/দেবতার ক্ষমতা

মূল: সংস্কৃত ‘মায়া’ থেকে

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৮১৫-১৮২৫ খ্রিষ্টাব্দ

Nirvana /নিরবানা//nɪəˈvɑːnə/ দেহের রূপান্তরিত অবস্থা যেখানে কষ্ট নেই, কামনা নেই আত্মচেতনাও নেই – বৌদ্ধধর্মের সর্বশেষ গন্তব্য

বাংলা অর্থ: (বৌদ্ধধর্মে)নির্বাণ

মূল: সংস্কৃত ‘নির্বাণ’ থেকে

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৮৩০-১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দ

Sandal  /স্যান্ডল/ /ˈsand(ə)l/  ১) চটি জুতা, ২) চন্দনকাঠ; ধূপের মতো ব্যবহার্য্য কাঠ।

বাংলা অর্থ: ১) চটি জুতা, ২) চন্দনকাঠ।

মূল: সংস্কৃত ‘চন্দনা’ থেকে, যার অর্থ চন্দনকাঠ। (মধ্যযুগীয় ইংরেজি, গ্রিক, ফরাসি, ল্যাটিন: স্যান্ডাল)

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৩৫০-১৪০০ খ্রিষ্টাব্দ

Shampoo /শ্যামপু/ /ʃamˈpuː/  কেশসংস্কার

বাংলা অর্থ: মাথার চুল পরিষ্কার করার তরল সাবান

মূল: সংস্কৃত ‘শেপ্যতি’ থেকে (হিন্দি: শেঁপু। তামিল: শ্যাম্পু)

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৭৫৫-১৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দ

Shawl /শোল//ʃɔːl/ মহিলাদের/শিশুদের ঘাড়ে বা মাথায় ব্যবহৃত কাপড়ের খণ্ড

বাংলা অর্থ: শাল; উল বা নরম কাপড়ের তৈরি চাদর

মূল: পার্সি/বাংলা ‘শাল’ থেকে

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৬৫৫-১৬৬৫ খ্রিষ্টাব্দ

Thug /থাগ//θʌɡ/ হিংস্র অপরাধী, খুনী, গুণ্ডা।

বাংলা অর্থ: ঠগ, খুনি, গুণ্ডা, প্রবঞ্চক, দস্যু।

মূল: বাংলা/মারাঠি ‘ঠগ/ঠগি’ থেকে (সংস্কৃত: স্থগ)

প্রমাণ: অক্সফোর্ড ডিকশনারি

উদ্ভাবনের কাল: ১৮০০-১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দ


.

খ) বাংলার মতো শুনতে কিছু ইংরেজি শব্দ

 

বাংলার মতো শুনতে কিছু ইংরেজি শব্দ দেওয়া হলো। অর্থেও বাংলা সাথে রয়েছে মিল। এদের মূল খুঁজলে হয়তো দেখা যাবে প্রাচ্য ও ইউরোপের ভাষার জন্মসূত্র এক জায়গায় গিয়ে মিশেছে। এখানে ইংরেজ শাসনের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই, কারণ এস্থলে ভাষার বন্ধন আরও অনেক নিচে, দূর অতীতে। নিচের শব্দগুলো কেবলই দৃষ্টান্ত:

.

  • Dexterity/দক্ষতা:  Dexter, ambidexterity
  • Matri/Maternal/মাতৃ/মাতা: matricide, maternal uncle, matrimony
  • Patri/Paternal/পিতৃ/পাতৃ/পিতা: patriarch, patricide, patrimony, paternal grandmother
  • Fraternity/ভ্রাতা/ভ্রাতৃ: fraternal, fraternal twins
  • Abandon/অবন্ধন/ত্যাগ: abandonment, non-abandonment
  • Abominable/বমি/ঘৃণ্য: abomination, abominably
  • Dominate/দমন/কর্তৃত্ব: dominating, domination, indomitable, domineer
  • Pedal/পদ/পা/: pedestrian, peddle, pedicure, podium, podiatrist
  • Dental/দন্ত/দাঁত: dentist, dentistry, dental surgery
  • Ignite/অগ্নি/প্রজ্জ্বলন: igneous, auto-ignition, ignition system
  • Vitiate/বিষিয়ে তোলা/নষ্ট করে ফেলা: Vitiation, vitiating factors
  • Affinity/আপনতা/সংশ্লিষ্টতা: affinity designer, affinity photo

.

বলা বাহুল্য, ব্যুৎপত্তির দিক থেকে ওপরের শব্দগুলোর সাথে বাংলা ভাষার তেমন কোন মিল নেই। শুধুই উচ্চারণগত সঙ্গতিটুকু তুলে ধরা হলো।

.

গ) বাংলা/হিন্দি/সংস্কৃত থেকে উদ্ভাবিত আরও কিছু ইংরেজি শব্দ

দীর্ঘদিন ব্রিটিশ শাসনের বদৌলতে আমরা যেমন অনেক ইংরেজি পেয়েছি, তেমনি ব্রিটিশদেরকেও অনেক বাংলা/সংস্কৃত শব্দ শিখতে হয়েছে। ওরা যা বুঝেছে, তা-ই গ্রহণ করেছে ইংরেজি হিসেবে। বাংলা/হিন্দি/সংস্কৃত থেকে অনেক শব্দ আছে যা ইংরেজিতে ব্যবহৃত হয়। এদের অধিকাংশ এমএস অফিস অভিধানে যুক্ত আছে। ইংরেজি লেখায় ব্যবহার করলে দিব্বি চালিয়ে দেওয়া যায়, বানানের ভুল (বা নিচে লাল লাইন) দেখায় না:

.

১.  dharma, dhoti, guru, karma, mahout, raja, sherbet,

mantra, pundit, raga, ganja, bhang, basmati, raj, kismet,

cheetah,  sutra, swami, yoga, nirvana, Himalaya etc.

২. Ayurveda, devi, deva, lathi, shadhu, sanga,

sambhar, bahubrihi, nilgai etc.

 

 

১নম্বর তালিকার শব্দগুলো ইংরেজি রচনায় ব্যবহার করলে ব্যাকরণ/বানানগত ভুল প্রদর্শন করে না। এমএসওয়ার্ডে লেখলে নিচে লাল লাইনও আসে না। ২নম্বর অন্যগুলোকে যেকোন ইংরেজি অভিধানে পাওয়া যাবে নিশ্চয়। তবে সরাসরি পরিস্থিতি ছাড়া সরাসরি ইংরেজি লেখায় ব্যবহার করা উচিত নয়।

.

.

ইংরেজি তত কঠিন নয়, যত কঠিন আমাদের ইংরেজি শিক্ষকেরা একে বানিয়েছেন। অবশ্য আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাও এর জন্য দায়ি; বর্তমান সময়ের কমিউনিকেটিভ ইংরেজির বিষয়টি শুরুর পূর্বে ইংরেজি শেখা ছিল প্রায় অসম্ভব। ইংরেজি শব্দের (কনটেন্টস) প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে কেবল ব্যাকরণ (স্ট্রাকচার) শেখানোর প্রতিযোগিতা এখনও আছে। অথচ ইংরেজি ভাষাটি আয়ত্ব করার জন্য খুব বেশি শব্দ জানতে হয় না। অভিজ্ঞদের মতে, মাত্র পঞ্চাশটি শব্দ দিয়ে ৪৫% কমিউনিকেশন কাভার করা যায়। একজন নেটিভ স্পিকার মাত্র সাড়ে সাতশ’ শব্দ ব্যবহার করেন। যারা ইংরেজি বিষয়টিতে আগ্রহী অথবা যারা IELTS, TOEFL, GRE, SAT, GMAT ইত্যাদি পরীক্ষার প্রার্থী, তাদেরকে বলবো, শব্দের মূল ও ব্যুৎপত্তির দিকে একটু খেয়াল দিলে একসাথে শতশত শব্দ আয়ত্ব করা যায়।

শিক্ষাজীবনে প্রাপ্ত উপাত্ত দিয়ে বর্তমান পোস্টটি তৈরি করা হয়েছে। পাঠকের আগ্রহ থাকলে এবিষয়ে আরও দু’একটি পোস্ট দিতে পারি। কারও উপকারে আসলে অথবা চিন্তার খোরাক হলে, সেটি হবে লেখকের জন্য বিরাট পাওয়া।

:::গ্রন্থ আলোচনা: কাশফুল দোল খায়/এনামুল হক মানিক

0011-crop

 

সাহিত্যসাধনা একটি বৃদ্ধিবৃত্তিক কর্ম। এরজন্য প্রয়োজন নিয়মিত জ্ঞানতপস্যা।  প্রয়োজন সার্বজনীন জ্ঞানের চর্চা এবং জ্ঞানের সকল শাখায় সুগভীর অনুসন্ধান।  জ্ঞান ও আত্মঅনুসন্ধানের এই কঠিন সাধনায় ঈশ্বরবন্দনাকে যুক্ত করতে পারা একটি কঠিন এবং প্রথাবিরোধী কর্ম। যদিও জ্ঞানের সাধনার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে রয়েছে ধর্ম এবং দর্শন, তবু অনেকে একে সেকেলে মনে করেন।  এর প্রধান কারণ হলো এই যে, ধর্মচর্চা করলে মানুষ হিসেবে আমাদের দোষত্রুটিগুলো দৃষ্টিগোচর হয়ে পড়ে।  তাই জ্ঞান ও শিল্প সাধনার মধ্যে ঈশ্বরবন্দনা প্রায় অনুপস্থিত।  এই অপ্রীতিকর কাজটি করতে সচেষ্ট হয়েছেন এনামুল হক মানিক, তার ‘কাশফুল দোল খায়’ নামক প্রথম কাব্যগ্রন্থে।  প্রথম হলেও লেখায় ও ভাবপ্রকাশের মধ্যে একজন সুদক্ষ পর্যবেক্ষককে আমি দেখতে পেলাম। ধন্যবাদ শাহআলম বাদশা ভাইকে, বইটিতে আমার মতামত দেবার সুযোগ করে দেবার জন্য।

 

কবি এনামুল হক মানিক, উল্লেখিত গ্রন্থে ঈশ্বরের অস্তিত্ব তথা ঈশ্বর-বন্দনায় সচেষ্ট হয়েছেন বেশ যুক্তিসঙ্গতভাবেই।  প্রকৃতির সৌন্দর্য্যের মধ্যে তিনি ঈশ্বরের উপস্থিতি উপলব্ধি করেছেন।  ভোরের আভার মধ্যে তিনি খুঁজেছেন তার প্রিয়নবীকে। তার ‘কাঁদতে হবে খুব’ ছড়াটিকে কবিতা বলা উচিত।  তিন পদের কবিতায় পাঠকের জন্য আত্মসংশোধনের অমূল্য চেতনার সৃষ্টি করেছেন:

এই জীবনে তুমি যতো/ পেয়েছো আঘাত

খুঁজে দেখো বেশি দায়ী/তোমার নিজের হাত  (কাঁদতে হবে খুব/৪৬)

 

‘দীর্ঘ সফর’ ছড়া-কবিতায় কবি মৃর্ত্যু এবং তৎপরবর্তী জীবনের বিষয়ে পাঠককে সতর্ক করেছেন।  একই মর্মবেদনা সৃষ্টি করেছেন তার ‘কোথায় যাবো’ শীর্ষক লেখাটিতে:

কোথায় আছি কোথায় ছিলাম/ কোথায় যাবো শেষে

হিসেবটা কি তোমার-আমার/ তৈরি করা আছে? (কোথায় যাবো/ ৩৭)

 

‘কাশফুল দোল খায়’ এবং ‘সেরাসৃষ্টি’ ছড়াদ্বয়েও কবি সৃষ্টির বন্দনা করে ঈশ্বরের অস্তিত্বে আলোকপাত করেছেন-

 

শিশিরবিন্দুরা জমে সবুজঘাসে

মিষ্টি রোদের ছোঁয়ায় নিসর্গ হাসেে/ এসবই মহান আল্লাহর দান।  (কাশফুল দোল খায়/৭)

 

সৃষ্টি করলে আসমান জমিন/ হরেক রকম ফুল

সবার সেরা সৃষ্টি তোমার/ মুহাম্মদ রাসুল।  (সেরা সৃষ্টি/ ৩২)

 

‘কাশফুল দোল খায়’ নামটি শুনলে একটি ছড়াগ্রন্থের কথা মনে আসবে; শিশুগ্রন্থের কথাও মনে পড়তে পারে।  কিন্তু কবি তার জীবনযাত্রায় প্রাপ্ত সত্য ও অভিজ্ঞতাকে ছড়ার মালায় একত্রিত করার প্রয়াস পেয়েছেন উক্ত গ্রন্থের প্রতিটি ছড়া কবিতায়।  গ্রন্থের নামের প্রতি সুবিচার করেই হোক, অথবা ফুলের প্রতি কবির ভালোবাসার কারণেই হোক, ফুলকে কেন্দ্র করে বেশকিছু ছড়া তিনি উপহার দিয়েছেন। যথা- ফুল, হরেক রকম ফুল, ভালো লাগে, কাশফুল দোল খায় প্রভৃতি।

একই গ্রন্থে মহান একুশ, বাংলা ভাষা তথা স্বদেশ নিয়েও রয়েছে কিছু চমৎকার ছড়া-কবিতা।  প্রাত্যাহিক জীবনের দূষণগুলোও কবির দৃষ্টি এড়ায়নি।  নাগরিক জীবনের দৃশ্যমান আন্তরিকতার মধ্যেও যে ফরমালিনের মতো দূষণ লুকিয়ে আছে। বিষয়টি খুব সুন্দর এবং রসময় করে উপস্থাপন করেছেন তার ‘ফরমালিন’ এবং ‘গোলকধাঁধাঁ’ কবিতায়।  ‘ফরমালিন’ ছড়া থেকে একটি উদ্ধৃতি না দিয়ে পারছি না-

 

তিলে তিলে মারার চেয়ে/ মারো এককালীন

আর দিও না ভাইরা আমার/ খাদ্যে ফরমালিন।  (ফরমালিন/২১)

 

ব্লগে এনামুলক হক মানিকের বিচরণ থাকলেও, ব্লগ পোস্ট হিসেবে তার লেখা বেশি পড়া হয়ে ওঠে নি। এই না পড়ার পেছনে প্রথমত দায়ি সময়ের স্বল্পতা, তারপর দায়ি মানুষ হিসেবে আমার ব্যক্তিগত দুর্বলতা।  লেখা ও মন্তব্যের মধ্য দিয়ে যাদের সাথে ভাবের বিনিময় বেশি, তাদের লেখায় নজর দিতে দিতেই অবসর সময়টুকু শেষ হয়ে যায়। তবে দু’একটি লেখা যে পড়ি নি, বা মন্তব্য দেই নি – তা কিন্তু নয়।  পর্যাপ্ত না পড়ার কারণে একটি উপকার হয়েছে তা হলো, পুস্তকের পাতায় এনামুল হক মানিকের লেখাগুলোকে আরও স্বতন্ত্রভাবে দেখার সুযোগ হয়েছে।  একজন সহব্লগার হিসেবে তার লেখা পড়লে হয়তো, আমার মূল্যায়ন কিছুটা পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারতো।

 

শিশু সাহিত্যিক ও গীতিকার এবং আমাদের ব্লগার-বন্ধু শাহআলম বাদশা একটি সুন্দর মূল্যায়ন করে দিয়েছেন উক্ত বইয়ের ব্যাক-কাভারে। তাতে গ্রন্থটির সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্লগার হিসেবে আমি গর্বিত যে গতানুগতিক ধারার সাথে পাল্লা দিয়ে ‘অতি সাধারণ আচ্ছাদন’ নিয়ে কিছু অসাধারণ লেখা বের হয়ে আসছে আমাদের ব্লগারকুলের পক্ষ থেকে। এটি আমাকে বিশেষভাবে গর্বিত করেছে।  এখন থেকে এনামুল হক মানিকের লেখাগুলোতে আরও গুরুত্ব দিয়ে দৃষ্টিপাত করবো, এই প্রতিশ্রুতি দিলাম।  সহব্লগারদেরকেও একই অনুরোধ জানাবো।  অনুরোধ করবো তার ‘কাশপুল দোল খায়’ গ্রন্থটি সংগ্রহ করে উপরোক্ত মূল্যায়নকে যাচাই করার জন্য-

 

কাব্যগ্রন্থ:  কাশফুল দোল খায়

গ্রন্থকার:  এনামুল হক মানিক

প্রচ্ছদ:  আফসার নিজাম

পরিবেশক:  সাহস পাবলিকেশনস

গ্রন্থ পরিচিতি:  শাহ আলম বাদশা

মূল্য:  ৭৫

২০১৪ সালের নোবেল সাহিত্য পুরস্কার: প্যাট্রিক মোদিয়ানোর পরিচয় ও মনোনয়ন

সকল জল্পনা-কল্পনাকে সাঙ্গ করে দিয়ে ২০১৪ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন ফরাসি ঔপনাসিক এবং নিভৃতচারি লেখক প্যাট্রিক মোদিয়ানো (Patrick Modiano)। নিভৃতচারি এজন্য যে, বহির্বিশ্বে তার খুব একটা পরিচিতি নেই এবং প্যারিসের গণমাধ্যম-বিমুখ এবং লাজুক স্বভাবের এই লেখক যে নোবেল পুরস্কার পাবেন, তা অনেকেই প্রিডিক্ট করতে পারে নি।নিজেও বিস্মিত হয়েছেন। ‘এটি ছিল আমার প্রত্যাশার বাইরে। আই এম টাচড’ তার প্রথম অফিশাল প্রতিক্রিয়া (ভিডিও)। নিজ দেশ ফ্রান্সে তার পরিচিতি আছে শিশু-কিশোরদের লেখক এবং চলচ্চিত্রের জন্য স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে। তিনি একজন ইতিহাস বিষয়ক ঔপন্যাসিক। ‘মিসিং পারসন’ তার বিখ্যাত উপন্যাস, যার জন্য তিনি সর্বোচ্চ ফরাসি পুরস্কার লাভ করেন। কিন্তু নোবেল পুরস্কার শুধু একটি লেখার জন্য নয়, জীবদ্দশায় প্রকাশিত সকল সাহিত্যকর্মের জন্য দেওয়া হয়। ৬৯ বছর বয়সী মোদিয়ানো হলেন সারাবিশ্বে ১১১তম লেখক এবং ফ্রান্সের জন্য ১১শ সাহিত্যিক যিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন।

…”for the art of memory with which he has evoked the most ungraspable human destinies and uncovered the life-world of the occupation”. তিনি তার কারুকার্যময় স্মৃতিগ্রন্থনা দিয়ে মানবজাতির অজ্ঞাত অদৃষ্টকে নাগালে এনেছেন আর উন্মোচন করেছেন আগ্রাসনের বিশ্বে জীবনের স্বরূপ।
.
.
.

মিসিং পারসন (১৯৭৮) এবং অন্যান্য

‘মিসিং পারসন’ একটি গোয়েন্দার জীবন কাহিনি। তিনি তার অতীতের সবকিছু ভুলে যান। Amnesia আক্রান্ত এই গোয়েন্দা স্মৃতির অনুসন্ধান করে কিছুই পেলেন না। অবশেষে নিজ পরিচয় পাবার জন্য তিনি ইতিহাসের দ্বারস্থ হন এবং সমগ্র পৃথিবী ভ্রমণ করেন।

উল্লেখযোগ্য সাহিত্য কর্মগুলো: মেমোরি লেইন, আউট অভ দ্য ডার্ক, রিং রোডস, এবং দ্য হরাইজন
.
.
.
প্যাট্রিক মোদিয়ানোর পরিচয়

মোদিয়ানো ১৯৪৫ সালের ৩০ জুলাই, অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার দু’মাস পর পশ্চিম প্যারিসের এক উপশহরে জন্মগ্রহণ করেন। প্যারিস আগ্রাসনের সময় তার ইটালিয়ান-ইহুদি পিতার সাথে বেলজিয়ান অভিনেত্রী মায়ের বিয়ে হয়।

ফ্রান্সের সর্বোচ্চ পুরস্কার পেয়েও মোদিয়ানো অত্যন্ত নিভৃত এবং আড়ম্বরহীন জীবন যাপন করেন এবং কদাচিৎ গণমাধ্যমের কাছে আসেন। তার খুব বেশি সাক্ষাৎকার খুঁজে পাওয়া যাবে না। এখন হয়তো কিছু তৈরি হতে পারে। কিন্তু প্যারিসে তার অনেক সুখ্যাতি এবং তার বইয়ের অনেক কাটতি হয়। তিনি ফ্রান্সের অতীত ও সমকালীন ঘটনার তথ্য সংগ্রাহক (Chronicler) হিসেবে বিবেচিত। তার গল্পগুলোর অধিকাংশই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন প্যারিসকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। এপর্যন্ত ৩০টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

ফরাসিরা অতীত বিলাসী এবং অতীতের গৌরবে তারা মগ্ন থাকতে পছন্দ করে। ফলে মোদিয়ানোর নোবেল পুরস্কার বিজয় ঘটনাক্রমে ফরাসি জনগণের আকাঙ্ক্ষার সাথে একাকার হয়ে গেলো।
.
.
.
.
২০১৪ নোবেল সাহিত্য পুরস্কার: কিছু প্রাসঙ্গিক তথ্য

নিউ ইয়র্ক টাইমসের ভাষ্যমতে, এবারের নোবেল সাহিত্য পুরস্কারের প্রার্থী নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি স্বচ্ছতা রক্ষা করা হয়েছে। আঠারো জন কবি, ঔপন্যাসিক এবং সাহিত্যবিশারদ নিয়ে গঠিত হয়েছে সাহিত্যের জন্য নোবেল কমিটি। এবার তারা সর্বমোট ২৭১টি মনোনয়ন অর্থাৎ আবেদন পেছেন, যার মধ্যে ২১০টি মনোনয়নকে তারা বেছে তুলেন। এই ২১০ এর মধ্যে ৩৬ জন প্রথম বারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন। এ তালিকা থেকে ৫জন প্রার্থীর যাচাই-বাছাই নিয়ে তারা এবারের গ্রীষ্মকালটি অতিক্রম করেন।

অতীত পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার মূলত গল্পকারদের হাতেই বেশি গিয়েছে। এযাবত ৭৬ গদ্য লেখক, ৩৩ কবি, ১৪ নাট্যলেখক, ৩ দার্শনিক ও প্রবন্ধকার এবং ২ জন ইতিহাসবিদ সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।

এককভাবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের আর্থিক মূল্য ১১ লাখ ডলার, যার সবটুকু মোদিয়ানা পাচ্ছেন। প্রার্থী বাছাইয়ে প্রত্যক্ষ এবং প্ররোক্ষ রাজনীতি থাকলেও (পুরস্কারের সাথে রাজনীতি ছিল, আছে এবং থাকবে!) নোবেল সাহিত্য পুরস্কারকে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক এবং দামী পুরস্কার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।  (১০ অক্টোবর ২০১৪)
.
.
.
*ছবি এএফপি’র। অন্যান্য সূত্র লিংকে দেওয়া হয়েছে।
.
.
.
.
.
.
.
—————–
২০১৪ সালের নোবেল সাহিত্য পুরস্কার নিয়ে অনুসন্ধান করে যা পেলাম, তার নির্যাসটুকু তুলে ধরা হলো। প্যাট্রিক মোদিয়ানো’র কোন লেখা হাতে পেলে তার ‘পাঠক প্রতিক্রিয়া’ জানাবার চেষ্টা করবো।

===============================================================================
শব্দনীড় ব্লগ থেকে সরাসরি স্থানান্তরিত
===============================================================================

২০১৪ সালের নোবেল সাহিত্য পুরস্কার: প্যাট্রিক মোদিয়ানো’র পরিচয় ও মনোনয়ন, 5.0 out of 5 based on 2 ratings

এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের, লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর। শব্দনীড় ব্লগ কোন লেখা ও মন্তব্যের অনুমোদন বা অননুমোদন করে না।

▽ এই পোস্টের ব্যাপারে আপনার কোন আপত্তি আছে?

২০ টি মন্তব্য (লেখকের ১০টি) | ১০ জন মন্তব্যকারী

  1. মনজুর হোসেন : ১০-১০-২০১৪ | ৮:৫১ |

    Delete

    ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য

  2. মুরুব্বী : ১০-১০-২০১৪ | ১১:১৪ |

    Delete

    প্যাট্রিক মোদিয়ানো র জন্য আমাদের অভিনন্দন। Clover

    তাঁর লিখা পড়বার অপেক্ষা নিয়ে রইলাম। অাশা করবো সময় সুযোগ হলে তাঁর লিখা আমাদের জানাবেন।

    • মাঈনউদ্দিন মইনুল : ১০-১০-২০১৪ | ২০:২০ |

      Delete

      মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ, জনাব মুরুব্বী Clover Clover

      তার লেখাগুলোর ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে আরও ২০ বছর আগেই, কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তা প্রসার পাবার জন্য এই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। এখন থেকে অপেক্ষা করবো, কতদিনে তার সৃষ্টিগুলো আমাদের নজরে আসবে।

  3. মুক্তিযোদ্ধা : ১০-১০-২০১৪ | ১২:০৩ |

    Delete

    প্যাট্রিক মোদিয়ানোর জন্য অভিনন্দন। Yes

    পোষ্টের জন্য সালাম ভাইয়া আপনাকে।

    • মাঈনউদ্দিন মইনুল : ১০-১০-২০১৪ | ২০:২২ |

      Delete

      আপনিই তো বললেন, অনেক দিন আসি না।
      আমিও দেখলাম, মন্তব্য দিলেও এবছর শব্দনীড়ে কোন পোস্ট দেওয়া হয় নি।

      মুক্তিভাইকে অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা Smile

  4. সৌমিত্র চক্রবর্তী : ১০-১০-২০১৪ | ১৫:৩৭ |

    Delete

    ফরাসি ঔপনাসিক এবং নিভৃতচারি লেখক
    প্যাট্রিক মোদিয়ানো (Patrick Modiano) কে অভিনন্দন।

    • মাঈনউদ্দিন মইনুল : ১০-১০-২০১৪ | ২০:২৩ |

      Delete

      অনেক ধন্যবাদ আপনাকে, সৌমিত্র চক্রবর্তী…..

      শুভেচ্ছা জানবেন Smile

  5. মুহাম্মদ দিলওয়ার হুসাইন : ১০-১০-২০১৪ | ১৮:৪৭ |

    Delete

    প্যাট্রিক মোদিয়ানো র জন্য আমাদের অভিনন্দন।
    ** পোস্টের জন্যে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ।

  6. সোহেল আহমেদ পরান : ১০-১০-২০১৪ | ২১:০১ |

    Delete

    প্রিয় মইনুল ভাইকে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ সুন্দর বিষয়ে আলোকপাত করার জন্য।

  7. বালুচর : ১০-১০-২০১৪ | ২২:০৯ |

    Delete

    বাংলাদেশিদের ভাগ্যে কি আর এমনটি জোটবে ?
    প্যাট্রিক মোদিয়ানোকে অভিনন্দন। আর-
    আপনাকে শুভেচ্ছা ।

    • মাঈনউদ্দিন মইনুল : ১১-১০-২০১৪ | ২২:০০ |

      Delete

      বাংলাদেশির ভাগ্যে তো জুটেছিল…… আর যে কখনও জুটবে না, তা তো বল যায় না। বালুচর ভাইকে অনেক ধন্যবাদ Smile

  8. মেজদা : ১০-১০-২০১৪ | ২২:৩৬ |

    Delete

    প্যাট্রিক মোদিয়ানোকে বাংলা সাহিত্যের একজন পাঠকের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা। ধন্যবাদ মাঈনুল ভাই। Heart Heart

  9. ছন্দ হিন্দোল : ১১-১০-২০১৪ | ৮:১৮ |

    Delete

    নোবেল বিজয়ীকে অভিনন্দন
    সেই সাথে আপনাকেও শেয়ার করবার জন্য।

  10. সাফায়েত : ১৪-১০-২০১৪ | ৩:২৭ |

    Delete

    প্যাট্রিক মোদিয়ানো কে অভিনন্দন

২০১২ সালের নোবেল সাহিত্য পুরস্কার বিজয়ী মো ইয়ানের লেখার বিষয় ও ধরণ

মো ইয়ান সাম্প্রতিক সময়ে চীনের সবচেয়ে আলোচিত লেখক যিনি ১৯৮০ সাল থেকে অব্যাহতভাবে লিখে চলেছেন তার অগণিত ভক্ত-পাঠকের জন্য। একজন জনপ্রিয় লেখক, আমাদের হুমায়ূন আহমেদের মতো, যিনি ইতিহাস ও সমসাময়িকতাকে ধারণ করেছেন দক্ষ হাতে। সমসাময়িক লেখকদের তুলনায়, তার লেখাগুলো সবচেয়ে বেশি অনূদিত হয়েছে ইংরেজি ভাষায়। রেড সরগাম তার প্রধান কীর্তি, যা নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করে জাং ইমু বিখ্যাত হয়ে যান এবং অর্জন করেন ‘গোল্ডেন বেয়ারসহ’ অসংখ্য এওয়ার্ড। মো ইয়ান একজন প্রলিফিক রাইটার, মাত্র ৪২ দিনে তিনি লিখে ফেলেন ‘লাইফ এন্ড ডেথ আর ওয়্যারিং মি আউট’ উপন্যাসটি। ‘দ্য গারলিক ব্যালাডস’ কৃষকদের প্রতি সরকারের অন্যায় আচরণের ওপর একটি বাস্তব ঘটনা-ভিত্তিক উপন্যাস।
.
জন্ম ও জীবিকা
মাও জেদং-এর সময়ে শানদং প্রদেশের একটি কৃষক পরিবারে নোবেল সাহিত্য পুরস্কার বিজয়ী মো ইয়ানের জন্ম, ১৯৫৫। চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় পর্যন্ত মো ইয়ান লেখাপড়া চালিয়ে যান। ছেড়ে দেন মাত্র ১২ বছর বয়সে। পরিবারের সাথে কৃষিকাজে যোগ দেন। তারপর পেট্রোলিয়াম কারখানায় কাজ। একসময় যোগ দেন চীনা পিপলস লিবারেশন আর্মিতে, ১৯৭৬। সাহিত্য বিষয়ের শিক্ষক এবং বর্তমানে চীনা লেখক সমিতির উপ-সভাপতি।
.
সেনাবাহিনীতে থাকা অবস্থায় লেখক মো ইয়ানের জন্ম, ১৯৮১। ওই সময়েই তার লেখক সত্ত্বার আবির্ভাব। লেখতেন ছোট গল্প আর উপন্যাস। জাপানী আগ্রাসনের ফলশ্রুতিতে, তার প্রথম জীবনের লেখাগুলো ইতিহাস-ভিত্তিক এবং অনেকটাই সরল উপস্থাপনা। আসল নাম গুয়ান মোয়ে হলেও ‘মো ইয়ান’ ছদ্মনাম গ্রহণ করেন, যার অর্থ ‘কথা বলো না’।
.
একেই তো সৈনিক, তারমধ্যে কমিউনিস্ট সরকারের কর্তৃত্ব, তাহলে কথা বলার সুযোগ কই? সে বিবেচনায় মো ইয়ান বা `কথা-বলো-না‘ নামটি কিন্তু বেশ জুতসই একটি ছদ্মাবরণ। তবে চাইনিজ লেখকদের বায়োগ্রাফি দেখলে বুঝা যায়, সরকারী কর্মকতা থেকে লেখক হবার ব্যপারটি একটি মামুলি বিষয়।১৯৮৪ সালে মো ইয়ান চীনা সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত সাহিত্য একাডেমিতে শিক্ষকের পদ লাভ করেন এবং একই বছরে প্রকাশ করেন তার প্রথম উপন্যাস ‘আ ট্রান্সপারেন্ট রাডিশ’। ১৯৯১ সালে সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯৮ সাল থেকেই তিনি বিভিন্ন পুরস্কারে সজ্জিত হয়ে আসছেন, যদিও অধিকাংশই পূর্ব এশিয়ান। অবশেষে ২০১২ সালে লাভ করেন সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার।
.
“মো ইয়ানের সাহিত্যে দৃষ্টিবিভ্রমকারী বাস্ততবতাকে লোককাহিনী, ইতিহাস এবং সমসাময়িকতার সাথে যুক্ত করা হয়েছে।” নোবেল কমিটির ঘোষণায়, এই ছিলো মো ইয়ানকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়নের আনুষ্ঠানিক যুক্তি। হ্যালুসিনেটরি রিয়েলিজম নিয়ে নিজেই একটু হ্যালুসিনেশনে পড়ে গিয়েছিলাম, এটা আবার কী! শেষের দিকে একটু আলোচনা করার চেষ্টা করেছি।

.

মো ইয়ান কি নোবেল পুরস্কারের উপযুক্ত ছিলেন? এবিষয়ে বিবিসি’র ভাষ্য এরকম: তিনি নোবেল পুরস্কারের উপযুক্ত ছিলেন। মো ইয়ান দশকের পর দশক ধরে লিখে যাচ্ছেন। তার আছে অগণিত পাঠক-ভিত। তিনি মানবতাকে এমনভাবে তুলে ধরেছেন তার লেখায়, যা নোবেল নির্বাচনী পরিষদের পছন্দ হয়েছে।


কী নিয়ে লেখেনশানদং-এ মো ইয়ায়ের বাল্যস্মৃতি, নিজের একান্ত দেখা জীবন ও প্রকৃতি নিয়ে মো ইয়ান লিখেছেন। জাপানের আগ্রাসনে ক্ষতবিক্ষত সমাজের চিত্র তুলে ধরেন তার Hallucinatory Realism বা ‘দৃষ্টিবিভ্রমকারী বাস্ততা’ সমৃদ্ধ লেখাগুলোতে। কমিউনিস্ট মতবাদের প্রতি অনুগত হয়েও মো ইয়ান ব্যঙ্গাত্মকভাবে সমালোচনা করেছেন চীনের এক-সন্তান নীতির। মূলত তিনি একজন স্যাটায়ার (বিদ্রুপ সাহিত্য) লেখক। তার ‘ফ্লাইস’ গল্পে সৈনিক জীবনের এক বিদ্রুপাত্মক চিত্র ফুটে ওঠে। অন্য দিকে তার লেখায় আছে লৌমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর জীবনের বর্ণনা, যা বাস্তবও বলা যায় না আবার অসম্ভবও বলা যায় না।নিজের সমাজকে সরল বর্ণনায় লেখতে শুরু করেন আর এর মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেন অতিপ্রাকৃতিক আর যাদুমন্ত্রের সংমিশ্রণ। এভাবে কৌশলে সরকারি নীতি, আগ্রাসন ও সমসমায়িকতাকে ব্যঙ্গ করেছেন। ‘রেড সরগাম’-এর একটি উদ্ধৃতি আমাদের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসকে আলোকিত করে দেয়: “গ্রামের ডাকাতটিও মহান বীরে পরিণত হতে পারে।”
কী দ্বারা প্রভাবিত/ লেখার অনুপ্রেরণা

.

সাহিত্য-সমঝদারেরা মো ইয়ানকে ‘সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে অভিনব ও সৃজনশীল ঔপন্যাসিক’ হিসেবে মর্যাদা দিয়েছেন। তিনি অতীত-বর্তমান, মৃত-জীবিত এবং ভালো-মন্দ নিয়ে বিচরণ করেছেন তার লেখায়। সৃষ্টি করেছেন হ্যালুসিনেটরি রিয়েলিজম বা দৃষ্টিবিভ্রমকারী বাস্তবতা এবং তার লেখার এ অভিনবত্ব দিয়ে মুগ্ধ করেছেন নোবেল কমিটিকে। কী ছিলো তার অনুপ্রেরণা?

.

রেড সরগাম-এর পটভূমি নিয়ে তার একটি কথা অনেক লেখকের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তা হলো, “আমি অনেক গল্প শুনেছি আমার এলাকায় যা মুখে মুখে প্রজন্ম প্রজন্ম পর্যন্ত টিকে থাকতো।” এই একজন যাদুকরী কাহিনীকার, যার লেখা প্রকাশ হওয়া মাত্রই পাঠকের হাতে চলে যেতো, কোথায় পেতেন তার বিষয়?

.

পাশ্চাত্যদের একটি ধারণা ঠিকই। এশিয়ার সমগ্র সাহিত্য জুড়ে আছে ইতিহাস, ক্ষমতাগ্রহণ, আগ্রাসন আর ক্ষমতাহীনেরা। এ অঞ্চলের সাহিত্যে রাজনৈতিক প্রভাব অনিবার্য। যেমনটি ঘটেছে মো ইয়ানের সাহিত্যজুড়ে: চীনে জাপানের অন্যায্য অভিভাবকত্ব না থাকলে রেড সরগামের পটভূমি কোথা থেকে আসতো? লেখকদের রাজনীতিক কর্মী হতে বাধা নেই, কিন্তু প্রথমত লেখক হতে হবে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথাও স্মরণ করিয়ে দেন।

.

মো ইয়ান বিশ্বসাহিত্যের একজন নিয়মিত পাঠক। ভিনদেশী সাহিত্য দ্বারা তিনি দারুনভাবে প্রভাবিত, বিশেষত পশ্চিমা সাহিত্যের ইংরেজি অনুবাদ। তিনি লু সানের সামাজিক বাস্তবতাবাদ এবং গাব্রিয়েল গারসিয়া মার্কেজের যাদুকরী বাস্তবতাবাদ দ্বারা প্রবলভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন, যা তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন।

.

.

হ্যালুসিনেটরি রিয়েলিজম/ দৃষ্টিবিভ্রমকারী বাস্তবতা জিনিসটা কী?

হ্যালুসিনেটরি রিয়েলিজম বা দৃষ্টিবিভ্রমকারী বাস্তবতা সম্পর্কে কিছু আলোচনা করে শেষ করছি লেখাটি। প্রাকৃতিক বর্ণনায় প্রাণবন্ত হলে দৃষ্টিবিভ্রমকারী বাস্তবতাই আমাদেরকে বেশি আকর্ষণ করে।

১) The Oxford Companion to Twentieth Century Art (1981)-এর সংজ্ঞা অনুসারে দৃষ্টিবিভ্রমকারী বাস্তবতা হলো:
“a careful and precise delineation of detail, yet a realism which does not depict an external reality since the subjects realistically depicted belong to the realm of dream or fantasy”

‘দৃষ্টিবিভ্রমকারী বাস্তবতা’ হলো বিস্তারিত বিষয়ের সুনির্দিষ্ট এবং সূক্ষ্ম বর্ণনা; এটি এমন এক বাস্তবতা যা বাইরের কোন বিষয়কে বর্ণনা না করে স্বপ্ন বা কল্পনাপ্রসূত বিষয়কে বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরে।

২) Burkhardt Lindner এর মতে দৃষ্টিবিভ্রমকারী বাস্তবতা হলো:
“the attempt to make the bygone present with a documentary factuality and at an Aesthetic enhancement of the reality”

বাস্তবতার নান্দনিক বিস্তৃতির মাধ্যমে কোন অতিক্রান্ত বর্তমানকে দালিলিক বাস্তবতা দিয়ে উপস্তাপনা করার প্রচেষ্টাকে ‘হ্যালুসিনেটরি রিয়েলিজম’ বলে।


কাল্পনিক ও বিমূর্ত বিষয়কে বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য প্রয়োগ করা হয় হ্যালুসিনেটরি রিয়েলিজমের। জঁ টমি, কেবিন বেইকার এবং পিটার ক্যারি প্রমুখ লেখক হ্যালুসিনেটরি রিয়েলিজমের প্রয়োগ করেছেন, কিন্তু তাদের লেখা বিভিন্ন কারণে একই মাপকাঠিতে বিবেচনা করা যায় না। অতএব এখন মো ইয়ানের নামই হ্যালুসিনেটরি রিয়েলিজমের সাথে একাকার ও সমার্থক হয়ে গেলো, অনেকটা অফিশিয়ালভাবেই!
.
.
.
.
.
.
.
**তথ্যসূত্র: 
ক) জেফরি কিংক্লি’র ওয়ার্ল্ড লিটারেচার ইন রিভিউ, খ) বিবিসি ও উইকিপিডিয়া, গ) চীনা ও বাংলা পত্রিকা এবং ঘ) ব্যক্তিগত অনুসন্ধান।
.
.
১৭ নভেম্বর ২০১২

প্রথম আলো ব্লগের ‘প্রিয়চিঠি আয়োজনে’ চিঠি নির্বাচন: মাটির ময়না’র চিঠি

[[ প্রিয় চিঠি আয়োজন নিয়ে প্রকাশিত মোট চারটি লেখায় ‘সাহিত্য আয়োজন’ সম্পর্কে আমার অভিমত, অভিজ্ঞতা এবং পরামর্শ নির্দ্বিধায় প্রকাশ করেছি। সহব্লগারদের যেকোন লেখায় যেমন দ্বিধাহীন মতামত দেই, এক্ষেত্রেও আমার স্বভাবের ব্যতিক্রম করি নি। এবার নির্বাচকের ভূমিকায় থেকে নিজের দ্বিধার সাথে একটু বেশিই যুদ্ধ করেছি এবং ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা থেকে ‘আয়োজক-আয়োজিত’ সকলের সম্পর্কেই মন্তব্য করেছি। কেউ পড়েছেন, কেউ আবার মন্তব্য দিয়ে উৎসাহিতও করেছেন। সকলকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা!  ]]

শুরুতেই প্রিয়চিঠি আয়োজনে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে যুক্ত সকল সম্মানীত সহব্লগারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। সম্মানীত উপদেষ্টা মণ্ডলি এবং নির্বাচক মণ্ডলিকে জানাচ্ছি আন্তরিক অভিনন্দন। চিঠিলেখা আয়োজনে কী বিশাল অভিজ্ঞতা ও ধারণা অর্জনের সুযোগ হয়েছে, তাতে ব্লগে কতটুকু কর্মচঞ্চলতার সৃষ্টি হয়েছে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আগেই বিস্তারিত বলেছি। আয়োজকের একনিষ্ঠতা এবং নির্বাচকের সমস্যা নিয়েও আলোকপাত করেছি‘প্রাক নির্বাচনী’ লেখাগুলোতে। প্রিয় চিঠি নির্বাচনের কাজটি কেন জটিল এবং ভবিষ্যতে এসব জটিলতাকে মোকাবেলা কীভাবে একটি সফল আয়োজন করা যায়, এসব নিয়ে বিগত ৩টি পোস্টেআমার ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরেছি। অতএব এসব নিয়ে আর কিছু বলছি না।
.
.
.
১) প্রিয় চিঠি নির্বাচনে বিবেচ্য বিষয়গুলো
পরিস্থিতির সার্বিক মূল্যায়ন করে, প্রিয়চিঠি নির্বাচনে বেশকিছু বিষয়কে মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহার করেছি। তাদের মধ্যে ৩টি বিষয় সম্মানীয় সহব্লগারদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরছি:
.
 চিঠির পটভূমি
 চিঠির বক্তব্যে সমাজ-সংশ্লিষ্টতা
 পাঠকের মনে আবেদন সৃষ্টি করার ক্ষমতা
.
চিঠি নির্বাচনে কোন শর্ত যুক্ত না থাকার সুবাদে, ইচ্ছাকৃতভাবেই ‘ভাষা শব্দচয়ন এবং বানানের’ বিষয়টিকে আমি চিঠি নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হিসেবে নেই নি। আমার অভিজ্ঞতায়, চিঠির স্বাভাবিক কোন পাঠক ভাষা ও শব্দচয়ন দিয়ে চিঠির পরিমাপ করেন না। বরং তারা এক নিঃশ্বাসে ‘ইতি’ পর্যন্ত গিয়ে চিঠির বক্তব্য হৃদয়ঙ্গম করতে সচেষ্ট হয়। ইউনিকোডে লেখতে গিয়ে অনিচ্ছায় অনেক বানানের ভুল হয়েই যায়। তারপরও বিষয়টিকে মন থেকে পুরোপুরি মুছে দিই নি। চেতনে অবচেতনে বানান ও ভাষার ভুলও পর্যবেক্ষণ করেছি।শব্দচয়ন অনেক উচ্চতর ভুল বিবেচনা করে এসব আমি আমলেই নিই নি।
.
.
অন্তত ২০টি চিঠি আমি প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করেছি। এগুলো হলো: কুদরতির প্রতি কাজী আনোয়ার হোসেনের চিঠি, মেজদা’র প্রতি গোলাম মোস্তফার চিঠি, আকাশের প্রতি কথামানবীর ১ম এবং ২য় চিঠি, প্রিয়তমেষূকে আলভিনা চৌধুরীর চিঠি, জননীর প্রতি সেলিনা হোসেনের চিঠি, শ্বশুরের প্রতি ফেরদৌসার চিঠি, তৌফিক মাসুদ কর্তৃক স্বপ্নদূতের চিঠি, স্বাধীনতা নিয়ে মোসাদ্দেকের চিঠি, বাঙলা ভাষাকে নিয়ে পলাশ বসুর চিঠি, রিয়াদ অরণ্য কর্তৃক উপস্থাপিত ‘নানাজানের চিঠি’, সাইদুল ইসলাম কর্তৃক শান্তিরক্ষী’র চিঠি, বান্ধবীর প্রতি জান্নাতীর চিঠি, নাসরিন চৌধুরী লিখিত রাজকন্যার চিঠি, বাবার প্রতি দীপ্ত দিপাঞ্জনের চিঠি, অনিন্দিতার প্রতি ‘আমি কালপুরুষের’ চিঠি, অসংজ্ঞায়িত মেহেদীকর্তৃক মা’কে লেখা চিঠি (২য়), শেমভিল হোসেন কর্তৃক ঘরজামাইয়ের চিঠি, নুসরাত জাহান আজমী কর্তৃক পিতা এবং অতীত বিষয়ক চিঠি এবং সব শেষে মৃত স্ত্রীর প্রতি মাটির ময়নার চিঠি।
.
.
ব্লগার মাটির ময়না’র চিঠির স্ন্যাপশট

[ব্লগার মাটির ময়না’র চিঠির স্ন্যাপশট]

 

২) প্রিয়চিঠি নির্বাচন এবং নির্বাচিত হবার ভিত্তিঅনেক দ্বিধাদ্বন্দ্বের মুখোমুখি হয়ে প্রথমে ১৬৫ থেকে ২০, তারপর ৩টি চিঠিতে আমি প্রাথমিকভাবে দৃষ্টি নিবদ্ধ করি। ওপরে উল্লেখিত শেষ ৩টি চিঠিকে আলাদা করে আয়োজকের কাছে প্রেরণ করি। তিনটি চিঠিকে নির্বাচন করলেও আমি অগ্রাধিকার নম্বর উল্লেখ করেছিলাম। অন্যান্য নির্বাচককে সুযোগ দেবার জন্যই ওই ব্যবস্থাটি রেখেছিলাম। অবশেষে মাটিরময়না’র ‘লাল রঙে রাঙাইয়া দিমু তোমার সিঁথি’ শীর্ষক চিঠিটি আমি চূড়ান্ত বলে নির্বাচন করার সুযোগ পাই। অধিকাংশ চিঠিতেই লিখিতভাবে আমার তাৎক্ষণিক মন্তব্য দিয়েছি। তাই শুধু চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত চিঠি সম্পর্কে আলোচনা করছি, এবং উল্লেখিত শর্তাবলীর আলোকে আমার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন তুলে ধরছি:

স্ত্রীর প্রতি স্বামী চিঠি। এটি স্বাভাবিক কোন প্রেমের চিঠি নয়। মৃত স্ত্রীর কাছে একজন অসহায় নিগৃহীত স্বামীর চিঠি। দেশ সমাজ সংসার এবং শেষে পুত্রের কাছে নিগৃহীত এক পিতার হাহাকার। চিঠিতে ফুটে ওঠেছে আমাদের সূর্যসন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের বর্তমান জীবন চিত্র। চিত্রিত হয়েছে একটি অকৃতজ্ঞ সমাজের ধ্বংসের ছবি। শুধু চিঠি বললে ভুল হবে, অল্প কথায় একটি সমাজচিত্র।

 

 চিঠির পটভূমি
“আমি যখন যুদ্ধ থাইকা আইলাম ফিইরা, তোমারে সিদুর দিতে গেছলাম যখন তুমি তো আমারে সিদুর লাগাইতে দিলা না। দিব্যি দিলা তোমার বইনের ইজ্জত লইয়া যেই রাজাকারের বাইচ্চারা খেলছে তাগো ভগবার বিচার না করা পর্যন্ত তুমি সিদুর দিবা না। রতনের মা, তুমি চাইয়া দেখো চাইরদিকে, দেশের বাতাসে এহন বিচারের গর্জন, তাগো বিচার করতাছে ভগবান। ভগবান কারো মাপ দেই নাই রতনের মা। তুমি আমার লাইগা অপেক্ষা করো রতনের মা, আমি আইতাছি লাল রঙ্গে রাঙ্গায় দিমু আমি তোমার সিথিঁ।”

চিঠিতে বহুমুখী পটভূমি রচনা করা হয়েছে বহুমুখী উদ্দেশ্যে। এখানে আছে মুক্তিযুদ্ধ, সাম্প্রদায়িকভাবে ছোট একটি গোষ্ঠির মুক্তযুদ্ধে অংশগ্রহণের সাক্ষ্য আর আছে সন্তানের কাছে পিতার প্রবঞ্চনার চিরচেনা চিত্র। আমি লক্ষ্য করেছি মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি এবং একজন মুক্তিযোদ্ধার জীবন যুদ্ধের বিষয়টি। যদিও যোদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে বিভিন্ন পক্ষে, তবু বিচারের আবশ্যকতা তুলে ধরা হয়েছে চিঠিটিতে।

 

 চিঠির বক্তব্যে সমাজ সংশ্লিষ্টতা
“তুমি শুনলে অনেক খুশি হইবা, তোমার রতন এখন অনেক বড় হইছে। অনেক বড় সাহেবের চাকরী করে সে। মেলা টাকা রোজগার করে। অনেক কথা কইতেও শিখছে আমাগো রতন। আমারে সেদিন কইলো, তার এই ছোড ঘরের মধ্যে আমি থাকলে তার পরিবারের কষ্ট হইয়া যায়। জায়গা নাকি অনেক কম ঘরে। ও, রতনের মা, এতো বড় একটা ঘরের মইধ্যে আমি সারে পাচঁ ফুটের একটা মানুষ কতো আর জায়গা খাই?”

আমাদের সমাজ অনেক এগিয়ে গেছে….প্রবৃদ্ধির হার বেড়েছে…..মাথাপিছু আয় বেড়েছে…..কর্মসংস্থান বেড়েছে। সে সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সমাজের অবক্ষয়। পশ্চিমা ‘এবং প্রতিবেশী প্রাচ্যের’ আগ্রাসনে বেড়েছে সাংস্কৃতিক চরিত্রহীনতা। মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি তো দূরের কথা পিতার স্বীকৃতিই মিলছে না আজ। আমরা হয়তো নিকৃষ্ট দৃষ্টান্তগুলো হয় দেখি না, না হয় মনে রাখি না – অথবা দু’একটা উত্তম দৃষ্টান্ত দেখে আত্মতৃপ্তিতে থাকি। কিন্তু যারা এসব প্রবঞ্চনার শিকার, তাদের কাছে উত্তম বলে পৃথিবীতে কিছু নেই। যেমন নেই, রিক্সাওয়ালা মল্লিক মিয়ার কাছে, যিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে দেশের জন্য জীবন বাজি রেখেছিলেন।

 

 পাঠকের মনে আবেদন সৃষ্টি করার ক্ষমতা
“দুই যুগ হয় আমি তোমার হাতের পায়েস খাইনা। তোমার সেই ঘন্টার পর ঘন্টা সময় দিয়ে পায়েস আর কেউ বানায় না গো । সেই কষ্ট, সেই মায়া, সেই ভালোবাসা আর কোন পায়েসে আমি পাইনা। ভগবানের কাছে মাঝে মাঝে কই তোমারে কি একটা দিনের জন্য ছুটি দেয়া যায়না?…… তোমার চুলে দেয়া সেই বাসনা তেলের বোতলটা এখনো রাইখা দিছি ……আইচ্ছা রতনের মা, ঐ পারে গেলে কি মানুষের চুল পাকে? তোমারও কি চুল্পাইকা গেছে? নাকি এহনো , যেমন আছলা তেমন আছো? ……. আমি সেই আগের মতো জোয়ান নাই গো রতনের মা। তবুও কি পারবা আমারে চিনতে?”

মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির ‘অবসেশন’ – বাঙালির অস্তিত্ব। মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে লিখিত চিঠিতে রয়েছে আমাদের সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্র। ফলে চিঠির বিষয় ইতিমধ্যেই পাঠকের মন কেড়েছে। চিঠিতে আবেগ ছিলো কানায় কানায় পূর্ণ, যা প্রথম থেকেই পাঠকের নজর আটকে দেয়। এ আবেগ যথার্থ পরিমিত এবং প্রাসঙ্গিক। চিঠি পড়লে কখনও মনে হবে না এটি ‘সুকুদা’ ছাড়া অন্য কেউ লেখেছে। প্রতিটি অনুচ্ছেদ যেন একেকটি প্লট।

 

৩) মাটির ময়নার চিঠিতে ‘পাখির চোখে দৃষ্ট’ বিষয়গুলো

*বিষয়: মৃত স্ত্রীর কাছে স্বামীর চিঠি
*পটভূমি: মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তি সামাজিক জীবন
*লেখকের ভঙ্গি: স্ত্রীর প্রতি সমাজ, সন্তান ও জীবন নিয়ে অনুযোগ
*মূল বক্তব্য: একজন স্বাধীনকর্মীর পরাধীন জীবনে মৃত্যুর অপেক্ষা আর মৃত স্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের অপেক্ষা।
*ভাষা: চলিত এবং আঞ্চলিক ভাষার ‘আরামদায়ক’ মিশ্রণ
*লেখার আকার: ৬৮২ শব্দ, ৬ অনুচ্ছেদ, ১.৫ পৃষ্ঠা।
*ঘটনা পরিক্রমা: “রতনের মা, তোমারে ছাড়া আমি হাপাই গেছি।আর কতো পথ চলুম একলা একলা?” সঙ্গীহারা ‘সুকুদা’র অনুযোগ দিয়ে শুরু চিঠি শুরু হলেও লেখক দক্ষতার সাথে গেয়ে গেছেন সমাজ পরিবর্তন আর অবক্ষয়ের গান। স্বাধীনতা পরবর্তি পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের শিকার হয়েছেন স্বাধীনতা-কর্মী ‘সুকুদা’।

নিজ পুত্রের কাছে প্রবঞ্চনার শিকারও হয়েছেন। প্রিয়তমা স্ত্রীকে ঠিক আগের মতোই দেখতে চান সুকুদা, যেমন দেখেছিলেন ২৬ বছর আগে। সৎভাবে চাকরি করতে না পেরে চাকুরি ছেড়ে দেন। এক ফাঁকে বলে যান, মুক্তিযোদ্ধা মল্লিক মিয়ার কথা, যে এখন রিক্সাওয়ালা। স্বজনহীন সুকুদা এখন মৃত্যুর দিন গুণে সময় অতিক্রম করছেন, যেমন অনেক মুক্তিযোদ্ধা করছেন আমাদের সময়ে।

 

৪) অন্যান্য পাঠকের অভিমত

সম্মানীত সহব্লগার মাটিরময়নার চিঠিটিতে কয়েকজন সহব্লগারের মন্তব্যকে আমি উল্লেখিত শর্তাবলীর সাথে প্রাসঙ্গিক মনে করছি:

রব্বানী চৌধুরী: এ চিঠি যেন সমাজের দর্পন। মন ছুঁয়ে যাওয়া চিঠি। আবেগের ছোঁয়ায় লেখা এ চিঠি খুব ভালো লাগলো।
মেঘনীল: ছুয়ে গেলো। শুরুটা যেমন করলা শেষটা ও দারুন। একটানা পড়ার পড়ে একটা হাহাকারবোধ জন্ম নিলো।
নুসরাত জাহান আজমি: আমাদের সমাজের বেশকটি সমস্যাই তুলে ধরা হয়েছে চিঠিটাতে। গত হওয়া স্ত্রীর কাছে স্বামীর দুই যুগ পর লেখা চিঠিটাতে আবেগ ছিল অনেক বেশি।
ফেরদৌসী বেগম শিল্পী: দুঃখ-কষ্ট, প্রেম-ভালোবাসা আর দেশপ্রেম সব মিলিয়ে বেশ সুন্দর চিঠি লিখেছেন মাটিরময়না ভাই। ভীষণ ভালো লাগলো।
ঘাস ফুল: মৃত স্ত্রীর কাছে লেখা চিঠিটার মধ্যে কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। রতনের মধ্যে দিয়ে ফুটে উঠেছে বাবা মার প্রতি সন্তানদের অবজ্ঞার কথা, আবার কিছু দুর্নীতির কথা। রতনের বাবা চাকুরি হারায়/সময়ের আগেই অবসর নিতে বাধ্য হয় দুর্নীতিকে মেনে নিতে পারে নাই বলে। মুক্তির জন্য যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা হল, কিন্তু এখনো কি আমাদের মুক্তি মিলেছে, সেই প্রশ্নটাও ওঠে এসেছে চিঠির মধ্যে। মুক্তিযোদ্ধাদের করুন চিত্রও চিঠিতে ছোট্ট আকারে তুলে ধরেছ। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সংখ্যা লঘুদের অংশগ্রহণের ব্যাপারটি ওঠে এসেছে।

 

৫) যা বলা যায় এবং যাদেরকে বলা যায় – তার সবই তাদেরকে বললাম!

প্রিয় চিঠি আয়োজন নিয়ে প্রকাশিত মোট চারটি লেখায় ‘সাহিত্য আয়োজন’ সম্পর্কে আমার অভিমত, অভিজ্ঞতা এবং পরামর্শ নির্দ্বিধায় প্রকাশ করেছি। সহব্লগারদের যেকোন লেখায় যেমন দ্বিধাহীন মতামত দেই, এক্ষেত্রেও আমার স্বভাবের ব্যতিক্রম করি নি। এবার নির্বাচকের ভূমিকায় থেকে নিজের দ্বিধার সাথে একটু বেশিই যুদ্ধ করেছি এবং ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা থেকে ‘আয়োজক-আয়োজিত’ সকলের সম্পর্কেই মন্তব্য করেছি। কেউ পড়েছেন, কেউ আবার মন্তব্য দিয়ে উৎসাহিতও করেছেন। সকলকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা!

 প্রিয় চিঠি: ‘লাল রঙে রাঙাইয়া দিমু তোমার সিঁথি

 

———————————————————-
প্রিয়চিঠি আয়োজন উপলক্ষে পূর্বতন লেখাগুলো:
প্রাক-নির্বাচনী বক্তব্য ১: প্রাপ্তির কথা
প্রাক-নির্বাচনী বক্তব্য ২: নির্বাচক হিসেবে চ্যালেন্জগুলো
প্রাক-নির্বাচনী বক্তব্য ৩: ভবিষ্যৎ আয়োজনের জন্য কিছু পরামর্শ

হুইটম্যানের ‘প্রাণী’

stallion

ভাবি আমি, ফিরে গিয়ে হয়ে যাই প্রাণী,
বাস করি প্রাণীদের সাথে,
তারা কত শান্ত আর আত্মতৃপ্ত,
আমি থেমে গিয়ে প্রাণীদের দিকে তাকিয়ে থাকি দীর্ঘসময়।
.
তারা তো ক্লান্ত হয় না
নিজেদের অবস্থা নিয়ে করে না কোন অভিযোগ,
.
তারা তো রাতের আঁধারে জেগে থেকে
নিজেদের পাপ নিয়ে করে না ক্রন্দন,
.
তার তো ঈশ্বরের প্রতি কর্তব্য নিয়ে
কথা বলতে বলতে অন্যকে অসুস্থ করে না,

তাদের মধ্যে কেউ তো নেই অসন্তুষ্ট
কেউ তো নেই পাওয়ার লোভে মত্ত,
তারা তো একে অন্যের সামনে হাঁটু গেরে বসে না
অথবা স্মরণ করে না সহস্র বছর পূর্বের কোন স্বজাতিকে,
তারা তো সমগ্র পৃথিবীতে সম্মানীত নয়, অসন্তুষ্টও নয়।
.
এভাবে তারা আমার সাথে তাদের অভিন্ন সম্পর্ককে প্রকাশ করে
আর আমি তা করি গ্রহণ,
তারা আমার চিহ্নগুলো বহন করে,
সরলভাবে নিজের বলে প্রমাণ করে।
.
আমি ভাবি, কোথায় পেলো তারা আমার চিহ্নগুলো,
তাদের রাস্তায় কি আমি বহুকাল পূর্বে হেঁটেছিলাম,
আর অবহেলায় রেখে এসেছিলাম আমার চিহ্নগুলো?
.
চিরকালের জন্য অতঃপর আমি
এগিয়ে এসেছিলাম সামনে,
সঞ্চিত করেছিলাম আরও, এবং
গতিময়তার সাথে প্রকাশ করেছিলাম আরও,
বন্ধনহীন আর অভাবহীন আমি, এবং
এই প্রাণীদের সাদৃশ্য নিয়ে।
.
নিজের স্মৃতির স্পর্শ থেকে খুব দূরে না গিয়ে,
এখানে যা ভালবেসেছি তাকে মেনে নিয়ে,
এখন আমি ভ্রাতৃবন্ধনে তার সাথে এগিয়ে যাই।
.
একটি ত্যাজী ঘোড়ার বৃহৎ সৌন্দর্য্য, আমার আদরে
সতেজ হয়ে সচকিয়ে ওঠে,
মাথা তার কপালের দিকে উঁচু
আর দু’কানের মাঝে প্রশস্থ,
অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো চকচকে আর কোমল
লেজ তার ভূমিতে ধূরি ঝাড়ে,
চোখগুলো দুষ্টুতায় ঝলঝল করে,
কানগুলো সুন্দর আকারের, উন্মুক্তভাবে নড়াচড়া করে।
.
আমার দু’পায়ের গোড়ালির আলিঙ্গনে
প্রসারিত হয়ে ওঠে তার নাসারন্ধ্রগুলো,
তার সুগঠিত প্রত্যঙ্গগুলো কেঁপে ওঠে
যেই দৌড়াতে শুরু করি।
.
কিন্তু এক মুহূর্ত দৌড়াতেই আমি ছেড়ে দেই,
ঘোড়া তোমাকে,
তোমার ক্ষিপ্রতার কী প্রয়োজন
যখন আমি নিজেই পারি দৌড়াতে?
.
দাঁড়ালে এমনকি বসে থাকলেও
আমি তোমার চেয়ে ক্ষিপ্রতর।

.

.

——————————————————————————————————————————————–

টীকা: কানুক, টুকাহি ইত্যাদি হলো অধিকার-বঞ্চিত রেড ইনডিয়ান ও নিগ্রোদের বিভিন্ন গোত্রের নাম। কংগ্রেসম্যান বা কাফ দ্বারা অভিজাত শ্রেণী তথা শ্বেতাঙ্গদের বুঝানো হয়েছে।

কবিতা সম্পর্কে: কবিতাটি হুইটম্যানের ‘সং অভ্ মাইসেল্ফ’ এর ষষ্ঠ পদ থেকে অনূদিত, যাকে কবি শিরোনাম দিয়েছেন ‘গ্রাস/ঘাস’।
কবিতাটি হুইটম্যানের সাড়াজাগানো কাব্যগ্রন্থ ‘লিভ্স অভ্ গ্রাস’ থেকে নেয়া। সবুজ ঘাস একদিকে কবির আশাবাদী চেতনার প্রতীক, অন্যদিকে পায়ের তলার এ ঘাস সমাজের বঞ্চিত মানুষের প্রতিনিধি। কবি ছিলেন নিগৃহীত কৃষ্ণাঙ্গ আর ক্রীতদাস প্রথার বিপক্ষে এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। এই বারবার গজিয়ে ওঠা ঘাস হলো অমরত্ব আর পুনর্জনমের প্রতীক।

কবি সম্পর্কে: আমাদের সাম্যের কবি কাজী নজরুলকে বিভিন্ন জায়গায় ‘বাংলার হুইটম্যান’ বলে যে উল্লেখ করা হয়, তা যথার্থই। ওয়াল্ট হুইটম্যান (১৮১৯-১৮৯২)সাম্য, গণতন্ত্র আর অধিকারের গান গেয়েছেন তার সমস্ত কবিতায়। তার ‘সং অভ্ মাইসেল্ফ’ মলূত সং অভ্ হিউম্যানিটি, মানবতার গান। ওটি চিরকুমার হুইটম্যানের ব্যক্তিগত জীবনগাঁথা নয়। তিনি গেয়েছেন আদর্শবাদ আর সার্বজনীনতার গান। হুইটম্যান মানবতার কবি (Poet of Humanity), যেমন আমাদের নজরুল। ‘ঘাস’ হুইটম্যানের একটি প্রিয় রূপক। বস্তুত তার বিখ্যাত গ্রন্থের নাম ‘লিভস অভ্ গ্রাস’ (১৮৫৫)।

এ কাব্যগ্রন্থটি সম্পর্কে একটি মজার তথ্য আছে, হুইটম্যান দশবার সংশোধন করে গ্রন্থটি দশবারই প্রকাশ করেছেন। জীবনের দুর্দশার কারণেও হুইটম্যান আর নজরুল এক ঘরানার কবি। হুইটম্যান সম্পর্কে এতকিছু বলার আছে যা এখানে শেষ করা যায় না।

——————————————————————————————————————————————–

.

[প্রথম আলো ব্লগ]

.

[সামহোয়ারইন েব্লগে নির্বাচিত হয়]

Capture26

চিঠিলেখা আয়োজনে প্রাকনির্বাচনী বক্তব্য ১: চিপায় পড়িয়ে যাহা হয়!

d3683c5f8da

১) চিপায় পড়িলে যাহা হয়: কিঞ্চিৎ গৌড়চন্দ্রিকা

কথায় আছে, কাহাকেও যদি একটু চিপায় ফেলিতে চাও, তবে তাহাকে নিকাহ করাইয়া দাও অথবা নির্বাচনে খাড়া করাইয়া দাও। আমার মনে হয়, সবকিছুরই আপডেট রহিয়াছে, বিবর্তন রহিয়াছে। অতএব এখন বলা উচিত, কাহাকেও চুপানি খাওয়াইতে চাইলে, বিচারক বানাইয়া দাও। চিঠিলেখা আয়োজনে বিচারক কমিটির অন্য সকলেই অভিজ্ঞ বিজ্ঞজন – একমাত্র আমিই হাতুড়ে লেখক! কী যাতনায় দিনাতিপাত করিতেছি, না পারি কহিতে – না পারি সহিতে। কারণ, ব্লগে লেখালেখি’র কর্মসূচি বৃদ্ধি করিবার নিমিত্তে আয়োজক মহাশয়কে তাগিদ দিতাম। এ্রইবার তাহার বিশেষ কর্মব্যস্ততার মধ্যে ইহা শুরু করাতে খুশিই হইয়াছিলাম। কিন্তু খুশি বিনাস করিলো নির্বাচক হবার প্রস্তাবে। তথাপি অন্য সকল ব্লগীয় প্রস্তাবের মতো নিরাপত্তিতে মানিয়া নিলাম। এখন আমার সামনে যোগ্যতম পত্রলিখকবৃন্দ আর পিছনে আয়োজকবৃন্দ। মধ্যিখানে আমি! যাহা হোক, আমি বর্তমানে কেমন শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় আছি তাহার বর্ণনা দিব পরবর্তি পোস্টে। এইবার বলি প্রাপ্তির কথা।

.

২) যাহা আমি শিখিলাম:

ছেলেবেলায় পাঠ্যপুস্তকে অনেক চিঠিই পড়িয়াছি। সঙ্গত কারণেই পিতার কাছে টাকা চাহিয়া পুত্রের চিঠিখানি বিশেষ খেয়াল আছে। লেখাপড়া মনযোগ বৃদ্ধি করতঃ ভালো ফলাফলের প্রেরণা দিয়া ছোটভাই/বোনের কাছে পত্র লিখ। তখন নিজেরই পড়াশুনার ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা! তথাপি তাহা খেয়াল আছে কিন্তু গুরুত্ব দিই নাই। চিঠির মর্যাদা তখন এতটা উপলব্ধি করি নাই, এইবার যাহা করিলাম। চিঠিলেখা আয়োজনে সম্পৃক্ত থাকিয়া বিরল অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হইলাম; বিচিত্র রকমের লেখার সাথে পরিচিত হইলাম আর জানিলাম চিঠি কাহাকে বলে, কত প্রকার এবং তাহা কী কী। বৈচিত্রময় চিঠির সমারোহে পড়িয়া চিঠি সম্পর্কে সকল পূর্ব ধারণার সংস্কার হইয়া গেলো। একজন প্রিয় সহব্লগার শুধু রিহার্সাল পর্ব দিয়াই চিঠিলেখা আয়োজনকে অনেক সার্থক করিয়া দিয়েছেন। ভিতরে ‘দ্রব্য’ থাকিলে যাহা হয়! তাহার চিঠিগুলোতে বাংলার সমাজ ও পারিবারিক জীবনের সুখ ও বিষাদের যে চিত্র ফুটিয়া ওঠিয়াছে তাহাতে অনেকের মতো আমিও মুগ্ধ।

.

৩) যাহা আমাকে বিমুগ্ধ করিয়াছে:

কবি কবিতা লেখিবেন, গল্পকার লেখিবেন গল্প – কিন্তু চিঠির বেলায় ব্যতিক্রম। সকলেই চিঠি লেখিতে পারেন। চিঠিতে কবিতার মতোই মনের গভীর অভিব্যক্তি প্রকাশ পাইতে পারে। তাই, চিঠি পড়ে সহব্লগারদের মনের গতিপথ সম্পর্কে কিছুটা জানিবার সুযোগ পাইলাম। কাহারো প্রেমিক-প্রেমিকার খবরও পাইয়া গেলাম এই যাত্রায়! একটি বিষয় আমাকে খুবই অনুপ্রাণিত করিয়াছে, তাহা হইলো: অধিকাংশ চিঠিই শুধু প্রেমের জন্য নহে, যদিও চিঠি স্বভাবগতভাবে প্রেমের কথাই কহে। সহব্লগাররা যে শুধুই প্রেম নামক একমুখি আবেগে ব্যপ্ত নহে, ইহা একটি জাতীয় সুখবর বলা যাইতে পারে। ‘জাতীয় সুখবর’ এইজন্যেই বলিলাম, কারণ স্বদেশকে নিয়া, মুক্তিযুদ্ধকে নিয়া, ভাষা আন্দোলনকে নিয়া, বাঙলাকে নিয়া, বিডিআর বিদ্রোহ, হরতাল, সাভার ট্রাজিডি নিয়ে বেশ কিছু চমৎকার চিঠি পড়িবার সৌভাগ্য আমার হইয়াছে। ইহাতে সহব্লগারদের স্বদেশ প্রেমের এক প্রেরণাদায়ক প্রমাণ পাইলাম। আরও ভালো লাগিয়াছে পিতা-মাতার প্রতি ভালোবাসা এবং তাহাদের প্রতি সহ-ব্লগারদের অনুভূতির প্রকাশ দেখিয়া। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চিঠি লিখা হইয়াছে পিতা-মাতার প্রতি। পিতারূপে শ্বশুরকে লক্ষ্য করিয়াও চিঠি লিখা হইয়াছে। তাহারা যে আমাদের জীবনে কতটুকু প্রভাব বিস্তার করিয়া আছেন, তাহা পরিমাপ করা না গেলেও অনুভব করিবার সুযোগ পাইলাম।

ইহাছাড়া প্রিয় প্রথম আলো ব্লগকে নিয়াও পত্র লিখিয়াছে আমাদের ক’জন সহব্লগার, যাদের অধিকাংশই প্রবাসী। প্রবাসীরাই কি তবে ব্লগকে বেশি প্রেম করেন? এই প্রশ্ন নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা চলিতে পারে। তবে আমি পূর্বাহ্নেই প্রবাসীদের পক্ষ নিয়া রাখিলাম! পক্ষপাতিত্ব না করিলে বিচারক হওয়া যায় না।

.

৪) চিঠিলেখা আয়োজনে ব্লগের কাটতি বাড়িয়াছে:

প্রথম আয়োজনে আমি সম্পৃক্ত ছিলাম না। বিভিন্ন আলোচনায় ভাবিয়াছিলাম তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে চিঠিলেখার আর কী প্রয়োজন থাকিতে পারে। গণমানুষের সাহিত্য হিসাবে চিঠির যে আলাদা একটি গুরুত্ব রহিয়াছে, তাহা প্রায় ভুলিতেই বসিয়াছিলাম। উপরন্তু এই আয়োজনে অনেক ভালো কিছু লেখকের সন্ধান পেলাম, যাহারা ব্লগে নিয়মিত আসেন না, কেবলই চিঠিলেখা উপলক্ষে আসিয়াছেন। অথবা, আসলেও শুধু পড়িতেন আর মাঝে মাঝে মন্তব্য করিতেন, কিন্তু নিজেরা তেমনভাবে লিখিতেন না। যাহারা নিয়মিত লিখেন, তারাও ভিন্ন কিছু লেখার প্রয়াস পাইলেন এই উপলক্ষে। ব্লগার, পাঠক, অতিথির যাতায়াত বাড়িয়াছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এইসবই চিঠিলেখা আয়োজনের কারণে হইয়াছে। দীর্ঘদিনের বিরতির পর চিঠিলেখা আয়োজনের বদৌলতে আলো ব্লগে আঘাত, মানে হিটও বাড়িয়াছে এই দিনগুলোতে। একটি পাবলিক ব্লগে এই অর্জন অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। আশা করছি আলোব্লগের কর্তারা এই কর্মচঞ্চলতাকে একটি স্থায়ি রূপ দিবার চেষ্টা করিবেন।

.

৫) চিঠি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বক্তব্য: সকল চিঠির উপস্থাপনা শেষ হইলে, পরের পোস্টে বিস্তারিত জানাইবার চেষ্টা করিব।

[প্রথম আলো ব্লগে পাঠক প্রতিক্রিয়া]

** প্রথম আলো ব্লগে চিঠি লেখা আয়োজনের নির্বাচক হবার অভিজ্ঞতা

“তোমার রূপ সম্পর্কে অনেক গুজব শুনিয়াছি…”

হোমারের ‘দি ইলিয়াড’

হোমারের ‘দি ইলিয়াড’

রাজপুত্রদ্বয় প্যারিস ও হেক্টর গ্রিস হইতে ফিরিয়া আসিয়াছেন একজন নারীকে নিয়া। সমস্ত ট্রয় নগরিতে সাড়া পড়িয়া গেলো। মানুষের কলরবে গমগম আওয়াজ! রাজপুত্র প্যারিস এ কী করিলো! শেষে এক বিবাহিতা মহিলাকে গ্রহণ করিলো! আর বড়ভাই হেক্টর তাহা মানিয়া নিলো? এইবার গ্রিকদের রোষাণলে পড়িয়া ট্রয় ধ্বংস হইবার পথে! রাজা প্রাইয়াম এইবার কী বলিবেন তাহার প্রতিক্রিয়া জানিবার জন্য সকলেই উদগ্রীব হইয়া আছে। কী বলিলেন রাজা প্রাইয়াম?

দৃশ্য – ট্রয় রাজের দরবারের প্রধান ফটক। সকলকে নিয়া প্রস্তুত হইয়া আছেন রাজপুত্রদেরকে অভ্যর্থনা জানাইবার জন্য। প্যারিস এবং হেক্টরকে গ্রহণ করিলেন সহাস্যে। হেলেনকে দেখিয়া রাজাসুলভ গাম্ভির্য্যে প্রাইয়াম বলিলেন:

“তোমার রূপ সম্পর্কে অনেক গুজব আমি ইতিপূর্বে শুনিয়াছি। গুজব যে সত্য হয় এই প্রথম দেখিলাম।” এই বলিয়া তিনি রাজা মেনেলাউসের স্ত্রী হেলেনকে নিজের পুত্রের ভবিষ্যৎ স্ত্রী রূপে গ্রহণ করিলেন। হেলেন যে কত সুন্দর আর কোথাও কোন উল্লেখ নাই, ‘দি ইলিয়াড’ উপন্যাসে!

নারীর রূপ বর্ণনা করিতে গিয়া কবি-সাহিত্যিকদের গলদঘর্ম হয়। কীভাবে বলিলে তাহা সত্য ও বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য হইবে? কীভাবে বলিলে তাহা জীবনানন্দের ‘বনলতা সেনের’ মতো কাব্যিক হইবে? কীভাবে বলিলে তাহা অভিনব হইবে, স্বরচিত রবীন্দ্র সঙ্গীত হইবে না? ইত্যাদি নানা দ্বন্দ্বে আধুনিক কবিরা প্রমাদ গুণেন। এইবার বুঝি ধরা পড়িয়া যাই!

সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সুন্দরী হেলেনের সৌন্দর্য্য কেমন ছিল, যাহার জন্য রাজপুত্র প্যারিস লাজ-শরমের মাথা খাইয়া অতিথিপরায়ন গৃহস্বামীর প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করিলেন? কী সৌন্দর্যে মুগ্ধ হইয়া নীতিবান হেক্টরও ছোটভাই প্যারিসকে মানিয়া নিলেন, অতঃপর গ্রিসের বিপক্ষে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিলেন? শুধুই হেলেনের মুক্তির জন্য গ্রিসের সমস্ত নগররাজ্য এক হইয়া ট্রয় ধ্বংস করিতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিলেন! মৃত্যু হইলো হাজারের সাথে বীর হেক্টরের? কী সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হইয়া প্যারিসের পিতা রাজা প্রাইয়াম একজন বিবাহিতাকে মানিয়া নিলেন তাহার পুত্রবধু হিসাবে?

ছাত্রজীবনে খুবই কৌতূহল নিয়া পড়িয়াছিলাম ‘দি ইলিয়াড’।
সুন্দরী হেলেনের রূপের কোন বর্ণনা পাওয়া যায় নাই হোমারের সেই উপন্যাসে! কী বিস্ময়ের ব্যাপার! শুধুই রূপের আগুন জ্বালাইয়া দিলেন, রূপের কথা ‍বলিলেন না। রূপের আগুনে জ্বলিয়া পুড়িলো ট্রয়! কিন্তু হোমার কি নির্দয় ব্যবহার করিলেন হেলেনের সাথে! তাহার সৌন্দর্য নিয়া প্রায় কিছুই বলিলেন না। এ কি তার কৌশল?!

অতঃপর বুঝিলাম, হোমার ইচ্ছাকৃতভাবেই কিছু বলেন নাই। শুধু আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করিয়াছেন পাঠকের মনে। রূপের প্রভাব দেখাইয়াছেন, রূপ সম্পর্কে কিছুই না বলিয়া। শুধু একটি স্থানে রাজা প্রাইয়ামের মুখ দিয়া যাহা বলিলেন, তাহা আজ প্রবাদ। হেলেনের দেহিক সৌন্দর্য্য শুধু একটি বাক্যে বলিয়া দিলেন, অন্ধ কবি হোমার!

গ্রিক কবি হোমার (৮০০-৭০১ খ্রি.পূ.)

গ্রিক কবি হোমার (৮০০-৭০১ খ্রি.পূ.)

তথ্যসূত্র:  হোমারের ‘দি ইলিয়াড’  – রবার্ট ফ্যাগলস কর্তৃক অনূদিত পেংগুইন ক্লাসিক্স। ছবি ইন্টারনেট থেকে।

সত্যিকার ভালোবাসা: ডাক্তারের ডায়েরি থেকে

 

সকাল সাড়ে আটটা হবে এমনি এক ব্যস্ত সকালে একজন বৃদ্ধ ভদ্রলোক এসে আমার সামনে উপস্থিত। বয়স ৮০’র ওপরে হবে। তার হাতের বুড়ো আঙ্গুলের সেলাই খুলে দিতে হবে। তিনি জানালেন যে, ৯টায় তার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে। অতএব দেরি করা যাবে না। তার শরীরের মৌলিক দিকগুলো চেক করে আমি তাকে বসতে দিলাম। আমি জানতাম কাজটি শেষ হতে কমপক্ষে এক ঘণ্টা সময় লাগবে। সে পর্যন্ত তার সঙ্গে কাউকে থাকতে হবে। কিন্তু লক্ষ্য করলাম তিনি বারবার তার ঘড়ি দেখছেন, উদ্বিগ্ন হয়ে।

যেহেতু আমার কাছে আর কোন রোগী ছিলো না, আমি তার ক্ষতস্থানটি পরীক্ষা করতে চাইলাম। পরীক্ষায় দেখা গেলো তার ক্ষতটি ভাল হয়ে গেছে। তাই, তার সেলাই ও ব্যান্ডেজগুলো খুলে পরিষ্কার করে দেবার জন্য আমি অন্য ডাক্তারদের সাথে কথা বললাম।

ক্ষতস্থানটিতে ঔষধ দেবার সময় আমি বৃদ্ধ রোগীর সাথে কথা বলছিলাম। তাকে জিজ্ঞেস করলাম ৯টার সময় অন্য কোন ডাক্তারের সাথে তার এপয়েন্টমেন্ট আছে কি না, তার এতো তাড়া কিসের। বৃদ্ধ আমাকে বললেন, ৯টায় তাকে নার্সিং হোমে যেতে হবে, যেখানে তার স্ত্রী আছেন। তার সাথে নাস্তা খেতে হবে। তার স্ত্রীর কী অসুখ জিজ্ঞেস করলে বৃদ্ধ জানালেন যে, তার স্ত্রী আলজেমিয়ারস রোগে আক্রান্ত। আলজেমিয়ারস রোগীদের স্মৃতি বিভ্রম হয় এবং মেজাজ বিগড়ে যায়। অনেকে একে বয়সের সমস্যা বলেন, কিন্তু এ রোগের কোন চিকিৎসা নেই। আস্তে আস্তে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়।

যা হোক, আমি আরেকটু কৌতূহলী হয়ে বৃদ্ধকে জিজ্ঞেস করলাম, যদি একটু দেরি হয় তবে তার স্ত্রী রাগ করবেন কি না। উত্তরে বৃদ্ধ জানালেন, তার স্ত্রী তাকে চেনেনই না। গত পাঁচ বছর ধরেই তার স্ত্রী তাকে চেনেন না।

আমি একটু বিস্মিত হয়েই জিজ্ঞেস করলাম, “তাহলে আপনি প্রতিদিন সকালে আপনার স্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন? কিন্তু তিনি তো আপনাকে চেনেন না!”
বৃদ্ধ একটু হাসলেন। তিনি আমার হাতে মৃদু চাপ দিয়ে বললেন, “তাতে কী! আমার স্ত্রী আমাকে চেনেন না, কিন্তু আমি তো তাকে এখনও চিনি!”

আমি চোখের পানি থামাতে পারি নি। সত্যিকার ভালোবাসা আসলে কী! আমার মনে হয় একেই বলে ভালোবাসা। এটি শারীরিক নয়, আবেগিকও নয়। ভালোবাসা হলো: যা হয়েছে, যা হবে এবং যা হবে না – সবকিছুকে মেনে নেয়া।

(ইংরেজি থেকে অনূদিত: ইউসফুল ইনফো)

——————————————————————————