কাব্যকণা/ চিন্তাকণা

ছবি আঁকার ক্যানভাসটি হাঁটুজলে তিনপায়া স্ট্যান্ডের ওপর আটকে আছে। আর আমি আটকে আছি তোমাতে…! অথচ কী দুর্ভাগ্য তুমি কিনা আটকে আছো আকাশের তারা গণনায়। তুমি কি আজও বিশ্বাস করো না যে, বিশ্বের সবগুলো সৌরজগতের গ্রহ-নক্ষত্রের কক্ষপথ আটকে আছে শুধু একটি জায়গায়!

.

২)
একদিন প্রজাপতি হবো…
ভুলে যাবো এপর্বের সব বেদনা
সৃষ্ট হবে নূতন আমি’র;
তোমাকে নিয়ে হবে নূতন সূচনা।

.

৩)
তোমাকে ভালোবাসা বদঅভ্যাসে রূপ নিয়েছে…
ছেড়ে দিতে চাই তবু কেন যে পারি না!

.

৪)
বেড-ল্যাম্পের ঢাকনার মতো মস্ত আকারের উজিরটুপি পড়ে একদল মধ্যযুগী এসে আমাকে বললো, “জাহাপনা! আপনার বয়স বাইরা যাইতেছে … কথাবার্তা খিয়াল কইরা কইবাইন। কইবাইন অনেক কম। লেখবাইন আরও কম। শোনা তো একদমই নিষেধ! …একদম খাইয়ালবাম!” ঘুম ভেঙ্গে দেখি বেড-ল্যাম্পটি নেভানো হয় নি! [মার্চ ২০১৭]

.
৫)
প্রতিটি ফাগুন যেন জীবনের বার্ষিক নবায়ন… একবছর বেঁচে থাকার পুরস্কার। ফুল ফল প্রাণী আর মানুষকে একযোগে আন্দোলিত করে এই ফাগুন, যার বর্ধিত রূপ হলো চৈত্র আর বৈশাখ। অতএব ফাল্গুনকে বছরের প্রথম মাস হিসেবে ঘোষণা দেবার দাবিতে যেকোন মুহূর্তে আন্দোলনের ডাক দিয়ে বসতে পারি!
(ফেইসবুক স্ট্যাটাস ২০/২/২০১৭))

.

৬)
বহুরূপী মানুষের ভিড়ে মুখোশ একটি চিরস্থায়ী অবয়ব। মনের বা মানের পরিবর্তনে এর কোন পরিবর্তন হয় না। মুখোশের নির্মোহ সৌন্দর্য্যে আমি মুগ্ধ হচ্ছি দিনকে দিন। এরচেয়ে স্বচ্ছ বা নির্দোষ আর কী হতে পারে! এমন একটি রূপ ধারণ করতে খুবই ইচ্ছে হয়, যা পরিবর্তন বিবর্তন বা রূপান্তরের ঝুঁকি থেকে মুক্ত। এমন কিছু হতে ইচ্ছে হয়, যার পর আর কিছু হবার প্রয়োজন থাকবে না।
(ফেইসবুক স্ট্যাটাস ১৫/২/২০১৭)

.

৭)
Keep silent and never try to promote others… be selfish and never try to work for the bigger majority… never try to improve quality in works… never try to talk in favor of morality, honesty, transparency etc… never try to promote high standards… but accept whatever is available and say ‘yes yes’ to seniors in all situations. My friend…your life will be a lot easier and full of friends. However, only one thing you’ll have to sacrifice… that is ‘a clean soul’ within you.
Already following those rules? Excellent! You are the smartest guy in the present day world! Cheers!!!
(Remember “Dr Faustus” of Marlowe?)
৩১/১/২০১৭

.

৮)
অন্তত আর একদিন আমরা সবাই একসাথে মিলিত হবো। একই বন্ধুদের একই সেই ব্যাচ। ঠিক আগের জায়গায়, আগের বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আলোচনায় মেতে ওঠবো। হাসাহাসি হইহুল্লা করবো। আশেপাশে অথবা টেবিলের সামনে সেই আগের খাদ্যদ্রব্যগুলো থাকবে। আগের মতোই ঘড়ির কাটাকে স্বাধীনতা দিয়ে আড্ডায় হারিয়ে যাবো। আগের সেই গানগুলো ক্যাসেটপ্লেয়ারে বাজতে থাকবে। ঠিক আগের মতোই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় সবকিছু অন্ধকার হয়ে যাবে, বন্ধ হয়ে যাবে গান। আর চাঁদের আলোয় সিলিং ফ্যানটি তখনও ঘুরতে দেখা যাবে। ঠিক তখনই জাগতিকতায় ফিরে আসবো। তখন আগের মতোই বলবো, বিদ্যুৎ চলে গেছে ভালোই হলো, এবার চলো ঘুমাতে যাই।
(ফেইসবুক স্ট্যাটাস ২২/১/২০১৭)

.

৯)
শিকাগোতে প্রেজিডেন্ট হিসেবে ওবামার শেষ বক্তব্যের শুরুতে দর্শক যেভাবে তাকে ১০মিনিট পর্যন্ত অভ্যর্থনা দিলো, তাতে আমি কেবল হাহাকার শুনতে পেলাম। এই হাহাকার আসন্ন ট্রাম্প প্রশাসনের আশঙ্কাকে মূর্ত করে দিয়েছে। ইসরায়েলি বসতির পক্ষে ভোট না দিয়ে ওবামা তার শান্তি পুরস্কারের জন্য একটু সুবিচার করে গেলেন শেষবেলায়। বিদায়… আমেরিকার সর্বশেষ প্রগতিশীল শাসক! আর কোন কালো মানুষকে কি মার্কিন শাসক হিসেবে দেখা যাবে?
(১১/১/২০১৭)

.

১০)
ফেইসবুক কবিদেরকে চেনার উপায় কী? (কয়েকটি ধারণা)
.
বিড়িমুখে মহাসুখে
উড়াই ধূম্রবৃত্ত [প্রোফাইল ফটো]
বিশ্বাস ধর্ম রাষ্ট্রের কথায় 
টলে না মোর চিত্ত। [সারবস্তুহীন আবেগী স্ট্যাটাস]
.
এদেশ এসমাজ, বলে রাখছি এই
আমার ছিল না, আমার নেই [এই মর্মে স্বদেশত্যাগী কাব্য]
.
দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা
দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু
ডিএসএলআর-নিসৃত
ফটোকাব্যে রেখে দিলাম বিন্দু। [ডিএসএলআর কবি]
.
[ঢাকা সংস্করণ: ২৮১২১৬]
[সমালোচনা নয়, একটি পর্যবেক্ষণ মাত্র]

.

১১)
পানসুপারিতে রঙিন করিয়া মুখ, গাড়োয়ান কহিলো, হুজুর ঘুমাইবার খায়েস থাকিলে আমার নিকটে বসা যাইবে না। আমিও ছাড়িবার পাত্তর নই, আসন ধরিয়া রাখিলাম। রাত্তির দ্বিপ্রহরে পহুচিলাম এমন এক গন্তব্যে, যেখানে রাত্তিরের ঘুম নিতান্তই অপ্রাসঙ্গিক। কিন্তু প্রভাত হইতেই দেখি সবকিছু ছিল স্বপ্নমাত্র! আবারও রাত্তিরের প্রতীক্ষায় শুরু হইল দিবস। (ঘাটাইল ভ্রমণ/ ১৯ ডিসেম্বর ২০১৬)

.

১২)
বিনোদন মানুষের সহজাত চাহিদা, কিন্তু বাঙালির বিনোদনের বড়ই অভাব। কিছু মানুষের প্রিয় বিনোদন হলো অন্যের দোষত্রুটি নিয়ে দুর্বার অনুসন্ধানে ব্যস্ত থাকা। পরস্পরের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে সেখানে নিজেকে শান্তি-প্রতিষ্ঠাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে তারা প্রাকৃতিকভাবেই সুদক্ষ। তাদের চোখে-মুখে-অন্তরে কেবলই সমস্যা আর দলাদলির কথা। আপনি তাদের কাছে অতি দ্রুত আপন হয়ে যাবেন, যদি আপনার সংগ্রহে থাকে অন্যের দুর্বলতার কিছু নমুনা। সত্য হোক মিথ্যা হোক, স্মিতহাস্যে তারা আপনাকে সুযোগ করে দেবে আরও কিছু বলার জন্য। তারা সমস্যাবিলাসী, বিবাদপ্রত্যাশী। অগ্রগতিতে নয়, দুর্গতিতে তাদেরকে মনে হয় অধিক মেধাবী। সম্পর্ক সৃষ্টি নয়, সম্পর্ক ভাঙনে তারা কৃতীত্ব নেয়। এদেরকে চেনা যায় না, হয়তো প্রমাণও করা যায় না, কেবল বুঝা যায়। এরা সমাজ ও সংগঠনের নিরব ঘাতক।
(ফেইসবুক স্ট্যাটাস ২৩/১১/২০১৬)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s